Latest Post

কওমীর স্বীকৃতি ও দেবিমূর্তি বিরোধী বক্তব্য আর রাজনৈতিক স্বার্থের ভেল্কিবাজি: মুহাম্মাদ মামুনুল হক

ঢাকা ১৩ই এপ্রিল'১৭ আজকের প্রথম আলোর প্রথম পাতায় প্রধান শিরোনাম দেখে মনে পড়ছে দুই হাজার ছয়ের কথা ৷ যখন হযরত শায়খুল হাদীস রহঃএর দলের...

Saturday, April 1, 2017

হাজী এমদাদুল্লাহ মুহাজিরে মক্কী (রহঃ) -এর কথিত মিলাদ ও কিয়াম এবং আমাদের বক্তব্য!

প্রাক-কথন :
তোতাপাখি এমন একপ্রাণী আপনি যা শিখাবেন তাই সে বলবে। মিলাদ কিয়ামী ভাইদেরও চেইম অবস্থা। আপনারা নিশ্চয় অবগত থাকবেন যে, মিলাদী সুন্নী(?)দের যখন তাদের বানানো মিলাদ কিয়ামকে শরীয়ত সমর্থিত দলিল দ্বারা প্রমাণ করতে বলা হয় তখন তারা দলিল দিতে ব্যর্থ হয়। এখানে শেষ নয়, বরং নিজেদের শেষরক্ষা হিসেবে কতিপয় পীর ফকিরের বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা পুঁজি করে আত্মতৃপ্তির ঢেকুর তুলে। মনে করে যে, ব্যাস আর কি লাগবে! হয়ে গেল। দলিলের কাজ সেরে গেল। যেহেতু পীর ফকিরেরা কি আমাদের চেয়ে কম বুঝত?
----
মিলাদী কেবলা হাকিমরা এসব কল্পনার ঘোড়া নিজেরা অবলিলায় যেমন দৌড়ায়, তেমনি তাদের শিষ্যদেরও দৌড়াতে শিখায়। ফলে তারা নিজেদের অজান্তে একেক জন তোতাপাখিতে পরিণত হয়ে যায়। সত্য বলতে কি, তারা দলিল আর যুক্তির বদলে পীর ফকিরদের অন্ধ ভক্তিতে মুক্তি খোঁজে। তাদেরকে যুক্তি আর দলিল দিয়ে যতই বুঝাবেন ততই তারা বেপরোয়া ভাবে সেগুলো অমান্য করবে এবং ভিত্তিহীন মিলাদী প্রথা উদযাপন করার জন্য জিদ ধরে থাকবে।
---
মিলাদ কিয়ামীদের একটি দলিল :
----
মিলাদিরা গ্রহণযোগ্য দলিল প্রমাণে ব্যার্থ হয়ে কিয়াম প্রথার পক্ষে দলিল হিসেবে হাজী এমদাদুল্লাহ মক্কী (রহ)-কে টেনে আনেন। মিলাদীদের দলিল(!) 'হাজী এমদাদুল্লাহ মক্কী (রহ) কিয়াম করেছেন'। আমরা সর্বশেষে তাঁর কিয়ামের জবাব দেব, ইনশাআল্লাহ। তার আগে কিয়ামীদের নিকট আমাদের কিছু জিজ্ঞাসা।
--
মিলাদ-কিয়ামিদের প্রতি প্রশ্ন :
--
১। হাজি সাহেব (রহ) শরীয়তের বিধিবিধান সাব্যস্ত হওয়ার জন্য দলিলযোগ্য হবেন কিনা?
--
২। তিনি যদি দলিলযোগ্য হন তাহলে তাঁরও পূর্বে বিশিষ্ট মাযজূব বুজূর্গ মনসূর হাল্লাজ (রহঃ) এর অনুসরণে আপনাদের জন্য 'আনাল হক' বা আমি খোদা বলাও জায়েজ হবে কি?
--
৩। দুনিয়ার কেউ কি তাঁর অনুসরণে নিজেকে 'আনাল হক' বলা জায়েজ বলেছে? সাওয়াবের কাজ বলেছে?
--
৪। দুনিয়ার কেউ নিজেকে 'আনাল হক' বলে দাবি করল আর মনসূর হাল্লাজ (রহ)-কে অনুসরণ করার দোহাই দিল, এমতাবস্থায় ঐ ব্যক্তির ব্যাপারে আপনাদের ফতুয়া কি হবে? আশেকে খোদা, নাকি কুফরে খোদা?
---
৫। আবু আব্দুল্লাহ হোসাঈন বিন মনসূর হাল্লাজ (রহ) [জন্ম-মৃত্যু : ২৬ ই মার্চ ৮৫৮-৯২২ খ্রিষ্টাব্দ বা ২৪৪-৩০৯ হিজরী] উনার অনুসরণে "আনাল হক" বলার পরও যদি তার ব্যাপারে কুফুরী ফতুয়া লাগতে পারে, তাহলে হাজী সাহেবের অনুকরণে কেউ "কিয়াম" প্রথার ডিগবাজী ফলো করলে সে কেন বিদয়াতী না হয়ে বরং আশেকে রাসূল হবে?
--
৬। তৃতীয় হিজরীতে ওহুদের যুদ্ধ হয়। কাফিরদের তলোয়ারের আঘাতে প্রিয়নবীর (সা) দান্দান মুবারক শহীদ হয়। হযরত ওয়ায়েশ করুণী (রহ) এর নিকট এ সংবাদ পৌঁছলে তিনি নবীজির মুহাব্বতে নিজের সব কয়টি দাঁত উপড়ে ফেলেন। কিন্তু ভাণ্ডারি সুন্নীরা অপেক্ষাকৃত ছোট আশেকে রাসূল হাজী সাহেবের অনুসরণে কিয়াম করার জিদ ধরলেও তাঁর চেয়েও বড় আশেকে রাসূল হযরত ওয়ায়েশ করুণী রহঃ এর অনুসরণে নিজেদের একটি মাত্র দাঁতও উপড়ে ফেলতে রাজী হয় না কেন?? তাহলে আসল ব্যাপারটা কী?
---
ছোট আশেকের অনুসরণ করে কিয়াম করলে শিন্নী আর জিলাপী খাওয়া যাবে কিন্তু বড় আশেকের অনুসরণ করতে গেলে দাঁত বিসর্জন দিতে হবে বৈ কি? তবে কি আপনারা শিন্নী খাওয়ার সুন্নী? কারো নিকট এসবের সদোত্তর আছে কি?
---
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া হাম্বলী (রহ) তিনি তার মাজমু'আ ফাতাওয়া -এর ১ম খন্ডের ৩১২নং পৃষ্ঠায়, ইমাম নাসিরুদ্দিন শাফেঈ তিনি তাঁর ﺭﺷﺎﺩ ﺍﻻﺧﻴﺎﺭ কিতাবে এবং মুজাদ্দেদে আলফেসানী (রহ.) ﻣﻜﺘﻮﺑﺎﺕ ৫ম খন্ডের ২২ নং পৃষ্ঠায় আর ইবনে আমীরুল হাজ্ব আল-মালেকী (রহ.) তিনিও তাঁর কিতাবে সুস্পষ্ট রূপে বর্ণনা করেছেন—
----
ﻭﻣﻦ ﺟﻤﻠﺔ ﻣﺎ ﺍﺣﺪﺛﻮﺍ ﻣﻦ ﺍﻟﺒﺪﻉ ﻣﻊ ﺍﻋﺘﻘﺎﺩﻫﻢ ﺍﻥ ﺫﻟﻚ ﻣﻦ ﺍﻛﺒﺮ ﺍﻟﻌﺒﺎﺩﺍﺕ ﻭﺍﻇﻬﺎﺭ ﺍﻟﺸﻌﺎﺋﺮ ﻣﺎ ﻳﻔﻌﻠﻮﻥ ﻓﻰ ﺍﻟﺸﻬﺮ ﺍﻟﺮﺑﻴﻊ ﺍﻻﻭﻝ ﻣﻦ ﺍﻟﻤﻮﻟﺪ ﻭﻗﺪ ﺍﺣﺘﻮﻯ ﺫﻟﻚ ﻋﻠﻰ ﺑﺪﻉ ﻭﻣﺤﺮﻣﺎﺕ ﺍﻟﻰ ﺍﻥ ﻗﺎﻝ ﻭﻫﺬﻩ ﺍﻟﻤﻔﺎﺳﺪ ﻣﺘﺮﺗﺒﺔ ﻋﻠﻰ ﻓﻌﻞ ﺍﻟﻤﻮﻟﺪ ﺍﺫﺍ ﻋﻠﻢ ﺑﺎﻟﺴﻤﺎﻉ ﻓﺎﻥ ﺧﻼ ﻣﻨﻪ ﻭﻋﻤﻞ ﻃﻌﺎﻣﺎ ﻓﻘﻂ ﻭﻧﻮﻯ ﺑﻪ ﺍﻟﻤﻮﻟﺪ ﻭﺩﻋﺎ ﺍﻟﻴﻪ ﺍﻻ ﺧﻮﺍﻥ ﻭﺳﻠﻢ ﻣﻦ ﻛﻞ ﻣﺎ ﺗﻘﺪﻡ ﺫﻛﺮﻩ ﻓﻬﻮ ﺑﺪﻋﺔ ﺑﻨﻔﺲ ﻧﻴﺘﻪ ﻓﻘﻂ ﻻﻥ ﺫﻟﻚ ﺯﻳﺎﺩﺓ ﻓﻰ ﺍﻟﺪﻳﻦ ﻭﻟﻴﺲ ﻣﻦ ﻋﻤﻞ ﺍﻟﺴﻠﻒ ﺍﻟﻤﺎﺿﻴﻦ ﻭ ﺍﺗﺒﺎﻉ ﺍﻟﺴﻠﻒ ﺍﻭﻟﻰ
---
আল্লামা আব্দুর রহমান মাগরীবী (রহঃ) স্বীয় ফাতাওয়ার কিতাবে উল্লেখ করেন— ﺍﻥ ﻋﻤﻞ ﺍﻟﻤﻮﻟﺪ ﺑﺪﻋﺔ ﻟﻢ ﻳﻘﻞ ﺑﻪ ﻭﻟﻢ ﻳﻔﻌﻠﻪ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻭﺍﻟﺨﻠﻔﺎﺀ ﺍﻻﺋﻤﺔ – ﻛﺬﺍ ﻓﻰ ﺍﻟﺸﺮﻋﺔ ﺍﻻﻟﻬﻴﺔ
---
অর্থাৎ, মিলাদি আমল বিদ‘আত। রাসূল (সা) এবং খোলাফায়ে রাশেদীন ও ইমামগণ কেউ এ ব্যাপারে বলেননি এবং তা করেনওনি।
---
আল্লামা আহমদ ইবনে মুহাম্মদ মিসরী মালেকী (রহঃ) লিখেছেন-
---
ﻗﺪ ﺍﺗﻔﻖ ﻋﻠﻤﺎﺀ ﺍﻟﻤﺬﺍﻫﺐ ﺍﻻﺭﺑﻌﺔ ﺑﺬﻡ ﻫﺬﺍ ﺍﻟﻌﻤﻞ – ﺭﺍﻩ ﺳﻨﺔ ﺍﺯ ﺍﻟﻘﻮﻝ ﺍﻟﻤﻌﺘﻤﺪ ﻓﻰ ﻋﻤﻞ ﺍﻟﻤﻮﻟﺪ
--
অর্থাৎ, মাযহাব চতুষ্টয়ের (হানাফি, মালেকি, শাফেয়ী ও হাম্বলী) উলামায়ে কেরাম এই কাজ (মিলাদ) নিন্দনীয় হওয়ার ব্যাপারে ঐক্যবদ্ধ ।
---
পরিশেষ :
---
পরিশেষে বলতে পারি, মিলাদ কিয়াম এমন একটি কাজ যেটির আসলেই কোনো ভিত্তি নেই। ফলে মিলাদের সমর্থক আলেমগণ এটির পক্ষে কুরান সুন্নাহ থেকে সঠিক কোনো দলিল প্রমাণ পেশ করতে পারেনা। তখনি শুরু করেন পীর ফকিরকে দলিল প্রমাণ সাব্যস্ত করার খড়গ। বেশিরভাগ মিলাদি আলেম তাদের তথাকথিত পীর সাহেব বা মুরব্বিদের নাম ভাঙ্গিয়ে আজ অব্ধি এটির প্রচলন অব্যাহতি রেখেছেন। বাস্তবিকপক্ষে উনারাও এর বাহিরে মজবুত কোনো গ্রহণযোগ্য দলিল দেখাতে পারেন না। ফলে প্রতিনিয়ত একটি অর্থহীন, দলিলহীন ও যুক্তিহীন বিদয়াতি কাজে লিপ্ত হয়ে আছে। আল্লাহপাক আমাদের সবাইকে ধর্মের আবরণে নেক সুরতে যে কোনো নতুন আমল থেকে দূরে রাখুন। আমীন।
লেখক, প্রিন্সিপাল নূরুন্নবী
ইমেইল : nabifeni44@gmail.com

No comments:

Post a Comment