Latest Post

কওমীর স্বীকৃতি ও দেবিমূর্তি বিরোধী বক্তব্য আর রাজনৈতিক স্বার্থের ভেল্কিবাজি: মুহাম্মাদ মামুনুল হক

ঢাকা ১৩ই এপ্রিল'১৭ আজকের প্রথম আলোর প্রথম পাতায় প্রধান শিরোনাম দেখে মনে পড়ছে দুই হাজার ছয়ের কথা ৷ যখন হযরত শায়খুল হাদীস রহঃএর দলের...

Saturday, April 1, 2017

আব্দুল্লা'র কুড়ানো প্রেম 'ব্রেকআপ' অ্যাট ফাস্ট সাইট!


রশীদ জামীল
 পথ আগলে দাঁড়ালো মেয়ে। সামনে এসে কোনো রকম ভনিতা ছাড়া সরাসরিই বলে ফেললো, আই লাভ য়্যূ! ভিষম খেলেন আব্দুল্লাহ।
- হোয়াট!
- আমি তোমাকে বিয়ে করতে চাই। উইল ইউ মেরি মী?
- হোয়াট!!
- প্লিজ মেরি মী, প্লিজ প্লিজ ...
আব্দুল্লাহ ঢোক গিললেন। পাগল নাকি মেয়েটি! তাকালেন তার দিকে। চেহারায় সিরিয়াসনেস। চোখে মুখে মশকারির চিহ্ন নেই! তার মানে মেয়ে ইয়ার্কি করছে না। বিব্রত ভঙ্গিতে বললেন, সরি মেয়ে। আই’ম অ্যাঙ্গেইজড।
- তাহলে আমার সাথে একবার বেডে চলো, প্লিজ!
আব্দুল্লাহ এবার ভ্যাবাচেকা খেয়ে উঠলেন! বলে কি এই মেয়ে! দেখতে পাগল না লাগলেও এই মেয়ের মাথার তার যে বেশ কয়েক স্থানে ছেড়া, এ ব্যাপারে আর কোনো সন্দেহ রইল না তাঁর। তিনি বললেন, দেখো মেয়ে, তুমি কে সেটা আমি জানি না। জানতেও চাই না। তবে তুমি যথেষ্ট সুন্দরী। তোমার মতো মেয়ের এমন অফার আরবের যে কোনো যুবককেই হয়ত পাগল করে তুলবে। কিন্তু আই’ম সো সরি। তোমাকে আমার ফিরিয়ে দিতে হচ্ছে। তোমার সাথে অবৈধভাবে বেডে যাওয়াও আমার পক্ষে সম্ভব না। আমি জীবনেও আমার চরিত্রের সাথে বেইমানি করিনি! আমি আমার চরিত্র কোনো দাগ লাগতে দিইনি।
.
এটা সেই যুগের কথা, যখন আরবের সভ্যতাই ছিল অবিচার আর ব্যভিচারের। ছোট্ট মেয়েরা হত অবিচারের শিকার। আর বড় মেয়েরা ব্যভিচারের! সেই যুগে যে আব্দুল্লার বিবেকি চরিত্রই ছিল এমন, সেই আব্দুল্লাহ একত্ববাদের বিপরিত থাকবেন, শিরক করবেন, বিশ্বাসযোগ্য না। প্রশ্নই আসে না।
.
বিয়ে করে আব্দুল্লাহ ফিরছিলেন যখন, তখন সেই মেয়ের সাথে তাঁর আবার দেখা হয়ে গেল। তিনি লক্ষ্য করলেন মেয়ে তাঁর দিকে ফিরেও তাকাচ্ছে না! ব্যাপার কী! কৌতূহল জাগলো আব্দুল্লার মনে। তিনি নিজে থেকেই কথা বললেন তার সাথে।
- অ্যাই মেয়ে! সেদিন তুমি এতো আগ্রহ দেখালে আমার ব্যাপারে। আর আজ রীতিমত এভয়েড করছো। দেখেও যেনো দেখছো না। ঘটনা কী তোমার?
মেয়েটি বললো, শোনো ছেলে! তোমার প্রতি আমার মোটেও কোনো ইন্টারেস্ট নেই। যাও রাস্তা মাপো।
- মানে কী! তাহলে সেদিন এমন করেছিলে কেনো!
- সেদিন তুমি যা ছিলে, আজ আর তা নেই!
- মানে কী?
- মানে হল, সেদিন তোমার চেহারায়, আরো স্পেসিফিক করে বললে তোমার কপালের ঠিক মধ্যেখানে আমি যে আলোর ঝলকানি দেখেছিলাম, সেটি আজ আর নেই। সুতরাং তোমার প্রতি আমার আর আগ্রহ থাকারও কোনো কারণ নেই।
- বুঝলাম না কিছু। কিসের ঝলকানি বললে?
- সেদিন আমি তোমার কপালে যে আলোক ছটা দেখেছিলাম, সেটা ছিল শেষনবীর আগমনি চিহ্ন। আমি চাইছিলাম তোমার বউ হতে। আমার ইচ্ছা ছিল বিশ্বনবীকে পেটে নিয়ে ভাগ্যবতী হতে। সে জন্যই তোমার পিছে পড়েছিলাম বেহায়ার মতো। কিন্তু আজ তোমার চেহারায় সেই আলোর ঝলকানি আমি আর দেখতে পাচ্ছি না। ভাগ্যবতী সে। নাম কী তাঁর?
- কার কথা জানতে চাইছো?
- তোমার বউয়ের।
- ওর নাম আমিনা।
- আমিনা ভাগ্যবতী। আমার ভাগ্যে নেই বিশ্বনবীর মা হওয়া। বলেই মেয়েটি চলে যেতে লাগলো। আব্দুল্লাহ বিস্মিত হয়ে তাঁর চেয়ে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে রইলেন।
'লাভ এট ফাস্ট সাইট' বা প্রথম দেখায় প্রেম' বলে একটা কথা আছে। হযরত আব্দুল্লা'র বেলায় বলা যায়, 'ব্রেকআপ' অ্যাট ফাস্ট সাইট!
.
----------- সেই আব্দুল্লাহ, অনুপম চরিত্রের আব্দুল্লাহ, বিশ্বনবীর জন্মদাতা পিতা হযরত আব্দুল্লাহ। সম্প্রতি আহাফিদের নতুন টার্গেট বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাবা-মা। নবীজির মা-বাবাকে কীভাবে জাহান্নামী প্রমাণ করা যায়, এ নিয়ে তাদের ঘুম হারাম হয়ে গেছে। খেয়ে কাজ না থাকলে যা হয় আর কি! কিংবা কে জানে, এটাই তাদের আসল কাজ কিনা! কোন জাতের হাড্ডি দিয়ে যে এই প্রাণীগুলোকে আল্লাহ পয়দা করেছেন, আল্লাহই ভাল জানেন।

No comments:

Post a Comment