ঢাকা ১৩ই এপ্রিল'১৭
আজকের প্রথম আলোর প্রথম পাতায় প্রধান শিরোনাম দেখে মনে পড়ছে দুই হাজার ছয়ের কথা ৷ যখন হযরত শায়খুল হাদীস রহঃএর দলের সাথে শেখ হাসিনার আওয়ামীলীগ পাঁচ দফার চুক্তি করেছিল তখনও প্রথম আলোরা এমনই করেছিল ৷ প্রতিক্রিয়াশীল ইসলাম বিদ্বেষী গোষ্ঠী তাদের সব ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে অভিন্ন সুরে পাঁচ দফার বিরুদ্ধে এবং পাঁচ দফার চুক্তি করায় আওয়ামীলীগের বিরুদ্ধে উঠে পড়ে লেগেছিল ৷ তখনও আমরা লক্ষ করেছিলাম, তিনটি মহল থেকে এই চুক্তির বিরোধিতা করা হয়েছিল-
এক, বামপন্থী বুদ্ধিজীবি, রাজনীতিক ও সংবাদ মাধ্যম,
দুই, বিএনপি-জামাত
তিন, ইসলামপন্থীদের মধ্য থেকে একটি বড় গ্রূপ
তবে স্বাভাবিকভাবেই সবচেয়ে কঠোর বিরোধিতা ছিল বামপন্থীদের পক্ষ থেকে ৷
আজও সেই একই অভিন্ন প্লাটফর্মে ঐক্যবদ্ধ বাম-বিএনপি জামাত- ইসলামপন্থী কিছু মহল ৷
এ এক অাশ্চর্যজনক বিষয়, পরস্পর বিরোধী তিনটি পক্ষের সুর অভিন্ন হয় কী করে? তারা এক কথা বলার হেতু কী?
এর কার্যকারণ খুব কিছু অস্পষ্ট নয় ৷ এ হল স্বার্থের মাজেযা!
বামপন্থীরা বাংলাদেশে গণবিচ্ছিন্ন একটি ক্ষুদ্র জাত ৷ তাদের স্বকীয় কোনো শক্তির অবস্থান নেই ৷ তাদের ইসলাম বিদ্বষী এজেণ্ডাগুলো বাস্তবায়নের জন্য আওয়ামীলীগের মুখাপেক্ষী এরা ৷ আওয়ামীলীগের কাধে ভর করেই এরা সাধারনত পাগার পার হয় ৷ আওয়ামীলীগের মাথায় কাঠাল ভেঙ্গে খেয়ে অভ্যস্ত এরা ৷ সেই আওয়ামীলীগও যদি ইসলামের কিছু এজেণ্ডা বাস্তবায়ন শুরু করে, হুজুরদের সাথে সখ্যতা গড়ে তোলে, তাহলে তো এদের হাটুপানিতে ডুবে মরা ছাড়া উপায় নেই ৷ এ কারণে এই ক্ষুদ্র গোষ্ঠীটি আওয়ামীলীগের ভেতর-বাহির থেকে সব সময় সচেষ্ট থাকে আওয়ামীলীগ যেন কখনো ইসলামের স্বপক্ষে কোনো ভূমিকা রাখতে না পারে ৷ ইসলামের দিকে ঝুঁকে না পড়ে ৷
বাংলাদেশের জাতীয় ঈদগাহের পাশে, সুপ্রীমকোর্টের নাকের ডগায় দেবীর মূর্তিস্থাপনের সাহস তারা পেয়েছিল আওয়ামীলীগের ক্ষমতার ভরসাতেই ৷ ইতিহাস বলে, আওয়ামীলীগ যখনই এই বামগোষ্ঠীর শেকল ভেঙ্গে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করেছে তখনই এরা মরণকামড় দিয়েছে ৷ বাম গোষ্ঠীটি সংখ্যায় নগণ্য হলেও এরা হল ইহুদিদের মত ৷ পৃথিবীতে ইহুদির সংখ্যা খুবই কম ৷ কিন্তু ওরাই বিশ্বশক্তির নিয়ন্ত্রক! আওয়ামীলীগের জন্য বামরা হল ইহুদিদের মত শক্তিশালী বৃত্তবলয় ৷
দেবিমূর্তির এজেণ্ডা ইসলাম বিদ্বেষীদের জীবন-মরণের বিষয় ৷ স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশে ইসলামের বিরুদ্ধে প্রত্যক্ষভাবে এটিই সবচেয়ে বড় আঘাত বলে আমি মনে করি ৷ এর জন্য ওরা সময় নির্বাচন করেছিল আওয়ামীলীগের নিরংকুশ প্রাধান্যের এই সময়কে ৷ এ কারণেই গণ ভবনের ১১এপ্রিলের সম্মেলনে স্বীকৃতির ঘোষনার চেয়েও বড় প্রাপ্তি মনে হয়েছিল প্রধানমন্ত্রীর দেবিমূর্তি বিরোধী বক্তব্য ও প্রত্যয়কে ৷ স্বীকৃতির হাকীকত তো সামনে আসবে প্রজ্ঞাপন জারির পর ৷
এখন বাংলাদেশে কওমী ওলামা-ছাত্রদের সুখের দিন ৷ এটাই সুযোগ! এই সুযোগে কওমী মাদরাসা থেকে মক্তবের একটা পিচ্চিও চাইলে ইনুর পাছায় দুটো লাত্থি মেরে আসতে পারে ৷ জানি না, এমন সুযোগ কত দিন থাকবে?
বিএনপি এ দেশে রাজনীতি করে ইসলামের নাম ভাঙ্গিয়ে ৷ ইসলামের সোল এজেন্ট রূপ ধরে ওরা ক্ষমতার স্বাদ ভোগ করে ৷ অন্য কেউ ইসলামের জন্য কিছু করে দিলে ওদের এজেন্সি কমিশনে ভাটা পড়তে পারে এই আশংকায় সব সময় ভিতু থাকে ৷ জামাত মনে করে, নিজেদের প্রয়োজনে ওরাই কেবল কখনো বিএনপি কখনো আওয়ামীলীগের সাথে দেন-দরবার করার অধিকার সংরক্ষণ করে ৷ ওদের যখন যেদিকে স্বার্থ সেদিকে যাবে, আর হুজুররা চেয়ে চেয়ে দেখবে, পারলে সহযোগিতা করবে ৷ তাহলে হুজুররা খুব ভালো! জামাতের স্বার্থ বাদ দিয়ে ইসলামের স্বার্থ নিয়ে হুজুররা এগিয়ে গেলে তাই জামাতের গাত্রদাহ শুরু হয় ৷
এ ছাড়াও কওমী চেতনা বিরোধী আহলে শিন্নীর দল, আর বিএনপি-জামাতের হাতে বন্ধক রাখা ইসলামী দলগুলোও নাখোশ ঐ একই স্বার্থের কারণে ৷
ঐক্যবদ্ধ হক্কানী ওলামায়ে কেরাম নারী প্রধানমন্ত্রীর গণ ভবনে সম্মেলন করে ইসলামের জন্য বড় অর্জন আনলেও কিছু মানুষ খুশি হতে পারেন না নিজেদের রাজনৈতিক স্ট্যাণ্ড ভুল প্রমাণিত হওয়ায় ৷ উল্টো শায়খুল হাদীস মুফতী আমিনী রহঃএর মতো আল্লামা আহমদ শফিকেও দাড় করায় অভিযোগের কাঠগড়ায়! এটাই হল রাজনৈতিক স্বার্থের ভেল্কিভাজি!!
No comments:
Post a Comment