রশীদ জামীল:
আলোচনা চলছিল খোলামেলা পরিবেশে। মানুষ, জিন, পশু, পাখি... সবাই উপস্থিত। ফুরফুরে মোডে ছিলেন আল্লাহর নবী সুলায়মান আলাইহিস সালাম। সেই মুহূর্তে ছোট্ট একটি পোকা সামনে এসে দাঁড়াল। নবী ভাবলেন, কিছু চাইতে এসছে। তিনি বললেন,
- ও পোকা! জিন, ইনসান, পশু-পাখি এমনকি বাতাস পর্যন্ত আমার অনুগত। বল তোর কী লাগবে? তোদের যাবতীয় কিছুর জিম্মাদারি আমার। আর আমাকে সে ক্ষমতাও দেয়া হয়েছে। তুই যা চাইবি, তাই দেয়া হবে তোকে। বলে ফেল কী চাই?
ছোট্ট পোকা হেসে উঠলো। সুলায়মান বললেন,
- হাসছিস কেনো?
- মাফ করবেন জাহাপনা। হাসছি আপনার কথা শুনে।
- কেনো! তোর বিশ্বাস হয় না?
- বিশ্বাস-অবিশ্বাসের প্রশ্ন নয় মালিক। প্রশ্ন ক্ষমতার।
- কী বলতে চাস তুই?
- বাদ দেন মালিক। আমি ছোট মানুষ। আমার চিন্তা-ভাবনাও ছোট।
- কথা ঘুরাসনে। বল, কী লাগবে তোর। আমি এক্ষুণি ব্যবস্থা করছি।
- সত্যি দিবেন? পারবেন দিতে?
- বলেই দেখ না!
- ঠিকাছে মালিক। আল্লাহপাক আমার জন্য যে রিযিক নির্ধারণ করে রেখেছেন, সে রিযিক একটু বাড়িয়ে দেন। আর সেই সাথে আমার হায়াতটাও একটু বাড়িয়ে দিয়েন...
বিস্মিত হয়ে তাকালেন সুলায়মান! এতটুকুন জন্তু হলেও প্রশ্ন অনেক ডীপ পয়েন্টে চলে গেছে। চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে তাঁর ক্ষমতা কত সীমিত। লজ্জিত হলেন আল্লাহর নবী। বললেন, আমি অত্যন্ত দু:খিত। তুই এমন জিনিষ চেয়েছিস আমার কাছে, যা দেয়ার ক্ষমতা আমার আসলেই নেই!
সুলায়মানের ছোট্ট এই পোকাটির আক্বিদা কত পোক্ত ছিল। সেও জানতো দেবার ক্ষমতা একমাত্র আল্লাহর। অথচ, বর্তমান বিশ্বে এমন অনেক কপালপোড়ার দেখা মিলে, যারা আল্লাহ ছাড়াও পীর-ফকির-খাজাবাবা, দয়াল বাবাদের কাছে চায়! এরা কতবেশি হতভাগা! কাফের থেকেও খারাপ অবস্থায় তারা। কাফেরের তো তাও সম্ভাবনা থাকে মরার আগে ঈমান নিয়ে আসার। তাহলে সব গোনাহ মাফ হয়ে গেল। কিন্তু এই মুশরিকদের সামনে তো এই সম্ভাবনাও নেইা। এরা তো শিরক করছে ইবাদত মনে করে। যে কারণে তওবাহ করারও তো প্রশ্নও আসে না।
______ (পাগলের মাথা খারাপ)

No comments:
Post a Comment