Latest Post

কওমীর স্বীকৃতি ও দেবিমূর্তি বিরোধী বক্তব্য আর রাজনৈতিক স্বার্থের ভেল্কিবাজি: মুহাম্মাদ মামুনুল হক

ঢাকা ১৩ই এপ্রিল'১৭ আজকের প্রথম আলোর প্রথম পাতায় প্রধান শিরোনাম দেখে মনে পড়ছে দুই হাজার ছয়ের কথা ৷ যখন হযরত শায়খুল হাদীস রহঃএর দলের...

Showing posts with label আস্তিক -নাস্তিক. Show all posts
Showing posts with label আস্তিক -নাস্তিক. Show all posts

Tuesday, April 11, 2017

বান্দরের বাচ্চা ডারউইন…

সকালবেলা স্যারের মন-মেজাজ খুব প্রফুল্ল থাকে। বিছানার পাশেই বিশাল একটি জানালা। জানালার ওপারেই বেলি, চম্পা, শিউলির গাছ। সকাল হলেই নতুন, মিষ্টি ফুলের গন্ধে পুরো রুম মৌ মৌ করে। আজও করছে।
একটু আগেই একটি চড়ুই পাখি জানালার কাছে এসে কিচিরমিচির করছিলো। অন্য সময় হলে চড়ুইটার এই কিচিরমিচির আওয়াজকে স্যারের কাছে বিরক্তিকর লাগতো। কিন্তু আজ স্যারের মন মেজাজ একদম ফ্রেশ। অনেকক্ষণ চড়ুইপাখির কিচিরমিচির আওয়াজ শোনার পরে স্যার পা দু’খানা খাট থেকে নিচে নামালেন।
স্যার এখন এক রাঊন্ড দৌঁড়ে আসবেন। মর্নিং ওয়াক যাকে বলে। শরীর স্বাস্থ্য যদিও ফিটফাট, তবুও স্যার রোজ নিয়ম করেই ব্যায়াম করেন।
দৌঁড়ে আসার পরে স্যার ড্রয়িং রুমে এসে ধপাস করে সোপায় হেলান দিয়ে বসেন। স্যারের ঘরে যে লোকটা কেয়ার টেকারের কাজ করে, তার নাম কুদরত আলি। লোকটা নরসিংদীর। বয়স চল্লিশ কি বিয়াল্লিশ, এরকম।
স্যার প্রতিদিন এক রাঊন্ড দৌঁড়ান। আজ কি মনে করে পুরো তিন রাঊন্ড দৌঁড়ালেন। তিন রাঊন্ড মানে পুরো তিন চক্কর। স্যার আঙুলে গুনে গুনে হিসেব করলেন। তিন চক্করে হয় মোট এক মাইল।
পুরো এক মাইল দৌঁড়ে স্যার ঘর্মাক্ত শরীর নিয়ে এসে প্রতিদিনকার মতোন সোপায় বসলেন ধপাস করে।গা এলিয়ে দিলেন। মাথার উপরে ফ্যান ঘুরছে জোরে জোরে…………
‘কুদরত…….?’ – স্যার ডাক দিলেন। কিছুটা হাঁপাচ্ছেনও।
পাশের ঘর থেকে কুদরত আলি ‘জ্বে স্যার’ বলে দৌঁড় দিলো। কুদরত আলির হাতে স্যারের জন্য লেবুর শরবত।
স্যার শরবতের গ্লাসখানা হাতে নিলেন। ঢকঢক করে পুরো গ্লাসটা গলাধঃকরণ করে বললেন, ‘আরেক গ্লাস দাও তো।’
‘জ্বে স্যার’ বলে কুদরত আলি আরেক গ্লাস লেবুর শরবত আনার জন্য ছুটলো।
ইতোমধ্যেই স্যার অনেকটা স্বাভাবিক হয়ে গেছেন। হাঁপানি কমে গেছে। দৌঁড়ালে হার্টবিট দ্রুত চলে। বুকের ধুকপুকুনি বেড়ে যায়। স্যারের হার্টবিট এখন স্বাভাবিক।
স্যার সোজা হয়ে বসলেন।গুনগুন করে গাইতে শুরু করলেন, ‘এই দিন যদি না শেষ হয়, তবে কেমন হতো তুমি বলো তো……..?’
হঠাৎ কলিংবেল বেজে উঠলো। স্যারের মেজাজটা গেলো খারাপ হয়ে। কত্তোদিন পরে স্যার ফুরফুরে মন নিয়ে একটি গান ধরেছেন, সেটা অল্প একটু আগাতে না আঘাতেই ব্যাঘাত ঘটলো। স্যারের ফুরফুরে মেজাজ এই মুহূর্তে তিরিক্ষি ভাব ধারণ করলো। ইচ্ছে করছিলো সামনে থাকা শরবতের খালি গ্লাসটাকে শূন্যে তুলে একটা আছাড় দিতে। যে ত্যাদড় অসময়ে কলিংবেল বাজিয়েছে তাকে যদি এই আছাড়টা দেওয়া যেতো তাহলে বেশ লাগতো। কিন্তু সে উপায় নেই।
কুদরত আলি গামছায় হাত মুছতে মুছতে দৌঁড়ে এসে দরজা খুলে দিলো।
দরজা খোলামাত্রই দু’জন ইয়াং ছেলে-মেয়ে হুঁড়মুড় করে ঘরে ঢুকলো।
কুদরত আলি চেঁচিয়ে বলে উঠলো, ‘আরে খাঁড়ান খাঁড়ান। এইভাবে দৌঁড়াইয়া কই যাইতেছেন আপনেরা?’
মেয়েটা বাঁকা চোখে কুদরত আলির দিকে তাকালো।কুদরত আলি মেয়েটার এরকম চাহনিকে কোন পাত্তা দিলো বলে মনে হলো না। সে মনে মনে বললো, ‘মোর পেডের মাইয়্যার সমান মাইয়্যা আইসা আমার সামনো ভাব নেয় রে।’
কুদরত আলির নিজের মেয়ে হলে এতোক্ষণে সে তার কানের নিচে দু চারটা চড় লাগিয়ে দিতো। ‘বড় গো কিয়ানে মাইন ময্যাদা দিতে হয় এই ঢংগী মাইয়্যা পুলাপাইন শিখে নো।’- কুদরত আলি মনে মনে বিড়বিড় করে বললো।
ছেলেটা বললো, ‘আমরা স্যারের সাথে দেখা করতে এসেছি। স্যার বাসায় আছে?’
কুদরত আলি এবার ছেলেটার দিকে তাকালো। বললো, ‘জ্বে, আছে।’ – এই বলে কুদরত আলি আগে আগে হাঁটা শুরু করলো। তার পেছনে ইয়াং ছেলে-মেয়ে দুজনও হেঁটে ড্রয়িং রুমে চলে এলো।
স্যারের তিরিক্ষি মেজাজের ভাব তখনো পুরোপুরিভাবে কাটেনি। ইতোমধ্যেই তিনি আরো বেশ কয়েকবার গানটার অন্তরা ধরার চেষ্টা করেছেন, কিন্তু বারবার ব্যর্থ হলেন।
কুদরত আলির পেছনে ওরা দু’জন। স্যার উনার মোটা কালো ফ্রেমের চশমার ভেতর দিয়ে ওদের এক পলক দেখে নিলেন। এরপর চশমাটা একটু নড়াচড়া করে ঠিকঠাক করলেন। তারপর বললেন, ‘বসো।’
এরা স্যারের পরিচিত। একজনের নাম অনিন্দিতা। অন্যজনের নাম সাকলাইন সাকিব।
সাকিবের হাতে একটি বড় প্যাকেট।তাতে বই জাতীয় মোটা কিছু মোড়ানো। দু’জনে বসলো।
স্যার পত্রিকা খুললেন।পত্রিকার নাম ‘প্রথম আলো।’ স্যার পত্রিকার বিনোদন পাতা উল্টাচ্ছেন। প্রথম আলোর বিনোদন পাতার মধ্যে বড় বড় হরফে শিরোনাম ‘শাওনের সাথে ফারুকীর দ্বন্ধ চরমে। ‘ডুব’ পাচ্ছেনা সেন্সরবোর্ডের সম্মতি।’
স্যার পড়ছেন আর খুব মজা পাচ্ছেন।
সাকিব একটু গলা খাঁকারি দিলো প্রথমে। এরপর বললো, ‘স্যার, আমরা আপনাকে একটা ব্যাপারে জানাতে এসেছি।’
স্যার পত্রিকা থেকে মুখ তুলে বললেন, ‘কি ব্যাপার?’
সাকিব তার হাতে থাকা প্যাকেটটি স্যারের দিকে এগিয়ে দিয়ে বললো, ‘এই যে, এইটা…’
– ‘কি ওটা?’
– ‘একটা বই।’
– ‘কার বই?’
– ‘মাওলানা বশিরুজ্জামান নামের এক লোকের।’
স্যার এবার পত্রিকা থেকে পুরোপুরিভাবে মুখ তুলে সাকিবের দিকে তাকালেন। খুব বিরক্তি উঠে গেছে স্যারের। ইচ্ছে করছে এই ছেলের বাম গালে ঠাস করে একটা চড় মেরে হাতের পাঁচ আঙুল বসিয়ে দিতে। মাওলানা বশিরুজ্জামান নামের একজন মোল্লা শ্রেণীর লোকের বই এই ছেলে আমাকে দিতে এসেছে। কতোবড়ো আস্পর্ধা!
কোনরকমে রাগ সংবরণ করে স্যার বললেন, ‘কি করেন এই লোক?’
– ‘একটা মাদ্রাসায় ইংরেজি পড়ান।’
এই কথা শুনে স্যারের তো চোখমুখ কপালে উঠার জোগাড়। মাওলানা গোছের কোন লোক ইংরেজি পড়ায়- এটা স্যার বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না।
স্যার জিজ্ঞেস করলেন, ‘কিরকম বই এটা?’
সাকিব বললো, ‘ওরা দাবি করছে এটা নাকি শিশুতোষ বই স্যার।’
– ‘হুম। তা কি লিখেছে ভিতরে? গল্প- উপন্যাস?’
– ‘না স্যার।’
– ‘কি তাহলে?’
– ‘ছড়া-কবিতা।’
– ‘ও আচ্ছা।’
এরপর স্যার আবার বললেন, ‘তা এই শিশুতোষ বই আমার কাছে নিয়ে এলে কেনো? আমি কি শিশু নাকি? আমার তো শিশু ক্যাটাগরির বাচ্চা কাচ্চাও নেই।’
সাকিব নামের ছেলেটা মুখ কাঁচুমাচু করে বললো, স্যার, বইটা যদি একটু খুলে দেখতেন।’
স্যার অবাক হলেন। বিরক্তও হলেন। সকাল সকাল এরকম বিড়ম্বনার কোন মানে হয়? একটা মোল্লা শ্রেণীর লোক একটা ছড়ার বই লিখেছে বাচ্চাদের জন্য। এটা ফুটফাতে, গাড়িতে গাড়িতে বিক্রি হবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু এরা দু’জন কেনো সেটা স্যারের কাছে নিয়ে এলো আর দেখার অনুনয় করছে সেটা স্যার বুঝতেই পারছেন না। স্যার অগত্যা বাধ্য হয়েই প্যাকেটটি হাতে নিলেন। হাতে নিয়ে খুললেন। প্যাকেট খোলার পরে স্যারের তো চক্ষু ছানাবড়া। স্যার উনার চশমার কাঁচ শার্টের কোণা দিয়ে একবার পরিষ্কার করে নিলেন। এরপর চশমাটা চোখে দিয়ে আবার দেখতে লাগলেন যে একটু আগে যা দেখেছেন তা ভুল না ঠিক।
নাহ। স্যার ভুল কিছু দেখেন নি। ঠিকই দেখেছেন। বইয়ের উপরে বড় বড় হরফে বইয়ের নাম লেখা। বইয়ের নাম- ‘বান্দরের বাচ্চা ডারউইন।’
নিচে লেখকের নাম- ‘মাওলানা বশিরুজ্জামান’।
স্যারের মেজাজ তো আরো কয়েকগুণ গরম হয়ে গেলো এটা দেখে। চোখ মুখ রক্তবর্ণ ধারণ করেছে।
অনিন্দিতা নামের মেয়েটা এতোক্ষণ চুপ করে বসে ছিলো। সে এবার মুখ খুললো। বললো, ‘স্যার, এটা দেখানোর জন্যই আপনার কাছে এটি নিয়ে এসেছি। আরো অবাক করা বিষয়, এই বই বইমেলার মতো একটি জাতীয় প্ল্যাটফর্মে বিক্রি হচ্ছে। দেশটা কোথায় চলে গেলো স্যার ভাবতে পারছেন?’
স্যার কিছুই বললেন না। এই বই হাত থেকে ধপাস করে নিচে রেখে দিলেন। বইয়ের নাম দেখে এই বইয়ের ভিতরে কি আছে সেটা উল্টিয়ে দেখার রুচিও স্যারের নেই। কি বিদঘুটে নাম!!
স্যার বললেন, ‘শিশুদের ছড়ার বইয়ের নাম কেনো বান্দরের বাচ্চা ডারউইন হবে?’
অনিন্দিতা বললো, ‘স্যার, ডারউইনের বিবর্তনবাদ তত্ত্ব তো মোল্লারা স্বীকার করেনা। করবেই বা কিভাবে? এই মোল্লাগুলো কি বিজ্ঞান জানে? না বুঝে? বিবর্তনবাদ তত্ত্বকে ব্যঙ্গ করে এই বইতে বেশকিছু ছড়া আছে স্যার। একটি ছড়ার দুটো লাইন এরকম- ‘বাঘ মামা বলে শোন, আয় তোরা গান ধর
মানুষ তো মানুষ আছে, ডারউইন বান্দর।’
অনিন্দিতা নামের এই মেয়েটি দেখি ছড়ার লাইনও মুখস্ত করে ফেলেছে। স্যার বললেন, ‘এটা অন্যায়! ঘোর অন্যায়! একজন প্রসিদ্ধ বিজ্ঞানীর নামকে এভাবে ব্যঙ্গ করাটা কোনভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।’
সাকিব হাত চাপড়িয়ে বললো, ‘এক্সাক্টলি স্যার….’
স্যার আবার বললেন, ‘মোল্লা শ্রেণীর কাছে এর বিরুদ্ধ্যে কোন অভিযোগ তোলা হয়নি?’
– ‘হয়েছে স্যার।’- অনিন্দিতা বললো।
– ‘কি বললো তারা?’
– ‘তারা বলতে চাচ্ছে, এই বইতে নাকি কোনভাবেই বিজ্ঞানী ডারউইনকে অসম্মান করা হয়নি। ডারউইনের বিবর্তনবাদ নিয়েও নাকি ব্যঙ্গ করা হয়নি এখানে। স্রেফ শিশুদের মনোরঞ্জন আর বিনোদনের জন্য এরকম ছড়া লিখেছে নাকি। তারা বলতে চাচ্ছে,- ডারউইন নামে কি পৃথিবীতে কেবল একজনই আছে আর ছিলো? আর কারো নাম ডারউইন হতে পারেনা?’
স্যার বললেন, ‘এই মোল্লা শ্রেনীর মাথায় তো দেখি গিলু বলতে কিচ্ছু নেই। পৃথিবীতে হাজার হাজার লোক আছে যাদের নাম ডারউইন। কিন্তু কেউ যখন মুখ দিয়ে ডারউইন নামটা উচ্চারণ করে, তখন কি ইংল্যান্ডের একজন ট্যাক্সি চালক, যার নাম ডারউইন, তার কথা মানুষের মনে পড়ে? না।
জার্মানিতে ডারউইন নামের যে লোক হোটেল বয়ের কাজ করে,তার কথা মানুষের মনে পড়ে? না।
এ্যামেরিকায় ডারউইন নামের যে লোক ডাক্তারি করে, তার কথা মনে আসে? না। কানাডায় ডারউইন নামের যে লোক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করে, তার কথা মনে আসে? না।
তাহলে ডারউইন নামটা শোনার সাথে সাথে কার কথা সর্বপ্রথম মানুষের মনে আসে? মানুষের মনে সর্বপ্রথম তার কথাই আসে যিনি এই নামে সবচে বেশি প্রসিদ্ধ।সাইন্স শব্দটার নাম শুনেছে এমন কেউ ডারউইনের নাম শুনেনি- এমনটা মেলা ভার।
পৃথিবীতে বিলিয়ন বিলিয়ন বিজ্ঞান জানা,বোঝা, বিজ্ঞানকে সম্মান করা লোকের কাছে ডারউইন একটি শ্রদ্ধার নাম। আবেগের নাম। ভালোবাসার নাম। তাহলে তার নামকে ব্যবহার করে,ব্যঙ্গ করে যখন বই লেখা হয়, তখন সেটা নিশ্চই বিশাল এই বিজ্ঞান মনস্ক শ্রেণীর মনে আঘাত দেওয়া।’
স্যার এক নাগাড়ে একটা ছোটখাটো লেকচার শেষ করলেন। সাকিব নামের ছেলেটা বলে উঠলো, ‘স্যার, ওরা দাবি করছে, এতে করে নাকি শিশুরা আনন্দ পাবে?’
স্যার কপালের ভাঁজ দীর্ঘ করে বললেন, ‘আনন্দ? একজন সম্মানিত বিজ্ঞানীর নামকে নিয়ে এভাবে ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ করে শিশুদের আনন্দ দেওয়ার হেতু কি আমরা বুঝি না? এরা আসলে কি চায় জানো? এরা চায় শৈশবকাল থেকেই আমাদের বাচ্চারা বিবর্তনবাদ,বিজ্
ঞানী ডারউইন ইত্যাদির ব্যাপারে নেগেটিভ ধারণা নিয়ে বড় হোক। ছড়া পড়ানোর নামে তারা সুকৌশলে আমাদের আগামী প্রজন্মের মনে বিজ্ঞান, বিজ্ঞানীদের বিষয়ে বিষ ঢুকিয়ে দিতে চাচ্ছে যাতে আমাদের নতুন প্রজন্ম বিজ্ঞানমুখী না হতে পারে।’
অনিন্দিতা বললো, ‘হ্যাঁ স্যার, একদম তাই। এই মোল্লা শ্রেণীর দূরভিসন্ধি এটাই। এরা যতোই বলুক ‘বান্দরের বাচ্চা ডারউইন’ নামটা বিজ্ঞানী ডারউইনকে উদ্দেশ্য করে দেওয়া নয়, কিন্তু আমরা তো বুঝি তারা আসলে কি চায়, আর তাদের উদ্দেশ্য কি।’
(উল্লেখ্য, কাহিনীর এখানেই শেষ নয়। কাহিনী এখনো অন-গোয়িং। মাওলানা বশিরুজ্জামানের ‘বান্দরের বাচ্চা ডারউইন’ নামের শিশুতোষ ছড়ার বই নিয়ে এখনো সোশ্যাল মিডিয়া উত্তাল। দু পক্ষ থেকেই আসছে যুক্তি-পাল্টা যুক্তি।)

‘স্রষ্টার অস্তিত্ব’ -আরিফ আজাদ

তর্কের একপর্যায়ে সাজিদ বললো, ‘যদি স্রষ্টা বলে কেউ না থাকে, তাহলে ‘খুন’ ‘রাহাজানি’ ‘ধর্ষণ’ এসবে কোন দোষ নেই।’
বিপ্লব দা বললেন, ‘কেনো? , খুন, রাহাজানি, ধর্ষণের সাথে স্রষ্টার থাকা না থাকার কি সম্পর্ক?’
সাজিদ বললো, ‘তার আগে তুমি বলো, এগুলো কি ভালো না খারাপ?’
বিপ্লব দা কিছুটা বিরক্ত হলেন মনে হলো। বললেন, ‘দিন দিন যে তুই চাইল্ডিশ প্রশ্ন করা শুরু করেছিস, সেটা কি বুঝতে পারছিস?’
সাজিদ নাছোড়বান্দার মতো বললো, ‘অহহ হো! আমি যা জানতে চেয়েছি, তার সোজাসুজি উত্তর দাও তো। খুন, রাহাজানি, ধর্ষণ কি খারাপ না ভালো? গুড অর ব্যাড?’
বিপ্লব দা বললেন, ‘খারাপ।’
– ‘কেনো খারাপ?’
– ‘আজব! কেনো খারাপ সেটাও এক্সপ্লেইন করা লাগবে?’- বিপ্লব দা’র পাল্টা প্রশ্ন।
– ‘অবশ্যই।’
– ‘খুন, রাহাজানি, ধর্ষণ এসব খারাপ, কারণ আমাদের কমনসেন্স বলে এগুলো খারাপ।’
সাজিদ মুচকি হাসলো। বললো, ‘কমনসেন্স বলে, তাই?’
– ‘হ্যাঁ।’
সে আবার হাসলো। বললো, ‘আচ্ছা দাদা, কমনসেন্স কি জিনিস?’
বিপ্লব দা এবার সত্যিই রেগে গেলেন। বললেন, ‘উদ্ভট প্রশ্ন করবি না তো। কমনসেন্স কি জিনিস এটা কোন প্রশ্ন হলো?’
সাজিদ বললো, ‘দাদা, ডারউইনের বিবর্তনবাদ মতে, জীবনের (Life) উৎপত্তি অজৈব (Non-Life) কিছু পদার্থে রাসায়নিক বিক্রিয়ার ফলে, দূর্ঘটনাক্রমে (By Accident) এবং অন্ধ প্রক্রিয়ায় (With blind Force)। এমতাবস্থায়, যার উৎপত্তিই অজৈব পদার্থ থেকে, দূর্ঘটনাক্রমে, অন্ধ প্রক্রিয়ায়,তার মধ্যে ঠিক কখন, কোথায়, কিভাবে আত্মজ্ঞান (Consciousness) , কমনসেন্স ইত্যাদি বস্তু আসলো?’
বিপ্লব দা বললেন, ‘খুব সহজ প্রশ্ন। এটা বুঝার জন্য রকেট সায়েন্স পড়া লাগে না কিংবা বায়োলোজিষ্টও হওয়া লাগে না। মানুষ তথা জীবেরা যখন থেকে সংঘবদ্ধভাবে বসবাস করা শুরু করলো, তখন থেকেই তারা ভালো, খারাপ, মন্দের পার্থক্য বুঝতে শুরু করেছে। পরিবেশের সাথে খাপ খেতে খেতে তার মধ্যে আস্তে আস্তে কনসাসনেস তৈরি হয়েছে, কমনসেন্স তৈরি হয়েছে। মোরালিটি (নীতি-নৈতিকতা) তৈরি হয়েছে।’
সাজিদ বললো, ‘তার মানে তুমি বলতে চাচ্ছো, ব্যক্তি, সমাজ, বা সম্প্রদায় যখন কোন বিষয়ে সম্মত হয়, তখন সেটাই মোরালিটি? সেখান থেকেই ভালো-খারাপ-মন্দের ধারণা আসে?’
– ‘হ্যাঁ।’- বিপ্লব দা বললেন।
– ‘কিন্তু যদি সেই ব্যক্তি, সমাজ, সম্প্রদায় যদি ভুল হয়?’
– ‘ভুল হবে কেনো? ভুল হবার সম্ভাবনাই নেই।’
সাজিদ বললো, ‘ব্যক্তি, সমাজ, সম্প্রদায়ের সম্মিলিত মতবাদ যদি মোরালিটির ভিত্তি হয়, তাদের ঐক্যমত্য যদি ভালো-খারাপ-মন্দ পরিমাপের মানদন্ড হয়, তাহলে গত শতাব্দীতেও সুপ্রচলিত ‘জাতিবিদ্বেষ’ কেনো আজকে খারাপ বলে বিবেচিত হবে? কেনো পূর্বের ‘দাসপ্রথা’ আজকের সময়ে এসে বাতিল গন্য হবে? হোয়াই? তারা কি ভুল ছিলো? বা, আজ তোমরা যারা তাদের ভুল বলছো, আগামী শতাব্দীতে বসে তোমাদের যে নতুন কোন প্রজন্ম ভুল বলবে না, তার কি গ্যারান্টি?’
বিপ্লব দা বললেন, ‘এটা দিয়ে তুই কি বুঝাতে চাইছিস?’
– ‘কিছুই না। শুধু বলতে চাইছি, ব্যক্তি, সমাজ, সম্প্রদায়ের মতামত থেকে যা পাওয়া যায়, তা হলো ‘আত্মসম্পর্কীয়’ (Subjective)। এটা হলো ‘চুস এণ্ড পিক’ (Choose & Pick) এর মতো। যেটা ভালো মনে হচ্ছে সেটা আপাতঃ বেছে নেওয়া। কিন্তু মোরালিটি (নীতি-নৈতিকতা) সেরকম নয়। নীতি-নৈতিকতার ব্যাপারটা Subjective নয়, Objective (বাস্তবসম্মত/ বস্তুনিষ্ঠ)। যা ভালো, তার বিপক্ষে যদি সারা পৃথিবীর মানুষও অবস্থান নেয়, তবুও তা ভালো। আর যা খারাপ, তার পক্ষে যদি সারা পৃথিবীর মানুষও থাকে, তবুও তা খারাপ। এতে ব্যক্তি, সমাজ, গোষ্ঠী, সম্প্রদায়ের মতামতের কোন প্রাধান্য নেই। তুমি যে বললে সমাজ এবং পরিবেশের সাথে মিশতে মিশতে জীবের মধ্যে কনসাসনেস এবং মোরালিটি এসেছে, সেটা ভুল।’
বিপ্লব দা বললেন, ‘এতে কি প্রমাণ হয়?’
সাজিদ বললো, ‘এতে প্রমাণ হয়, স্রষ্টা না থাকলে পৃথিবীতে ভালো/খারাপ বলে কিছু থাকে না। নীতি-নৈতিকতা বলে কিছু থাকেনা।’
– ‘হাউ ফানি। হা হা হা।’- বিপ্লব দা’র তিরস্কার।
– ‘আচ্ছা দাদা, জীবনের আল্টিমেট উদ্দেশ্য কি?’- সাজিদ প্রশ্ন করলো।
– ‘মানে?’
– ‘মানে, তোমার জীবনের উদ্দেশ্য কি? বলতে পারো, মৃত্যু পরবর্তী কোন উদ্দেশ্য আছে কি?’
– ‘আরে না না। আমার বাবা এরকম বিদঘুটে কোন উদ্দেশ্য নেই। তাও আবার মৃত্যু পরবর্তী জীবনের? হা হা হা। না রে সাজিদ। মরার পরে ভূত টুত হবারও শখ নেই। স্বর্গ-নরকে যাবারও প্ল্যান নেই। মরে মাটির সাথে মিশে যাবো- এই আর কি!….’
– ‘তাই?’
– ‘হ্যাঁ’
– ‘আচ্ছা, সব মানুষের সাথে ঠিক এটাই ঘটবে বলে কি তুমি বিশ্বাস করো? অর্থাৎ, মরার পরে সবাই মাটির সাথে মিশে যাবে। পরকাল টরোকাল বলে কিচ্ছু নেই,এরকম?’
– ‘হ্যাঁ, আমি বিশ্বাস করি পরকাল-টরোকাল, স্বর্গ-নরক বলে কিচ্ছু নেই। সব মানুষের যাত্রা মৃত্যুর সাথে সাথেই ফিনিশ।’
– ‘তাহলে জীবনকে কিভাবে পরিচালনা করা উচিত বলে তুমি মনে করো?’
বিপ্লব দা বললেন, ‘রিচার্ড ডকিন্স বলেছেন, ‘There is no God. So enjoy ur life. just do what u want’। আমিও তাই মনে করি। যেহেতু পরকাল টরোকাল বলে কিচ্ছু নেই, তাই নিজের মতো করে লাইফ এঞ্জয় করাই বলতে পারিস জীবনের লক্ষ্য।’
– ‘তাই নাকি?’
– ‘হ্যাঁ।’
– ‘আচ্ছা, ধরো, আগামীকাল তোমার সাথে হিটলার, অথবা মাও সে তুং, অথবা পল পট,কিংবা জোসেফ ষ্ট্যালিনদের কেউ একজনের দেখা হয়ে গেলো। এদের সবাই ছিলো নাস্তিক। ঠিক?’
– ‘হুম।’
– ‘এরা মিলিয়ন মিলিয়ন মানুষ হত্যা করেছে,তাই না?’
– ‘হ্যাঁ। তো?’
– ‘আচ্ছা বলো, তুমি এদের মধ্যে কার সাথে দেখা করতে চাও?’
বিপ্লব দা কিছুক্ষণ চুপ করে থাকলেন। এরপর বললেন, ‘ কমরেড জোসেফ ষ্ট্যালিনের সাথে।’
– ‘আচ্ছা ধরো, তোমার সাথে কমরেড জোসেফ ষ্ট্যালিনের দেখা হয়ে গেলো। দেখা হওয়া মাত্রই তুমি উনাকে কি বলবে?’
বিপ্লব দা মন মরা করে বললেন, ‘বলবো, এত্তোগুলা মানুষ খুন করা উনার ঠিক হয়নি।’
– ‘কেনো ঠিক হয়নি?’- সাজিদের প্রশ্ন।
– ‘মানে?’
– ‘মানে, স্রষ্টা, পরকাল টরোকাল বলে তো কিচ্ছু নেই। জীবনকে যেহেতু যেমন খুশি তেমন উপভোগ করা উচিত, তাই ষ্ট্যালিনের যেমনি ভালো লেগেছে, সেভাবেই সে তার জীবন উপভোগ করেছে। এতে দোষের কি আছে? মরার পরে তুমি যেমন মাটিতে মিশে ফিনিশ হয়ে যাবে, ষ্ট্যালিনও ফিনিশ হয়ে যাবে। তাহলে সে তার জীবনকে একজন ‘খুনির জীবন’ হিসেবে গড়ে তুলেছে নাকি একজন ‘দরবেশের জীবন’ হিসেবে গড়ে তুলেছে- তাতে তো কিচ্ছু যায় আসে না। তার তো কোথাও জবাবদিহি করতে হবে না। তার চোখে না কিছু ভালো, না কিছু খারাপ।’
বিপ্লব দা চোখ রাঙিয়ে বললো, ‘কথার মারপ্যাঁচে ফেলবি না তো। খুন করা আমার চোখে খারাপ কাজ। গর্হিত কাজ।’
– ‘তুমি একজন নাস্তিক। তোমার চোখে তা খারাপ কাজ হতে পারে। ষ্ট্যালিনও একজন নাস্তিক ছিলো। কিন্তু তার চোখে Mass Killing (গণহত্যা) খারাপ কাজ ছিলো না। তাহলে এখানে কে বেশি শুদ্ধ? তুমি বিপ্লব দা? নাকি, কমরেড ষ্ট্যালিন?’
– ‘তুই কি বলতে চাইছিস পরিষ্কার করে বল তো?’
– ‘হা হা হা। আমি বলতে চাইছি, স্রষ্টা বলে যদি কেউ না থাকে, তাহলে ভালো/খারাপ বলেও কিছু থাকে না। নৈতিকতা (মোরালিটি) বলে কিছু থাকে না। কনসাসনেস বলে কিছু থাকে না। তখন সবকিছুই সমান। না ভালো না খারাপ। না ঠিক না ভুল।ভালো-মন্দের মানদন্ড কোন ব্যক্তি, সমাজ,গোষ্ঠী নির্ধারণ করতে পারে না। কোন একজন সুপার ন্যাচারাল শক্তি, যিনি এই সবকিছুর স্রষ্টা, তিনিই বাতলিয়ে দেন কোনটা ঠিক, কোনটা ভুল। কোনটা ভালো,কোনটা মন্দ।’
বিপ্লব দা কথা বাড়ায় না। চায়ের কাপে শেষ চুমুক দিয়ে, ব্যাগ কাঁধে নিতে নিতে বললেন, ‘আগামীকাল প্রেস ক্লাবে সেমিনার আছে। চাইলে আসতে পারিস।’
সাজিদ আসবে বলে মাথা নেড়ে সম্মতি জানায়…..

যেখানে পাবেন প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ

ঢাকা-
ঢাকা (বাংলাবাজার) বইবাজার ডটকম, ৩৪, নর্থব্রুক হল রোড (২য় তলা), বাংলাবাজার, ঢাকা। ০১৭১৬-০৭০৫০৪, ০১৭১৭-৭১৫৬৭১
নীলক্ষেতঃ দিশারী বুক হাউস, ইসলামিয়া মার্কেট, অফিস গলি ০১৮২২-১৫৮৪৪০
ঢাকা (বাংলাবাজার) কিতাবঘর.কম- ১১ বাংলাবাজার, ইসলামী টাওয়ার, ২য় তলা। (০১৭২১-৯৯৯১২২)
মিরপুরঃ আল ফুরকান শপ, ৭৭৯-মনিপুর, মিরপুর ২; মনিপুর হাইস্কুলের প্রধান ক্যাম্পাসের নিকটে, ঢাকা ১২১৬। ০১৮৫১-৩০৬২২৩
বসুন্ধরাএরিয়াঃ ফেরীম্যান ডটকম, হাউজ# ২৩৬/এ, রোড ৮, ব্লক# সি, বসুন্ধরা রেসিডেন্সিয়াল এরিয়া, ঢাকা (০১৭২-৮১২২৯৯)
Wafi Life হাউস- ৩৭৬, রোড-২৮, মহাখালী ডিওএইচএস, ঢাকা- ১২০৬।
খিলগাঁওঃ ইসলামকে জানুন লাইব্রেরী, ১১৪১/এ, (রানী বিল্ডিং), তিলপাপাড়া, গিলগাঁও, ঢাকা।(০১৮১৮৫১৯৬০০)
টঙ্গীঃ সন্ধানে ইসলামীয়া লাইব্রেরী, হোন্ডা রোড,টঙ্গী গাজীপুর। (০১৯১২২৩১৮৪০)
পল্টনঃ ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক বুক সেন্টার, খদ্দর বাজার শপিং কমপ্লেক্স। (৪র্থ তলা) দোকান নং ১৯৭/১৯৮, জিপিওর মোড়, জিপিও, ঢাকা-১০০০। মোবাইল:০১৭২০-৯১১১৩১, ০১৯৭০-৯১১১৩১
উত্তরাঃ আব্দুস সোবহান পেপার স্টল, আজমপুর বাস স্ট্যান্ড। (ফুটওভার ব্রীজের পূর্ব পাশে) ০১৯১৬-৮৩০৫৫১
যাত্রাবাড়ীঃ আল-জাবিদ লাইব্রেরী, ৩১৪ মিরহাজীরবাগ, ঢাকা-১২০৪। ০১৯১৫-৮৩৯৩৫৭
____
চট্টগ্রামঃ আমানাহ রোডঃ ০৩, হাউজ- ০৬, গেট-০৮, ব্লক- কে, হালিশহর হাউজিং এস্টেট, চট্টগ্রাম। ০১৬৭০-৩২৬৩৬৩
চট্টগ্রাম; আন্দরকিল্লাঃ ফয়েজ বুকস, আন্দরকিল্লা বাজার। ০১৮৭৪৬৯৮৯৮
ফেনীঃ এডুকেশন মিডিয়া, ফেনী। ০১৮১৯৬০৭১৭০
রাজশাহীঃ বুক সেন্টার, ৩৪, নিউমার্কেট, রাজশাহী ০১৯১২-৪৫৯৭০০, ০১৭৩৪-৬০৯৮৬১
বরিশালঃ হক লাইব্রেরী, বিএম কলেজ রোড, বরিশাল ০১৭২৪৮৫১৬৫৮ (নুরুল হক)
খুলনাঃ আদ-দ্বীন শপ ৮২, সাউথ সেন্ট্রাল রোড, খুলনা। ০১৭১০-৫৮৪৩৪৪, ০১৯৫২-৩৩৭১১৮ (কামরুল হাসান) ( https://www.facebook.com/addeenshop.bd )
রংপুর-উত্তরবঙ্গঃ ইসলামী অনলাইন শপ, রংপুর। নূরুদ্দিন খন্দকার (01704218287) https://facebook.com/helpfulios
রংপুর সদরঃ মিতা লাইব্রেরী, স্টেশন রোড, প্রেসক্লাব মার্কেট (২ নং গলি), রংপুর ০১৭৬১-৬৭৯৭৩৯ ( ফারুক হোসেন)
চাঁপাইনবাবগঞ্জঃ রহিম বুক ডিপো, প্রোঃ জয়নাল ইসলাম, পুরান বাজার, চাঁপাইনবাবগঞ্জ- ০৭৮১৫২৪৮৮, ০১৭১২-০৫৪১৮৮
নারায়নগঞ্জঃ বারাকাহ শপ, বুড়ির দোকান, উপজেলা রোড, পূর্ব ইসদাইর ফতুল্লা, নারায়নগঞ্জ, ০১৮২৯-৬৭৪৭৮০
নওগাঁ: জনতা লাইব্রেরী, নওগাঁ ০১৭২২-৩২০০২০
বগুড়াঃ আল হামরা লাইব্রেরী, বড় মসজিদ লেন, বগুড়া, ০১৭১২-৮৩৩৫৭৩
দিনাজপুরঃ সরোবর লাইব্রেরী, মডার্ণ মোড়, পেট্রোল পাম্প সংলগ্ন, (এমটিবি ব্যাংকের বিপরীতে), দিনাজপুর। ০১৭১৭-০১৭৬৪৫ (আরিফ)
পাবনাঃ রাহমানিয়া লাইব্রেরী, পাঁচমাথা মোড়, পাবনা ০১৬২৭-০২৬৯৬৯
সিলেটঃ মাহদী লাইব্রেরী। ৬/২, হাজী কুদরত উল্লাহ মার্কেট (২য় তলা) সিলেট। ০১৭৮৮-৫২৪০৪৪
লক্ষীপুরঃ সুন্নাহ , চকবাজার, লক্ষীপুর। (০১৯১৮-১৯৫৫০০ – আহমেদ কাওসার)
অনলাইনে অর্ডার করুন-
১/ রকমারি – https://www.rokomari.com/book/129384/প্যারাডক্সিক্যাল-সাজিদ
২/ বইবাজার –  http://boibajar.com/product/paradoxicalsajid
৩/ ওয়াফী লাইফ – http://www.wafilife.com/shop/uncategorized/paradoxical-sajid/
৪/ ইত্যাদিশপ– http://www.ittadishop.com/products/details/88d321d2f5b311e6af9f0paradoxikal-sajid.html
যেকোন প্রয়োজনে-
Guardianpubs@gmail.com, ০১৭১০-১৯৭৫৫৮, ০১৯৯৮-৫৮৪৯৫৮
”প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদের দুরন্ত
পথচলায়
আপনাদের আরেকবার অভিনন্দন,
এ কৃতিত্ব আপনাদেরই। ”

স্যেকুলাররা রমেন দাশ গুপ্তকে বেয়াদব রূপে গড়ে তুলে:মুনির আহমদ


বাংলা নিউজ ২৪ ডটকম-এর একজন সাংবাদিক রমেন দাশ গুপ্ত হেফাজতের মহাসচিব শীর্ষপর্যায়ের মুহাদ্দিস ও বরেণ্য আলেম আল্লামা হাফেজ মুহাম্মদ জুনায়েদ বাবুনাগরীর নামে ভদ্র যে কোন মানুষের মুখে উচ্চারণের অযোগ্য একটা মারাত্মক অশ্লীল এবং অগ্রহণযোগ্য কমেন্ট করেন। সেই কমেন্ট তিনি পরে এডিট করেন এবং শেষমেষ মুছে দেন।
তিনি একজন সাংবাদিক, বাম রাজনীতি করতেন, ছাত্র জীবনে ছাত্র ইউনিয়ন করতেন।
একজন পেশাদার সাংবাদিক হিসেবে হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব ও সর্বজনশ্রদ্ধেয় আলেমে-দ্বীন সম্পর্কে তার বিরাগ থাকা কি উচিত?? তাকে তো নির্মোহভাবে সংবাদ সংগ্রহ আর ভদ্র ভাষায় পরিবেশন করতে হবে। তিনি কেন একজন বর্ষীয়ান শীর্ষ আলেম সম্পর্কে এই ধরণের কথা বলবেন?
তিনি বলছেন, তার একাউন্ট হ্যাক হয়েছিল। কিন্তু আমাদের কাছে যথেষ্ট প্রমাণ আছে যে, তিনি নিজেই এই কমেন্ট করেছিলেন। সবকিছু যদি বাদও দেই, তাও প্রশ্ন থাকে যে, একজন প্রবীণ ও শীর্ষস্থানীয় মুসলিম নেতা সম্পর্কে এমন অশ্লীল কমেন্ট করেন কীভাবে???
এখানেই আসে আত্মিক শিক্ষার প্রশ্ন। আমরা বারেবারে বলে আসছি যে, এই স্যেকুলার বামেরা প্রথমেই মানুষের আত্মিক সম্পদ ধ্বংস করে, তাকে দুর্বিনীত এবং বেয়াদব রূপে গড়ে তুলে। যেই মানুষ আল্লাহকে অস্বীকার করে, তার কাছে সারা পৃথিবীর মানুষ- যা আল্লাহ্র নিয়ামত ও মর্যাদাবান সৃষ্টি, তার কি কোন মূল্য থাকে?? যার একটা প্রমাণ রমেন দাশ গুপ্ত নিজেও আলোচ্য কমেন্ট এর মাধ্যমে দেখি দিলেন। আজকে সবাই এই প্রমাণ দেখলো যে, বাম-সেক্যুলারদের কাছে কোন কিছুই কোন মানুষই সন্মানীয় ও মর্যাদার নয়। আসলে আমরা ক্রমাগতই তার প্রমাণ দেখছি।
ধিক এই শিক্ষা আর দর্শনকে, যা মানুষকে অসন্মান করতে ও অপমান করতে শেখায়। আমরা তাকে বদদোয়া দিব না। বরং কামনা করি, আল্লাহ তাকে সুপথে আনুন, মানুষের মর্যাদা যেন সে বুঝতে পারে, মুরুব্বিদের সম্মান করার নিয়ামত যেন বুঝতে পারে

Monday, April 10, 2017

জাকির নায়েক নাস্তিকদের 'মাথাব্যথা'র কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন নিশ্চিত: আরিফ আজাদ


জাকির নায়েক আর কিছু করতে পারুক বা না পারুক, ওয়ার্ল্ডওয়াইড নাস্তিকদের 'মাথাব্যথা'র কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন নিশ্চিত।
বাংলা নাস্তিকরা কোন মুসলিমকে কটাক্ষ করার আগে তাকে সরাসরি 'জাকির নায়েকের চ্যালা' 'জাকির নায়েকের মুরিদ' বলে থাকে।
জাকির নায়েকের নামকে বিকৃত করে তাকে 'জোকার নায়েক', এবং তার ছবিকে বিকৃত করে অসংখ্য কার্টুনও তারা বানিয়েছে এবং বানাচ্ছেও।
সে যাইহোক, জাকির নায়েক এবং উনার প্রতিষ্ঠিত 'পিস টিভি' কে গতবছর ভারত এবং বাংলাদেশে ব্যান করা হয় খুব সিলি একটা ইস্যুকে কেন্দ্র করে।
ইস্যুটা ছিলো- ঢাকার গুলশানের জঙ্গী হামলার সাথে জড়িতদের কোন একজন টুইটার বা ফেইসবুকে জাকির নায়েকের ফলোয়ার ছিলো এবং কোন একসময়, জাকির নায়েকের কোন একটি লেকচার সে শেয়ার করেছিলো।
এ থেকে ধারণা করা হয় যে, সেই জঙ্গীটা ডক্টর জাকির নায়েক দ্বারা ইনফ্লুয়েন্সড হয়ে জঙ্গী কর্মকান্ডে জড়িয়েছে। মোদ্দাকথা, সেই জঙ্গীর সূত্র ধরে, জাকির নায়েক এবং উনার 'পিস টিভি' কে জঙ্গী কর্মকান্ডে উস্কানিদাতা হিসেবে দেখিয়ে ব্যান করে দেওয়া হয়।
জাকির নায়েক এবং উনার পিস টিভি ব্যান হওয়ার পর এদেশের মুক্তমনাদের মনে খুশির বন্যা বয়ে গেলো। সবাই খুশিতে বাক বাকুম বাক বাকুম করতে লাগলো। আহা! এতোদিনে সরকার একটা কাজের কাজ করেছে। এদেশের একজন নামকরা প্রফেসর, যিনি আবার নিজেকে বাক স্বাধীনতার পক্ষের লোক, অবাধ মত প্রকাশের (সে যার মত-ই হোক) পক্ষের লোক বলে জাহির করেন, যিনি নাস্তিক ব্লগারদের জন্য সবসময় মায়াকান্নায় ভেঙে পড়েন, তিনিও জাকির নায়েক এবং উনার টিভি ব্যান হওয়ার পর খুশিতে একখানা আর্টিকেল প্রসব করেছিলেন।
যাহোক, পয়েন্ট হলো- জাকির নায়েকের কাছ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে সেই ছেলেটা জঙ্গী হয় এবং গুলশানে জঙ্গী কর্মকান্ডে জড়িয়ে এতোগুলো মানুষ খুন করে।
পয়েন্ট টু বি নোটেড- ছেলেটা জাকির নায়েককে ফলো করতো, এবং কোন এককালে জাকির নায়েকের একটা লেকচারের ভিডিও লিঙ্ক শেয়ার করেছিলো সোশ্যাল মিডিয়ায়।ছেলেটা যেহেতু জাকির নায়েককে ফলো করতো, সুতরাং, এখানে জাকির নায়েকও সমানভাবে দোষী। সুতরাং নাস্তিকদের অভিমত- জাকির নায়েক এবং তার টিভি চ্যানেল ব্যান হওয়াটা যৌক্তিক, ঠিক কাজ।
কারণ, জাকির নায়েক জঙ্গী কর্মকান্ডে উস্কানি দেয়।
এবার আরেকটা পয়েন্টে আসুন। বিবর্তনবাদের জনক চার্লস ডারউইনকে তো চিনেন, তাই না?
হ্যাঁ, সেই চার্লস ডারউইন তার বিখ্যাত (যেটাকে বিবর্তনবাদের 'বাইবেল' গন্য করা হয়) বই 'The Origin Of Species: By means Of Natural Selection' এ পৃথিবীতে কীভাবে একটি এককোষী ব্যাকটেরিয়া থেকে প্রাণী এবং উদ্ভিদের বিবর্তন ঘটেছে, তার বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেছেন।
যাহোক, সেই বইতে কোন কোন প্রাণীরা পরিবেশে টিকে থাকবে, সেটাও তিনি বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি এটার নাম দিয়েছিলেন- 'Natural Selection'। বলা চলে, এই ন্যাচারাল সিলেকশানই তার পুরো থিওরির মূলমন্ত্র। এজন্যই, বইয়ের নামের সাথেই উনি এই নামটাও জড়িয়ে দিয়েছিলেন (By means Of Natural Selection)
Natural Selection এর মূল বক্তব্য হচ্ছে- 'প্রকৃতিতে একটি অবিরাম সংগ্রাম চলছে। এই সংগ্রাম হলো টিকে থাকার সংগ্রাম। দিনশেষে, প্রকৃতিতে তারাই টিকবে, যারা যোগ্য। অযোগ্য, দূর্বলরা বিলুপ্ত হবে- এটাই প্রকৃতির নিয়ম। যারা দূর্বল, যারা সংগ্রামে টিকে থাকার অযোগ্য, তারা প্রকৃতিতে টিকে থাকবে না।
এটাকে Survival Of the Fittest বলা হয়।
আমি যখন একদিন এডলফ হিটলারের Mein Kampf ( My Struggle) বইটা পড়ছি, তখন ঠিক একদম এরকম, হুবহু ডারউইনের কথার মতোই কিছু বক্তব্য খুঁজে পেলাম।
তিনি তার বই Mein Kampf এর ২৩৯-২৪০ পৃষ্টায় লিখেছেন- ' If nature doesn't wish that weaker individuals should mate with the stronger, she wishes even less that a superior race should intermingle with an inferior one; because in such cases all her efforts, throughout hundreds of thousands of years, to establish an evolutionary higher stage of being, may thus be rendered futile.
But, such a preservation goes hand-in-hand with the inexorable law that it is the strongest and the best who must triumph and that they have right to endure. he who would live, must fight. he who doesn't wish to fight in this world, where permanent struggle is the law of life, hasn't the right to exist'
খেয়াল করুন, Hitler লিখেছে 'If Nature doesn't wish'
Nature বলতে তিনি ঠিক কী বুঝালেন? ডারউইন যে Natural Selection এর কথা বলে গেছেন, সেটা নয়তো? Hitler এখানে স্পষ্টতই একটি Superior Race এবং Inferior Race এর কথা উল্লেখ করেছে এবং বলেছে, প্রকৃতিতে এটি বলবৎ আছে। দূর্বল আর সবলের মধ্যে সংঘাত।
ঠিক যে কথাগুলো ডারউইন তার 'Origin Of Species' এ বলেছে।
Hitler এরপরে বলেছে, - ' it is the strongest and the best who must triumph and that they have right to endure.'
অর্থাৎ, যারা সবল এবং সর্বোৎকৃষ্ট, তারাই টিকে থাকবে এবং থাকা উচিত।
(যে কথাগুলো একইভাবে ডারউইনেরও)
Hitler আরো লিখেছে- 'he who doesn't wish to fight in this world, where permanent struggle is the law of life, hasn't the right to exist'
অর্থাৎ, সংগ্রামই যেখানে Law Of Life (Naturally) , সেখানে যারা সংগ্রামে অংশগ্রহণ করবেনা, তাদের বেঁচে থাকার আদতে কোন অধিকার নেই।
Hitler ভাবতো, ইহুদীরা যেহেতু ম্লেচ্ছ, Inferior (তার দৃষ্টিতে), তাই প্রকৃতিতে তাদের বেঁচে থাকার কোন অধিকারই নেই। তাই সে সমানভাবে ৬০ লক্ষ ইহুদীকে গনহত্যার মাধ্যমে প্রকৃতি থেকে বিলুপ্ত করে দেয়।
তাহলে, আমরা যদি দাবি করি, ডারউইনের The Origin Of Species: By means Of Natural Selection' বই পড়ে উদ্বুদ্ধ হয়ে Hitler এরকম গনহত্যা করেছে, তাহলে কি তা খুব যুক্তিবিরুদ্ধ হয়ে যাবে? যেখানে সে নিজেই Evolutionary higher Stage এর কথা উল্লেখ করেছে।
এরকম আমরা যদি Hitler এর এই অপরাধের জন্য ডারউইনকে দোষী সাব্যস্ত করি, তার মরণোত্তর (যদিও ইম্পসিবল) মৃত্যুদন্ড দাবি করি, কলেজ-ইউনিভার্সিটিতে Theory Of Evolution পড়ানো বন্ধের দাবি তুলি, আমাদের নাস্তিক বন্ধুরা কি আমাদের সাথে একমত হবেন যেভাবে জঙ্গী কর্মকান্ডের সাথে জাকির নায়েকের Link করেছিলেন আপনারা? উত্তরের আশায় রইলাম।
(আমি বলছি না যে, হিটলারের কাজের জন্য ডারউইন দোষী। কিন্তু, একজন জঙ্গীর একটি সিলি ম্যাটার যদি জাকির নায়েককে বিচারের আওতায় আনে, হিটলারের ৬০ লক্ষ ইহুদি হত্যার জন্য ডারউইনকেও বিচারের আদালতে তোলা যায়)
'নাস্তিকদের অসততা- একটি তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ'/ আরিফ আজাদ

কওমী স্বীকৃতি: শংকা ও সম্ভাবনা-মুহাম্মাদ মামুনুল হক


কওমী মাদরাসা শিক্ষা সনদের সরকারী স্বীকৃতি আবার লাইমলাইটে ৷ ১১ই এপ্রিলের ডেটলাইনকে কেন্দ্র করে অজানা শংকা-সম্ভাবনার দোলাচলে দুলছে কওমী মহল ৷ এই বিষয়ে পূর্বেকার প্রতিটি আলোচিত পর্বে আমি ও আমরা স্বোচ্চার ছিলাম আলহামদুলিল্লাহ ৷ বর্তমান প্রেক্ষিতেও আমরা বিষয়টিতে নজর রাখছি ৷
কওমী স্বীকৃতির ইস্যুতে আমাদের দুটি বক্তব্য দ্ব্যার্থহীন ছিল-
এক, আমরা কওমীর স্বীকৃতি চাই ৷ এ বিষয়ে বিভ্রান্তির কোনো সুযোগ ছিল না, এখনও নেই ৷
দুই, স্বীকৃতির নামে সরকারী খবরদারীর কোনো প্রক্রিয়ার সাথে আপোষ চলবে না ৷ স্বীকৃতি কোনোভাবেই যেন স্বকীয়তা-স্বাধীনতার মূল্যে না হয় ৷
শেষোক্ত সরকারী নিয়ন্ত্রণমুক্ত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়াই ছিল সব চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ৷ এটা নিয়েই ছিল আমাদের তর্ক-বিতর্ক ৷ পক্ষ-বিপক্ষের ইজতেহাদী লড়াই ৷ আমরা বিষয়টি নিশ্চিত করার লক্ষে আমাদের পক্ষ থেকে দুটি পয়েন্ট এক্ষেত্রে চিহ্নিত করেছিলাম-
ক, কওমী মাদরাসাগুলো নিয়ন্ত্রণকারী, পরীক্ষা গ্রহনকারী কর্তৃপক্ষ সরকার কর্তৃক গঠিত হতে পারবে না ৷ সেটা গঠন করবে এককভাবে ওলামায়ে কেরাম ৷ সরকারের এতে কোনো ভূমিকা বা অংশ থাকতে পারবে না ৷
খ, কর্তৃপক্ষ বা বোর্ড যে নামেই হোক, তার নেতৃত্ব নির্বাচনে সরকারের কোনোরূপ নিয়ন্ত্রণ বা ক্ষমতা তো দূরে থাক, সংশ্লিষ্টতাও থাকতে পারবে না ৷
আমরা আশ্বাসবাণী শুনছি-
আমাদের উপরোক্ত শর্ত রক্ষা করেই স্বীকৃতির ঘোষনা ও তা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি সরকারের সর্বোচ্চ মহল থেকে দেওয়া হয়েছে ৷ সে মতেই সব আয়োজন হচ্ছে ৷
এখন আমাদের বক্তব্য হচ্ছে-
আমরা যেভাবে শুনছি যদি সেভাবেই ঘোষনা আসে এবং বাস্তবায়িত হয়, তাহলে আমরা সর্বোতভাবে তার পক্ষে আছি ৷
আল্লাহ না করুন, যদি এর কোনোরূপ ব্যত্যয় ঘটে, তাহলে মুহতারাম হেফাজত মহাসচিবের যুদ্ধের ঘোষনা বহাল থাকবে ৷ আমরা স্বীকৃতির আওতায় যাবো না ৷ বরং তার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়তে যত দূর সম্ভব সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে ইনশাআল্লাহ!

Wednesday, April 5, 2017

নবী সম্রাট সুলায়মান : সালতানাতে সুলায়মানি


রশীদ জামীল:
আলোচনা চলছিল খোলামেলা পরিবেশে। মানুষ, জিন, পশু, পাখি... সবাই উপস্থিত। ফুরফুরে মোডে ছিলেন আল্লাহর নবী সুলায়মান আলাইহিস সালাম। সেই মুহূর্তে ছোট্ট একটি পোকা সামনে এসে দাঁড়াল। নবী ভাবলেন, কিছু চাইতে এসছে। তিনি বললেন,
- ও পোকা! জিন, ইনসান, পশু-পাখি এমনকি বাতাস পর্যন্ত আমার অনুগত। বল তোর কী লাগবে? তোদের যাবতীয় কিছুর জিম্মাদারি আমার। আর আমাকে সে ক্ষমতাও দেয়া হয়েছে। তুই যা চাইবি, তাই দেয়া হবে তোকে। বলে ফেল কী চাই?
ছোট্ট পোকা হেসে উঠলো। সুলায়মান বললেন,
- হাসছিস কেনো?
- মাফ করবেন জাহাপনা। হাসছি আপনার কথা শুনে।
- কেনো! তোর বিশ্বাস হয় না?
- বিশ্বাস-অবিশ্বাসের প্রশ্ন নয় মালিক। প্রশ্ন ক্ষমতার।
- কী বলতে চাস তুই?
- বাদ দেন মালিক। আমি ছোট মানুষ। আমার চিন্তা-ভাবনাও ছোট।
- কথা ঘুরাসনে। বল, কী লাগবে তোর। আমি এক্ষুণি ব্যবস্থা করছি।
- সত্যি দিবেন? পারবেন দিতে?
- বলেই দেখ না!
- ঠিকাছে মালিক। আল্লাহপাক আমার জন্য যে রিযিক নির্ধারণ করে রেখেছেন, সে রিযিক একটু বাড়িয়ে দেন। আর সেই সাথে আমার হায়াতটাও একটু বাড়িয়ে দিয়েন...
বিস্মিত হয়ে তাকালেন সুলায়মান! এতটুকুন জন্তু হলেও প্রশ্ন অনেক ডীপ পয়েন্টে চলে গেছে। চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে তাঁর ক্ষমতা কত সীমিত। লজ্জিত হলেন আল্লাহর নবী। বললেন, আমি অত্যন্ত দু:খিত। তুই এমন জিনিষ চেয়েছিস আমার কাছে, যা দেয়ার ক্ষমতা আমার আসলেই নেই!
সুলায়মানের ছোট্ট এই পোকাটির আক্বিদা কত পোক্ত ছিল। সেও জানতো দেবার ক্ষমতা একমাত্র আল্লাহর। অথচ, বর্তমান বিশ্বে এমন অনেক কপালপোড়ার দেখা মিলে, যারা আল্লাহ ছাড়াও পীর-ফকির-খাজাবাবা, দয়াল বাবাদের কাছে চায়! এরা কতবেশি হতভাগা! কাফের থেকেও খারাপ অবস্থায় তারা। কাফেরের তো তাও সম্ভাবনা থাকে মরার আগে ঈমান নিয়ে আসার। তাহলে সব গোনাহ মাফ হয়ে গেল। কিন্তু এই মুশরিকদের সামনে তো এই সম্ভাবনাও নেইা। এরা তো শিরক করছে ইবাদত মনে করে। যে কারণে তওবাহ করারও তো প্রশ্নও আসে না।
______ (পাগলের মাথা খারাপ)

Sunday, April 2, 2017

মাহফিল নয়.... দাওয়াতের মিশন: হারুন ইজহার

যেখানে ইমান জাগল...
 চিন্তা শাণিত হল...
স্বপ্ন উঁকি দিল...
 তাকবীর ধ্বনিত হল...
দাওয়াত বিকশিত হল...
তাওহীদের প্যান্ডেলে ওলামা- জনতা- প্রশাসন একাকার হল...
নাস্তিক্যবাদ ধিকৃত হল...
সন্ত্রাসবাদ অস্বীকৃত হল...
শান্তির কথা উচ্চারিত হল...
 সমাজবিপ্লবের ম্যাপ অঙ্কিত হল...
শত্রু-মিত্র তত্ত্ব হাজির হল...
সীরাতে রাসূলের কথা বিবৃত হল...
 কোরআানে পানে সকলকেই ফিরে আসতে বলা হল...
নবচেতনার আযান দেয়া হল....
বাকি ভরসাটুকু একমাত্র মহান আল্লাহর উপর।
ইসলামী মহাসম্মেলন-৩১ মার্চ, জামেয়া লালখানবাজার চট্টগ্রাম;

Thursday, March 2, 2017

ইসলামের দৃষ্টিতে মূর্তি ও ভাস্কর্য

.
কোনো প্রাণীর-মূর্তি নির্মাণ করা ইসলামী শরীয়তে কঠিন কবীরা গুনাহ ও হারাম । মূর্তি সংগ্রহ, মূর্তি সংরক্ষণ এবং মূর্তির বেচাকেনা ইত্যাদি সকল বিষয় কঠিনভাবে নিষিদ্ধ। মূর্তিপূজার কথা তো বলাই বাহুল্য, মূর্তি নির্মাণেরও কিছু কিছু পর্যায় এমন রয়েছে যা কুফরী।
.
কেউ কেউ মূর্তি ও ভাস্কর্যের মধ্যে বিধানগত পার্থক্য দেখাতে চান। এটা চরম ভুল। ইসলামের দৃষ্টিতে মূর্তি ও ভাস্কর্য দুটোই পরিত্যাজ্য। কুরআন মজীদ ও হাদীস শরীফে এ প্রসঙ্গে যে শব্দগুলো ব্যবহৃত হয়েছে সেগুলো মূর্তি ও ভাস্কর্য দুটোকেই নির্দেশ করে। এ প্রসঙ্গে কুরআন মজীদের স্পষ্ট নির্দেশ-
ﻓَﺎﺟْﺘَﻨِﺒُﻮﺍ ﺍﻟﺮِّﺟْﺲَ ﻣِﻦَ ﺍﻟْﺎَﻭْﺛَﺎﻥِ ﻭَ ﺍﺟْﺘَﻨِﺒُﻮْﺍ ﻗَﻮْﻝَ ﺍﻟﺰُّﻭْﺭِۙ ۝۳۰
‘তোমরা পরিহার কর অপবিত্র বস্ত্ত অর্থাৎ মূর্তিসমূহ এবং পরিহার কর মিথ্যাকথন।’ -সূরা হজ্জ : ৩০
এই আয়াতে পরিস্কারভাবে সবধরনের মূর্তি পরিত্যাগ করার এবং মূর্তিকেন্দ্রিক সকল কর্মকান্ড বর্জন করার আদেশ দেওয়া হয়েছে।
আরো লক্ষণীয় বিষয় এই যে. উপরের আয়াতে সকল ধরনের মূর্তিকে ‘রিজস’ শব্দে উল্লেখ করা হয়েছে। ‘রিজ্স’ অর্থ নোংরা ও অপবিত্র বস্ত্ত। বোঝা যাচ্ছে যে, মূর্তির সংশ্রব পরিহার করা পরিচ্ছন্ন ও পরিশীলিত রুচিবোধের পরিচায়ক।
.
দ্বিতীয় আয়াত
.
অন্য আয়াতে কাফের সম্প্রদায়ের অবস্থা তুলে ধরা হয়েছে এভাবে-
ﻭَ ﻗَﺎﻟُﻮْﺍ ﻟَﺎ ﺗَﺬَﺭُﻥَّ ﺍٰﻟِﻬَﺘَﻜُﻢْ ﻭَ ﻟَﺎ ﺗَﺬَﺭُﻥَّ ﻭَﺩًّﺍ ﻭَّ ﻟَﺎ ﺳُﻮَﺍﻋًﺎ ۬ۙ ﻭَّ ﻟَﺎ ﯾَﻐُﻮْﺙَ ﻭَ ﯾَﻌُﻮْﻕَ ﻭَ ﻧَﺴْﺮًﺍۚ ۝۲۳
‘এবং তারা বলেছিল, তোমরা কখনো পরিত্যাগ করো না তোমাদের উপাস্যদেরকে এবং কখনো পরিত্যাগ করো না ওয়াদ্দ, সুওয়া, ইয়াগূছ, ইয়াঊক ও নাসরকে।’ -সূরা নূহ : ২৩
এখানে কাফের সম্প্রদায়ের দুটো বৈশিষ্ট্য উল্লেখিত হয়েছে : ১. মিথ্যা উপাস্যদের পরিত্যাগ না করা। ২. মূর্তি ও ভাস্কর্য পরিহার না করা। তাহলে মিথ্যা উপাস্যের উপাসনার মতো ভাস্কর্যপ্রীতিও কুরআন মজীদে কাফেরদের বৈশিষ্ট্য হিসেবে চিহ্নিত। অতএব এটা যে ইসলামে গর্হিত ও পরিত্যাজ্য তা তো বলাই বাহুল্য।
উপরের আয়াতে উল্লেখিত মূর্তিগুলো সম্পর্কে আবদুল্লাহ ইবনে আববাস রা. বলেন, এগুলো হচ্ছে নূহ আ.-এর সম্প্রদায়ের কিছু পুণ্যবান লোকের নাম। তারা যখন মৃত্যুবরণ করেছে তখন শয়তান তাদের সম্প্রদায়কে এই কুমন্ত্রনা দিয়েছে যে, তাদের স্মৃতি বিজড়িত স্থানগুলোতে মূর্তি স্থাপন করা হোক এবং তাদের নামে সেগুলোকে নামকরণ করা হোক। লোকেরা এমনই করল। ওই প্রজন্ম যদিও এই সব মূর্তির পূজা করেনি কিন্তু ধীরে ধীরে প্রকৃত বিষয় অস্পষ্ট হয়ে গেল এবং পরবর্তী প্রজন্ম তাদের পূজায় লিপ্ত হল। -সহীহ বুখারী হাদীস : ৪৯২০
.
তৃতীয় আয়াত
.
কুরআন মজীদে মূর্তি ও ভাস্কর্যকে পথভ্রষ্টতার কারণ হিসেবে চিহ্ণিত করা হয়েছে। এক আয়াতে এসেছে-
ﺭَﺏِّ ﺍِﻧَّﻬُﻦَّ ﺍَﺿْﻠَﻠْﻦَ ﻛَﺜِﯿْﺮًﺍ ﻣِّﻦَ ﺍﻟﻨَّﺎﺱِ ۚ
‘ইয়া রব, এরা (মূর্তি ও ভাস্কর্য) অসংখ্য মানুষকে পথভ্রষ্ট করেছে!’ -সূরা ইবরাহীম : ৩৬
অন্য আয়াতে এসেছে-
ﻭَ ﻗَﺎﻟُﻮْﺍ ﻟَﺎ ﺗَﺬَﺭُﻥَّ ﺍٰﻟِﻬَﺘَﻜُﻢْ ﻭَ ﻟَﺎ ﺗَﺬَﺭُﻥَّ ﻭَﺩًّﺍ ﻭَّ ﻟَﺎ ﺳُﻮَﺍﻋًﺎ ۬ۙ ﻭَّ ﻟَﺎ ﯾَﻐُﻮْﺙَ ﻭَ ﯾَﻌُﻮْﻕَ ﻭَ ﻧَﺴْﺮًﺍۚ ۝۲۳ ﻭَ ﻗَﺪْ ﺍَﺿَﻠُّﻮْﺍ ﻛَﺜِﯿْﺮًﺍ ۚ۬
‘আর তারা বলেছিল, তোমরা পরিত্যাগ করো না তোমাদের উপাস্যদের এবং পরিত্যাগ করো না ওয়াদ্দ সুওয়াকে, ইয়াগূছ, ইয়াঊক ও নাসরকে। অথচ এগুলো অনেককে পথভ্রষ্ট করেছে।’ -সূরা নূহ : ২৩-২৪
কুরআন মজীদে একটি বস্ত্তকে ভ্রষ্টতার কারণ হিসেবে চিহ্ণিত করা হবে এরপর ইসলামী শরীয়তে তা বৈধ ও গ্রহণযোগ্য থাকবে-এর চেয়ে হাস্যকর কথা আর কী হতে পারে।
.
চতুর্থ আয়াত
.
কুরআনের ভাষায় মূর্তি ও ভাস্কর্য হল বহুবিধ মিথ্যার উৎস। ইরশাদ হয়েছে-
ﺍِﻧَّﻤَﺎ ﺗَﻌْﺒُﺪُﻭْﻥَ ﻣِﻦْ ﺩُﻭْﻥِ ﺍﻟﻠّٰﻪِ ﺍَﻭْﺛَﺎﻧًﺎ ﻭَّ ﺗَﺨْﻠُﻘُﻮْﻥَ ﺍِﻓْﻜًﺎ ؕ
তোমরা তো আল্লাহর পরিবর্তে উপাসনা কর (অসার) মূর্তির এবং তোমরা নির্মাণ কর ‘মিথ্যা’। -সূরা আনকাবুত : ১৭
মূর্তি ও ভাস্কর্য যেহেতু অসংখ্য মিথ্যার উদ্ভব ও বিকাশের উৎস তাই উপরের আয়াতে একে ‘মিথ্যা’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই আয়াতগুলো থেকে পরিষ্কার জানা যাচ্ছে যে, মূর্তি ও ভাস্কর্য দুটোই সম্পূর্ণরূপে পরিত্যাজ্য।
.
হাদীস শরীফেও নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মূর্তি ও ভাস্কর্য সম্পর্কে পরিষ্কার বিধান দান করেছেন।
.
১. হযরত আমর ইবনে আবাসা রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন ‘আল্লাহ তাআলা আমাকে প্রেরণ করেছেন আত্মীয়তার সর্ম্পক বজায় রাখার, মূর্তিসমূহ ভেঙ্গে ফেলার, এবং এক আল্লাহর ইবাদত করার ও তাঁর সঙ্গে অন্য কোনো কিছুকে শরীক না করার বিধান দিয়ে। -সহীহ মুসলিম হা. ৮৩২
.
২. আবুল হাইয়াজ আসাদী বলেন, আলী ইবনে আবী তালেব রা. আমাকে বললেন, ‘আমি কি তোমাকে ওই কাজের দায়িত্ব দিয়ে প্রেরণ করব না, যে কাজের জন্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে প্রেরণ করেছিলেন? তা এই যে, তুমি সকল প্রাণীর মূর্তি বিলুপ্ত করবে এবং সকল সমাধি-সৌধ ভূমিসাৎ করে দিবে।’ অন্য বর্ণনায় এসেছে,... এবং সকল চিত্র মুছে ফেলবে।’ -সহীহ মুসলিম হা. ৯৬৯
.
৩. আলী ইবনে আবী তালেব রা. বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি জানাযায় উপস্থিত ছিলেন। তখন তিনি বললেন, ‘তোমাদের মধ্যে কে আছে, যে মদীনায় যাবে এবং যেখানেই কোনো প্রাণীর মূর্তি পাবে তা ভেঙ্গে ফেলবে, যেখানেই কোনো সমাধি-সৌধ পাবে তা ভূমিসাৎ করে দিবে এবং যেখানেই কোনো চিত্র পাবে তা মুছে দিবে?’ আলী রা. এই দায়িত্ব পালনের জন্য প্রস্ত্তত হলেন। এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যে কেউ পুনরায় উপরোক্ত কোনো কিছু তৈরী করতে প্রবৃত্ত হবে সে মুহাম্মাদের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রতি নাযিলকৃত দ্বীনকে অস্বীকারকারী।’ -মুসনাদে আহমাদ হা. ৬৫৭
এই হাদীসগুলো থেকে স্পষ্ট জানা যাচ্ছে যে, যে কোনো প্রাণী মূর্তিই ইসলামে পরিত্যাজ্য এবং তা বিলুপ্ত করাই হল ইসলামের বিধান। আর এগুলো নির্মাণ করা ইসলামকে অস্বীকারকারী সম্প্রদায়ের বৈশিষ্ট্য।
.
৪. আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন-
ﺇِﻥَّ ﻣِﻦْ ﺃَﺷَﺪِّ ﺍﻟﻨَّﺎﺱِ ﻋَﺬَﺍﺑًﺎ ﻳَﻮْﻡَ ﺍﻟْﻘِﻴَﺎﻣَﺔِ ﺍﻟْﻤُﺼَﻮِّﺭُﻭْﻥ َ.
প্রতিকৃতি তৈরিকারী (ভাস্কর, চিত্রকর) শ্রেণী হল ওইসব লোকদের অন্তর্ভুক্ত যাদেরকে কিয়ামত-দিবসে সবচেয়ে কঠিন শাস্তি প্রদান করা হবে।’ -সহীহ বুখারী হা. ৫৯৫০
.
৫. আবু হুরায়রা রা. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন, আল্লাহ তাআলা বলেন-
ﻭَﻣَﻦْ ﺃَﻇْﻠَﻢُ ﻣِﻤَّﻦْ ﺫَﻫَﺐَ ﻳَﺨْﻠُﻖُ ﺧَﻠْﻘًﺎ ﻛَﺨَﻠْﻘِﻲْ؟ ﻓَﻠْﻴَﺨْﻠُﻘُﻮْﺍ ﺫَﺭَّﺓً ﻭَﻟْﻴَﺨْﻠُﻘُﻮْﺍ ﺣَﺒَّﺔً ﺃَﻭْ ﻟِﻴَﺨْﻠُﻘُﻮْﺍ ﺷَﻌِﻴْﺮَﺓً .
ওই লোকের চেয়ে বড় জালেম আর কে যে আমার সৃষ্টির মতো সৃষ্টি করার ইচ্ছা করে। তাদের যদি সামর্থ্য থাকে তবে তারা সৃজন করুক একটি কণা এবং একটি শষ্য কিংবা একটি যব! -সহীহ বুখারী হা. ৫৯৫৩
এই হাদীসটি বর্তমান সময়ের জন্য অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক, যখন ভাস্কর-চিত্রকর, এমনকি গল্পকার ও ঔপন্যাসিকদেরকে পর্যন্ত ‘স্রষ্টা’ বলতে এবং তাদের কর্মকান্ডকে ‘সৃষ্টি’ বলতে সামান্যতমও দ্বিধাবোধ করা হয় না। কোনো কোনো আলোচকের আলোচনা থেকে এতটা ঔদ্ধত্যও প্রকাশিত হয় যে, যেন তারা সত্যি সত্যিই স্রষ্টার আসনে আসীন হয়ে গিয়েছেন!
সহীহ বুখারীর বিখ্যাত ভাষ্যকার হাফেয ইবনে হাজার আসকানী রাহ. লেখেন- এই ভাস্কর ও চিত্রকর সর্বাবস্থাতেই হারাম কাজের মধ্যে লিপ্ত। আর যে এমন কিছু নির্মাণ করে যার পূজা করা হয় তার পরিণাম অত্যন্ত ভয়াবহ। আর যে স্রষ্টার সামঞ্জস্য গ্রহণের মানসিকতা পোষণ করে সে কাফের ।’ -ফতহুল বারী ১০/৩৯৭
.
৬. উম্মুল মুমিনীন আয়েশা রা. ও আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন-
ﺇِﻥَّ ﺃَﺻْﺤَﺎﺏَ ﻫَﺬِﻩِ ﺍﻟﺼُّﻮَﺭِ ﻳُﻌَﺬَّﺑُﻮْﻥَ ﻳَﻮْﻡَ ﺍﻟْﻘِﻴَﺎﻣَﺔِ، ﻭَﻳُﻘَﺎﻝُ ﻟَﻬُﻢْ : ﺃَﺣْﻴُﻮْﺍ ﻣَﺎ ﺧَﻠَﻘْﺘُﻢْ .
এই প্রতিকৃতি নির্মাতাদের (ভাস্কর, চিত্রকরদের) কিয়ামত-দিবসে আযাবে নিক্ষেপ করা হবে এবং তাদেরকে সম্বোধন করে বলা হবে, যা তোমরা ‘সৃষ্টি’ করেছিলে তাতে প্রাণসঞ্চার কর!’
-সহীহ বুখারী হা. ৭৫৫৭, ৭৫৫৮;
.
৭. আব্দুল্লাহ ইবনে আববাস রা. বলেন, আমি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, ‘যে কেউ দুনিয়াতে কোনো প্রতিকৃতি তৈরি করে কিয়ামত-দিবসে তাকে আদেশ করা হবে সে যেন তাতে প্রাণসঞ্চার করে অথচ সে তা করতে সক্ষম হবে না।’ -সহীহ বুখারী হা. ৫৯৬৩
.
৮. আউন ইবনে আবু জুহাইফা তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সুদ ভক্ষণকারী ও সুদ প্রদানকারী, উল্কি অঙ্কণকারী ও উল্কি গ্রহণকারী এবং প্রতিকৃতি প্রস্ত্ততকারীদের (ভাস্কর, চিত্রকরদের) উপর লানত করেছেন। -সহীহ বুখারী হা. ৫৯৬২
এই হাদীসগুলো থেকে প্রমাণিত হয় যে,ভাস্কর্য নির্মাণ অত্যন্ত কঠিন কবীরা গুনাহ। আর কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা কুফরীরও পর্যায়ে পৌঁছে যায়।
মূর্তি ও ভাস্কর্যের বেচাকেনাও হাদীস শরীফে সম্পূর্ণ হারাম সাব্যস্ত করা হয়েছে।
.
৯. হযরত জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ রা. বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা বিজয়ের সময় মক্কায় থাকা অবস্থায় এই ঘোষণা দিয়েছেন যে, আল্লাহ ও তার রাসূল মদ ও মূর্তি এবং শুকর ও মৃত প্রাণী বিক্রি করা হারাম করেছেন।’ -সহীহ বুখারী হা. ২২৩৬
.
১০. উম্মুল মুমিনীন আয়েশা রা. বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অসুস্থতার সময় তাঁর জনৈকা স্ত্রী একটি গির্জার কথা উল্লেখ করলেন। গির্জাটির নাম ছিল মারিয়া। উম্মে সালামা ও উম্মে হাবীবা ইতোপূর্বে হাবাশায় গিয়েছিলেন। তারা গির্জাটির কারুকাজ ও তাতে বিদ্যমান প্রতিকৃতিসমূহের কথা আলোচনা করলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শয্যা থেকে মাথা তুলে বললেন, ওই জাতির কোনো পুণ্যবান লোক যখন মারা যেত তখন তারা তার কবরের উপর ইবাদতখানা নির্মাণ করত এবং তাতে প্রতিকৃতি স্থাপন করত। এরা হচ্ছে আল্লাহর নিকৃষ্টতম সৃষ্টি।’-সহীহ বুখারী হা. ১৩৪১ সহীহ মুসলিম হা. ৫২৮ নাসায়ী হা. ৭০৪
.
১১. আব্দুল্লাহ ইবনে আববাস রা. বলেন, ‘(ফতহে মক্কার সময়) নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন বায়তুল্লাহয় বিভিন্ন প্রতিকৃতি দেখলেন তখন তা মুছে ফেলার আদেশ দিলেন। প্রতিকৃতিগুলো মুছে ফেলার আগ পর্যন্ত তিনি তাতে প্রবেশ করেননি।’ -সহীহ বুখারী হা. ৩৩৫২
দৃষ্টান্তস্বরূপ এগারোটি হাদীস পেশ করা হল। আলোচিত প্রসঙ্গে ইসলামী বিধান বোঝার জন্য এটুকুই যথেষ্ট। কুরআন মজীদে যে কোনো ধরনের মূর্তির সংশ্রব ও সংশ্লিষ্টতা পরিহারের যে আদেশ মুমিনদেরকে করা হয়েছে সে সম্পর্কে একটা বিস্তারিত ধারণাও উপরোক্ত হাদীসগুলো থেকে জানা গেল।
.
কুরআন ও সুন্নাহর এই সুস্পষ্ট বিধানের কারণে মূর্তি বা ভাস্কর্য নির্মাণ, সংগ্রহ, সংরক্ষণ ইত্যাদি সকল বিষয়ের অবৈধতার উপর গোটা মুসলিম উম্মাহর ইজমা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
দেখুন : উমদাতুল কারী ১০/৩০৯; ফাতহুল বারী ১০/৪০১; তাকমিলা ফাতহুল মুলহিম : ৪/১৫৯
.
[ মাসিক আলকাউসার » যিলকদ ১৪২৯ . নভেম্বর ২০০৮ ]
.
■ প্রত্যেককেই শেয়ার করার জন্য অনুরোধ করছি।

Wednesday, March 1, 2017

বিনা বাক্যে শরীয়ত মেনে চলতে হবে

--মুফতী আবুল হাসান শামসাবাদী
মহান আল্লাহ পবিত্র ‍কুরআনে ইরশাদ করেন--
ﻭَﻣَﺎ ﻛَﺎﻥَ ﻟِﻤُﺆْﻣِﻦٍ ﻭَﻟَﺎ ﻣُﺆْﻣِﻨَﺔٍ ﺇِﺫَﺍ ﻗَﻀَﻰ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻭَﺭَﺳُﻮﻟُﻪُ ﺃَﻣْﺮًﺍ ﺃَﻥ ﻳَﻜُﻮﻥَ ﻟَﻬُﻢُ ﺍﻟْﺨِﻴَﺮَﺓُ ﻣِﻦْ ﺃَﻣْﺮِﻫِﻢْ ۗ ﻭَﻣَﻦ ﻳَﻌْﺺِ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﻭَﺭَﺳُﻮﻟَﻪُ ﻓَﻘَﺪْ ﺿَﻞَّ ﺿَﻠَﺎﻟًﺎ ﻣُّﺒِﻴﻨًﺎ
“কোন মুমিন পুরুষ এবং কোন মুমিনা নারীর জন্য অবকাশ নেই যে, যখন আল্লাহ ও তাঁর রসূল কোন কাজের আদেশ করেন, তখন তাদের জন্য তাতে নিজেদের ইচ্ছা প্রয়োগ করে তার অন্যথা করার প্রয়াসী হবে। যে আল্লাহ ও তাঁর রসূলের আদেশ অমান্য করবে, সে প্রকাশ্য পথভ্রষ্টতায় পতিত হবে। (আল-কুরআন, সূরাহ আহযাব, আয়াত নং ৩৬)
হাদীস শরীফে হযরত আবু হুরাইরা (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ (সা.)কে বলতে শুনেছি--
“আমি তোমাদেরকে যেসব বিষয় নিষেধ করেছি, তা থেকে বিরত থাক। আর যেসব বিষয়ে আদেশ করেছি, যথাসম্ভব তা পালন কর। অতিরিক্ত প্রশ্ন করা আর নবীদের সাথে মতবিরোধ করা তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের ধ্বংস করে দিয়েছে।”
(সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৭২৮৮/ সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৩৩৭)
*********************************************
*****************
দ্বীনী এ পোস্টকে শেয়ার করে ইসলামের আলো পৌঁছে দিন প্রিয়জনদের কাছে।
দ্বীনের হিদায়াতের সমূজ্জ্বল আলোকরশ্নিতে আলোকিত হোক মুমিনদের হৃদয়।

Saturday, February 25, 2017

শয্যাশায়ী সমগ্র বাংলাদেশ ও তার সংস্কৃতি

মুফতি ফয়জুল্লাহ 
কোন পরিবারে কেউ মৃত্যুশয্যায় পতিত হলে সে পরিবারে দুশ্চিন্তার অন্ত থাকে না। অথচ এখন শয্যাশায়ী সমগ্র বাংলাদেশ ও তার সংস্কৃতি। বাংলাদেশের মুসলমানদের জন্য এটি এক বিপদজনক দিক। আগ্রাসী শত্রুর হামলার মুখে আজ অরক্ষিত দেশটির রাজনৈতিক সীমান্তু, প্রচন্ড ভাবে অরক্ষিত দেশের সাংস্কৃতিক ও আদর্শিক সীমান্তও। অসংখ্য আলেম, অনেক বুদ্ধিজীবী, বহু রাজনীতিক,শিক্ষাবিদ ও লেখক এ বিষয়টি নিয়ে ক্ষুদ্ধ, ক্রুদ্ধ ও উদ্বিগ্ন।
শত্রুর হামলার মুখে প্রতিরোধের দায়ভার প্রতিটি মুসলমানের, প্রতিটি আলেম, প্রতিটি শিক্ষক, প্রতিটি ছাত্র ও প্রতিটি নাগরিকের । এ লড়াই হতে হবে কোরআনী জ্ঞানের তরবারী দ্বারা। ইসলামে এটিও জিহাদ। জিহাদের অংশ হিসেবেই অনেকেই মুখ খুলেছেন, প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন।
আমাদের একচ্ছত্র মালিক মহান আল্লাহ।

আপনার ধৃষ্টতায় আমরা স্তম্ভিত! আমরা পুড়ছি এখন নবীপ্রেমের আগুনে! -ইহয়া ইউসুফ নদভী

-ইহয়া ইউসুফ নদভী
এক.
`সোলায়মান'― একেবারে বিশুদ্ধ উচ্চারণ! ওরা সাধারণত আমাদের প্রিয় নামগুলোকে বিকৃত করেই উল্লেখ করে। (আমি ইচ্ছে করেই তা এখানে নকল করলাম না।) কিন্তু আশ্চর্য, এখানে কী নিখুঁত সঠিক উচ্চারণ! বোঝাই যাচ্ছে উদ্দেশ্যমূলক! আমাদের অনুভূতিতে শক্ত আঘাত করা! কী ধৃষ্টতা!!
দুই.
মিস্টার জাফর ইকবালের জানা আছে ভালো করেই; ‘এ নামে’ নবীপ্রেমিকরা জ্বলে উঠবেন। কষ্ট পাবেন। তবুও তিনি বিরত থাকতে পারেন নি! বিরত থাকতে চান নি! কেননা আমাদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগলে তার কষ্ট হয় না! মজা কি পান? পেতেও পারেন! কিন্তু বিনয়ের সাথে বলতে চাই― মিস্টার জাফর ইকবাল! হযরত সোলায়মান ( আলাইহিস সালাম) একজন নবী। একজন মহান বাদশা। তাঁর পিতাও একজন নবী! তিনিও ছিলেন একজন বাদশা! কেমন বাদশা ছিলেন হযরত সোলায়মান ( আলাইহিস সালাম) ? নজিরবিহীন! জমিনেও ছিলেন তিনি বাদশা! আকাশেও ছিলেন তিনি বাদশা! বৃুঝতেন তিনি পাখির ভাষা। পিঁপড়ের ভাষা। ইচ্ছে হলেই বাতাসে উড়ে বেড়াতেন।
এমন নবী ও বাদশাকে আপনি ভূতের বাচ্চা বানিয়ে ছাড়লেন?!
কী বলতে চাইছেন?
কী বোঝাতে চাইছেন?
তাঁর বাবা যে নবী ছিলেন; জানেন না?!!
সেই মহান নবীকে ভূত বানিয়ে তাঁর ছেলেকেও ভূত বানাতে চাইছেন? ভূতের বাচ্চা তো ভূতই হয়!
আহা, কী দয়া আপনার!! ছেলে ভূতটার নাম দিয়েছেন সোলায়মান! দেবেনই তো! নইলে যে আমাদের হৃদয়ে ধাক্কা লাগবে না! আঘাত লাগবে না?!
বলি কি, এতো ধৃষ্টতা দেখাবেন না!
একসঙ্গে পিতা-পুত্রকে আঘাত?!
যে দু’জনই নবী?
বাদশা?
আসমানী কিতাবের ধারক-বাহক?!
আমরা দুর্বল! পাল্টা আঘাত করতে পারি না! কিন্ত যিনি সোলায়মান আলাইহিস সালাম এবং দাউদ আলাইহিস সালামকে নবী করেছেন এবং বাদশা বানিয়েছেন; তিনি তো মহাশক্তিশালী!
মহাপ্রতিশোধগ্রহণকারী!!
তিন.
জাগৃতি! ধিক তোমাকে! শুধু বাণিজ্য করার জন্যে এমন ঘৃণিত ধিকৃত একটি শিরোনামের বই ছেপে দিয়েছো!
আফসোস বাংলা একাডেমি’র উদাসীনতার জন্যে! এমন শিরোনামের বই একটি জাতীয় গ্রন্থমেলায় কী করে স্থান পেলো?
‘ভুতের বাচ্চা ..... (একজন গন্যমান্য রাজনীতিকের নাম) হলে তা কি প্রকাশ পেতে পারতো আপনাদের এই মেলায়? আপনারা কি ভেটো দিতেন না? বেঁকে বসতেন না কি?! তাহলে একজন নবীর নামকে খোলাখুলি পরিহাস করে যে বইয়ের শিরোনাম দেয়া হয়েছে সে বই কী করে ছাপা হলো?!!
নবীর মর্যাদা এতোই কম আপনাদের চোখে?
ধিক, শত ধিক!!
হে আকাশের ফেরেশতারা! ঘৃণা বর্ষণ করো!
* প্রিয় নবী হে সোলায়মান! ক্ষমা করুন হযরত! আমাদের ভাষা নেই প্রতিবাদ করার! ভাঙা ভাঙা বর্ণমালায় একটু কাঁদলাম! আল্লাহকে একটু বলুন না― আমাদেরকে মুক্তি দিতে এ অপসাহিত্যের কবল থেকে! কেনো আমাদের শিশুরা পড়বে এ অপসাহিত্য?!

ঈমান ও নাস্তিকতা :মাসিক মঈনুল ইসলাম

আমরা বাতাসকে যদি না দেখে বিশ্বাস করতে পারি, তাহলে বাতাসের স্রষ্টাকে কেন না দেখে বিশ্বাস করতে পারবো না? হয়ত যুক্তি দেখাবেন বাতাসকে অনুভব করা যায়। যদি কোন কিছু অনুভব করা গেলেই বিশ্বাস করা যায়, তাহলে স্রষ্টাকে কেন বিশ্বাস করবেন না? এমন অসংখ্য বিষয় রয়েছে, যার মাধ্যমে সহজেই স্রষ্টার অস্তিত্ব অনুভব করা যায়। আমরা জানি মানুষের পাঁচটি ইন্দ্রিয় আছে, কিন্তু এমনও অনেক জীব আছে, যারা ষষ্ঠ ইন্দ্রিয়ের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরণের দূর্যোগ যেমন ঘূর্ণিঝড়, ভূমিকম্প ইত্যাদির আলামত পূর্ব থেকে জানতে পারে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ২০০৪ সালের সুনামিতে যেখানে ল ল আদম সন্তান প্রাণ হারায় সেখানে অন্যান্য জীবজন্তুর মৃত্যুর সংখ্যা ছিল অত্যন্ত কম। আমি যদি আপনাদের প্রশ্ন করি, ‘কে তাদেরকে পূর্ব থেকে এই সুনামির কথা জানিয়ে দিয়েছে?’ উত্তরে আপনারা বলবেন, ‘তাদের ষষ্ঠ ইন্দ্রিয়ই তাদেরকে পূর্ব থেকে সুনামির কথা জানিয়েছে’। আমি অবাক হবো। বলবো, ‘ষষ্ঠ ইন্দ্রিয়! এটা আবার কি? আপনারা আমাকে এটার কি প্রমাণ দেখাতে পারবেন?’ আপনাদের তখন মন্তব্য হবে,‘এটা বিশ্বাসের বিষয়, এবং এটাই সত্য’। আমি বলবো, ‘হ্যাঁ, ঠিক তেমনি স্রষ্টাও বিশ্বাসের বিষয় এবং স্রষ্টাই সত্য।