Latest Post

কওমীর স্বীকৃতি ও দেবিমূর্তি বিরোধী বক্তব্য আর রাজনৈতিক স্বার্থের ভেল্কিবাজি: মুহাম্মাদ মামুনুল হক

ঢাকা ১৩ই এপ্রিল'১৭ আজকের প্রথম আলোর প্রথম পাতায় প্রধান শিরোনাম দেখে মনে পড়ছে দুই হাজার ছয়ের কথা ৷ যখন হযরত শায়খুল হাদীস রহঃএর দলের...

Showing posts with label রাজনিতি. Show all posts
Showing posts with label রাজনিতি. Show all posts

Thursday, April 13, 2017

কওমীর স্বীকৃতি ও দেবিমূর্তি বিরোধী বক্তব্য আর রাজনৈতিক স্বার্থের ভেল্কিবাজি: মুহাম্মাদ মামুনুল হক


ঢাকা ১৩ই এপ্রিল'১৭
আজকের প্রথম আলোর প্রথম পাতায় প্রধান শিরোনাম দেখে মনে পড়ছে দুই হাজার ছয়ের কথা ৷ যখন হযরত শায়খুল হাদীস রহঃএর দলের সাথে শেখ হাসিনার আওয়ামীলীগ পাঁচ দফার চুক্তি করেছিল তখনও প্রথম আলোরা এমনই করেছিল ৷ প্রতিক্রিয়াশীল ইসলাম বিদ্বেষী গোষ্ঠী তাদের সব ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে অভিন্ন সুরে পাঁচ দফার বিরুদ্ধে এবং পাঁচ দফার চুক্তি করায় আওয়ামীলীগের বিরুদ্ধে উঠে পড়ে লেগেছিল ৷ তখনও আমরা লক্ষ করেছিলাম, তিনটি মহল থেকে এই চুক্তির বিরোধিতা করা হয়েছিল-
এক, বামপন্থী বুদ্ধিজীবি, রাজনীতিক ও সংবাদ মাধ্যম,
দুই, বিএনপি-জামাত
তিন, ইসলামপন্থীদের মধ্য থেকে একটি বড় গ্রূপ
তবে স্বাভাবিকভাবেই সবচেয়ে কঠোর বিরোধিতা ছিল বামপন্থীদের পক্ষ থেকে ৷
আজও সেই একই অভিন্ন প্লাটফর্মে ঐক্যবদ্ধ বাম-বিএনপি জামাত- ইসলামপন্থী কিছু মহল ৷
এ এক অাশ্চর্যজনক বিষয়, পরস্পর বিরোধী তিনটি পক্ষের সুর অভিন্ন হয় কী করে? তারা এক কথা বলার হেতু কী?
এর কার্যকারণ খুব কিছু অস্পষ্ট নয় ৷ এ হল স্বার্থের মাজেযা!
বামপন্থীরা বাংলাদেশে গণবিচ্ছিন্ন একটি ক্ষুদ্র জাত ৷ তাদের স্বকীয় কোনো শক্তির অবস্থান নেই ৷ তাদের ইসলাম বিদ্বষী এজেণ্ডাগুলো বাস্তবায়নের জন্য আওয়ামীলীগের মুখাপেক্ষী এরা ৷ আওয়ামীলীগের কাধে ভর করেই এরা সাধারনত পাগার পার হয় ৷ আওয়ামীলীগের মাথায় কাঠাল ভেঙ্গে খেয়ে অভ্যস্ত এরা ৷ সেই আওয়ামীলীগও যদি ইসলামের কিছু এজেণ্ডা বাস্তবায়ন শুরু করে, হুজুরদের সাথে সখ্যতা গড়ে তোলে, তাহলে তো এদের হাটুপানিতে ডুবে মরা ছাড়া উপায় নেই ৷ এ কারণে এই ক্ষুদ্র গোষ্ঠীটি আওয়ামীলীগের ভেতর-বাহির থেকে সব সময় সচেষ্ট থাকে আওয়ামীলীগ যেন কখনো ইসলামের স্বপক্ষে কোনো ভূমিকা রাখতে না পারে ৷ ইসলামের দিকে ঝুঁকে না পড়ে ৷
বাংলাদেশের জাতীয় ঈদগাহের পাশে, সুপ্রীমকোর্টের নাকের ডগায় দেবীর মূর্তিস্থাপনের সাহস তারা পেয়েছিল আওয়ামীলীগের ক্ষমতার ভরসাতেই ৷ ইতিহাস বলে, আওয়ামীলীগ যখনই এই বামগোষ্ঠীর শেকল ভেঙ্গে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করেছে তখনই এরা মরণকামড় দিয়েছে ৷ বাম গোষ্ঠীটি সংখ্যায় নগণ্য হলেও এরা হল ইহুদিদের মত ৷ পৃথিবীতে ইহুদির সংখ্যা খুবই কম ৷ কিন্তু ওরাই বিশ্বশক্তির নিয়ন্ত্রক! আওয়ামীলীগের জন্য বামরা হল ইহুদিদের মত শক্তিশালী বৃত্তবলয় ৷
দেবিমূর্তির এজেণ্ডা ইসলাম বিদ্বেষীদের জীবন-মরণের বিষয় ৷ স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশে ইসলামের বিরুদ্ধে প্রত্যক্ষভাবে এটিই সবচেয়ে বড় আঘাত বলে আমি মনে করি ৷ এর জন্য ওরা সময় নির্বাচন করেছিল আওয়ামীলীগের নিরংকুশ প্রাধান্যের এই সময়কে ৷ এ কারণেই গণ ভবনের ১১এপ্রিলের সম্মেলনে স্বীকৃতির ঘোষনার চেয়েও বড় প্রাপ্তি মনে হয়েছিল প্রধানমন্ত্রীর দেবিমূর্তি বিরোধী বক্তব্য ও প্রত্যয়কে ৷ স্বীকৃতির হাকীকত তো সামনে আসবে প্রজ্ঞাপন জারির পর ৷
এখন বাংলাদেশে কওমী ওলামা-ছাত্রদের সুখের দিন ৷ এটাই সুযোগ! এই সুযোগে কওমী মাদরাসা থেকে মক্তবের একটা পিচ্চিও চাইলে ইনুর পাছায় দুটো লাত্থি মেরে আসতে পারে ৷ জানি না, এমন সুযোগ কত দিন থাকবে?
বিএনপি এ দেশে রাজনীতি করে ইসলামের নাম ভাঙ্গিয়ে ৷ ইসলামের সোল এজেন্ট রূপ ধরে ওরা ক্ষমতার স্বাদ ভোগ করে ৷ অন্য কেউ ইসলামের জন্য কিছু করে দিলে ওদের এজেন্সি কমিশনে ভাটা পড়তে পারে এই আশংকায় সব সময় ভিতু থাকে ৷ জামাত মনে করে, নিজেদের প্রয়োজনে ওরাই কেবল কখনো বিএনপি কখনো আওয়ামীলীগের সাথে দেন-দরবার করার অধিকার সংরক্ষণ করে ৷ ওদের যখন যেদিকে স্বার্থ সেদিকে যাবে, আর হুজুররা চেয়ে চেয়ে দেখবে, পারলে সহযোগিতা করবে ৷ তাহলে হুজুররা খুব ভালো! জামাতের স্বার্থ বাদ দিয়ে ইসলামের স্বার্থ নিয়ে হুজুররা এগিয়ে গেলে তাই জামাতের গাত্রদাহ শুরু হয় ৷
এ ছাড়াও কওমী চেতনা বিরোধী আহলে শিন্নীর দল, আর বিএনপি-জামাতের হাতে বন্ধক রাখা ইসলামী দলগুলোও নাখোশ ঐ একই স্বার্থের কারণে ৷
ঐক্যবদ্ধ হক্কানী ওলামায়ে কেরাম নারী প্রধানমন্ত্রীর গণ ভবনে সম্মেলন করে ইসলামের জন্য বড় অর্জন আনলেও কিছু মানুষ খুশি হতে পারেন না নিজেদের রাজনৈতিক স্ট্যাণ্ড ভুল প্রমাণিত হওয়ায় ৷ উল্টো শায়খুল হাদীস মুফতী আমিনী রহঃএর মতো আল্লামা আহমদ শফিকেও দাড় করায় অভিযোগের কাঠগড়ায়! এটাই হল রাজনৈতিক স্বার্থের ভেল্কিভাজি!!

Tuesday, April 11, 2017

স্যেকুলাররা রমেন দাশ গুপ্তকে বেয়াদব রূপে গড়ে তুলে:মুনির আহমদ


বাংলা নিউজ ২৪ ডটকম-এর একজন সাংবাদিক রমেন দাশ গুপ্ত হেফাজতের মহাসচিব শীর্ষপর্যায়ের মুহাদ্দিস ও বরেণ্য আলেম আল্লামা হাফেজ মুহাম্মদ জুনায়েদ বাবুনাগরীর নামে ভদ্র যে কোন মানুষের মুখে উচ্চারণের অযোগ্য একটা মারাত্মক অশ্লীল এবং অগ্রহণযোগ্য কমেন্ট করেন। সেই কমেন্ট তিনি পরে এডিট করেন এবং শেষমেষ মুছে দেন।
তিনি একজন সাংবাদিক, বাম রাজনীতি করতেন, ছাত্র জীবনে ছাত্র ইউনিয়ন করতেন।
একজন পেশাদার সাংবাদিক হিসেবে হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব ও সর্বজনশ্রদ্ধেয় আলেমে-দ্বীন সম্পর্কে তার বিরাগ থাকা কি উচিত?? তাকে তো নির্মোহভাবে সংবাদ সংগ্রহ আর ভদ্র ভাষায় পরিবেশন করতে হবে। তিনি কেন একজন বর্ষীয়ান শীর্ষ আলেম সম্পর্কে এই ধরণের কথা বলবেন?
তিনি বলছেন, তার একাউন্ট হ্যাক হয়েছিল। কিন্তু আমাদের কাছে যথেষ্ট প্রমাণ আছে যে, তিনি নিজেই এই কমেন্ট করেছিলেন। সবকিছু যদি বাদও দেই, তাও প্রশ্ন থাকে যে, একজন প্রবীণ ও শীর্ষস্থানীয় মুসলিম নেতা সম্পর্কে এমন অশ্লীল কমেন্ট করেন কীভাবে???
এখানেই আসে আত্মিক শিক্ষার প্রশ্ন। আমরা বারেবারে বলে আসছি যে, এই স্যেকুলার বামেরা প্রথমেই মানুষের আত্মিক সম্পদ ধ্বংস করে, তাকে দুর্বিনীত এবং বেয়াদব রূপে গড়ে তুলে। যেই মানুষ আল্লাহকে অস্বীকার করে, তার কাছে সারা পৃথিবীর মানুষ- যা আল্লাহ্র নিয়ামত ও মর্যাদাবান সৃষ্টি, তার কি কোন মূল্য থাকে?? যার একটা প্রমাণ রমেন দাশ গুপ্ত নিজেও আলোচ্য কমেন্ট এর মাধ্যমে দেখি দিলেন। আজকে সবাই এই প্রমাণ দেখলো যে, বাম-সেক্যুলারদের কাছে কোন কিছুই কোন মানুষই সন্মানীয় ও মর্যাদার নয়। আসলে আমরা ক্রমাগতই তার প্রমাণ দেখছি।
ধিক এই শিক্ষা আর দর্শনকে, যা মানুষকে অসন্মান করতে ও অপমান করতে শেখায়। আমরা তাকে বদদোয়া দিব না। বরং কামনা করি, আল্লাহ তাকে সুপথে আনুন, মানুষের মর্যাদা যেন সে বুঝতে পারে, মুরুব্বিদের সম্মান করার নিয়ামত যেন বুঝতে পারে

Wednesday, April 5, 2017

সরকার একের পর এক ইসলামবিরোধী কাজ করে যাচ্ছে: ইসলামী আন্দোলন

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ’র মহাসচিব মাওলানা ইউনূস আহমদ বলেছেন, সরকার একের পর এক ইসলামবিরোধী কাজ করে যাচ্ছে, তাতে ইসলামী জনতার বিস্ফোরণ ঘটলে সরকার মসনদ টিকিয়ে রাখতে পারবে না। সরকার নাস্তিক্যবাদী বামপন্থি কিছু মন্ত্রীদের প্ররোচণায় লাগামহীন ইসলাম ও মানবতা বিরোধী কাজ করে যাচ্ছে।
বুধবার দুপুর ১২টায় রাজধানীর গোল্ডেন প্লেট রেস্টুরেন্টে ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন-এর মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে মূর্তি স্থাপন, মঙ্গল শোভাযাত্রার নামে হিন্দুয়ানি সংস্কৃতি পালন করতে সারাদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে বাধ্য করা, মসজিদের ইমামগণের কণ্ঠরোধ, মসজিদের জমি সরকারি কাজে অধিগ্রহণ এবং ভারতের সঙ্গে সামরিক চুক্তি করার মাধ্যমে আমাদের অহংকার সেনাবাহিনীকে গোলামীর জিঞ্জির পরানোর অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। তিনি এই মুহুর্তে জাতির বিবেক হিসেবে সাংবাদিকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে আহ্বান জানান।
ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন-এর ব্যবস্থাপনায় কেন্দ্রীয় সভাপতি জি.এম. রুহুল আমীনের সভাপতিত্বে ও কেন্দ্রীয় তথ্য-গবেষণা ও প্রচার সম্পাদক মুহা. ইলিয়াস হাসানের সঞ্চালনায় উক্ত অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন- ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর যুগ্ম মহাসচিব অধ্যাপক এটিএম হেমায়েত উদ্দীন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি মাওলানা ইমতিয়াজ আলম, ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ, কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক মাওলানা আহমাদ আবদুল কাইয়ুম, ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন-এর কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি শাইখ ফজলুল করীম মারুফ, সেক্রেটারি জেনারেল শেখ মুহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম, জয়েন্ট সেক্রেটারে জেনারেল মুহাম্মাদ হাছিবুল ইসলাম ও কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এস.এম এমদাদুল্লাহ ফাহাদ প্রমুখ।আস

সাঈদীর রিভিউ কার্যতালিকায়


দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী (ফাইল ফটো)

ঢাকা: মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর রিভিউ আবেদন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের কার্যতালিকায় এসেছে।
রায়ের পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) চেয়ে উভয়পক্ষের করা আবেদন বৃহস্পতিবারের (০৬ এপ্রিল) কার্যতালিকায় ১৩৮ নম্বরে আছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া ফাঁসির রায় পুনর্বহাল চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আর সর্বোচ্চ আদালতের চূড়ান্ত রায়ে দেওয়া আমৃত্যু কারাদণ্ড থেকে খালাস চেয়ে আবেদন জানান সাঈদী।
দু’টি রিভিউ আবেদনের শুনানিই একসঙ্গে নেবেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ। এ বেঞ্চের সোমবারের (০৩ এপ্রিল) কার্যতালিকায়ও ১৪৭ নম্বর ক্রমিকে ছিল হয়েছে আবেদন দু’টি। তবে আদালতের নির্ধারিত সময় শেষ হয়ে যাওয়ায় সেদিন ওঠেনি।
পরে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেছিলেন, ০৬ এপ্রিলের মধ্যে শুনানি শুরু এবং এর প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ পাবেন বলে আশাবাদী তিনি।
মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি সাঈদীকে মৃত্যুদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।
এ রায়ের বিরুদ্ধে ওই বছরের ২৮ মার্চ পৃথক দু’টি আপিল দাখিল করেন সাঈদী ও সরকারপক্ষ। ট্রাইব্যুনালের রায়ে সাজা ঘোষিত না হওয়া ৬টি অভিযোগে শাস্তির আরজি জানিয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আর ফাঁসির আদেশ থেকে সাঈদীর খালাস চেয়ে আপিল করেন আসামিপক্ষ।
আপিল শুনানি শেষে ২০১৫ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর মৃত্যুদণ্ডাদেশের সাজা কমিয়ে সাঈদীকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেন সে সময়কার প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেনের নেতৃত্বে পাঁচ বিচারপতির আপিল বেঞ্চ। বিচারপতিদের মধ্যে মো. আবদুল ওয়াহহাব মিঞা সব অভিযোগ থেকে সাঈদীকে খালাস দেন। আর বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী আসামির মৃত্যুদণ্ডের পক্ষে রায় দেন। তবে প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেন, বর্তমান প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর মতামতে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে আমৃত্যু কারাদণ্ডের রায় আসে।
২০১৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর আপিল মামলা দু’টির ৬১৪ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর গত বছরের ১২ জানুয়ারি পুনর্বিবেচনার আবেদন জানান রাষ্ট্রপক্ষের অ্যাডভোকেট অন রেকর্ড সৈয়দ মাহবুবুর রহমান। ৩০ পৃষ্ঠার মূল আবেদনসহ ৬৫৩ পৃষ্ঠার রিভিউ আবেদনে সাঈদীকে ট্রাইব্যুনালের দেওয়া ফাঁসির দণ্ডাদেশ পুনর্বহালে ৫টি যুক্তি দেওয়া হয়েছে।
এর পাঁচদিন পর ১৭ জানুয়ারি করা ৯০ পৃষ্ঠার রিভিউ আবেদনে ১৬ যুক্তিতে আমৃত্যু কারাদণ্ড থেকে খালাস ও অভিযোগ থেকে অব্যাহতি চেয়েছেন সাঈদী।
সাঈদীর বিরুদ্ধে একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তিন হাজারেরও বেশি নিরস্ত্র ব্যক্তিকে হত্যা বা হত্যায় সহযোগিতা, নয়জনেরও বেশি নারীকে ধর্ষণ, বিভিন্ন বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে লুটপাট, ভাঙচুর এবং ১শ’ থেকে ১শ’৫০ জন হিন্দু ধর্মাবলম্বীকে জোরপূর্বক ধর্মান্তরে বাধ্য করার ২০টি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছিলো ট্রাইব্যুনালে।
ট্রাইব্যুনালের রায়ে সাঈদীর বিরুদ্ধে গণহত্যা, হত্যা, ধর্ষণের আটটি অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়। এর মধ্যে দু’টি অপরাধে অর্থাৎ ৮ ও ১০নং অভিযোগে ইব্রাহিম কুট্টি ও বিসাবালীকে হত্যা এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়ি ঘরে আগুন দেওয়ার দায়ে সাঈদীকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। প্রমাণিত অন্য ৬টি অর্থাৎ ৬, ৭, ১১, ১৪, ১৬ ও ১৯নং অভিযোগে আলাদাভাবে কোনো সাজা দেননি ট্রাইব্যুনাল।
আর সর্বোচ্চ আদালতের চূড়ান্ত রায়ে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে ৫টি অভিযোগ। এর মধ্যে ২টিতে অর্থাৎ ১৬ ও ১৯ নম্বর অভিযোগে হত্যা, নিপীড়ন, অপহরণ, নির্যাতন, ধর্ষণ ও ধর্মান্তরে বাধ্য করায় আমৃত্যু এবং একটিতে অর্থাৎ ১০ নম্বর অভিযোগে হত্যা, নিপীড়ন, অপহরণ, নির্যাতন, ধর্ষণ, ধর্মান্তরে বাধ্য করা ও এ ধরনের অপরাধে সহযোগিতার অপরাধে যাবজ্জীবন পেয়েছেন সাঈদী। একটিতে অর্থাৎ ৮ নম্বর অভিযোগে হত্যা, অপহরণ ও নির্যাতনের অভিযোগে ট্রাইব্যুনাল সাঈদীকে ফাঁসির রায় দিলেও আপিল বিভাগ অভিযোগের একাংশের জন্য সাঈদীকে ১২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং অন্য অংশের জন্য খালাস দিয়েছেন। একটিতে অর্থাৎ ৭ নম্বর অভিযোগে অপহরণ, নির্যাতন ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় সহযোগিতার জন্য ১০ বছর কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে সাঈদীকে।
এছাড়া ট্রাইব্যুনালে প্রমাণিত ৬, ১১ ও ১৪ নম্বর অভিযোগ আপিল বিভাগের রায়ে প্রমাণিত না হওয়ায় এসব অভিযোগ থেকে খালাস পেয়েছেন তিনি।
বাকি ১২টি অর্থাৎ ১, ২, ৩, ৪, ৫, ৯, ১২, ১৩, ১৫, ১৭, ১৮ ও ২০ নম্বর অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় ট্রাইব্যুনালের রায়ে এসব অভিযোগ থেকে খালাস পান সাঈদী। রাষ্ট্রপক্ষ এসব অভিযোগে আপিল বিভাগের কাছে সংবিধানের ১০৪ অনুচ্ছেদ অনুসারে ‘ন্যায়বিচার’ প্রার্থনা করেছিলেন। আপিলের রায়ে ট্রাইব্যুনালের এ খালাসের রায় বহাল রয়েছে।
বাংলাদেশ সময়: ১৮১০ ঘণ্টা, এপ্রিল ০৫, ২০১৭
ইস/এএসআর

ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বের সম্পর্ক রেখেই সবকিছু করা হবে : প্রধানমন্ত্রী


প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ পরিষ্কারভাবেই বলেছেন, বাংলাদেশ এবং ভারতের মধ্যে কোনো চুক্তি হলে তা বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখেই হবে, দেশের জন্য ক্ষতিকর এমন কিছুই করা হবে না। তিরি বলেন, ‘একটি স্বার্থান্বেষী মহল ১৯৭৪ সালে ভারতের সঙ্গে সম্পাদিত ২৫ বছরের সমঝোতা চুক্তিকে গোলামীর চুক্তি হিসেবে আখ্যায়িত করেছিল। কিন্তু এই চুক্তি থেকে সীমান্ত সমস্যা সমাধানসহ বাংলাদেশেরই অর্জন বেশি।’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ তাঁর তেজগাঁওস্থ কার্যালয়ে বাংলাদেশ পুলিশ অফিসার্স বহুমুখী সমবায় সমিতির উদ্যোগে বাস্তবায়নাধীন পুলিশ অফিসার্স হাউজিং সোসাইটির প্লটের বরাদ্দপত্র পুলিশ বাহিনীর বিভিন্ন পদমর্যাদার ২৫ জন পুলিশ সদস্যের মধ্যে বিতরণকালে প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন।
অনুষ্ঠানের পর সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে প্রেস সচিব ইহসানুল করিম বলেন, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের অবনতির জন্য শেখ হাসিনা দেশের পঁচাত্তরপরবর্তী সরকারগুলোকেই দায়ী করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জিয়াউর রহমান এবং খালেদা জিয়া কখনও ভারতের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সীমান্ত সমস্যা সমাধানে কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেন নাই। উপরন্তুু তারা সীমান্তে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড নিয়ে উদাসীন ছিলেন। বিএনপি-জামায়াত তাদের শাসনামলে দেশের ভেতরের সকল সন্ত্রাসি কর্মকান্ড পরিচালনা এবং বহুল আলোচিত ১০ ট্রাক অস্ত্র পাচারের মূল হোতা ছিল। ওই অস্ত্র বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে চোরাচালান হয়ে ভারতে যাচ্ছিল।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে তার বন্ধুত্ব অটুট রেখেই সীমান্ত সমস্যার সমাধান করতে পেরেছে। একইসঙ্গে একইভাবে ভারত এবং মিয়ানমারের সঙ্গে সমুদ্র সীমানা সমস্যারও সমাধান করেছে। সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে পুলিশ এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনীর সদস্যদের ভূমিকার প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যদিও অনেকেই জঙ্গিদের বিরুদ্ধে গৃহীত আমাদের অ্যাকশনপ্লান নিয়ে সমালোচনা করেছে।
কিন্তু বাংলাদেশই পৃথিবীতে একমাত্র দেশ যারা জঙ্গিদের অ্যাকশনের পূর্বেই বহু জঙ্গি আস্তানা গুড়িয়ে দিতে সমর্থ হয়েছে।
পুলিশদের কর্তব্য পালনের কোনো নির্দিষ্ট ডিউটি আওয়ার না থকায় তাদের দায়িত্ব পালনকে অত্যন্ত কঠিন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যেকোনো সময় ডাক পড়লেই তাদের যেতে হয়।’
শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর সরকার দেশের জনসংখ্যার সঙ্গে সাদৃশ্য রেখে পুলিশ বাহিসীর সদস্য সংখ্যা আরো বাড়ানোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। ইতোমধ্যেই ৪১ হাজার পুলিশ সদস্যকে বাহিনী অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং শীঘ্রই আরো ১০ হাজারকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
পুলিশ বাহিনীর সদস্য এবং তাদের পরিবার-পরিজনদের কল্যাণে সরকারের পদক্ষেপ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকারই প্রথম ২০০০ সালে পুলিশ স্টাফ কলেজ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করে। তার সরকার অন্যান্য সরকারি চাকরিজীবীদের সঙ্গে পুলিশ কর্মকর্তাদেরও আবাসনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কিন্তু এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হতে ১৭ বছর লেগে গেছে বলে আক্ষেপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পুলিশ সদস্যদের জন্য এ ধরনের আবাসন সুবিধা জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়েও সম্প্রসারণ করা হবে।
এর আগে পুলিশের আইজিপি মো. শহীদুল হক শত প্রতিকুলতা সত্ত্বেও পুলিশ হাউজিং সোসাইটিকে বাস্তব রূপ দেয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানান। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. কামাল আব্দুল নাসের চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সুরাইয়া বেগম উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র : বাসস

Saturday, April 1, 2017

মাগো! শিক্ষীত হাইজ্কার গুলোকে সামলান

খতিব তাজুল ইসলাম
দেশের এমপি মন্ত্রীরা প্রায়ই বলে: উপরে আল্লাহ নীচে শেখ হাসিনা। যা করার এই দু'জনই করবেন! বিয়ে করা বাচ্চা নেয়াসহ সকল সিদ্ধান্ত এক জাগা থেকেই নাকি আসে?! নীচের মাটি, গাছের পাতা আকাশের মেঘ তিনির মর্জিতেই নড়াচড়া করে।
তয় আমরা সাধারণ পাবলিকরা মা জননী ছাড়া মনের দু:খ আর কারে কই?!
মা রে...!
দুর্মুখেরা কয়! আপনে নাকি জানের মালিক হায়াতেরও মালিক!
তাই আজিকে আপনার শান বরাবরে গাঁও গেরামের শহর নগরের অধিকাংশ পাবলিকের আর্জি হলো-
আপনার শিক্ষীত চোর ডাকাত
শিক্ষীত গুম খুনকারি
শিক্ষীত ঘুষখোর
শিক্ষীত ব্যাংক লুটেরা
শিক্ষীত ধর্ষক
শিক্ষীত দেশবিক্রীকারী
শিক্ষীত হাইজ্কার গুলোকে সামলান।
মা রে ! বিধবার লিস্ট বাড়ছে!
এতীমের কান্না থামছেনা!
পুত্র হারা পিতা মাতার রোঁদনে যেন পদ্মা ভাসছে !?
মাগো আপনার এক চোখ রাংগানিতে ওবামা চুপ, হিলারির ধড়ফড়!
খালেদা কাইত, ইউনুস চিতপটাং!
তাইলে এইসব কুলাংগারদের দিকে কিছু গজবি নজর কেনো ঢালছেন না?!
মাগো! লাখ বছরের হায়াত পাইবা!
অষ্টাদশির যৌবন পাইবা!
রাণীময় সুখ পাইবা!
তাই দয়াকরে এই শিক্ষীত বদমাশগুলোর জরা লাগাম টেনে ধরুন প্লীজ....!!!

প্রকাশ্যে ছুরিকাঘাতে খুন করল যুবলীগ নেতা


কুমিল্লার মনোহরগঞ্জের বিপুলাসার ইউনিয়নে বাকরা গ্রামে শনিবার সকালে শালিস না মানায় আবদুল বাতেন (৫৫) নামে এক ব্যক্তিকে প্রকাশ্যে ছুরিকাঘাত করে খুন করেছে স্থানীয় যুবলীগ নেতা সহিদুল ইসলাম (৩০)।
নিহত আবদুল বাতেন ওই গ্রামের মৃত আবদুর রহমানের ছেলে। ঘাতক সহিদুল ইসলাম একই গ্রামের মৃত নুরু মিয়ার ছেলে ও বিপুলসার ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক।
এলাকাবাসী জানায়, বাকরা গ্রামের বাতেনের মেয়ে নার্গিসের সঙ্গে প্রতিবেশী জয়নাল আবেদীনের ছেলে স্বপনের প্রায় তিন বছর আগে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। কয়েকদিন আগে উভয় পরিবারের মধ্যে কলহ্ হলে কয়েকবার সামাজিকভাবে নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হয়।
গত শুক্রবার এ নিয়ে আবারও উভয় পরিবারের মধ্যে সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে কোনো সমাধান না হওয়ায় এ দুই পরিবারের লোকজনের মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়।
শালিস না মানায় শনিবার সকালে যুবলীগ নেতা সহিদুল নার্গিসের বাবা বাতেনকে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে ডেকে পাঠান। এসময় সেখানে আসা মাত্র মাঠের পাশে একটি দোকানের সামনে প্রকাশ্যে ধারালো ছুরি দিয়ে কুপিয়ে বাতেনের নাড়িভুড়ি বের করে ফেলেন সহিদুল। এতে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান। এসময় এলাকাবাসী ধাওয়া দিলে ঘাতক যুবলীগের নেতা পালিয়ে যান। এ নিয়ে এলাকায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
মনোহরগঞ্জ থানার ওসি শামছু জামান জানান, হত্যাকাণ্ডের খবর শুনে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। থানায় এখনো কোনো অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
লিংক

Friday, March 31, 2017

গালাগাল নয়, চাই রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের বাক-সংযম


শারীরিক অসুস্থতার কারণে মাসখানেক  যাবৎ আমাকে কিছুটা বিশ্রামে থাকতে হচ্ছে। সে কারণে নিয়মিত কাজকর্ম থেকেও থাকতে হচ্ছে বিচ্ছিন্ন। এজন্য শরীরের পাশাপাশি সম্প্রতি মনের উপরও যথেষ্ট চাপ পড়ছে। এরই মধ্যে বিভিন্ন পত্রপত্রিকা দেখে মনটা আরও বিষণ্ণ হয়ে উঠেছে। শরীর ও মনের ক্লান্তির মধ্যেও অন্য রকম একটা বিষণ্ণতা ও কষ্ট মনটাকে আচ্ছন্ন করে তুলেছে। বড় আক্ষেপের সঙ্গে মনের মধ্যে প্রশ্ন জেগেছে, আমাদের জাতীয় নেতৃবৃন্দের মাঝে লাগামহীন বিষোদগার ও নিয়ন্ত্রণহীন বাকযুদ্ধের মহড়া আর কতকাল চলবে? হ্যাঁ, অসুস্থতার মধ্যেও আমার মনটা অন্যভাবে বিষণ্ণ হওয়ার একটা বড় কারণ হচ্ছে বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দের অশোভন বাকযুদ্ধ।
প্রায়ই দেখা যায়, সরকারি ও বিরোধী উভয় পক্ষের নেতৃবৃন্দই কোনো ইস্যুতে পরস্পরের বিরুদ্ধে কথা বলতে শুরু করলে সীমাহীন আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন। পারস্পরিক গালমন্দের একটা প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে যায়। লক্ষ্য করে দেখা হয় না যে, কে কাকে ছোট করছেন, কে কাকে তুচ্ছ করছেন এবং ইতিহাস ও অবদান থেকে কে কাকে কীভাবে বিচ্ছিন্ন করার হাস্যকর চেষ্টা করছেন। জেদ ও আক্রোশে একে অপরের প্রতি অশোভন বিষোদগার করেই যান যে যার জায়গা থেকে। মাঠ-ময়দান কিংবা জাতীয় সংসদের অধিবেশন কোনো জায়গাই এই বিষোদগার থেকে মুক্ত থাকছে না। অথচ আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে মানুষ বানিয়ে দুনিয়াতে পাঠিয়েছেন এবং অনন্য নেয়ামত হিসেবে আমাদেরকে বাকশক্তি, ভাষাশক্তি দান করেছেন। অন্য জীব-জন্তুর সঙ্গে মানুষের পার্থক্যের একটা বড় উপলক্ষ হচ্ছে এই বাকশক্তি। তাই সব অবস্থায় এ নেয়ামতের যথাযথ কদর করা আমাদের প্রত্যেকেরই দায়িত্ব।
শিক্ষার মাধ্যমিক পর্যায়ে আমরা তর্কশাস্ত্রের পাঠ্যগ্রন্থে পড়েছি, মানুষের পরিচয় হচ্ছে حيوان ناطق
(বাকশক্তিসম্পন্ন প্রাণী)। অন্য প্রাণী থেকে এই ناطق (বাকশক্তিসম্পন্ন) গুণটি দিয়েই মানুষকে আলাদা করা হয়েছে। মানুষের পরিচিতি তুলে ধরার জন্য এই বিশেষ গুণটির কথা শুনে ওই বয়সে আমাদের হাসি পেয়েছিল। তখন মনে হয়েছিল কথাবলার শক্তিটাই কি মানুষের প্রধান পার্থক্য সৃষ্টিকারী পরিচয়? অন্যকিছুও তো হতে পারতো পার্থক্যের আলামত। কিন্তু বড় হওয়ার পর আমরা বুঝেছি, বাকশক্তির মাহাত্ম্য ও তাৎপর্য কী।
আল্লাহ তাআলা মানুষকে বাকশক্তিসম্পন্ন প্রাণীই কেবল করেননি; বরং বাকশক্তির সুব্যবহারের জন্য বিভিন্ন রকম বিধান ও নীতিও দান করেছেন। আল্লাহ তাআলার কালাম ও রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিভিন্ন বাণীর প্রতি লক্ষ্য করলে দেখা যাবে বাকশক্তি প্রয়োগে মানুষের যথেচ্ছাচারের কোনো সুযোগ নেই। পূর্ণ বাকশক্তি মানুষকে দেয়া হয়েছে। কিন্তু এক্ষেত্রে তার আচরণ হতে হবে নিয়ন্ত্রিত। বাকশক্তি প্রয়োগের ক্ষেত্রে তাকে সত্য কথা বলতে হবে, মিথ্যা পরিহার করতে হবে। চোগলখুরি ও পরনিন্দা পরিহার করে চলতে হবে। ফিতনা বা হাঙ্গামা হয় এমন কথা বলা যাবে না। অশ্লীল কথা প্রচার করা যাবে না। এমনকি যে বিষয়ে জানা নেই সে বিষয়েও কথা বলা যাবে না বা অবস্থান ব্যক্ত করা যাবে না। এগুলোর সঙ্গে কথা বলার ক্ষেত্রে এজাতীয় আরো দিক নির্দেশনার বিভিন্ন আয়াত ও হাদীসে স্পষ্ট উল্লেখ দেখা যায়। যেমন : ক. আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন (তরজমা) এবং তোমরা একে অপরের গীবত করবে না: (সূরা হুজুরাত ৪৯:১২)
খ. আরেক আয়াতে আছে, (তরজমা) আর যে বিষয়ে তোমার কোন জ্ঞান নেই তার পিছনে পড়ো না, কারণ, কান চোখ ও অন্তঃকরণ এগুলোর প্রত্যেকটি সম্বন্ধে (কিয়ামতের দিন) প্রশ্ন করা হবে। (সূরা ইসরা ১৭:৩৬)
গ. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, এক মুসলিম অপর মুসলিমের ভাই। সে তার প্রতি জুলুম করে না। তাকে অপমান করে না এবং তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে না। (সহীহ মুসলিম ২৫৬৪)
এসব আয়াত ও হাদীসের প্রতি লক্ষ করলে অনুধাবন করা যায় যে, বাকশক্তি দান করে আল্লাহ তাআলা মানুষকে ভালোমন্দ যে কোনো কিছুই উচ্চারণের যথেচ্ছ স্বাধীনতা দিয়ে দেননি; বরং এ ক্ষেত্রে কিছু বিধিবিধান দিয়েছেন। দিয়েছেন কিছু অনুপ্রেরণা এবং কিছু নিষেধাজ্ঞা। এই নিষেধাজ্ঞাসমূহের অন্যতম হচ্ছে, গালমন্দ না করা এবং অশ্লীল ও অশোভন ভাষা প্রয়োগ না করা। যুক্তি প্রমাণ দিয়ে শালীনভাবে মানুষ নিজের কাছে থাকা সত্য বিষয়টিকে তুলে ধরবে ও প্রতিষ্ঠিত করবে। একইভাবে অন্যের পক্ষ থেকে তুলে ধরা ভুল বিষয়টি রদ করা ও শুধরে দেওয়ার ক্ষেত্রেও এসব শালীনতার নীতি সে রক্ষা করবে। কখনো ভদ্রতার সীমা অতিক্রম করবে না।
আল্লাহ তাআলা এরশাদ করেন (তরজমা) : তোমরা তাদের গাল দিও না, যাদেরকে তারা উপাসনা করে আল্লাহকে ছেড়ে। তাতে তারা বিদ্বেষ ও অজ্ঞতাবশত আল্লাহকে গালি দিয়ে বসবে। (আনআম : ১০৮)
এ আয়াতে কারীমার লক্ষণীয় বিষয়টি হচ্ছে, এখানে এমন একটি বিষয়ে গাল দিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে, যা বাস্তবে পুরোপুরিই প্রত্যাখ্যান ও নিন্দাযোগ্য। সেটি হচ্ছে আল্লাহ তাআলা ছাড়া অন্য কারো উপাসনা করা। পবিত্র কুরআনের বহু জায়গায় এই বিচ্যুত উপাসনার অসারতা ও ঈমান-পরিপন্থী হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ আছে। অথচ এই আয়াতে শিরকী সেই উপাসনার বস্ত্তগুলোকেই গাল দিতে নিষেধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে নিষেধাজ্ঞার কারণটিও আয়াতে কারীমায় উল্লেখ করা হয়েছে। সেই কারণটি হচ্ছে, ওইসব মিথ্যা উপাস্যকে গালমন্দ করলে ওসবের বিভ্রান্ত উপাসকরা প্রতিক্রিয়া স্বরূপ বিদ্বেষ ও অজ্ঞতাবশত আল্লাহকে গালি দিয়ে বসবে। অর্থাৎ মন্দকে গালি দেয়ার প্রতিক্রিয়ায় ভালোর দিকেও গালি আসার পথ খুলে যাবে। এ জন্যই বাস্তবতা ও উপযুক্ততা থাকা সত্ত্বেও মিথ্যা উপাস্যদেরকে এ আয়াতে গালি দিতে মানা করা হয়েছে।
মিথ্যা উপাস্যদের গালমন্দ না দেওয়ার বিধান সম্বলিত এই আয়াতের মর্ম ব্যাখ্যা করে তাফসীরবিদ ইবনুল আরাবি বলেন,
فإن السب فعل الأدنياء
(কারণ, গালি দেয়া হচ্ছে অভদ্র ছোটলোকদের কাজ)। তাফসীরবিদগন আরও বলেন, এখান থেকেই ফিকহের অন্যতম মূলনীতি سد الأبواب (দরজা বন্ধকরন নীতি) বের হয়ে আসে। যার মূলকথা হল, কোনো মন্দত্বের দরজা খুলে যাওয়ার আশংকা থাকলে রদ করা ও নিন্দা করার হক রয়েছে- এমন বিষয়ও ছেড়ে দেওয়া অর্থাৎ বড় কোনো মন্দত্ব আসার আশংকা থাকলে বৈধ কোনো আমলও স্থগিত করে রাখা।
গালমন্দ না দেওয়ার ব্যাপারে যে নিষেধাজ্ঞা এই আয়াতে এসেছে তার ব্যাখ্যা একটি হাদীস থেকেও পাওয়া যাবে। রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, সবচে বড় কবিরা গুনাহের মাঝে একটি হল, নিজের পিতা-মাতাকে অভিশাপ দেওয়া। সাহাবীগণ বিস্ময়ের সঙ্গে জিজ্ঞাসা করলেন, কিভাবে একজন লোক তার পিতা-মাতাকে অভিশাপ দেবে? আল্লাহর রাসূল উত্তর দিলেন, কেউ অপর ব্যক্তির পিতাকে গালি দেবে, তখন ওই ব্যক্তি তার পিতাকে গালি দেবে। আর কেউ অপর ব্যক্তির মাকে গালি দেবে তখন অপর ব্যক্তি তার মাকে গালি দেবে। (সহীহ বুখারী, হাদীস ৫৯৭৩)
এ হাদীসেও দেখা যাচ্ছে, অপরের পিতা-মাতাকে গালমন্দ করার প্রতিক্রিয়ায় অপরের পক্ষ থেকে নিজের পিতা-মাতাকেও গালমন্দের শিকার না বানাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ গালমন্দের প্রতিক্রিয়ায় যে গালমন্দ উড়ে আসে সেটা থেকেও বাঁচার নির্দেশ এখানে মূলকথা। এতে সর্বাবস্থায় গালমন্দের মন্দত্ব ফুটে উঠেছে। একইসাথে এ সত্যও ফুটে উঠেছে যে, গালমন্দ থেকে বাঁচার জন্য সূক্ষ্ম ও সতর্কতামূলক পথ অবলম্বন করতেও শরীয়তে প্রেরণা দেয়া হয়েছে। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হচ্ছে, একশ্রেণীর রাজনৈতিক নেতা আমাদের ধর্মীয় এসব গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনার প্রতি ভ্রুক্ষেপই করতে চান না। গালমন্দ, তাচ্ছিল্য ও বিভক্তিতেই তারা ডুবে থাকেন। এ জন্য স্বাধীনতার পর চারটি দশক পার হয়ে গেলেও গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু ও চিন্তার জায়গাগুলোতে আমরা একমত নই। প্রজন্মের পর প্রজন্ম বিভক্তই থাকছে; এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতেও হয়তো তাই থাকবে। সহিষ্ণুতা ও অন্যের কৃতিত্ব মেনে নেয়ার যোগ্যতা আমাদের ভেতরে একদম যেন শূন্য হয়ে গেছে। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে কার কী অবস্থান, কী ভূমিকা, কী মর্যাদা ও অবদান সেসব নিয়ে আমরা পুরোপুরি অসহিষ্ণু। অন্যেরটা কিছুতেই মেনে নিতে চাই না। কথায় ও আচরণে আক্রমণাত্মক ও বিষোদগারবাদী থাকাটাকেই আমরা কৃতিত্ব মনে করি।
এই যে জাতীয় পর্যায়ে ব্যাপক গালমন্দ ও বিষোদ্গারের চর্চা এতে ক্ষতি হচ্ছে বহুমুখী। প্রথমত এ সব অনাকাঙ্ক্ষিত তিক্ততায় জনসাধারণ মর্মাহত হচ্ছেন, কষ্ট পাচ্ছেন। জনগণের বিরাট একটি অংশ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে বিভ্রান্ত হচ্ছেন। কেউ একদলের বক্তব্যকে সত্য মানছেন, আরেক দলকে মিথ্যা জানছেন। কেউ কেউ কারো কারো বক্তব্যকে অর্ধেক সত্য বা অর্ধেক মিথ্যা মানছেন। যার সাথে বাস্তবের সম্পর্ক থাকছে খুবই কম। এসবের বড় ক্ষতি এটাও হচ্ছে যে, রাষ্ট্রের কর্ণধারদের কথা-আচরণ ইত্যাদির খারাপ প্রভাব পড়ছে ভবিষ্যত প্রজন্মের ওপর। তারা গালির ভাষাটাকে স্বাভাবিক ভাষা হিসেবে গ্রহণ করছে। বিভক্তি ও অসহিষ্ণুতায় অভ্যস্ত হচ্ছে। তাছাড়া কোনো কোনো বড় দলকে দেখা যাচ্ছে ঢালাওভাবে শ্রেণী-পেশা ও বলয়ভিত্তিক শাখা সংগঠন খুলতে। এগুলোর মাধ্যমে সব স্তরের মানুষকে নিজেদের সঙ্গে তারা অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করছে এবং সে সব সংগঠনের সব পর্যায়ের লোকজনকে নিজেদের অসহিষ্ণু, আক্রমণাত্মক ও অশ্লীল আচরণে অভ্যস্ত করে তুলছে। এতে মহামারির আকারে ছড়িয়ে পড়ছে গালমন্দ, অশ্রদ্ধা ও বিভক্তি। অথচ একজন মানুষ ও মুসলমান হিসেবে আমরা আমাদের রব ও নবীজীর কাছে এমন শিক্ষা পাইনি। আল্লাহ ও আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তো এমনতর আচরণ এবং এজাতীয় অসংযত বাক্যাচারের বিষয়ে নিষেধ ও বারণ করেছেন। শালীন এবং তিক্ততা লাঘবকারী কথাবার্তা বলতে প্রেরণা দিয়েছেন।
এ ধরনের আচরণের আরেকটি বড় ক্ষতি হচ্ছে সম্প্রসারিত মিডিয়ার কল্যাণে নেতৃবৃন্দের এসব অশ্রাব্য কথাবার্তা মুহূর্তেই পৌঁছে যাচ্ছে সারা বিশ্বে। এতে করে কলঙ্কিত হচ্ছে পুরো দেশ ও জাতির মান-মর্যাদা। সুতরাং সকল পক্ষের নেতাদের প্রতি আমরা উদাত্ত অনুরোধ রাখতে চাই, আপনারা আপনাদের ভাষায় মনুষ্যত্ব ও মুসলমানিত্বের মর্যাদা রক্ষা করুন।
তাছাড়া এ তো বাস্তব যে, কোনো বিষয়ের উত্তর-প্রত্যুত্তরে যুক্তি-প্রমাণের স্থলে গালি-গালাজ, অশালীন কথাবার্তা নিজ অবস্থানকেই দুর্বল করে দেয়। কারণ এ দ্বারা প্রমাণ হয় যে, এ অবস্থানের পক্ষে যুক্তি ও প্রমাণ নেই।
 এমনকি যারা ঐতিহাসিক দিক থেকে সত্যের উপরই রয়েছেন -তাদেরও আমরা অনুরোধ করব-দয়া করে এমন ভাষায় কথা বলবেন না যার দ্বারা বিপক্ষের লোকেরা উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি করা কিংবা অন্যায় গালমন্দ করার সুযোগ পেয়ে যায়। আল্লাহ তাআলা তো এজাতীয় লোকের গালমন্দের সুযোগ বন্ধের জন্যই মিথ্যা উপাস্যর (মূর্তি) প্রতি গালমন্দ করতে নিষেধ করেছেন। একই সঙ্গে সকল স্তরের গণমাধ্যমগুলোর কাছে আমরা অনুরোধ রাখতে চাই -তারা যেন পুরোপুরিভাবে এজাতীয় নেতিবাচক ভাষা ও অশ্লীল বাক্যাচার এড়িয়ে চলেন। কারণ খারাপ কথা ও অশ্লীলতা প্রচারের দায় নেয়াটাও অনেক বড় রকম শাস্তির বিষয়। আল্লাহ তাআলা এরশাদ করেন (তরজমা) : নিশ্চয়ই যারা পছন্দ করে ঈমানদারদের মধ্যে অশ্লীলতা ছড়িয়ে পড়ুক তাদের জন্য ইহকাল ও পরকালে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি রয়েছে। (নূর : ১৯)
আমাদের দেশে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের কর্মকান্ড যেহেতু সাধারণ মানুষের আচরণকেও প্রভাবিত করে এজন্য কল্যাণকামীতা থেকেই তাদের উদ্দেশ্যে কিছু কথা নিবেদন করা হল। আল্লাহ সকলকে হেদায়েত দিন ও তাওফীক দিন। আমীন।
পুনশ্চ : আলকাউসারের মাধ্যমে আমি আমার স্বজন ও সুহৃদদের আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি, অসুস্থতার সময় তারা দোয়া করেছেন এবং বিশেষ উদ্বিগ্নতার সাথে খোঁজ-খবর নিয়েছেন। আল্লাহ পাকের মেহেরবানীতে এখন আমি সুস্থতার পথে। আলহামদুলিল্লাহ।
তাঁদের এ আন্তরিকতার প্রতিদান দেয়ার সামর্থ্য আমার নেই, আমি তাদের সবাইকে অন্তর থেকে বলছি, জাযাকুমুল্লাহু খাইরান। মহান আল্লাহ সবাইকে সুস্থ রাখুন, নিরাপদ রাখুন এবং ঈমানী বন্ধনে আমাদের সকলকে আবদ্ধ রাখুন। আমীন। 

Thursday, March 30, 2017

শারমিন উঠতি পোলাপানের সাথে বেলেল্লাপনায় জড়িয়ে পড়েছিল

মুনির আহমদ :
গতকাল দেশি-বিদেশী বিভিন্ন প্রভাবশালী গণমাধ্যমে একটা সংবাদ বেশ আলোচিত ছিল। সেটা ছিল, বাংলাদেশের পিরোজপুরের পনের বছর বয়সী এক কন্যা তার বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ করতে গিয়ে নিজের গর্ভধারিনী মায়ের বিরুদ্ধে সরাসরি থানায় গিয়ে মামলা করে নিজের মাকে জেলে পর্যন্ত নিয়েছিলেন। আর তার সেই কাজের ভূয়সী প্রশংসা করে সেটাকে অসীম বীরোচিত ও অনুকরণীয় সাহসিকতা আখ্যা দিয়ে সেই কন্যাকে আমেরিকায় উড়িয়ে নিয়ে পুরষ্কৃত করেছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার। ভিন্ন একটা সূত্রে শুনলাম, সেই মেয়েটি নাকি উঠতি পোলাপানের সাথে এত বেশি বেলেল্লাপনায় জড়িয়ে পড়েছিল যে, মা পারিবারিক মানসম্মান ও মেয়ের ভবিষ্যত নিয়ে চিন্তিত হয়ে বিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।
কিন্তু মায়ের বিরুদ্ধে থানায় গিয়ে মামলা দায়ের করে মাকে জেলে নেওয়ার এই ঘটনায় পরম পুলক ও গর্ব অনুভব করে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন আরেক নারী লেখিকা; যিনি প্রায়ই ধর্মীয় বিষয় নিয়েও ইতিবাচক লেখা লিখে থাকেন। তার পোস্ট দেখে আমি রীতিমতো চমকে উঠেছি!!! অন্য কোন তথাকথিত প্রগতিবাশীল বা চেতনাজীবি নারী লিখলে স্বাভাবিকভাবেই নিতাম। কিন্তু তাঁর মতো ধর্মভীরু নারীও যদি এই ঘটনায় পুলক ও গর্ব অনুভব করেন, তাহলে বুঝতে কষ্ট হয় না যে, আমাদের সামাজিক পচন কতটা গভীর পর্যন্ত বিস্তার করেছে। (নীচের স্কীন শট, সেই লেখিকার আলোচ্য পোস্ট থেকে নেওয়া)।
আমি অনেক সহনশীলতা ও ধৈর্যের সাথে তিনি যাতে হজম করতে পারেন, সেইভাবে ছেটেছুটে নীচের কমেন্টটা দিলাম তার সেই পোস্টে-
“ঘটনার পুরোটাই এক তরফা বর্ণনার...। সংশ্লিষ্ট মায়ের কোন বক্তব্য নেই। কেন তিনি অল্প বয়সী কন্যাকে বিয়ে দিতে এতটা উদগ্রীব ছিলেন, সেই কারণ জানতে সংশ্লিষ্ট মায়ের বক্তব্য নেওয়ার তাগাদা অনুভব করেনি কেউ।
পশ্চিমারা বরাবরই আমাদের সুন্দর পরিবার ও সমাজ ব্যবস্থা ভেঙে দিতে চায়। সে জন্যই তারা মালালা ইউসুফ ও শারমিনদেরকে বেছে নিয়ে পুরষ্কৃত করে মাঠে নামায়।
বাল্য বিবাহ প্রতিরোধ বা বাধা দিতে গিয়ে সন্তান তার গর্ভধারিনী মায়ের বিরুদ্ধে মামলা করে মাকে জেল পর্যন্ত নেওয়া, গর্ব করা বা উল্লসিত হওয়ার মতো সংবাদ হতে পারে না।
এসব পুরষ্কারের পেছনে অবশ্যই পশ্চিমাদের আমাদের পরিবারিক ও সামাজিক কাঠামো ভেঙে অবাধ যৌনতা ছড়িয়ে দিয়ে কর্পোরেট বাণিজ্য প্রসারের গভীর ষড়যন্ত্র কাজ করছে; এটা বুঝতে বেগ পেতে হয় না।
মাকে জেলে নিয়ে সন্তান পুরষ্কার নিচ্ছে, এমন পরিস্থিতিতে গর্ভধারিণী সেই মা এবং অন্যসকল মায়েদের সুখকর অনুভূতি হওয়ার কথা নয়। পুরুষ হয়েও মায়েদের এমন অপমান আমাদেরকে আঘাত করে।
আপনি গর্বিত হতে পারেন, কিন্তু পুরো ঘটনার সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আমার মতো আরো অনেকেই লজ্জিত,মর্মাহত ও ক্রুদ্ধ।”
লেখক: নির্বাহী সম্পাদক, মাসিক মুঈনুল ইসলাম

নতুন জোটে ইসলামী দলগুলোর হাওয়া বদল

সাইয়েদ শামসুল হুদা:
দেশে নির্বাচনী হাওয়া বইছে। আবারও আসছে সেই ৫জানুয়ারী। তবে নতুন রূপে। ঐ সময় গেইমে একটু ভুল হয়ে গেছিল। তাই সেই ভুল আর নয়। এবার নির্বাচন হবে উৎসব মুখর। মোটামুটি সবগুলো ইসলামী দল হাতের মুটোয়। । ইসলামী দলগুলোর নেতৃত্বের প্রতি আমার মতো ক্ষুদ্র মানুষের মূল্যায়ন হলো আস্থাহীনতা তৈরী হয়েছে। মেধা, দূরদর্শিতা, সিদ্ধান্তগ্রহনে সক্ষমতা, স্বকীয়তা বজায় রাখার ব্যাপারে দৃঢ়তার যথেষ্ট অভাব আছে। ব্যতিক্রম সবসময় ছিল, এখনও আছে। কেউ মাশা আল্লাহ, অনেক যোগ্য, অনেক মেধাবী। কিন্তু সামগ্রীকভাবে যাদের হাতে দলগুলোর মূল নেতৃত্ব, যারা কোনদিকে ঝুঁকে পড়লে এরশাদের মতো পুরোটাই ঝুকে পড়ে, তাদের ব্যাপারেই আমার অনাস্থা।
তাই ইসলামী দলগুলো সুন্দর একটি নিরাপদ পথ বের করেছে। জনাব এরশাদ সাহেবের কতটুকু ক্ষমতা, তা সবারই জানা আছে। তারপরও জনাব এরশাদ সাহেবের সাথে জোট বেধে বর্তমান সরকার থেকে কয়েকটি এমপি পদ এবং মন্ত্রীত্ব নিশ্চিত করেই এগিয়ে যাচ্ছে আগামী দিনের নির্বাচনী প্লান। এরশাদ সাহেব পুরুষ মানুষ। একটি দেশের বিশেষ অনুগত মানুষ। আশির্বাদ পুষ্ট মানুষ। ৫জানুয়ারী নির্বাচনে তিনি অসুস্থ্য হয়ে হাসপাতালে থেকে যে সুন্দর নাটকীয় সহযোগিতা করেছিলেন, প্রভুদের নির্দেশ পালন করেছিলেন সেটা পরীক্ষিত। তাই এরশাদের সামিয়ানায় যোগ দিয়ে প্রকারান্তরে বর্তমান সরকারকে সহযোগিতাও করা হলো। আর দূরত্বও বজায় রাখা হলো।
এগুলো রাজনৈতিক গেম। যুগে যুগেই এগুলো হয়েছে। জামায়াতে ইসলামী কেয়ারটেকার ইস্যুতে আজকের আওয়ামীলীগ সরকারকে শক্তিশালী করেছে। আজ নিজেরা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। এক সময় খেলাফত মজলিস যে কোন ভাবেই হোক আওয়ামীলীগের সাথে ৫দফার লিখিত চুক্তিভিত্তিক সহযোগিতার রাজনীতি করেছিল। পরবর্তীতে স্বভাবজাত বিষয় হিসেবে প্রয়োজন মনে না করে তা ছুঁড়ে মারা হয়। একই পদ্ধতিতে, বিকল্পরূপে ইসলামী দলগুলো বর্তমান সরকারকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিচ্ছে। তারা সরাসরি না গিয়ে সাবেক প্রেসিডেন্ট জনাব এরশাদ সাহেবের সাথে একটি জোট গড়ে তোলার মতো অবস্থায় রয়েছে। এটা এখন ওপেন সিক্রেট প্রায়।
আমার বিশ্বাস, যদি ইসলামী দলগুলো বিভিন্ন হয়রানী থেকে বাঁচার লক্ষ্যেই এ কাজ করে থাকে, তাহলে কোন দলকেই সহযোগিতা না করে নিরব থাকাটাই হতো শ্রেয়। সুযোগ ও পরিবেশ আসলে, নিজেরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে নির্বাচন করতেন তাহলে ভালো হতো। আজকে এরশাদের সাথে তথাকথিত জোট করে নির্বাচনে গিয়ে পুর্বনির্ধারিত কৌশল মোতাবেক কয়েকটি পদ-পদবী থেকে যে বিতর্কের জন্ম দিবেন, যে কৌশলগত পরাজয় স্বেচ্ছায় বরণ করে নিবেন, এর দ্বারা সাময়িক লাভ হলেও দীর্ঘকালীন ক্ষতির সম্ভাবনা।
ইসলামী দলগুলোর প্রতি মানুষের আস্থা কমে গেছে সেটা শুরুতেই বলেছি। এ কাজটি করলে তারা আরো ক্ষতিগ্রস্থ হবেন। জনগণ এটা বিশ্বাস করবে যে, আপনারা এরশাদের জোটে যাবেন, সরকারকে বেকায়দায় ফেলার জন্য নয়। কিছু পাওয়ার জন্য। নির্বাচন করে কেউ পাশ করতে পারবেন না এটা নিশ্চিত। কিন্তু মাননীয় প্র্রধানমন্ত্রীর ভাষায়- একটু ট্রিকস করে নির্বাচন করলে তখন আসন নিশ্চিত। দীর্ঘমেয়াদী ফল লাভের জন্য সাময়িক ক্ষতিটুকু মেনে নিলে, নিদেনপক্ষে চুপ থাকলেও ভাল করবেন। গৃহপালিত কোন দলেরই শেষ পরিণাম সুন্দর হয়নি।
এটা আমি বিশ্বাস করি যে, জনজোয়ার এখনও বিএনপি জামাত জোটের সাথেই আছে। পরিবেশ পেলে সেটা প্রকাশের অপেক্ষায়। কিন্তু পরিবেশ না হলে ৫জানুয়ারী মার্কা নির্বাচন হলেতো কোন কথাই নেই। ইসলামী দলগুলো আশাকরি ভেবে চিন্তে আগাবেন। মানুষের হাসির খোরাক না হলে ভালো করবেন। মাননীয় এরশাদ সাহেবকে নিয়ে দেশের ছোট ছোট ছেলে-মেয়েরা পর্যন্ত যেভাবে মূল্যায়ন করে সেটা একজন সফল মানুষের জন্য শোভনীয় নয়। আপনারা ভেবেচিন্তে পা ফেলুন। আপনাদের অনেকের প্রতি আমাদের আস্থা কমে গেলেও দেশের মানুষ আমাদেরকে আপনাদের দলেরই মনে করে। এটা বলে- হুজুররা সবই এক।

Wednesday, March 29, 2017

তোরা আমাকে বানাস পর!



আমার
এক কাঁধে 'জমিয়ত'
আর
এক কাঁধে 'খেলাফত'
এই
বুকজুড়ে 'হেফাজত'
আর
দু'চোখে 'আন্দোলন'।
...
আমার
আঙুলে আঙুলে দল
তাই
দু'হাতে পাই না বল
দেখি
দলে দলে কোন্দল
আর
চুঁপি চুঁপি কাঁদে মন।
...
আমি
কারও সাথে নই ভাগ
আমি
কারও প্রতি নই রাগ
আমি
সকলেরে বলি- 'জাগ্!
গড়ে
একতার বন্ধন'।
...
আমি
দলকে করি না দ্বীন
আমি
প্রতীকে হই না লীন
আমি
'মিনাল মুসলিমীন'
করি
কালেমা উত্তোলন।
...
বলি
সকলেরে 'ওরে আয়!
এই
কালেমার পতাকায়
যারে
দূরে ঠেলে দিলি হায়!
তারে
করে নে আলিঙ্গন।'
...
আমি
তাবলীগে দিই সাল
আমি
ময়দানে হই লাল
আমি
রাজপথে উত্তাল
আমি সব মিলে একজন।
...
আমি
সকলের মাঝে রই
আমি
সকলের কথা কই
কারও
পকেটের কবি নই
রবো
এভাবেই আমরণ।
...
তোরা
আমাকে বানাস পর!
কর্
যা খুশি তোদের কর্
তোরা
কাঁদবি জনমভর
করে
আমার কথা স্মরণ।

Monday, February 27, 2017

সরকার দেশে হিন্দুয়ানি সংস্কৃতি বাস্তবায়ন করতে চায়:চরমোনাই

গ্রিক দেবীর মূর্তি স্থাপনের মাধ্যমে সরকার দেশে হিন্দুয়ানি সংস্কৃতি বাস্তবায়ন করতে চায়। আমরা বুকের তাজা রক্ত দিয়ে হলেও তাদের এ অপচেষ্টাকে রুখে দেবো, ইনশাআল্লাহ। ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলনের ইতিহাস মসজিদ রক্ষার আন্দোলনে শহীদ হওয়ার ইতিহাস। তাই সব ধরনের অপসংস্কৃতির বিরুদ্ধে ইশা ছাত্র আন্দোলনকেই অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে। চরমোনাই বার্ষিক মাহফিলের তৃতীয় দিন চরমোনাই ময়দানে ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন আয়োজিত ছাত্র-গণজমায়েতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম (পীর সাহেব চরমোনাই) এ কথা বলেন।
পীর সাহেব চরমোনাই আরো বলেন, হিন্দুত্ববাদী সিলেবাসের বিরুদ্ধে যেভাবে আন্দোলনের মাধ্যমে তা পরিবর্তন করতে বাধ্য করা হয়েছে, ঠিক তেমনিভাবে মূর্তি অপসারণের জন্য রাজপথে আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারকে বাধ্য করতে হবে। ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সভাপতি জিএম রুহুল আমীনের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি জেনারেল শেখ মুহাম্মাদ সাইফুল ইসলামের উপস্থাপনায় ছাত্র-গণজমায়েতে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নায়েবে আমির আল্লামা আবদুল হক আজাদ, মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ, শায়খ যাকারিয়া, ইসলামিক রিসার্চ সেন্টারের মহাপরিচালক মুফতি মিজানুর রহমান সাঈদ, জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া ঢাকার ইফতা বিভাগের প্রধান মুফতি হিফজুর রহমান, জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের সিনিয়র পেশ ইমাম মুফতি মুহিব্বুল্লাহিল বাকী আন-নদভী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের রাজনৈতিক উপদেষ্টা অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন, যুগ্ম মহাসচিব অধ্যাপক মাওলানা এ টি এম হেমায়েত উদ্দীন, অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, সহকারী মহাসচিব মাওলানা মুহাম্মদ আবদুল কাদের ও মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম।

Sunday, February 26, 2017

গ্যাসের দামবৃদ্ধির প্রতিবাদে মঙ্গলবার জামায়াতের বিক্ষোভ

দফায় দফায় গ্যাসের দামবৃদ্ধির সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ এবং তা অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবিতে আগামী মঙ্গলবার ২৮ ফেব্রুয়ারি দেশব্যাপী বিক্ষোভ করবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলের সেক্রেটারি জেনারেল ডা. শফিকুর রহমান আজ এক বিবৃতিতে এ কথা জানান।
সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এই বিবৃতিতে ডা. শফিক বলেন, 'সরকার আগামী ১ মার্চ ও ১ জুন দু’দফায় গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির যে সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে তা সম্পূর্ণ অন্যায় ও অযৌক্তিক। এর মাধ্যমে দেশের দরিদ্র ও সাধারণজনগণের অর্থনৈতিক দুর্ভোগ বাড়িয়ে দিয়েছে তারা। গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির এ সিদ্ধান্ত দরিদ্র ও সাধারণ জনগণের প্রতি মরার ওপর খড়ার ঘা। সরকারের এ অন্যায় সিদ্ধান্তে দেশের গোটা অর্থনীতির ওপর বিরূপ প্রভাব পড়বে। দরিদ্র ও সাধারণ জনগণের জীবন দুর্বিসহ হয়ে পড়বে। সরকারের এ সিদ্ধান্তে জনগণ বিক্ষুব্ধ।'
ডা. শফিকুর রহমান আরো বলেন- 'গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির এ অন্যায় ও অযৌক্তিক সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে এবং গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবিতে আমি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার দেশব্যাপী শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করছি। ঘোষিত এ কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে পালন করার জন্য আমি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সকল শাখা ও দেশবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি।'

Saturday, February 25, 2017

মাহমুদুর রহমানের সেমিনারে পুলিশের বাধা

দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে সেমিনারে প্রবন্ধ উপস্থাপন করতে দেয়নি পুলিশ। প্রবন্ধ উপস্থাপনের আগেই পুলিশের বাধায় সেমিনার বন্ধ হয়ে যায়। আজ শনিবার গুলশানের একটি সেন্টারে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছিল।
‘সীমান্ত হত্যা রাষ্ট্রের দায়’ শীর্ষক এ সেমিনারের আয়োজক ছিল ‘জনগণতান্ত্রিক আন্দোলন’ নামের একটি সংগঠন। এতে উপস্থাপক ছিলেন বিশিষ্ট কলামিস্ট ফরহাদ মজহার। সেমিনার মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনের কথা ছিল মাহমুদুর রহমানের।
সকাল ১০ টায় সেমিনার শুরুর সাথে সাথে গুলশান থানা পুলিশের এক কর্মকর্তা অনুষ্ঠানে গিয়ে তা বন্ধ করতে বলেন। তিনি জানান, অনুমতি না থাকায় এ সেমিনার করতে দেয়া যাবে না। তাই তা বন্ধ করতে হবে।
এরপর সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে মাহমুদুর রহমান বলেন, আজকের ঘটনা প্রমাণ করে দেশ পুলিশি রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। কারণ কোনো ঘরোয়া অনুষ্ঠনে পূর্বানুমতির প্রয়োজন হয় তা কখনো শুনিনি।
পরে উপস্থাপক ফরহাদ মজহার সবার কাছে ক্ষমা চেয়ে সেমিনারের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

পরিস্থিতি বেসামাল হওয়ার আগেই সুপ্রিম কোর্ট থেকে মূর্তি অপসারণ করুন-আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী

স্টাফ রিপোর্টার : হেফাজতে ইসলাম ঢাকা মহানগরী সভাতি আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী বলেছেন এদেশের মানুষ শান্তিপ্রিয় এবং বিভিন্ন ধর্ম মতের মানুষ সহাবস্থানে অভ্যস্ত। সকল ধর্ম মতের উপর পরস্পরে শ্রদ্ধাশীল। যার ফলে যুগযুগ ধরে আমরা মুসলিম অমুসলিম পরস্পৃরে সৌহার্দপূর্ণ পরিবেশে কালাতিপাত করছি। কিন্ত অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্য যে, সরকার ও প্রশাসনে ঘাপটি মেরে থাকা কিছু ষড়যন্ত্রকারী, দেশে অহেতুক হানাহানি সৃষ্টি করে সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে এবং জনমনে বিভ্রান্তি ও সংশয় সৃষ্টি করে ঘোলাপানিতে মাছ শিকার করার চেষ্টা করছে। আমরা পরিষ্কার বলতে চাই বাংলাদেশ ইসলামী প্রজাতন্ত্র না হলেও ৯৫% মুসলমানদের দেশ, বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী, বিরোধী দলীয় নেত্রী, জাতীয় সংসদের স্পিকার খাটি মুসলমান ও নামাজি। একারণে হিন্দুত্ববাদীদের প্রতিক মূর্তি জাতীয় ঈদগাহ এবং সুপ্রিম কোর্টের সামনে রাখা যাবে না। ইসলামের দৃষ্টিতে মূর্তি সংস্কৃতি হারাম। শুধু তাই নয় পৃথিবীর ইতিহাসে ন্যায় বিচারের প্রতীক হলেন প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)। তা না মেনে কোনো মুসলমান যদি গ্রিক দেবীর মূর্তি-ভাস্কর্যকে ন্যায় বিচারের প্রতীক মনে করে তাহলে সে বেঈমান হয়ে যাবে। সুতরাং দেশের মানুষের ঈমানি ষড়যন্ত্র থেকে রক্ষা এবং সংখ্যাগরিষ্ট মানুষের অনুভূতির প্রতি শ্রদ্ধা রেখে অনতিবিলম্বে এই অপবিত্র মূর্তি সুপ্রিম কোর্টের প্রাঙ্গণ থেকে অপসারণ করতে হবে।
আগামী ২৪ তারিখের কর্মসূচি সফল করার লক্ষ্যে গতকাল সকালে ডেমরা জোন ও বৃহত্তর উত্তরা জোনের উলামা সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে হেফাজতে ইসলাম ঢাকা মহানগরীর সভাপতি আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী এ কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন রাষ্ট্রধর্ম ইসলামের রায় এবং পাঠ্যপুস্তকে সংশোধনীর দ¦ারা যে সুন্দর ইমেজ সৃষ্টি হয়েছে তা নষ্ট হওয়ার আগেই মূর্তি অপসারণের সিদ্ধান্ত নিন। অন্যথায় পরিস্থিতি বেশামাল হয়ে যেতে পারে।
আরো বক্তব্য রাখেন যুগ্ম মহাসচিব মাও: ফজলুল করীম কাসেমী, মাও: নাজমুল হাসান, মুফতি শহীদুল্লাহ, মাও: আকরাম হোসাইন, মুফতি কেফায়েতুল্লাহ আজহারী, মাও: নূরুল ইসলাম মাও: আব্দস সালাম, মুফতি আব্দুস সাত্তার, মুফতি আজহারুল ইসলাম ও মুফতি শরীফুল্লাহ প্রমুখ।
আল্লামা কাসেমী আগামী ২৪ ফেব্রæয়ারির বিক্ষোভ সমাবেশকে সফল করার জন্য হেফাজতের সর্বস্তরের নেতাকর্মী ও তৌহিদি জনতার প্রতি উদাত্ত আহŸান জানান।
মূর্তিকে ন্যায় বিচারের প্রতীক বলা সংস্কৃতি মন্ত্রীর অজ্ঞতার বহিঃপ্রকাশ-মাওলানা আ. লতিফ নেজামী
স্টাফ রিপোর্টার ঃ ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মাওলানা আবদুল লতিফ নেজামী ভাস্কর্যের নামে সুপ্রীম কোর্টের সামনে স্থাপিত মূর্তিকে ন্যায় বিচারের প্রতীক হিসেবে আখ্যায়িত করে প্রদত্ত বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন যে, এতে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ বাংলাদেশের জনগণের ধর্ম ইসলামী বোধ, বিশ^াস ও সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্য সম্পর্কে মন্ত্রীর অজ্ঞতার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। এর আগে ইউনেস্কোর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় মঙ্গল শোভাযাত্রাকে অন্তর্ভুক্ত করায় গর্ববোধ করে সংস্কৃতিমন্ত্রী বিধর্মীদের সংস্কৃতিকে উচ্চকিত করে তোলার প্রয়াস পেয়েছেন। এতে তার অন্যের সংস্কৃতির ওপর নির্ভরশীলতা ও আধিপত্য, সমসত্ত্বকরণ ও সাংস্কৃতিক হীনম্মন্যতাবোধেরই বহিঃপ্রকাশ ঘটে। কারণ, মঙ্গল প্রদীপ জ্বালিয়ে, উলুধ্বনি দিয়ে, শাখ বাজিয়ে, মঙ্গল কলস সাজিয়ে মঙ্গল শোভাযাত্রা করা হয়। মঙ্গল শোভাযাত্রা একটি সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর ধর্ম ও সংস্কৃতির অংশ। তিনি বলেন, যেসব পশু-পাখী নিয়ে মঙ্গল শোভাযাত্রা করা হয়, তা ও এদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের ধর্মীয় বিশ্বাস ও সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্যের পরিপন্থী। কেননা, সংখ্যালঘু একটি জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় বিশ^াস মোতাবেক পেঁচা মঙ্গলের প্রতীক ও লক্ষ্মীর বাহন, ইঁদুর গণেশের বাহন, হনুমান রামের বাহন, হাঁস সরস্বতীর বাহন, সিংহ দুর্গার বাহন, গাভী রামের সহযাত্রী, সূর্য দেবতার প্রতীক ও ময়ূর কার্তিকের বাহন। কেউ কেউ শরীরে দেব-দেবীর, জন্তু-জানোয়ারের প্রতিকৃতি, কালির লোহিত বরণ জিহ্বা, গণেশের মস্তক ও মনসার উল্কি এঁকে ভাঁড় সেজে এবং মৃদঙ্গ-মন্দিরা, খোল-করতাল বাজিয়ে মঙ্গল শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করে। এ সংখ্যালঘু গোষ্ঠী প্রতীকের মাধ্যমে তারা পূজা-প্রার্থনা করেন। ইসলামে এটা সম্ভব নয়। তাই মঙ্গল শোভাযাত্রায় যেসব প্রতীক উপস্থিত করা হয়, ইসলাম ও মুসলমানদের কাছে তা একেবারেই অগ্রহণযোগ্য। দৃষ্টির মধ্যে বিরাট পার্থক্য রয়েছে।
 মাওলানা নেজামী বলেন, আন্তর্জাতিক অনৈসলামীকরণ শক্তি ইসলামী শিক্ষা-সংস্কৃতি বিলোপ করে তাদের কর্মসূচী ও কর্মনীতি মুসলিম দেশগুলোর ওপর চাপিয়ে দেয়ার অপপ্রয়াস চালাচ্ছে। একইভাবে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাতিসংঘ, বিশ্বব্যাংক, আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিল, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক, বিশ্ববাণিজ্য সংস্থা, জি-এইট প্রভৃতি দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা একযোগে পরিকল্পিতভাবে মুসলিম দেশগুলোর ইসলামভিত্তিক শিক্ষা-সংস্কৃতিকে তাদের ইচ্ছা ও পরিকল্পনা অনুযায়ী ঢেলে সাজাচ্ছে। বাংলাদেশকেও তারা তাদের উদ্দেশ্যসাধনের যন্ত্রে পরিণত করে চলছে।

Friday, February 24, 2017

গ্রিক দেবীর মূর্তি অপসারণের দাবিতে হেফাজতের সান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ


সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে স্থাপন করা গ্রিক দেবীর মূর্তি অপসারণের দাবি হেফাজতে ইসলামের হাজার হাজার সমর্থক শুক্রবার ঢাকায় বিক্ষোভ করেছে।
ঢাকার বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ প্রাঙ্গনের বাইরে জুমার নামাজের পর এই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।
হেফাজত নেতারা সমাবেশে হুমকি দিয়েছেন যে সুপ্রিম কোর্ট চত্বর থেকে মূর্তিটি অপসারণ করা না হলে 'শাপলা চত্বরের মতো পরিস্থিতি' তৈরি হতে পারে।
সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে স্থাপন করা এই মূর্তি নিয়ে গত কিছুদিন ধরেই হেফাজতে ইসলামসহ কয়েকটি দল আপত্তি জানিয়ে আসছিল। কিন্তু এই প্রথম ঢাকায় এরকম বড় কোনো সমাবেশ থেকে দলটি গ্রিক দেবীর মূর্তি অপসারণের জন্য সরকারকে কড়া হুঁশিয়ারি দেয়া হলো।
শুক্রবার জুমার নামাজের আগে থেকেই বায়তুল মোকাররম চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমর্থকরা জড়ো হতে শুরু করেন।
জুমার নামাজের পর হেফাজতে ইসলামের প্রতিবাদ সমাবেশ শুরু হয়। সেখানে সংগঠনের নেতা নুর হোসেন কাশেমিসহ অনেকে বক্তব্য দেন।
সুপ্রিম কোর্ট চত্বর থেকে গ্রিক দেবীর মূর্তি অপসারণের দাবি জানিয়ে তারা বলেন, সুপ্রিম কোর্ট সবার প্রতিষ্ঠান। কাজেই সেখানে এরকম মূর্তি স্থাপন করা যাবে না।
হেফাজত নেতারা বলেছেন, মূর্তি অপসারণের দাবিতে তাদের কর্মসূচি শুরু হলো মাত্র। সরকার যদি তাদের দাবি না মানে তাহলে শাপলা চত্বরের মতো পরিস্থিতি তৈরি হবে বলে হুমকি দেন সংগঠনের নীচের স্তরের কয়েকজন নেতা।
সমাবেশ শেষে কড়া পুলিশ পাহারায় হেফাজতে ইসলামের একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়।

Thursday, February 23, 2017

সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গন থেকে গ্রিক মূর্তি অপসারণের দাবীতে ২৪ ফেব্রুয়ারী বাদ জুমা ঢাকা বায়তুল মোকাররম উত্তর গেট ও চট্টগ্রাম আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদ চত্বরে হেফাজতের প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল

সুপ্রিমকোর্ট প্রাঙ্গণ থেকে অবিলম্বে গ্রিক দেবির মূর্তি অপসারণের দাবীতে হেফাজতে ইসলামের পূর্ব ঘোষিত ঢাকার বায়তুল মোকাররম উত্তর গেট এবং চট্টগ্রামের আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদ চত্বরে আজকের প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল কর্মসূচী সর্বাত্মকভাবে পালনের আহ্বান জানিয়েছেন সংগঠনটির মহাসচিব প্রখ্যাত মুহাদ্দিস আল্লামা হাফেজ মুহাম্মদ জুনায়েদ বাবুনগরী। তিনি বলেন, দলে দলে মুসলমানদেরকে ঈমান-আক্বীদা রক্ষার এই প্রতিবাদ কর্মসূচীতে শামিল হতে হবে। আজ (২৩ ফেব্রুয়ারী) বৃহস্পতিবার সংবাদপত্রে প্রদত্ত এক বিবৃতিতে আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী এ আহ্বান জানান।
বিবৃতিতে তিনি আরো বলেন, ধর্মনিরপেক্ষতার নামে মূলতঃ বাংলাদেশের মুসলমানদের উপর বিজাতীয় কালচার ও শিরকী মতবাদ চাপিয়ে দেওয়ার গভীর চক্রান্ত চলছে। একদিকে বাংলাদেশের মুসলমানদের ঈমানী চেতনাবোধ মুছে ফেলে তাদেরকে ভোগবাদের দিকে ঠেলে দেওয়ার বহুমুখী চেষ্টা চলছে, অন্যদিকে বাংলাদেশ থেকে মুসলিম ঐতিহ্য ও ইসলামী পরিচিতি মুছে বিজাতীয় মতবাদ ও ভোগবাদিতা চাপিয়ে দিতে শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে নানা কায়দায় আগ্রাসন চালানো হচ্ছে। নাস্তিক্যবাদি ধ্যানধারণা পোষণ করেন এমন রাজনৈতিক নেতা ও কতিপয় মন্ত্রীরা এখন হক্কানী আলেমদেরকেও ধর্মীয় জ্ঞান দেওয়ার প্রয়াস চালাচ্ছেন। তিনি বলেন, মূলতঃ ক্ষমতা রক্ষার জন্য দেশী-বিদেশী প্রভাবশালী গোষ্ঠী ও আধিপত্যবাদি শক্তিকে খুশী করতে তাদের কর্পোরেট বাণিজ্যের প্রসার ঘটনোর জন্যই এসব করা হচ্ছে।
আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী বলেন, প্রাচীন গ্রিক দর্শন বর্তমানে বিশ্বব্যাপী একটি মৃত মতাদর্শ। বাংলাদেশে তো নয়ই, বরং ভারতীয় উপমহাদেশেও গ্রিক দর্শন চর্চার কোন ইতিহাস খুঁজে পাওয়া যায় না। অত্র অঞ্চলের কোন অমুসলিম দেশেও গ্রিক দেবি থেমিসের মূর্তি স্থাপন ও ন্যায় বিচারের প্রতীক জ্ঞানের নজির নেই। সেই ক্ষেত্রে কোন যুক্তিতে ৯০ ভাগ মুসলিম অধ্যুষিত বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের মতো সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থানে গ্রিক দেবির মূর্তি স্থাপন করা হল? অথচ এটা একজন সাধারণ মুসলমানও জানেন যে, গ্রিক দেবি থেমিস বা অনুরূপ কোন মূর্তিকে ন্যায় বিচারের প্রতীক বলে বিশ্বাস করলে কোন মুসলমানের ঈমান আর অবশিষ্ট থাকবে না। এই প্রয়াস বাংলাদেশের মুসলমানদেরকে ঈমানহারা করে আদর্শিকভাবে পঙ্গু করে দেওয়ার ষড়যন্ত্র ছাড়া কিছু নয়। তিনি দলমত নির্বিশেষে মুসলমানদেরকে গ্রিক মূর্তি অপসারণের দাবীতে আগামী কাল (২৪ ফেব্রুয়ারী) বাদ জুমা হেফাজতের কর্মসূচীতে সর্বাত্মক শরীক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এই কর্মসূচী কোন রাজনৈতিক স্বার্থে বা জাগতিক উদ্দেশ্যে নয়। এটা বাংলাদেশের মুসলমানদের ঈমান-আক্বীদা ও মুসলিম পরিচিতি রক্ষার আন্দোলন।
বিবৃতিতে আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী গত ১৭ ফেব্রুয়ারী চট্টগ্রামের একটি অনুষ্ঠানে সাংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর কর্তৃক সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গনে স্থাপিত গ্রিক দেবি থেমিস ও হেফাজত প্রসঙ্গে প্রদত্ত বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, হেফাজতের কথায় নয় বরং মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূরের কথায় মনে হয় এটা গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ নয়। তার পুরো বক্তব্যেই স্বৈরচারী ও ফ্যাসিবাদী মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। তিনি ৯০ ভাগ মুসলমানের ধর্মীয় বিশ্বাস ও ঈমান-আক্বীদার বিরুদ্ধে ফ্যাসিবাদী কায়দায় বিজাতীয় দর্শন ও মতবাদ চাপিয়ে দিতে চাচ্ছেন। তিনি প্রজাতান্ত্রিক শাসনে মানুষের প্রতিবাদ জানানোর ন্যায়সঙ্গত অধিকারকে অস্বীকার করেছেন। আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী হুঁশিয়ারী উচ্চারণ করে বলেন, নাটক-সিনেমায় আপনি সফল অভিনেতা হতে পারেন, কিন্তু মুসলমানদের ঈমান-আক্বিদা ও ধর্মীয় আনুগত্য নিয়ে অভিনয় করা যায় না। ইসলাম ও ঈমান-আক্বীদা নিয়ে কটূক্তি করে মুসলমানদের মনে আঘাত দিয়ে তাদেরকে বিক্ষুব্ধ করার চেষ্টা করবেন না। আপনার জানা থাকবার কথা যে, মুসলমানগণ ঈমান, আক্বীদা ও ইসলামের স্বার্থে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করতে হলেও পিছপা হয় না।
আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী বলেন, পবিত্র ইসলাম ধর্মের প্রতি আনুগত্য রেখে কোন মুসলমানেরই গ্রীক মূর্তির পক্ষে কথা বলার সুযোগ নেই। হেফাজত মহাসচিব মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূরের ইসলামের আক্বীদা-বিশ্বাসের প্রতি কতটা আনুগত্য রয়েছে- সেই প্রশ্ন তুলে বলেন, গ্রিক দেবির স্বপক্ষে তার ছাপাই বক্তব্যে এমন সন্দেহের জোরালো কারণ রয়েছে।
আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী সরকারের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাস-ঐতিহ্য ও কোটি কোটি মুসলমানের ধর্মীয় বিশ্বাসকে সম্মান জানিয়ে অবিলম্বে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গন থেকে গ্রিক মূর্তি অপসারণ করুন। সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গনে কোন ভাস্কর্য স্থাপন করতে চাইলে পবিত্র কুরআনের অথবা পূর্ব থেকে বিদ্যমান থাকা দাড়ি-পাল্লাকে আরো শৈল্পিকভাবে স্থাপন করা যায়। কিন্তু দেশবাসীর উপর গ্রিক দেবিকে চাপিয়ে দিতে চাইলে সেটা বাংলাদেশের জনগণ কখনোই মেনে নিবে না।