Latest Post

কওমীর স্বীকৃতি ও দেবিমূর্তি বিরোধী বক্তব্য আর রাজনৈতিক স্বার্থের ভেল্কিবাজি: মুহাম্মাদ মামুনুল হক

ঢাকা ১৩ই এপ্রিল'১৭ আজকের প্রথম আলোর প্রথম পাতায় প্রধান শিরোনাম দেখে মনে পড়ছে দুই হাজার ছয়ের কথা ৷ যখন হযরত শায়খুল হাদীস রহঃএর দলের...

Showing posts with label খবর. Show all posts
Showing posts with label খবর. Show all posts

Wednesday, April 5, 2017

সরকার একের পর এক ইসলামবিরোধী কাজ করে যাচ্ছে: ইসলামী আন্দোলন

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ’র মহাসচিব মাওলানা ইউনূস আহমদ বলেছেন, সরকার একের পর এক ইসলামবিরোধী কাজ করে যাচ্ছে, তাতে ইসলামী জনতার বিস্ফোরণ ঘটলে সরকার মসনদ টিকিয়ে রাখতে পারবে না। সরকার নাস্তিক্যবাদী বামপন্থি কিছু মন্ত্রীদের প্ররোচণায় লাগামহীন ইসলাম ও মানবতা বিরোধী কাজ করে যাচ্ছে।
বুধবার দুপুর ১২টায় রাজধানীর গোল্ডেন প্লেট রেস্টুরেন্টে ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন-এর মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে মূর্তি স্থাপন, মঙ্গল শোভাযাত্রার নামে হিন্দুয়ানি সংস্কৃতি পালন করতে সারাদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে বাধ্য করা, মসজিদের ইমামগণের কণ্ঠরোধ, মসজিদের জমি সরকারি কাজে অধিগ্রহণ এবং ভারতের সঙ্গে সামরিক চুক্তি করার মাধ্যমে আমাদের অহংকার সেনাবাহিনীকে গোলামীর জিঞ্জির পরানোর অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। তিনি এই মুহুর্তে জাতির বিবেক হিসেবে সাংবাদিকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে আহ্বান জানান।
ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন-এর ব্যবস্থাপনায় কেন্দ্রীয় সভাপতি জি.এম. রুহুল আমীনের সভাপতিত্বে ও কেন্দ্রীয় তথ্য-গবেষণা ও প্রচার সম্পাদক মুহা. ইলিয়াস হাসানের সঞ্চালনায় উক্ত অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন- ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর যুগ্ম মহাসচিব অধ্যাপক এটিএম হেমায়েত উদ্দীন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি মাওলানা ইমতিয়াজ আলম, ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ, কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক মাওলানা আহমাদ আবদুল কাইয়ুম, ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন-এর কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি শাইখ ফজলুল করীম মারুফ, সেক্রেটারি জেনারেল শেখ মুহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম, জয়েন্ট সেক্রেটারে জেনারেল মুহাম্মাদ হাছিবুল ইসলাম ও কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এস.এম এমদাদুল্লাহ ফাহাদ প্রমুখ।আস

ভারতকে আবার হুঁশিয়ারি চীনের


মঙ্গলবার অরুণাচল প্রদেশ সফরে গিয়েছিলেন তিব্বতি বৌদ্ধ ধর্মগুরু দালাই লামা। কিন্তু দালাই লামার এই সফর মোটেই ভালোভাবে দেখেনি চীন। তাই অরুণাচল প্রদেশের ‘বিতর্কিত’ স্থানগুলোতে দলাই লামার প্রবেশকে অনুমতি দেয়ায়, বুধবার চীন ভারতের বিরুদ্ধে কূটনৈতিক প্রতিবাদ দায়ের করেছে। জানিয়েছেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
৯ দিনের অরুনাচল প্রদেশ সফরে মঙ্গলবার দালাই লামা পশ্চিম কামেং জেলার বমদিলায় যান। এই অংশকে চীন দক্ষিণ তিব্বত বলে দাবি করে।
এর আগে ২০০৯ তে অরণাচল প্রদেশে শেষবার এসেছিলেন তিব্বতের ধর্মগুরু। এই সপ্তাহের শেষের দিকেই তাওয়াং সফরে যাবেন দালাই লামা।
দালাই লামার সফরের আগেই ভারতকে হুঁশিয়ারি দিয়ে চীন বলেছিল যে তাওয়াং-এ যদি দালাই লামা যান তাহলে ভারত ও চীনের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অবনতি হবে। বুধবার চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হুয়া চুনইং জানান যে, ভারত-চীন সীমান্তের পূর্বাংশে বিতর্কিত অঞ্চলে দালাই লামার সফরের ব্যবস্থা করার ফলে ভারত-চীন সম্পর্ক খারাপ হবে।
মঙ্গলবার ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কিরণ রিজিজু জানান, ভারত কখনো বেইজিংয়ের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারের মধ্যে মাথা গলায়নি। তাই চীনেরও ভারতের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে এবং দালাই লামার সফরে হস্তক্ষেপ করা উচিত নয়। তিনি বলেন, দালাই লামার সফরের পিছনে কোনো রাজনৈতিক কারণ নেই। বরং পুরো ধার্মিক কারণেই এই সফর। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকেও জানিয়েছে দালাই লামার সফর নিয়ে এইরকম কৃত্রিম বিতর্ক তৈরি করা উচিত না।
পালটা জবাব দিয়ে চীনের পররাস্ট্র মন্ত্রণারয়ের মুখপাত্র জানিয়েছেন, চীন কোনোভাবেই অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করে না। কিন্তু দালাই লামার সফর কোনো অভ্যন্তরীণ ব্যাপার নয়।

Saturday, April 1, 2017

বেফাকের ৪০তম কেন্দ্রীয় পরীক্ষার রুটিন

বেফাক(http://www.wifaqbd.org)
দেশে প্রচলিত কওমী মাদরাসাসমূহের একমাত্র জাতীয় প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষা বোর্ড হচ্ছে বেফাকুল
মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ (বাংলাদেশ কওমী মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড), সংক্ষেপে বেফাক। ১৯৭৮ সনের এপ্রিল মাসে ৩ দিনব্যাপী মহাসম্মেলনের আয়োজন করে এবং দেশের ছোট বড় সর্বস্তরের কওমী মাদরাসা সমূহের প্রতিনিধিবৃন্দ, পূর্ব প্রতিষ্ঠিত আঞ্চলিক বোর্ড সমূহের প্রতিনিধিবৃন্দ এবং দেশের উলামা-মাশাইখগণের উপস্থিতিতে ও সকলের ঐকমত্যের ভিত্তিতে জাতীয় পর্যায়ে একমাত্র ও একক প্রতিষ্ঠান ও বোর্ড হিসেবে বেফাক প্রতিষ্ঠা করা হয়।

Friday, March 31, 2017

জঙ্গীবাদের মতো ‘তুলে নিয়ে যাওয়া’র বিরুদ্ধেও সকলকে সোচ্চার হতে হবে

মুনির আহমদ:https://mobile.facebook.com/munir.ahmed.monthly.mueenul.islam?refid=12&ref=Footer

জঙ্গীবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার মতো আমাদের সকলের উচিত, “তুলে নিয়ে যাওয়া”, “রাজনৈতিক হত্যা” এবং “ক্ষমতা, স্বার্থ ও আধিপত্য প্রতিষ্ঠার জন্য খুনাখুনি”-এর মতো সন্ত্রাসের বিরুদ্ধেও সমান গুরুত্ব দিয়ে ঐক্যবদ্ধ হওয়া ও সোচ্চার প্রতিবাদ করা।
এই “তুলে নিয়ে যাওয়া” সন্ত্রাসে অনেকগুলো ক্লু, যেমন- তুলে নিয়ে যাওয়া লোকগুলোর চেহারার বর্ণনা, পোষাক ও বেশ-ভূষার বর্ণনা, কথা বলার ধরণ, গাড়ির শ্রেণী, কালার ও গাড়ির নম্বর, তুলে নিয়ে যাওয়ার গতিপথ, হ্যান্ডকাপ ইত্যাদি জানা থাকা সত্ত্বেও আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা সরকারকে এসব নৃশংস অপরাধের হোতাদের ধরতে বা ঘটনা উদ্ঘাটনে তৎপর হতে একদম দেখা যায় না।
অথচ, কত কত ক্লু হীন খুনাখুনির ঘটনায় পুলিশ বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তড়িৎ বেগে অপরাধীদেরকে পাকড়াও করতে ও হত্যার কারণ উদ্ঘাটন করতে আমরা দেখতে পাই....।
সরকার, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলাবাহিনী যদি অপরাধকে শ্রেণী বিভাজন করে, তবে কীভাবে সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদ মুক্ত করা যাবে দেশ কে??
বোমাবাজি ও চাপাতি দিয়ে মানুষ খুন করা, আর তুলে নিয়ে খুন করার মধ্যে তফাৎটা কোথায়??? একটার জন্য চিল্লাফাল্লা করে দেশ কাঁপিয়ে তুলবেন- ঠিকাছে, আমরাও প্রতিবাদ করি; কিন্তু আরেকটার দিকে ফিরেও তাকাবেন না; সেটা তো ন্যায্য হলো না।
গত পরশু ছাত্রদলের একজন কেন্দ্রিয় নেতাকে চট্টগ্রামের বাসা থেকে পরিবারের সব লোকের সামনে থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় দিয়ে একদল লোক তুলে নিয়ে হত্যা করে নদীর পাড়ে লাশ ফেলে গেল, কই আমরা তো এখনো শুনছি না, পুলিশ লাশের সুরতহাল রিপোর্ট নিয়ে, লাশের হাত বাঁধা বা চোখ বাঁধা থেকে অপরাধীদের ফিঙ্গার প্রিন্ট নিয়ে এবং সেই নেতার পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া লোকজনের চেহারার বর্ণনা নিয়ে, গাড়ির নম্বর ধরে অনুসন্ধানে নেমে গাড়িটা উদ্ধার করতে এবং কারা তুলে নিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নাম ব্যবহার করে রাষ্ট্রীয় বাহিনীকে অপরাধীর কাঠ গড়ায় তুলতে, সেটা উদ্ঘাটন করতে তো আমরা সরব কোন তৎপরতা দেখছি না। এমন শত শত ঘটনা আছে....
তো ডজনে ডজনে অপরাধকে প্রশ্রয় দিয়ে কীভাবে দেশকে সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদ মুক্ত করবেন এবং দেশে শান্তি স্থাপন করবেন??!!!
আমরা সাধারণ মানুষ চাই, প্রতিটা জঙ্গী তৎপরতা, প্রতিটা অপরাধ, প্রতিটা খুনাখুনির ঘটনা, প্রতিটা তুলে নিয়ে যাওয়া বা গুম করার ঘটনা, প্রতিটা আধিপত্য প্রতিষ্ঠার হত্যা এবং প্রতিটা রাজনৈতিক হত্যাকান্ড বা অপরাধকে সমান গুরুত্ব দিয়ে, সমান অপরাধ বিবেচনা করে বিচার করুন, উৎখাত করুন এবং দমন করুন।।
একজন হিন্দু বা অমুসলিম অন্যায় খুনের শিকার হলে আমরা আলেমরা, সাধারণ মানুষরা, কথিত সুশীল ব্যক্তিত্বরা, সর্বোপরি আপজনতা সেটার প্রতিবাদ করি। আমার ব্যক্তিগত মত হচ্ছে, একজন ভিন্ন চিন্তার বা ভিন্ন রাজনৈতিক দর্শনের মানুষও যদি অন্যায়ভাবে খুন বা হেনস্থার শিকার হয়, তখন সেটারও একই রকম জোর প্রতিবাদ আসা উচিত। না হয় এ ধরণের অন্যায়-অপরাধে সকলকেই কোন না কোন সময় আক্রান্ত হতে হবে। সব সংক্ষুব্ধ পক্ষই এরকম অপরাধ ঘটাতে চাইবে স্বার্থে আঘাত লাগলে। তখন বাকীরা সবাই চুপ থাকবে.....। দেখা যাবে, তিন ইক্ষু চোরের বিচারের গল্পের মতো এক সময় সকলকেই আক্রান্ত হতে।
পরম করুণাময় আল্লাহ সকলকে সুমতি দান করুন, দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করুন, অপরাধীদেরকে হিদায়াত বা নিশ্চিহ্ন করুন এবং দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা করুন। আমীন।।লেখক:  হেফাজত আমীরের প্রেসসচিব

উত্তর প্রদেশে আতঙ্কে মুসলিমরা, মোদিকে মাওলানা বুখারীর চিঠি

ভারতের দিল্লির ঐতিহাসিক জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা সাইয়্যেদ আহমদ বুখারী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চিঠি দিয়ে মুসলিমদের মধ্যে আতঙ্ক দূর করার আহ্বান জানিয়েছেন।
মাওলানা বুখারী তার চিঠিতে বলেছেন, দেশের সবচেয়ে বড় রাজ্য উত্তর প্রদেশে বিজেপি অপ্রত্যাশিত জয় পেয়েছে। কিন্তু গত কিছুদিন ধরে রাজ্যে মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে ভয় এবং আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি হওয়ার খবর আসছে। তিনি এ ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, পারস্পারিক আস্থাকে উৎসাহিত করার পরিবেশ প্রতিষ্ঠিত করায় সরকারের অগ্রাধিকার দেয়া উচিত।
মাওলানা বুখারী বলেন, কেন্দ্র এবং রাজ্যে বিজেপি নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পরে আপনি নিজেই ‘সবকা সাথ সবকা বিকাশ’ (সবার সাথে সবার উন্নয়ন) স্লোগান দিয়ে পারস্পারিক বিশ্বাস পুনর্বহালের স্পষ্ট বার্তা দিয়েছিলেন। উত্তর প্রদেশ সরকার ওই সঙ্কল্পকে বাস্তবায়ন করার জন্য আন্তরিকভাবে সচেষ্ট হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন।
সূত্র : ওয়েবসাইট
http://m.dailynayadiganta.com/?/detail/news/208293

ঢাকা আসছেন মসজিদুল হারাম ও মসজিদে নববীর ইমাম


প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে আসছেন মক্কার পবিত্র মসজিদুল হারামের ইমাম ড. শায়খ আবদুর রহমান আস সুদাইসি ও মদিনা শরিফের মসজিদে নববীর জ্যেষ্ঠ ইমাম শায়খ ড. আলী বিন আবদুর রহমান আল হুযাইফি। তারা ৬ এপ্রিল রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আলেম-উলামা মহাসম্মেলনে অংশ নেবেন। ধর্ম মন্ত্রণালয় ও ইসলামিক ফাউন্ডেশন সূত্রে জানা গেছে এসব তথ্য।

জানতে চাইলে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক সামীম মোহাম্মদ আফজাল বৃহস্পতিবার যুগান্তরকে বলেন, আমাদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে সারা দেশের আলেম-উলামাকে আমরা দাওয়াত দিয়েছি। পবিত্র কাবা শরিফ ও মসজিদুন নববীর ইমামসহ ছয় সৌদি মেহমান সেখানে তাশরিফ আনবেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যাবতীয় প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে। মহাসম্মেলনে ৬-৭ লাখ লোক উপস্থিত হবে বলে আমরা আশা করছি।

সূত্র জানায়, ঢাকায় আসার ব্যাপারে প্রাথমিক সম্মতি জানিয়েছেন মুসলিম উম্মাহর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব দুই ইমাম। ইতিমধ্যে বিষয়টির অনুমোদনও দিয়েছেন সৌদি আরবের বাদশাহ। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ৪২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলেম-উলামা মহাসম্মেলনে বিশেষ মেহমান হিসেবে তারা অংশ নেবেন।

বৃহস্পতিবার ধর্ম মন্ত্রণালয়ে ধর্ম সচিব আবদুল জলিলের সভাপতিত্বে এ সংক্রান্ত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে জানানো হয়, ৪ এপ্রিল দুই ইমামসহ ছয় সদস্যের সৌদি প্রতিনিধি দল ঢাকায় আসবে। এ মেহমানদের সম্মান ও নিজেদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ৬ এপ্রিল সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আলেম-উলামা মহাসম্মেলন করবে ইসলামিক ফাউন্ডেশন।

এ জন্য প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত দুই লাখ ৬০ হাজার মসজিদের ইমাম, মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কেন্দ্রের ৬৫ হাজার শিক্ষক-কর্মচারী, ৯০ হাজার প্রশিক্ষিত ইমাম, ৬১ হাজার ইমাম-মুয়াজ্জিন কল্যাণ ট্রাস্টের সদস্যদের ঢাকায় আসতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি কয়েক লাখ আলেম-উলামা, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক, সরকারি কর্মকর্তা ও ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের মহাসমাবেশে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে।

সূত্র জানায়, ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে এক বৈঠকে মক্কা ও মদিনার দুই ইমামের ঢাকায় আনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়। ওই বৈঠকে আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক শেখ মো. আবদুল্লাহকে প্রধান করে কমিটি গঠন করে দেন প্রধানমন্ত্রী। সদস্য করা হয় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বোর্ড অব গভর্নরসের কয়েকজন সদস্যকে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ঢাকাস্থ সৌদি দূতাবাসের সঙ্গে কথা বলে দুই ইমামকে ঢাকায় আনার প্রক্রিয়া ও প্রয়োজনীয় আলোচনা শেষে চার সদস্যের প্রতিনিধি দল ৭ মার্চ আমন্ত্রণপত্র নিয়ে সৌদি আরব যান। ওই প্রতিনিধি দলে ছিলেন আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক শেখ মো. আবদুল্লাহ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন মহাপরিচালক সামীম মোহাম্মদ আফজাল, সংসদ সদস্য আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দীন নদভী ও ইসলামিক ফাউন্ডেশন বোর্ড অব গভর্নরসের সদস্য মিছবাহুর রহমান চৌধুরী।

Sunday, February 26, 2017

মেয়েদের জন্য সচেতনতা

১। রাতের বেলা বাসায় ফেরার সময়
কোন মাইক্রো বাসে উঠবেন না।
২। রাতের বেলা ফাঁকা বাসে উঠবেন না।
৩। বাসে উঠে ঘুমিয়ে পড়বেন না এবং
অন্যের দেয়া খাবার খাবেন না ।
৪। খালি বাসায় টিঊশনি করাবেন না।
৫। কোচিং সেন্টারে বান্ধবিদের সাথে
যাবেন। একা একা অতিরিক্ত সময়
আগে চলে যাবেন না এবং ক্লাস হবে
কিনা আগেই নিশ্চিত হয়ে নিবেন।
কারন ফাঁকা নির্জন ক্লাসরুমে অনেক
মেয়েই শিক্ষকের আক্রমনের স্বীকার হয়।
৬। পরিচিত কারো দ্বারা যৌন
হয়রানির আঁচ পেলে পরিবারের
সদস্যদের অবহিত করবেন ।
৭। ফেসবুক/ মোবাইলে অপরিচিত
কারো সাথে দেখা করতে চাইলে
ভুলেও দেখা করবেন না।
৮। সন্ধ্যার পর নির্জন লোকাল পার্ক
গুলোতে অবস্থান করবেন না।
আধার নামার আগেই সেসব স্থান
ত্যাগ করবেন।
৯। একা নির্জন পার্ক জংগল, বন বা
পিকনিক প্লেসের গভীর এলাকায়
যাবেন না।
১০। কিছু করার আগে, কোথাও যাবার
আগে নিজের নিরাপত্তার ব্যাপারে
নিশ্চিত হয়ে নিবেন।
বা নিরাপত্তার কথা ভাববেন,
কেমন .......?
কারন, আপনার সাথে জড়িয়ে আছে ,
আপনার পরিবার, বাবা, মা, ভাই,
বোনের সম্মান ও ভালবাসা।।
মেয়েরা আমাদের মা-মেয়ে ও বোন।
তাদের ইজ্জত আমাদের ইজ্জত!
তাদের সম্মান আমাদের সম্মান!
তারা পরিবারের অহংকার গৌরব!
তাদের হেফাজত করা সবার
দায়িত্ব ও কর্তব্য !!

'আমার ফাঁসি হোক, তারপরও ভালো থেকো খাদিজা'

নিজের ওপর ভয়াবহ হামলার বর্ণনা দিলেন খাদিজা আক্তার। একই সাথে আদালতের কাছে ছাত্রলীগ নেতা বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করলেন তিনি। এসময় আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা বদরুল আলম বলতে থাকেন, ‘আমার ফাঁসি হোক, তারপরও খাদিজা তুমি ভালো থেকো। তোমার ভালো হোক।’
রোববার দুপুরে সিলেট মহানগর মূখ্য হাকিম আদালতের বিচারক সাইফুজ্জামান হিরোর কাছে ঘটনার বর্ণনা দেন খাদিজা। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে দণ্ডবিধির ৩৪২ ধারায় আসামি শনাক্ত করা হয়। এরপর মামলায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য আগামী ১ মার্চ তারিখ ধার্য করে আদালত।
নিজের ওপর ভয়াবহ হামলার বর্ণনা দিয়ে আদালতে খাদিজা আক্তার নার্গিস বলেন, ‘৩ অক্টোবর বিকেল ৫টায় এমসি কলেজে পরীক্ষা দিয়ে বের হয়ে আমি আমার বান্ধবি রূপমার সঙ্গে হাঁটার সময় হঠাৎ বদরুল গরু কাটার চাপাতি হাতে নিয়ে আমার হাত ধরে জোর করে টেনে কলেজের পুকুরের পূর্বপাড়ে নিয়ে যায়।
এরপর আসামি বদরুল আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে চাপাতি দিয়ে আমার মাথায় কোপ মারলে প্রথমে বাম হাত ও পরে দুই হাত দিয়ে চারটি কোপ ঠেকাই। বদরুল আমার মাথায় অসংখ্যবার কোপ মারলে আমার বাম কানের উপরের অংশ কেটে যায় এবং নিচের অংশে আঘাত লাগে। এরপর বাম পায়ের হাটুতে চাপাতি দিয়ে আঘাত করে। এরপর আমি অজ্ঞান হয়ে যাই।
খাদিজা আরও বলেন, আমার শরীরের যে যে স্থানে আসামি আঘাত করেছে, সেসব জায়গায় দাগ আছে। আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা আসামিকে শনাক্ত করে খাদিজা বলেন, আমি আসামি বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই। সে আমাকে সারা জীবনের জন্য প্রতিবন্ধী করেছে। আমি এর বিচার চাই।
এসময় কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা বদরুল আলম বলতে থাকেন, ‘আমার ফাঁসি হোক, তারপরও খাদিজা তুমি ভালো থেকো। তোমার ভালো হোক।’ তখন বিচারক বদরুলকে কোনো কথা বলতে নিষেধ করেন।
এরপর আসামি পক্ষের আইনজীবী সাজ্জাদুর রহমান চৌধুরী খাদিজাকে জেরা করেন। জেরায় খাদিজা বলেন, আসামি ৫-৬ বছর আগে আমাদের বাড়িতে আমার ছোটভাইকে পড়াত।
এ সময় বদরুলের সঙ্গে খদিজার প্রেমের সম্পর্ক ছিল কি-না জানতে চান আইনজীবী। জবাবে খাদিজা বলেন, এ কথা সত্য নয়।

গ্যাসের দামবৃদ্ধির প্রতিবাদে মঙ্গলবার জামায়াতের বিক্ষোভ

দফায় দফায় গ্যাসের দামবৃদ্ধির সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ এবং তা অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবিতে আগামী মঙ্গলবার ২৮ ফেব্রুয়ারি দেশব্যাপী বিক্ষোভ করবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলের সেক্রেটারি জেনারেল ডা. শফিকুর রহমান আজ এক বিবৃতিতে এ কথা জানান।
সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এই বিবৃতিতে ডা. শফিক বলেন, 'সরকার আগামী ১ মার্চ ও ১ জুন দু’দফায় গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির যে সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে তা সম্পূর্ণ অন্যায় ও অযৌক্তিক। এর মাধ্যমে দেশের দরিদ্র ও সাধারণজনগণের অর্থনৈতিক দুর্ভোগ বাড়িয়ে দিয়েছে তারা। গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির এ সিদ্ধান্ত দরিদ্র ও সাধারণ জনগণের প্রতি মরার ওপর খড়ার ঘা। সরকারের এ অন্যায় সিদ্ধান্তে দেশের গোটা অর্থনীতির ওপর বিরূপ প্রভাব পড়বে। দরিদ্র ও সাধারণ জনগণের জীবন দুর্বিসহ হয়ে পড়বে। সরকারের এ সিদ্ধান্তে জনগণ বিক্ষুব্ধ।'
ডা. শফিকুর রহমান আরো বলেন- 'গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির এ অন্যায় ও অযৌক্তিক সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে এবং গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবিতে আমি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার দেশব্যাপী শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করছি। ঘোষিত এ কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে পালন করার জন্য আমি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সকল শাখা ও দেশবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি।'

এখন কি অবস্থা মিয়ানমারে..?



"আগের চেয়ে খারাপ। আগে তো প্রকাশ্যে হত্যা, জুলুম, ঘর বাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া এবং বিভিন্ন নির্যাতন করা হত। এগুলো বিশ্ব মিডিয়াতে প্রচার হওয়াতে ওরা ভিন্ন কৌশল মুসলমানদের নিধন করতেছে।"
"এখন,
মহল্লার সচেতন পুরুষ, যুবকদের ধরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ধরে নিয়ে যাওয়া মুসলমান গুলোর কোন ধরণের খুঁজ নেই।এভাবে আমাদের কওমকে ধ্বংস করতে চাচ্ছে ওরা!"
"গত পরশু দিনও ১৭ জনকে ধরে নিয়ে গেছে মিলিটারী।মিলিটারী প্রত্যাহার বিষয়ে মিথ্যা সংবাদ প্রচার করেছে। আসলে আরো বাড়িয়ে মিলিটারী তৎপরতা...!!"

হোয়াইট হাউজে ঢুকতে দেয়া হয়নি সিএনএন নিউ ইয়র্ক টাইমসসহ অনেক মিডিয়াকে

হোয়াইট হাউজে প্রবেশে বাধাপ্রাপ্ত হলেন শীর্ষ মার্কিন সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকেরা। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, প্রধান কয়েকটি মার্কিন সংবাদ প্রতিষ্ঠানকে হোয়াইট হাউজে প্রবেশ করতে দেয়নি ট্রাম্প প্রশাসন। এ ছাড়া শুক্রবার কনজারভেটিভ পলিটিক্যাল অ্যাকশন কনফারেন্সে (সিপিএসি) আবারো গণমাধ্যমকে গণশত্রু আখ্যা দিয়েছেন ট্রাম্প।
পলিটিকোর খবর অনুযায়ী, শুক্রবার ছিল হোয়াইট হাউজের প্রেস সেক্রেটারি শন স্পাইসারের সংবাদ সম্মেলন। টেলিভিশনে সম্প্রচারিত ‘কিউ’ ও ‘এ’ সেশনের মতো ব্রিফিংয়ের চেয়ে ওই সংবাদ সম্মেলন ছিল অপেক্ষাকৃত কম আনুষ্ঠানিক। সেই সংবাদ সম্মেলনে ঢুকতেই দেয়া হয়নি সিএনএন, নিউ ইয়র্ক টাইমস, পলিটিকো, লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমস ও বাজফিডের সাংবাদিকদের। যারা ভেতরে গিয়েছিলেন, ছবি তোলার বা ভিডিও করারও অনুমতি পাননি তারা। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, সংবাদ সম্মেলনে রীতিমতো তুলোধুনা করা হয় শীর্ষ সংবাদমাধ্যমগুলোকে।
অবশ্য রয়টার্স, ব্লুমবার্গ ও সিবিএসের মতো আরো ১০টি প্রতিষ্ঠান বিনা বাধায় সংবাদ সংগ্রহ করতে পেরেছে। তবে ঠিক কী কারণে হোয়াইট হাউজ শীর্ষ মাধ্যমগুলোর বিরুদ্ধে ওই ব্যবস্থা নিলো তা খোলাসা করেননি প্রেস সেক্রেটারি। শন স্পাইসার বলেন, ‘আমরা সঠিকভাবে গণমাধ্যমের প্রশ্নের জবাব দিতে পারছি কি না সেটাই আমাদের কাজ। আমরা আপনাদের প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর নিশ্চিত করতে চাই; তাই বলে এই নয় যে প্রতিবারই ক্যামেরার সামনে সব বলতে হবে।’ পরে এক বিবৃতিতে ওই সংবাদমাধ্যমগুলোকে বাধা দেয়ার ব্যাখ্যা দিয়ে বলা হয়, যেহেতু হোয়াইট হাউজের পুল রয়েছে, সেহেতু তারা অন্যদের প্রতিনিধিত্ব করবে এবং আমাদের কাছ থেকে সব তথ্য পাবে। সাধারণত একটি টেলিভিশন নেটওয়ার্ক ও একটি প্রিন্ট আউটলেট থেকে একজন করে প্রতিনিধি নিয়ে পুল গঠিত হয়। এই পুলের অংশ হিসেবে এনবিসি, এবিসি, সিবিএস ও ফক্স নিউজকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও গ্যাগেলে বাধা দেয়া হয় সিএনএনকে। ঠিক একইভাবে নিউ ইয়র্ক টাইমসকে বাধা দেয়া হলেও সেই ব্রিফিংয়ে ঢুকতে দেয়া হয় ব্রেইবার্ট নিউজ, দ্য ওয়াশিংটন টাইমস এবং ওয়ান আমেরিকা নিউজ নেটওয়ার্ক নামে সংবাদমাধ্যমগুলোকে।
ক্যামেরা বন্ধ রেখে সংবাদ সম্মেলনের এই ধারণা নতুন কিছু নয়। তবে হোয়াইট হাউজের সংবাদ সম্মেলনে সব সংবাদমাধ্যমের প্রবেশ এবং প্রশ্ন করার রীতি অনেক পুরনো। হোয়াইট হাউজের এমন ‘কাণ্ডে’ সুবিধাবঞ্চিত কয়েকটি সংবাদ সংস্থা তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ জানিয়েছে।
এ দিকে সিপিএসি কনফারেন্সে মিডিয়াকে মার্কিন জনগণের শত্রু আখ্যা দেন ট্রাম্প। অতীতের ধারাবাহিকতায় তিনি বলেন, ‘আপনাদের জানাতে চাই যে সংবাদের নামে চলমান গুজবের বিরুদ্ধে আমরা লড়াই করছি।’ ট্রাম্প বলেন, ‘কিছু দিন আগে আমি গণমাধ্যমকে গণশত্রু আখ্যা দিয়েছিলাম। আজো আমি একই কথা বলছি।’ গত সপ্তাহে তিনি টুইটারে লিখেছিলেনÑ ‘গুজব সৃষ্টিকারী গণমাধ্যমগুলো (নিউ ইয়র্ক টাইমস, এনবিসিনিউজ, সিবিএস, সিএনএন) শুধু আমার শত্রু নয়। তারা সমগ্র মার্কিন জনতার শত্রু।’ নিউ ইয়র্ক টাইমসের নির্বাহী সম্পাদক ডিন ব্যাকেট বলেন, ‘আমাদের দীর্ঘ অভিজ্ঞতায় এ ধরনের ঘটনা আগে কখনো ঘটতে দেখিনি।’ নিউ ইয়র্ক টাইমস ছাড়া বাকিরাও এ ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় বাধা দেয়ার প্রশ্নে হোয়াইট হাউজ করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনও শামিল হয়েছে প্রতিবাদে।

হামাসের দাবি

এখন ফিলিস্তিনের পূর্ণ স্বাধীনতা : হামাস
ফিলিস্তিনের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস বলেছে, দু’টি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ফিলিস্তিন সংকট সমাধানের সুযোগ শেষ হয়ে গেছে; কাজেই ফিলিস্তিনের পূর্ণ স্বাধীনতা ছাড়া এখন আর কোনো পথ নেই।
হামাসের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য খলিল হাইয়া শুক্রবার গাজা শহরের জুমার নামাজের খুতবায় এ আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডকে ভাগ করা যাবে না। এখানকার জনগণ তাদের মাতৃভূমি মুক্ত করার লক্ষ্যে সংগ্রাম চালিয়ে যাবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
খলিল হাইয়া বলেন, “ফিলিস্তিনে কোনো দখলদারের স্থান হবে না। আমরা ওদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে করতে এই ভূখণ্ড থেকে ওদেরকে বের করে ছাড়ব।”
ফিলিস্তিনে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এক জনমত জরিপে দেখা গেছে, সেখানকার শতকরা ৬৭ ভাগ মানুষ দুই রাষ্ট্র-ভিত্তিক সমাধান মানেন না। এ ছাড়া, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরাইল ও ফিলিস্তিন নামক দু’টি আলাদা রাষ্ট্র গঠনের মাধ্যমে এই সংকটের স্থায়ী সমাধানের যে চেষ্টা আমেরিকার বিগত সরকারগুলো করে আসছিল নয়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি তার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন।
সূত্র : ওয়েবসাইট

ভারী হয়ে ওঠে বনানী কবরস্থানের বাতাস

নিহত সেনা সদস্যদের স্বজনদের কান্নায়
পিলখানার ঘাতকদের বিচার ও শাস্তি দ্রুত কার্যকর করার দাবি
স্টাফ রিপোর্টার : পিলখানায় নিহত সেনা কর্মকর্তাদের স্বজনদের কান্নায় বাতাস ভারী হয়ে উঠছিল। প্রিয় সন্তান হারা মা-বাবা ও স্ত্রী-সন্তানেরা কবর জিয়ারত করতে এসে রাজধানীর বনানী কবরস্থানে গতকাল কান্নায় ভেঙে পড়েন। আবার কেউ কেউ ঘাতকদের বিচার ও শাস্তি দ্রুত কার্যকর করার দাবী জানিয়েছেন।
গতকাল সকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, বনানী সামরিক কবরস্থানে এক তরুণ ও কিশোরকে সঙ্গে নিয়ে একটি কবরের সামনে দাঁড়ালেন লাঠি হাতে আসা ষাটোর্ধ্ব এক নারী। সেখানে বসে থাকলেন বেশ কিছুটা সময়। কাঁদলেন, দোয়া করলেন, তারপর আবার ফিরতে শুরু করলেন প্রধান ফটকের দিকে। ষাটোর্ধ্ব ওই নারীর চোখে তখন অশ্রু। তরুণ ও কিশোর ছেলে দুটির চোখে-মুখে বেদনার ছাপ। তারা হাঁটছিলেন ধীরপায়ে। কাছে এগিয়ে গিয়ে কথা বলতেই সেই বৃদ্ধার কান্নার যেন বাঁধ ভেঙে গেলো। কাঁদতে কাঁদতেই বললেন, ‘আমি এক দুঃখিনী মা, ৮ বছর ধরে বুকে কষ্ট বয়ে বেড়াচ্ছি।
৮ বছর আগে আমার নিষ্পাপ, নির্দোষ ছেলেকে ওরা মেরে ফেলেছে।’ আলাপচারিতায় জানা গেলো, তার নাম কোহিনুর বেগম। পিলখানা ট্রাজেডিতে নিহত মেজর মিজানুর রহমানের মা তিনি। মিজানুরের দুই সন্তানকে নিয়ে পিলখানা ট্রাজেডির দিকে কবর জিয়ারত করতে এসেছিলেন তারা। সাদাকাত বিন মমিনের বয়স আট বছর। গতকাল মায়ের সঙ্গে বনানীর সামরিক কবরস্থানে এসে কাঁদছিল সে। বাবার কবরের সামনে দাঁড়িয়ে অস্ফুটস্বরে বলছে, ‘ওদের জন্য আমি আমার বাবাকে দেখতে পেলাম না।’ জন্মের পর বাবাকে দেখার সৌভাগ্য হয়নি সাদাকাতের। পিলখানা ট্রাজেডির ১১ দিন পরে জন্ম নেয় সে। ওই হামলার ঘটনায় নিহত মেজর মোমিনুল ইসলামের ছেলে সে।
গতকাল ২৫ ফেব্রুয়ারি ছিল পিলখানা ট্রাজেডির ৮ বছর। ২০০৯ সালের এই দিনে (২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি) পিলখানায় বিডিআর-এর (বর্তমানে বিজিবি-বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ) বিপথগামী সদস্যরা কিছু দাবি-দাওয়া আদায়ের নামে নারকীয় এক হত্যাকান্ড চালায়। এসময় তারা অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটও করে। ওই দু’দিনে তারা ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তা ছাড়াও নারী-শিশুসহ আরও ১৭ জনকে নৃশংসভাবে হত্যা করে। পিলখানা ট্রাজেডির ৮ বছর পূর্তিতে সকালে বনানীর সামরিক কবরস্থানে নিহতদের স্মরণে স্থাপিত স্মৃতিস্তম্ভে প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, তিন বাহিনীর প্রধান, বিজিবি প্রধানসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও পরিবারের পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানানো হয়।
সকাল ৯টার দিকে কোরআন তেলওয়াতের মাধ্যমে নিহতদের করা শুরু হয়। এর আগে নিহতদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। বিউগল বাজিয়ে ও স্যালুটের মাধ্যমেও জানানো হয় শ্রদ্ধা। তারপর স্মৃতিস্তম্ভে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন সবাই। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, বিজিবি প্রধান মেজর জেনারেল আবুল হোসেনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের সেনা কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো ও কবর জিয়ারত শেষে নিহত মেজর মিজানের মায়ের সঙ্গে ফিরছিলেন তার দুই সন্তান তাহসিন রহমান রামি ও ফারদিন রহমান সামিও। রামি মির্জাপুর ক্যাডেট কলেজে একাদশ শ্রেণিতে পড়েন। আর ১১ বছরের সামি পড়ে চতুর্থ শ্রেণিতে বনানীর একটি স্কুলে। ৮ বছর আগের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে রামি বলেন, ‘সেদিন সকালে বাবার (মেজর মিজান) নতুন র্যাঙ্ক পড়ার কথা ছিল। সকালে বাবা যখন নাস্তা করে বাসা থেকে বের হন তখন আমার সঙ্গে কথা হয়। আমি তাকে বিদায় জানাই। সেদিন আমাদের জন্য ছিল শুভ দিন। কিন্তু সেটা হয়ে যায় অশুভ। র্যাঙ্ক পরার বদলে তিনি দুই দিন পর ফিরেন লাশ হয়ে।’
অশ্রসিক্ত হয়ে পড়েন রামি। চোখ মুছে আবার বলতে থাকেন, ‘এতবড় একটা ঘটনা ঘটলো। এই ঘটনার দোষীরা এখনো শাস্তি পেলো না। এই ঘটনা কেন ঘটলো তাও আমরা জানতে পারলাম না। একটি ঘটনা তো আর এমনি এমনি হয় না। কেউ আমাদের কোনও প্রশ্নের উত্তর দেয়নি। আমার জানার খুব ইচ্ছা কেন আমার বাবাকে হত্যা করা হলো? পিলখানায় রামি-সামির বাবার নির্মম মৃত্যুর নয় মাস আগে মাকে হারান তারা। ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান মা রেবেকা ফারহানা রোজী। এখন দাদা-দাদির সঙ্গেই থাকেন দুই ভাই। পিলখানার ঘটনার সময় সামীর বয়স তিন বছর। ফলে তার সেই স্মৃতি আর মনে নেই। তবে রামির হৃদয়ে গেঁথে আছে বেদনাসিক্ত সেই সময়ের প্রতিটি মুহূর্ত। সামি বলেন, আমি ক্যাডেট কলেজে পড়ছি। আমার ইচ্ছা আমি আর্মিতে জয়েন করার। আমি আমার বাবার মতো হতে চাই।
রামি-সামির মতোই বাবার কবর জিয়ার করতে মা সানজানা সোনিয়ার সঙ্গে এসেছিলেন ৮ বছরের সাদাকাত বিন মমিন। পিলখানা ট্রাজেডিতে নিহত মেজর মোমিনুল ইসলামের ছেলে। জন্মের পর বাবাকে দেখার সৌভাগ্য হয়নি তার। পিলখানা ট্রাজেডির ১১ দিন পর জন্ম হয় তার। মা সানজানা সোনিয়া বলেন,‘বাবার ছবি দেখে ও গল্প শুনে সে বুঝে গেছে তার বাবার কী হয়েছে। এজন্য মাঝে মধ্যেই সে বলে আমি বড় হয়ে অফিসার হবো তারপর ওদের গুলি করে মারবো।’
নিহত মেজর মমিনুলের বাবা মফিজুল ইসলাম বলেন, ‘ছেলে হারিয়েছি, ছেলেকে তো আর কোনওদিন ফিরে পাবো না। কিন্তু বিচারটা দেখে যেতে পারলে মনে শান্তি পেতাম।’ তিনি বলেন, ‘আমরা কীভাবে দিনাতিপাত করছি আমাদের খোঁজ কেউ নেয় না।’ কান্নাজড়িতকণ্ঠে মোমিনের বোন মেহেরুন্নাহারও বলেন একই কথা। শহীদ সৈনিক জহিরুল ইসলামের স্ত্রী ফারজানা আফরিন বলেন, ‘আমরা শুধু হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। এর বেশি আমাদের কোনও চাওয়া নেই।’ নিহত কর্নেল কিবরিয়ার ছোট ভাই জাফর আহমেদ বলেন, ‘শহীদ পরিবারের সদস্য হিসেবে আমরা বাকরুদ্ধ। আমরা বছরের পর বছর কষ্ট বুকে নিয়ে আছি। আর যেন কোনও শৃঙ্খলা বাহিনীতে এমন কোনও ঘটনা না ঘটে। আমরা যেন এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দেখতে পাই, এই আমাদের প্রত্যাশা।’
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে বারবার কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন নিহত কর্নেল কুদরত-ই-এলাহীর বাবা হাবীবুর রহমান। বলেন, ‘আল্লাহর কাছে বিচার চাই। আমার সন্তান সম্পূর্ণ নিরপরাধ ছিল। সন্তান হারিয়ে আমাদের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। এত কষ্ট আর সহ্য করতে পারি না।’
এদিকে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, ‘পিলখানা ট্রাজেডির ঘটনায় পলাতকদের খুঁজে বের করার জন্য কাজ করে যাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। খুঁজে বের করে তাদেরও বিচারের আওতায় আনা হবে।’ পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক সেনা প্রধান মাহবুবুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের জন্য এটি দুঃখের একটি দিন। এই ঘটনার এখনো বিচার চলছে। কিন্তু ঘটনার রহস্য এখনো উন্মোচিত হয়নি। মূল পরিকল্পনাকারী বা নেপথ্য নায়ক কে? তারা কোথায়? তাদের খুঁজে বের করে এই ঘটনার ‘শ্বেতপত্র’ প্রকাশের দাবি জানান তিনি।
বিডিয়ার বিদ্রোহে বাধা দিতে গিয়ে প্রাণ হারানো সুবেদার মেজর নুরুল ইসলামের পরিবার গত আড়াই বছরেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত প্লটটি পায়নি বলে অভিযোগ করেছেন নিহতের স্ত্রী সন্তান। তাঁরা বলছেন, বিদ্রোহে নিহত শহীদ সেনা সদস্যদের পরিবারের সদস্যরা প্লট পেয়েছেন বহু আগেই। গত আড়াই বছর ধরে আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় নুরুলের পরিবারের জন্য বরাদ্দ প্লটের ফাইলটি বন্দি হয়ে আছে ‘লাল ফিতায়’। এমন পরিস্থিতে কবে নাগাদ তারা এই প্লট বুঝে পাবেন তাও নিশ্চিত করতে পারেনি সংশ্লিষ্টরা।
বিডিআর বিদ্রোহে নির্মমভাবে নিহত শহীদ নুরুলের ছেলে আশরাফুল আলম হান্নান জানান, বিডিআর বিদ্রোহে ৫৭ সেনা কর্মকর্তা ছাড়াও বিডিআরের বেশকিছু সদস্য মারা যায়। এর মধ্যে তারা বাবাই সেনা অফিসারদের নির্মমভাবে হত্যার আগে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। সেই কারণে ঘাতক বিডিআর সদস্যরা তাকে নির্মমভাবে হত্যা করে। বিদ্রোহে বাধা দিতে প্রাণ হারানোয় ৫৭ সেনা সদস্যের পাশপাশি তার বাবা সুবেদার মেজর নুরুল ইসলামকেও শহীদ হিসেবে স্বীকৃতি দেন সরকার। বিডিআর বিদ্রোহে শহীদ পরিবারের জন্য সরকার প্লট বরাদ্দের ঘোষণার পর ইতোমধ্যে সবাই প্লট পেয়ে গেছেন।
৫৭ সেনা কর্মকর্তার পরিবারকে যে প্লট দেওয়া হয়েছে ওই প্লটের জায়গা প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ছিলো। কিন্তু তার বাবা ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের আওতাধীন। তাই সেখানে প্লট দেওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় বর্তমান বিজিবিকে লিখিতভাবে জানানো হলে বিষয়টি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অবগত করা হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গণপূর্ণ মন্ত্রণালয়কে একটি চিঠি দেয়। গণপূর্ণ মন্ত্রণালয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রালয়ের চিঠির প্রেক্ষিতে রাজউক চেয়ারম্যান বরাবার নির্দেশনা দিয়ে প্লট ব্যবস্থার নির্দেশ দিয়ে আদেশ পাঠান। কিন্তু গত আড়াই বছরও প্লট পাওয়া যায়নি।
হান্নান জানান, তাদের পরিবারকে প্লট ও ফ্ল্যাট সুযোগ দেওয়ার জন্য তৎকালীন উপসচিব শাহরিয়ার (প্রশা-২) স্বাক্ষরিত একটি চিঠি রাজউক চেয়ারম্যান বরাবর পাঠানো হয়। যার স্মারক নং প্রঃ শাঃ৬/রাজ-১৬/২০১৩/৩০৭। ১২ জুন ২০১৪ সালে পাঠানো ওই চিঠিতি ফ্যাক্সযোগ রাউজক পায় ১৬ জুন ২০১৪ সালে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে ২০১৩ সালের ২৪ নভেম্বর পাওয়া ৪৪,০০,০০০০.১১৬.৩৬.০০১.১২/৪২৫ নম্বর স্মারকের কথা চিঠিতে সূত্র হিসেবে উল্লেখ করে প্লট ও ফ্ল্যাট বরাদ্দের জন্য নির্দেশ মোতাবেক অনুরোধ করা হয়। চিঠির পর আমি ১০ থেকে ১২ বার রাজউক চেয়ারম্যানের সাথে সাক্ষাৎ করি। কিন্তু এখনো কোনো সুফল হয়নি।
সূত্রমতে,২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টায় তার মেজর নুরুল ইসলাম নাস্তা না করেই বাসা থেকে বেরিয়ে পড়েন ডিজিকে রিসিভ করার জন্য। এরপর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পিলখানায় গোলাগুলির পর থেকে নুরুল ইসলামের মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়। কিছুক্ষণ পর তার ছোট মেয়ে নাসরীন আক্তার ইতি এসএম কোয়ার্টারের দ্বিতীয় তলার বাসা থেকে দেখতে পায় চার মুখোশধারী জোয়ান তার বাবাকে কাঁধে তুলে নিয়ে যাচ্ছে।
শহীদ সুবেদার মেজর মো. নুরুল ইসলামের স্ত্রী আয়েশা বেগম জানান, বিডিআর বিদ্রোহে ৫৭ সেনা কর্মকর্তা শহীদ হন। সেনাদের বাঁচাতে তার স্বামী বিডিআর জওয়ানদের ঠেকাতে গিয়ে প্রাণ হারান। তার স্বামী অত্যন্ত সৎ ছিলেন। কর্মজীবনে তিনি ৪ বার ডিজি পদক পেয়েছিলেন। সৎ ও অসাধারণ কৃতিত্বের জন্য সরকার তাকে পবিত্র হজব্রত পালন করায়। স্বামী শহীদ হওয়ার পর তার সব আশা ভেঙে যায়। ৪ সন্তানের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে সর্বদাই তিনি মানসিকভাবে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত থাকেন।
আয়েশা বেগম জানান, শহীদ ৫৮ জনের মধ্যে ৫৭ শহীদ সেনা কর্মকর্তা প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী ৪ কাঠার প্লট বরাদ্দ পান। কিন্তু এখনো বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি।qij

Saturday, February 25, 2017

মাহমুদুর রহমানের সেমিনারে পুলিশের বাধা

দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে সেমিনারে প্রবন্ধ উপস্থাপন করতে দেয়নি পুলিশ। প্রবন্ধ উপস্থাপনের আগেই পুলিশের বাধায় সেমিনার বন্ধ হয়ে যায়। আজ শনিবার গুলশানের একটি সেন্টারে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছিল।
‘সীমান্ত হত্যা রাষ্ট্রের দায়’ শীর্ষক এ সেমিনারের আয়োজক ছিল ‘জনগণতান্ত্রিক আন্দোলন’ নামের একটি সংগঠন। এতে উপস্থাপক ছিলেন বিশিষ্ট কলামিস্ট ফরহাদ মজহার। সেমিনার মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনের কথা ছিল মাহমুদুর রহমানের।
সকাল ১০ টায় সেমিনার শুরুর সাথে সাথে গুলশান থানা পুলিশের এক কর্মকর্তা অনুষ্ঠানে গিয়ে তা বন্ধ করতে বলেন। তিনি জানান, অনুমতি না থাকায় এ সেমিনার করতে দেয়া যাবে না। তাই তা বন্ধ করতে হবে।
এরপর সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে মাহমুদুর রহমান বলেন, আজকের ঘটনা প্রমাণ করে দেশ পুলিশি রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। কারণ কোনো ঘরোয়া অনুষ্ঠনে পূর্বানুমতির প্রয়োজন হয় তা কখনো শুনিনি।
পরে উপস্থাপক ফরহাদ মজহার সবার কাছে ক্ষমা চেয়ে সেমিনারের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

রাষ্ট্রীয় সফরে বাংলাদেশে আসছেন সউদী বাদশাহ সালমান

আওয়ার সাইট: সউদী আরবের বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সউদ রাষ্ট্রীয় সফরে বাংলাদেশে আসছেন। নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক বাংলাদেশে নিযুক্ত মধ্যপ্রাচ্যের একজন ক‚টনীতিক গতকাল বুধবার সউদী বাদশাহর বাংলাদেশ সফরের কথা জানিয়ে বলেন, তিনি চলতি ফেব্রæয়ারি মাসের শেষে অথবা আগামী মার্চ মাসের প্রথমভাগে বাংলাদেশ সফর করতে পারেন। তার এ সফরে দু’দেশের মধ্যে বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ এবং অন্যান্য খাতে সহযোগিতার দ্বার উন্মুক্ত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। আর সউদী বাদশাহর বাংলাদেশ সফরের পর সত্যিকারভাবেই বাংলাদেশ হয়ে উঠবে সউদী বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়ীদের জন্য সেকেন্ড হোম।
এ সম্পর্কে জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদ আলী গতকাল বলেন, সকলেই চান সউদী আরবের বাদশা বাংলাদেশ আসুন। সউদী আরবের বাদশা বাংলাদেশ সফরে আসলে সঠিক সময়ে জানানো হবে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাও জানান, সউদী আরবের বাদশাহ’র বাংলাদেশ সফর আমাদের দেশের জন্য একটি বড় সংবাদ। এ সফরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ অর্থনৈতিকসহ বিভিন্নভাবে লাভবান হবে। এখনি এ সফরের দিনক্ষণ বলা যাচ্ছে না। তবে কাজ চলছে। সুবিধাজনক সময়েই তিনি বাংলাদেশে আসবেন।
সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পরবর্তীত পরিস্থিতিতে পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে সউদী আরবের যে টানাপড়েন চলছে, সেই প্রেক্ষাপটে দেশটি বিনিয়োগ স্থানান্তরের বিষয়ে ভাবছে। এ ক্ষেত্রে দ্বিতীয় বৃহত্তম মুসলিম প্রধান রাষ্ট্র বাংলাদেশকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে দেশটি। এ ছাড়া সউদী আরবের নেতৃত্বে নিরাপত্তা সংক্রান্ত জোটে বাংলাদেশের সমর্থনের কারণেও দেশটির বিনিয়োগে আস্থা যোগাচ্ছে।
প্রসঙ্গত, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত বছরের জুন মাসে সউদী বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সউদের আমন্ত্রণে পাঁচ দিনের সরকারি সফরে সউদী আরবের জেদ্দা যান। সউদী বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সউদ সিংহাসনে আরোহণের পর এটাই ছিল বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রথম সউদী আরব সফর। ওই সফরকালেই সউদী বাদশাহকে বাংলাদেশ সফরের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়ে আসেন প্রধানমন্ত্রী। এর আগে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০০৯ সালের এপ্রিলে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা গ্রহণ করার পর তৎকালীন সউদী বাদশাহ আবদুল্লাহ বিন আবদুল আজিজের আমন্ত্রণে সউদী আরব সফর করেন। প্রধানমন্ত্রী ২০১৩ সালের নভেম্বরেও একবার ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সউদী আরব যান।
স্বাধীনতার পর থেকেই সউদী আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক সাহায্যকারী-সাহায্য গ্রহীতার। তবে সেই সম্পর্ক পাল্টে যায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গত বছরের জুনে রাজকীয় আমন্ত্রণে সউদী সফরের পর। তার সফরের পর বাংলাদেশকে এখন আর সউদী কর্তা ও ব্যবসায়ীরা সাহায্যপ্রার্থী দেশ হিসেবে দেখে নাÑ বাংলাদেশ এখন বিনিয়োগ হাব। দেশটির কাছে বাংলাদেশ এখন বিনিয়োগের লোভনীয় ও নিরাপদ গন্তব্য।
প্রধানমন্ত্রীর ২০১৬ সালের সউদী সফরকালে দেশটিতে বাংলাদেশের শ্রমবাজার স¤প্রসারণ, দ্বিপাক্ষিক ব্যবসা-বাণিজ্য, বিভিন্ন প্রকল্পে সউদী সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং হজ ব্যবস্থাপনার মতো বিষয়গুলো সউদী বাদশাহের সাথে দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় প্রাধান্য পায়। অন্য দিকে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে সাক্ষাতকালে সউদী বাদশাও বারবার পলিটিক্যাল, স্ট্যাট্রিক ও বৈশ্বিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় একসঙ্গে কাজ করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সউদী নেতৃত্বাধীন ইসলামিক জোটের বিষয়টিও উঠে আসে বৈঠকে। জোটে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে বাদশা বলেন, এতে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ সউদী আরব খুবই গুরুত্ব দেয়। এর ফলে দুই দেশের মধ্যে একটা সুন্দর সম্পর্কও তৈরি হবে।
সেই সফরের ফলে এবং সরকারের ব্যাপক ক‚টনৈতিক তৎপরতার ফলে বাংলাদেশের বিনিয়োগ বাজারে নতুন প্রতিযোগী হিসেবে চীন, ইউরোপীয় দেশসমূহ ও যুক্তরাষ্ট্রের সাথে যোগ দিয়েছে সউদী আরব। দেশটির শীর্ষ ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে সরকারি কর্তাব্যক্তিরা ঘন ঘন আসা-যাওয়া করছেন বিনিয়োগের প্রক্রিয়া করতে। এক প্রকার প্রতিযোগিতায় নেমে পড়েছে অন্য দেশগুলোর সঙ্গেÑ কত আগে বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে পারে তা নিয়ে। বন্ধুপ্রতিম দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের বর্তমানে যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে উঠেছে তাতে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে পাঁচ থেকে সাত বিলিয়ন ডলারের সউদী বিনিয়োগ আসার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। আর সউদী বাদশাহর আসন্ন বাংলাদেশ সফরের মধ্য দিয়েই এসব বিষয় আরো পূর্ণতা পাবে।
সউদী আরবের দ্বিতীয় বৃহত্তম কোম্পানি আল রাজি থেকে শুরু করে শীর্ষ ব্যবসায়ী গ্রæপ আল জামিল, আল বাওয়ানি, আল ফানারসহ অনেক প্রতিষ্ঠানের এখন বিনিয়োগ গন্তব্য বাংলাদেশ। কোম্পানিগুলোর কর্তাব্যক্তিরা নিয়মিত ঢাকা সফর করছেন, স্বাক্ষর করছেন একের পর এক সমঝোতা স্মারক। সউদী বিনিয়োগ আগ্রহে উৎফুল্ল বাংলাদেশ সরকারও। ইতোমধ্যে দেশটির বিনিয়োগকারীদের জন্য রিয়াদস্থ দূতাবাসের মাধ্যমে দু’টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল বরাদ্দের প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ। এর একটি চট্টগ্রামের মিরেরসরাইয়ে; অন্যটি গাজীপুরে। কোথায় অর্থনৈতিক অঞ্চল নেবে তা দেশটির কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করলেই স্বাক্ষর হবে সমঝোতা স্মারক।

ভীতির মধ্যেই ইসলাম গ্রহণের কথা জানালেন মার্কিন অভিনেতা আলী

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইসলামভীতির মধ্যেই ভরা মজলিসে সবাইকে জানিয়ে দিলেন ইসলামে ধর্মান্তরিত হওয়ার কথা মার্কিন অভিনেতা মাহেরশালা আলী। লস এঞ্জেলেসের ‘শ্রাইন’ মিলনায়তনে সেরা পার্শ্ব অভিনেতার পুরস্কার গ্রহণ অনুষ্ঠানে এ কথা সবাইকে জানিয়ে দেন যে ১৭ বছর আগে ইসলাম গ্রহণ করেছেন তিনি। সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত মুনলাইট চলচ্চিত্রে একজন মাদক বিক্রেতার চরিত্রে তার বিশেষ ভূমিকার জন্য তিনি সেরা পার্শ্ব অভিনেতার পুরস্কারের জন্য মনোনীত হন। পুরস্কার গ্রহণের সময় মাহেরশালা আলী বক্তৃতায় তার ইসলাম গ্রহণ এবং এ বিষয়ে তিনি ও তার মা কিভাবে পুনর্মিলিত হতে সক্ষম হন সে সম্পর্কে উপস্থিত দর্শকদের অবহিত করেন। তার এই কাহিনী বর্তমান মার্কিন রাজনৈতিক পরিবেশের একটি প্রতিফলন। আগামী চার মাস যুক্তরাষ্ট্রে শরণার্থী প্রবেশ নিষিদ্ধ করাসহ সাতটি মুসলিমপ্রধান দেশÑ ইরাক, ইরান, লিবিয়া, সোমালিয়া, সুদান, সিরিয়া ও ইয়েমেনের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ ঠেকাতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশের পরের দিন তিনি এ ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, আমার মা একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত পাদরি। রবিবার তিনি বলেন, আমি ১৭ বছর আগে ইসলামে ধর্মান্তরিত হয়েছি। আমি যখন মাকে আমার ইসলাম গ্রহণের কথা জানাই তখন তিনি আমাকে দূরে ঠেলে দেননি। আমি তাকে দেখতে সক্ষম হয়েছি এবং তিনিও আমার সঙ্গে দেখা করতে সক্ষম হয়েছেন। আমরা একে অপরকে ভালবাসি। আমাদের মা-ছেলের ভালবাসা আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। আলী তার প্রথম একাডেমি পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছিলেন ২৪ জানুয়ারি এবং তার ট্রফির জন্য তিনি ব্রিজেস, হেজেস এবং প্যাটেলের মতো অভিনেতাদের সঙ্গে লড়তে হয়েছে। ডেইলি নিউজ ডটকম।

সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণ থেকে গ্রীক দেবীর মূর্তি অপসারণ না করলে সর্বত্র আন্দোলন-মহাসচিব অধ্যক্ষ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ

স্টাফ রিপোর্টার : ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর মহাসচিব অধ্যক্ষ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ বলেছেন, ন্যায় বিচারের প্রতীক মাটি বা ধাতবের তৈরি মূর্তি হতে পারে না। কারণ, মূর্তির বাকশক্তি ও বোধশক্তি নেই। সৃষ্টিকর্তা ও তার নাজিলকৃত কুরআন হচ্ছে ন্যায় বিচারের প্রতীক। আল্লাহ ন্যায় বিচারের সব পদ্ধতি পবিত্র কুরআনে লিপিবদ্ধ করেছেন। আর আল্লাহর রাসূল (সা.) তা পরিপূর্ণ বাস্তবায়ন করেছেন। এজন্যই তিনি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ন্যায় বিচারকরূপে প্রতিষ্ঠিত। তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে গ্রীক দেবি থেমিসের মূর্তি স্থাপন করে দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমান জনগোষ্ঠীর ঈমানে চরমভাবে আঘাত হানা হয়েছে। মূর্তি নির্মাণ, সংরক্ষণ ও সম্মান করা হারাম। রাসূল (সা.) বলেছেন, আমি আবির্ভূত হয়েছি মূর্তি ও বাদ্যযন্ত্র ধ্বংসের জন্য। কাজেই সর্বোচ্চ বিচারালয়ে গ্রীক দেবির মূর্তি স্থাপনের ফলে দেশের বৃহত্তর ধর্মীয় জনগোষ্ঠীর ধর্মানুভূতিতে আঘাত করা হয়েছে। ফলে দেশব্যাপী ব্যাপক প্রতিবাদ ও বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠছে।
গতকাল বুধবার সকাল ১০টায় রাজধানীর বায়তুল মোকাররম উত্তর গেইটে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণ থেকে গ্রীক দেবির মূর্তি অপসারণের দাবিতে প্রধান বিচারপতি বরাবর স্মারকলিপি পেশ-পূর্ব জমায়েতে সভাপতির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। জমায়েতে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের রাজনৈতিক উপদেষ্টা অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন, দক্ষিণ সভাপতি মাওলানা ইমতিয়াজ আলম, কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক মাওলানা আহমদ আবদুল কাইয়ূম, মাওলানা লোকমান হোসাইন জাফরী, মাওলানা আতাউর রহমান আরেফী, ছাত্রনেতা জিএম রুহুল আমীন, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাশেম, দক্ষিণ সহ-সভাপতি আলহাজ্ব আব্দুর রহমান, আলহাজ্ব আলতাফ হোসেন, মাওলানা এবিএম জাকারিয়া, মাওলানা শেখ নূরউন নাবী, প্রকৌশলী গিয়াস উদ্দিন পরশ, মাওলানা নাযীর আহমদ শিবলী, নকীভ বিন হুসাইন, আলহাজ্ব ফরিদ দেওয়ান, ছাত্রনেতা সাইফ মুহাম্মদ সালমান, কেএম শরীফুল ইসলাম, এহতেশামুল হক পাঠান প্রমুখ।
মাওলানা ইউনুছ আহমাদ বলেন, সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে যেখানে গ্রীক দেবির মূর্তিটি স্থাপন করা হয়েছে এর পাশেই রয়েছে জাতীয় ঈদগাহ। এর পাশেই বসানো হয়েছে মূর্তি। সালাম ফিরালেই তা দেখা যায়। এটা মানা যায় না। জাতীয় ঈদগাহ’র পাশে মূর্তি স্থাপন করায় দেশব্যাপী মুসলিম জনতা ক্ষুব্ধ হয়ে উঠছে। সর্বোচ্চ আদালতের অভিভাবক হিসেবে প্রধান বিচারপতি কিছুতেই এর দায় এড়াতে পারেন না। তারা বলেন, অনতিবিলম্বে মূর্তি অপসারণ না করলে দেশে গণআন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
উল্লেখ্য, সকাল ১১.৩০ মিনিটে একটি বিশাল মিছিল প্রধান বিচারপতির উদ্দেশে রওয়ানা দিয়ে পল্টন মোড় পৌঁছলে পুলিশ মিছিলের গতিরোধ করে দেয়। মিছিল ঠেকাতে পানিকামান, রায়ট কারসহ রণসজ্জিত ছিল পল্টন এলাকা। এসময় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়। সেখান থেকে একটি ৫ সদস্যের প্রতিনিধি দল প্রধান বিচারপতির বরাবর স্মারকলিপি পেশ করেন। সংগঠনের মহাসচিব অধ্যক্ষ মাওলানা ইউনুছ আহমাদের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলে ছিলেন রাজনৈতিক উপদেষ্টা অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন, দক্ষিণ সভাপতি মাওলানা ইমতিয়াজ আলম, শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক আলহাজ্ব আব্দুর রহমান, ছাত্রনেতা জিএম রুহুল আমীন প্রমুখ। প্রধান বিচারপতির পক্ষে একান্ত সচিব আতিকুস সামাদ স্মারকলিপি গ্রহণ করেন।

'শহীদ মিনার নেই মাদ্রাসায়' এই নিয়ে 'কালের কণ্ঠের' চেতনা ব্যবসা এবং আমার কিছু কথা।


আলি আজম


আচ্ছা বায়ান্নতে যারা 'রাষ্ট্রভাষা বাঙলা চাই' বলে রাজপথে স্লোগান তুলেছিলেন তারা ধর্ম পরিচয়ে কি মুসলিম ছিলেন, নাকি অমুসলিম? সালাম, রফীক, জাব্বার, বরকতদের কেউতো অমুসলিম ছিলেন বলে মনে হয় না। আর মুসলিমরাতো কখনো কোনো প্রাণহীন ভাস্কর্য, স্মৃতিস্তম্ভ, কিংবা মিনারকে শ্রদ্ধা জানাতে পারেন না। মূর্তিকে শ্রদ্ধা প্রদর্শন করা ইসলামতো সমর্থন করে না। সেদিন যারা মায়ের ভাষাকে পূর্ণ মর্যাদা দিতে নিজেদের জীবন বিলিয়ে দিয়েছিলেন তাদের কেউ কি বলে গিয়েছিলেন যে, তোমরা ভাষার জন্য আমাদের আত্মত্যাগ, অবদান আর ইতিহাসকে পরবর্তী প্রজন্ম পর্যন্ত পৌঁছে দিতে স্মৃতিস্তম্ভ বানিয়ে তার প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করবে!?

.

জাতির গর্বিত সন্তান ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগের কথা যুগযুগ পর্যন্ত স্মরণ রাখতে স্মৃতিসৌধ তৈরি করার এই প্রবণতা আসলো কোত্থেকে? তাতে তাদের আত্মা শান্তি লাভ করবে এমনটা ভাবাও বোকামি নয় কি? আর ইতিহাস স্মরণ রাখার জন্য কি স্মৃতিসৌধের প্রয়োজন আছে? কই! ইসলামের ইতিহাসের ছোটবড়ো জিহাদগুলোতে অকাতরে জীবন বিলিয়ে দেওয়া অসংখ্য প্রকৃত শহীদ সাহাবীদের স্মৃতি স্মরণ রাখার জন্যতো কোনো ভাস্কর্য, স্মৃতিসৌধ তৈরির প্রয়োজন পড়েনি! শতশত বছর পূর্বে বদর, উহুদ, খায়বারে দ্বীনের জন্য জীবন বিলিয়ে দেওয়া শহীদদের স্মৃতিসৌধ তো পৃথিবীর কোথাও নেই। তারপরেও কি মুসলিমরা সেই বীর শহীদদের বীরত্বের কথা ভুলে গেছে?!

.

মুসলিম জাতির সেইসমস্ত বীর সেনানীদের কৃতিত্বপূর্ণ ইতিহাস আজ-অবধি গোটা পৃথিবী জানে। চৌদ্দশত বছর পূর্বের সাহাবীদের বীরত্বপূর্ণ সেই ইতিহাস, আত্মত্যাগ, আজও মুসলিমদের ঘুমন্ত চেতনাকে জাগ্রত করে তোলে বিধায় কুফফার শক্তি প্রতিনিয়ত নববী-সাহাবীদের সেই ঈমানী চেতনাবোধ দুনিয়া থেকে মুছে দিতে রাতদিন কোশেশ করে যাচ্ছে। অথচ ইসলামের ইতিহাসের সেইসমস্ত বীর শহীদদের কোনো ভাস্কর্য, মূর্তি, স্মৃতিস্তম্ভ, স্মৃতিসৌধ, পৃথিবীর কোথাওতো নেই। তারপরেও মুসলমান তাদের আত্মত্যাগের কথা ভুলে যায়নি। রাসূল (স:) এর কোন প্রতিকৃতি পৃথিবীর কোথাও নেই। তার বাদেও কি আজ কোটি-কোটি মুসলিম তার উপর প্রতিনিয়ত শান্তির দরূদ পড়ে না?!

.

-তাহলে এসব কেনো করা হচ্ছে? আচ্ছা বুঝলাম তাদের আত্মত্যাগের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনের জন্যই শহীদ মিনার কিংবা স্মৃতিস্তম্ভের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করা হচ্ছে। শহীদ মিনার তৈরি করা হচ্ছে। তবে এভাবে সারাজীবনও যদি স্মৃতিস্তম্ভের সামনে দাঁড়িয়ে ভাষা শহীদদের আত্মার শান্তির জন্য নীরবতা পালন করা হয় এর মাধ্যমে ভাষা শহীদরা কি কোনোপ্রকার শান্তি লাভ করবে?! অসম্ভব। উলটো আরো তারা আমাদের প্রতি আখেরি দিবসে মওলার দরবারে অভিযোগ তোলবে যে, তারা আমাদের ভাষার জন্য নিজের জীবন বিলিয়ে দিয়েছিলেন, অথচ আমরা তাদের আত্মার শান্তির জন্য কিছুই করিনি। উলটো তাদের প্রতি শ্রদ্ধা, ভালবাসা প্রদর্শনের নামে গানবাজনা আর অপসংস্কৃতির সয়লাব ঘটিয়েছি।

.

যদি সত্যিই আপনাদের মধ্যে দেশপ্রেম, মাতৃভাষাপ্রেম বেশি থাকে, তাহলে স্মৃতিস্তম্ভে ফুল না দিয়ে শহীদদের আত্মার শান্তির জন্য গরীব-দুখীদের বেশি করে ভালো করে খাবার খাওয়ান। কারণ, ফুল কবরবাসীর কোনো উপকার করতে পারে না । কিন্তু গরীবদের খানা খাওয়ালে নিঃসন্দেহে সওয়াব হবে, যা কবরে কাজে লাগবে । শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের নামে কবরে ফুল দেওয়া, নীরবতা পালন করা সম্পূর্ন বিধর্মীদের কালচার। যা মুসলমানদের শোভা পায় না। এরধারা শহীদদের কোনো উপকারও হয় না। শহীদদের আত্মার শান্তির জন্য দুইরাকা'ত নামাজ পড়ুন। তাদের জন্য কোরআন খতম করুন। তাদের কবর জিয়ারত করুন। এটাই হচ্ছে আমাদের প্রতি তাদের চাওয়া-পাওয়া। আমরা তাদের জন্য তাই করে যাচ্ছি।

.

শুনে রাখো ভিনদেশী গোলাম, চর, ত্বাগুতের ভাড়াটিয়া মিডিয়া 'কালের কণ্ঠ', হুজুর কিংবা মাদ্রাসাওয়ালারা তো ২১শের পবিত্র চেতনা নিয়ে নোংরা রাজনীতি করে না। তাই লৌকিকতা তাদের মধ্যে থাকবে না সেই তো স্বাভাবিক। মাদ্রাসাগুলোতে ২১শে ফেব্রুয়ারী, ২৬শে মার্চ, ১৫আগস্ট, ১৬ই ডিসেম্বর এই বিশেষ দিনগুলোতে কুরআন খতম করে শহীদের আত্মার শান্তির জন্য বিশেষভাবে দোয়া করা হয়। এই খবর রাম-বাম বিকৃত চেতনার শেখরভোলা সুবিধাবোগী মিডিয়া রাখবে না সেও স্বাভাবিক! ওরা খবর রাখবে, কোন নায়িকার কখন ঋতুশ্রাব হলো, কখন শেষ হলো! সাকিবের মেয়ে কখন হাগু করল,কখন পেশাব করল! যত্তসব কানা মিডিয়া! আমরা যা করি নিঃস্বার্থ করি। কাউকে দেখানোর জন্য নয়।

লেখক আলি আজম

আবার ফিরে এলো শোকাবহ ও ভয়াবহ সেই ২৫ ফেব্রুয়ারি


উমর ফারুক আলহাদী : আবার ফিরে এলো শোকাবহ ও ভয়াবহ সেই ২৫ ফেব্রুয়ারি। যা বাংলাদেশের ইতিহাসের এক কলঙ্কময় দিন। দেশের ইতিহাসে জঘন্যতম এ কালো দিনটিকে পিলখানা ট্রাজেডি হিসাবেও দেখে থাকেন অনেকেই। ২০০৯ সালের এই দিন ঢাকার পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহের নাটক মঞ্চস্থ করে বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার অতন্দ্র প্রহরী দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীকে ধ্বংস করে বাংলাদেশকে একটি অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত করার চক্রান্ত শুরু হয়েছিল। কিন্তু সরকার তা রুখে দিয়ে দেশকে রক্ষা করতে পারলেও প্রাণ দিতে হয়েছে ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাকে। ষড়যন্ত্রকারীদের ষড়যন্ত্রে বাংলাদেশের দীর্ঘ প্রায় ২০০ বছরের ঐতিহাসিক বিডিআরের চেতনাকে ধ্বংস করেছে। ১৯৭১’র মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় ২৩ মার্চ যে বাহিনী প্রথম স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেছিল সেই বাহিনীকে করেছে কলংকিত। শুধু বাংলাদেশ নয়, পৃথিবীর ইতিহাসে এতজন সেনাকর্মকর্তাকে হত্যা করার ঘটনা বিরল। এ নারকীয় হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে ২৫ ফেব্রুয়ারী পিলখানায়। তবে সরকার বিডিআর বিদ্রোহের ওই ঘটনাটিকে ‘পিলখানা হত্যা দিবস’ হিসেবে প্রতি বছর পালন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং তা পালন করছে। দিবসটি পালন উপলক্ষে সরকারের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে বিভিন্ন কর্মসূচি। স্বজন হারানোর বেদনা এবং সেই দুর্বিষহ যন্ত্রণার স্মৃতি বুকে ধারণ করে আজো নিহত সেনা কর্মকর্তাদের পরিবারগুলো কেঁদে বেড়াছেন। নিহতদের স্ত্রী সন্তানেরা বয়ে বেড়াচ্ছেন চিরতরে হারিয়ে যাওয়া প্রিয় মানুষটির স্মৃতি। তাঁদের হৃদয়ের রক্ত ক্ষরণ আজো বন্ধ হয়নি। পিতা হারা সন্তান আজো ঘুমের ভেতর কান্নায় ভেঙে পড়েন। নিহত সেনা কর্মকর্তাদের পরিবারের কয়েকজন সদস্যের সাথে কথা বলেন এমনটি জানা গেছে। ২০০৯ সালের এই দিনে রাজধানীর পিলখানায় বিজিবি সদর দফতরের ভেতরে এক লোমহর্ষক মর্মান্তিক ঘটনায় ৫৭ জন মেধাবী সেনা কর্মকর্তার প্রাণ হারান। পিলখানায় পরিণত হয় এক রক্তাক্ত ভয়ানক হত্যাকান্ডে। ওই নারকীয় হত্যাকান্ডের ঘটনার পর পিলখানা থেকে আবিষ্কৃত হয় গণকবর। গণকবর থেকে উদ্ধার করা হয় সেনা কর্মকর্তাদের লাশ।

২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি সকাল ৯ টা ২৭ মিনিট। দরবার হলে চলমান বার্ষিক দরবারে একদল বিদ্রোহী বিডিআর সৈনিক ঢুকে মহাপরিচালকের বুকে আগ্নেয়াস্ত্র তাক করেন। বিডিআরের বিদ্রোহী সৈনিকরা আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং সেনা কর্মকর্তাদের হত্যা করে। এখানেই ঘটনার শেষ নয়, তাদের পরিবারকে জিম্মি করে ফেলেন। চারটি প্রবেশ গেটেই নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আশেপাশের এলাকায় গুলি ছুঁড়তে থাকে। জন্ম নেয় এক বীভৎস ও আতঙ্কে সেদিন গুলির শব্দ আর রক্তের বন্যা বয়ে যায় ওই ঘটনায়। বিদ্রোহের এ ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় বিশেষ আদালত ১৫২ জনকে ফাঁসি, ১৬১ জনের যাবজ্জীবন কারাদন্ড ও ২৬৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা প্রদান করেন। ২৭১ জনকে খালাস দেয়া হয়েছে। কিন্তু ভয়ঙ্কর দিনটির কথা আজো ভুলতে পারেননি নিহতদের স্বজনসহ দেশবাসী। ওই ঘটনায় ৫৭ জন মেধাবী সেনা কর্মকর্তা ছাড়াও একজন সৈনিক, দুইজন সেনা কর্মকর্তার স্ত্রী, ৯ জন বিডিআর সদস্য ও ৫ জন বেসামরিক ব্যক্তি প্রাণ হারাণ। পিলখানায় এ বিদ্রোহের ঘটনায় বিডিআরের সাংগঠনিক কাঠামো ভেঙে যায়। শুরু হয় বিডিআরকে পুনর্গঠনের কাজ। বিডিআরের নাম, পোশাক, লোগো, সাংগঠনিক কাঠামো, পদোন্নতি ইত্যাদি ব্যাপার পুনর্গঠন করে নতুন নামে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) জন্ম হয়।

এদিকে গতকালও প্রতিবছরের মতো এবারো মেজর মো. মিজানুর রহমানের কবরের সামনে বসে অঝোর ধারায় কাঁদলেন সত্তর ছুঁই ছুঁই কোহিনূর বেগম ও বাবা আবদুল খালেক। নাতি ফারদিন রহমান সামীর কাঁধে হাত রেখে বিলাপ করে বলে যাচ্ছিলেন, তোমার ছেলেদের আমি আঁকড়ে ধরে আছি বাবা। যতদিন বাঁচি আমি দেখব। তোমাকে দেখতে বড় বেশি ইচ্ছে করে। তিনি জানান, মিজানুরের স্ত্রী রোজী পিলখানা হত্যাকান্ডের ৮ মাস আগে মারা গেছেন। ২ ছেলে-তাহসীন রহমান রামী ও ফারদিন রহমান সামী ছিল মিজানুরের বাঁচার একমাত্র অবলম্বন। কিন্তু তিনিও অকালে চলে গেলেন। পিতার কথা স্মরণ হলেই সামী ও রামী আজো বনানী কবরস্থানে ছুটে যান। তাদের চোখের পানি দেখে প্রতিবেশীরা চোখের পানি ধরে রাখতে পারেন না।

নিহত মেজর মোহাম্মদ মমিনুল ইসলাম সরদারের বৃদ্ধ বাবা মফিজুল ইসলাম সরকার। তিনি বলেন, রাতে আমি ঘুমাতে পারি না। ছেলের মেধা ও বুদ্ধিমত্তা নিয়ে মফিজুল ইসলাম সরকার চোখ মুছতে মুছতে বলেন, আমার ছেলে ছোটবেলা থেকেই মেধাবী ছিল। সেনাবাহিনীতে সবাই তাকে ডিকশনারি মমিন বলে ডাকত। এই নামেই একবারে সবাই চিনত। অক্সফোর্ড ডিকশনারি তার মুখস্থ ছিল। কেউ কোনো কিছু জানতে চাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে উত্তর দিয়ে দিত। আমার ছেলে অনেক ভালো মানুষ ছিল।

নিহত মেজর মমিনুলের বড় বোন নুরজাহার চৌধুরী জানান, মমিনুল ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন ব্যাচমেট সানজানা সরকার সোনিয়াকে। তাদের এক কন্যা সন্তান রয়েছে। মমিনুলের মৃত্যুর পর সরকারের সব ধরনের আর্থিক সহায়তা পায় সোনিয়া ও তার মেয়ে সাদাকাত। বাবা-মা কোনো সহযোগিতা পায়নি। ছোট ভাইয়ের স্মৃতি আউড়ে নুরজাহান জানান, খাগড়াছড়িতে মমিনুলের পোস্টিং ছিল। সে ছিল একজন কমান্ডো। ফেব্রুয়ারি মাসের ৬ তারিখ তাকে পিলখানায় বদলি করা হয়। বিডিআর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদের সঙ্গেই থাকতে হতো। ঘটনার দিনেও দরবারে তার সঙ্গে ছিল। আমরা পরে জানতে পেরেছি, শাকিল আহমেদের সঙ্গেই তাকে হত্যা করা হয়।

এদিকে এ দিনটি উপলক্ষে গতকাল জুম্মাবার পিলখানায় নিহত বিডিআর (বর্তমানে বিজিবি) সদস্যদের স্মরণে দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. মোহসিন রেজা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছেন। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ২৫ ফেব্রুয়ারি শহীদ ব্যক্তিবর্গের রুহের মাগফিরাতের উদ্দেশ্যে বিজিবির সব রিজিয়ন, সেক্টর, প্রতিষ্ঠান ও ইউনিটের ব্যবস্থাপনায় বাদ ফজর খতমে কোরআন এবং বিওপি পর্যায়ে দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হবে।

শনিবার সকাল ৯ টায় বনানী সামরিক কবরস্থানে নিহত সেনা কর্মকর্তাদের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হবে। প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর প্রতিনিধি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, তিন বাহিনীর প্রধান, স্বরাষ্ট্র সচিব এবং বিজিবি মহাপরিচালক শহীদদের স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। এছাড়া শহীদদের স্মরণে আজ বাদ আসর পিলখানার বীর উত্তম ফজলুর রহমান খন্দকার মিলনায়তনে মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।

www.dailyinqilab.com/article/66321/স্বজনদের-চোখের-পানি-থামেনি-এখনো