Latest Post

কওমীর স্বীকৃতি ও দেবিমূর্তি বিরোধী বক্তব্য আর রাজনৈতিক স্বার্থের ভেল্কিবাজি: মুহাম্মাদ মামুনুল হক

ঢাকা ১৩ই এপ্রিল'১৭ আজকের প্রথম আলোর প্রথম পাতায় প্রধান শিরোনাম দেখে মনে পড়ছে দুই হাজার ছয়ের কথা ৷ যখন হযরত শায়খুল হাদীস রহঃএর দলের...

Showing posts with label ইসলামী বিশ্ব. Show all posts
Showing posts with label ইসলামী বিশ্ব. Show all posts

Tuesday, April 11, 2017

কওমী সনদের স্বীকৃতি: যেমন চেয়েছিলেন শায়খুল হাদীস রাহিমাহুল্লাহ


মুহাম্মাদ মামুনুল হক:

কওমী মাদরাসা সনদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির বিষয়টি বর্তমানে বহুল আলোচিত ৷ অন এবং অফ উভয় লাইনেই বিতর্ক তুঙ্গে উঠছে এবিষয়ক নানা প্রসঙ্গ নিয়ে ৷ আমার মরহুম ওয়ালেদ হযরত শায়খুল হাদীস রাহিমাহুল্লাহর নাম ও তাঁর স্বীকৃতির আন্দোলনের কথাও উঠে আসছে অনেকের আলোচনায় ৷ নিঃসন্দেহে কওমীর স্বীকৃতির সঙ্গে শায়খুল হাদীস (রহঃ) এর নাম জড়িয়ে আছে ওতপ্রোতভাবে ৷ সুতরাং তাঁর নাম এ প্রসঙ্গে আলোচিত হওয়া খুবই স্বাভাবিক ৷ তবে অবশ্যই তা হওয়া চাই বাস্তবতার আলোকে ৷
হযরত শায়খুল হাদীস রাহিমাহুল্লাহর প্রত্যক্ষ নেতৃত্বে কওমী সনদের স্বীকৃতির দাবিতে রাজনৈতিক-অরাজনৈতিক নানামুখী তৎপরতার পাশাপাশি বৃহত দুটি আন্দোলন পরিচালিত হয়েছে ৷ ২০০৫সালে ছাত্র কনভেনশন শিরোনামে ছাত্রআন্দোলন এবং ২০০৬এ মহা-সমাবেশ ও মুক্তাঙ্গণে পাঁচ দিনের অবস্থান কর্মসূচী ৷ আল্লাহর রহমতে দুটি আন্দোলনেরই একজন সংগঠক হিসাবে বিশেষ ভূমিকা পালনের সুযোগ আমার হয়েছে ৷ আর সেই সুবাদে সম্যক অবগত রয়েছি এর প্রকৃতি ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে ৷
পল্টন ময়দানের ছাত্র কনভেনশনে হযরত শায়খুল হাদীস রহাহিমাহুল্লাহ খুবই আবেগঘন বক্তব্য রেখেছিলেন ৷ সে বক্তব্যের মূল কথা ছিল-
"জোট সরকার যদি মনে করে তাদের ক্ষমতায় আসার পিছনে আমার বিন্দুমাত্র ভূমিকা আছে তাহলে তারা যেন আমাকে আমার ছাত্রজনতার সম্মুখে লজ্জিত না করে এই শিক্ষার স্বীকৃতির ব্যবস্থা করে" ৷
আমরা জানতাম, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম জিয়া ব্যক্তিগতভাবেও হযরত শায়খুলহাদীসকে বিশেষ সন্মান ও সমীহ করতেন ৷ সরকার ও প্রশাসনে তাঁর বিশেষ এক মর্যাদা ছিল ৷ পল্টনের ঐ বক্তব্যে সরকারের মধ্যে আলোড়ন তৈরি হয় এবং কওমী স্বীকৃতির দাবি আদায়ের প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে মর্মে আভাস আসতে থাকে ৷ এমন প্রেক্ষিতে প্রথম বারের মত আলোচনার বিষয় হয়ে দাড়ায় "স্বীকৃতি কীভাবে বাস্তবায়িত হবে"? ৷ এ পর্যায়ে বলে রাখা ভালো, তখনো বাংলাদেশের শীর্ষ পর্যায়ের কিছু বুযুর্গ ওলামায়ে কেরাম কওমী স্বীকৃতির ঘোর বিরোধী ছিলেন এবং অহরহ স্বীকৃতির বিরুদ্ধে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করতেন ৷
কওমী শিক্ষার স্বীকৃতির সম্ভাবনা দেখা দেয়ায় তা বাস্তবায়নের রূপরেখা নিয়ে চিন্তা-ভাবনা শুরু হয় ৷ এপর্যায়ে বেফাকুল মাদারিসের উদ্যোগ ও ভূমিকা ছিল একক ও অনন্য উচ্চতায় ৷ এমন সময় শুরু হয় দুর্যোগের ঘনঘটা ৷ বাতাসে ভাসতে শুরু করে একটি নাম ৷ ইসলামী ব্যংক বাংলাদেশের শরীয়া কাউন্সিলের তৎকালীন সেক্রেটারি জেনারেল "ম" অদ্যাক্ষরের জামাত ঘরানার এক ব্যক্তি তিনি ৷ তার সহায়তা ও তার পেছনের মদদদাতাদের আনুকুল্যে বেফাকুল মাদারিসের প্রতিদ্বন্দি হিসাবে কৃত্রিম উপায়ে তৈরি হয় আরো কিছু পক্ষ ৷ উত্তরবঙ্গের মিযান জামাতের পরীক্ষার আয়োজক "তানযীমুল মাদারিস" নামক আঞ্চলিক বোর্ডটি রাতারাতি দাওরা পর্যন্ত উন্নীত হয়ে যায় ৷ স্মর্তব্য যে, আমি ১৯৯৬ থেকে ২০০০সাল পর্যন্ত উত্তরবঙ্গের শীর্ষস্থানীয় এক মাদরাসায় শিক্ষকতার সুবাদে তানযীমুল মাদারিস বোর্ডের হাকীকতেহাল সম্পর্কে সম্যক অবগত ৷ এহেন স্ফীত বোর্ড তানযীমের নেতৃত্বে অন্যান্য বিক্ষিপ্ত বোর্ডগুলোকে একত্রিত করে দাড় করানো হয় বেফাকের বিকল্প ও প্রতিদ্বন্দি হিসাবে ৷ অথচ তখনো উত্তরবঙ্গের তানযীম আর গওহরডাঙ্গার বোর্ড বেফাকের আওতাধীন বোর্ড হিসাবে কর্মরত এবং দাওরায়ে হাদীসের পরীক্ষা বেফাকের অধীনেই চলমান ছিল ৷ আর পটিয়ার ইত্তেহাদ বোর্ড তো বেফাকের জন্মের পরপরই এর অধীন ছিল ও দাওরার পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে সুদীর্ঘকাল ৷
বেফাকুল মাদারিসের জন্মই হয়েছিল অন্যান্য বোর্ডগুলোর সহায়তায় একমাত্র জাতীয় বোর্ড হিসাবে ৷ দীর্ঘকাল স্বয়ংসম্পূর্ণ থাকার পর হাটহাজারী ও লালবাগ মাদরাসার মত বড় বড় মাদরাসাগুলোও যখন বেফাকে যোগ দিল তখন তো বেফাকের সার্বজনীনতা অারো বেড়ে গেল ৷ বহু আঞ্চলিক বোর্ড বেফাকের সাথে সমন্বিত হয়ে বাংলাদেশ ব্যপি মাদারিসে কওমিয়ার একক প্লাটফর্ম গড়ে ওঠার অপার সম্ভাবনা দোরগোরায় ছিল ৷ স্বীকৃতির প্রসঙ্গ বিষয়টিকে আরো তরান্বিত করছিল ৷ রাজনৈতিকভাবে শতধা বিভক্ত বাংলাদেশের ইসলামী অঙ্গণ অন্তত মাদারিস কেন্দ্রিক একটি মযবুত ঐক্যের ভিত তৈরির দ্বারপ্রান্তে ছিল ৷ এমন সময় সর্বনাশা ষড়য়ন্ত্রের অণলে কপাল পুড়ল ইসলামী জনতার ৷ স্বীকৃতির লোভ দেখিয়ে ঐক্যবদ্ধ বেফাক থেকে ভাগিয়ে নেয়া হল আত্নপ্রবঞ্চিত কিছু সরলপ্রাণ বুযুর্গকে ৷
হযরত শায়খুল হাদীস রাহিমাহুল্লাহকে বে-চায়ন, বে-কারার করে তুলল অপার সম্ভাবনার এহেন মৃত্যুশংকা আর কওমীর শত্রুদের এই ছিনিমিনি খেলবার তামাশা ৷ তিনি অনুভব করলেন, স্বীকৃতি বাস্তবায়নের আগেই যদি শুরু হয় এমন নোংরা প্রতিযোগিতা তাহলে পরবর্তিতে পরিণাম কী হতে পারে! বিশেষ করে যদি দুর্বল অবকাঠামোর উপর সরকারী স্বীকৃতি বাস্তবায়িত হয় তাহলে সরকার নাকে দড়ি বেধে ঘোরাবে কওমী মহলকে ৷ তাই তিনি অনৈক্যের ঘোর বিরোধিতা আর ঐক্যবদ্ধভাবে স্বীকৃতি আদায়ের পথে সংগ্রামে নিবেদিত রইলেন ৷ এমন প্রেক্ষিত থেকেই পালিত হয়েছিল শায়খুল হাদীস রাহিমাহুল্লাহর ঐতিহাসিক অবস্থান কর্মসূচী ৷ পরিকল্পনা ছিল শায়খুল হাদীসের এই কর্মসূচীতে হাটহাজারীর হযরতও সংহতি প্রকাশ করবেন ৷ তাঁকেও এখানে নিয়ে আসা হবে ৷ কিন্তু রাজনীতির দৌড়ে শায়খুল হাদীসের প্রতিদ্বন্দিরা বাগড়া বাধিয়ে বাঞ্চাল করে দিল সেই পরিকল্পনা ৷
সে যাই হোক, শায়খুল হাদীস রাহিমাহুল্লাহর এ কর্মসূচীর উদ্দেশ্য ছিল, বিচ্ছিন্নভাবে নয় বরং ঐক্যবদ্ধভাবে স্বীকৃতি আদায় করা ৷
আজও আমাদের বক্তব্য পরিস্কার ৷ আমরা স্বীকৃতি চাই ঐক্যবদ্ধভাবে ৷ তার সহজ উপায় তো এটাই যে, বেফাকের বাইরের শীর্ষ ব্যক্তিত্বদেরকে বেফাকে অন্তর্ভুক্ত করা হোক ৷ যেমনটা মরহুম খতীব উবায়দুল হক রাহিমাহুল্লাহর উদ্যোগে হয়েছিল ৷ গওহরডাঙ্গার মুফতী রূহুল আমীন হাফিজাহুল্লাহকে মহাসচিব আর অন্য বোর্ডগুলোর প্রতিনিধি নিয়োগ করে সমন্বয় করেছিলেন তিনি ৷ নিজেরা ঘরে বসে আগে প্লাটফর্ম মজবুত করুন ৷ তারপর সরকারের সাথে দেনদরবার শুরু করুন ৷ যদি সম্মিলিতভাবে বেফাক ছাড়া অন্য কোনো নামে অন্য কোনোভাবে কাজ করা যায় তাতেও আমাদের আপত্তি নেই ৷ কোনো প্রতিষ্ঠানের ব্যক্তিবিশেষের ব্যপারে অভিযোগ অনাস্থা থাকতেই পারে, কিন্তু তাই বলে বিচ্ছিন্নতাকে অন্তত এই জায়গাটায় মেনে নেয়া যায় না ৷ যদি দুর্ভাগা বাংলাদেশী মুসলমানদের কপালে শতভাগ ঐক্যবদ্ধ প্লাটফর্ম নাই থাকে তাহলে মন্দের ভালো হিসাবে অন্তত আশিভাগ ঐক্যবদ্ধ প্লাটফর্ম নিজস্ব বুনিয়াদের উপর কায়েম বাংলাদেশে কওমী মাদরাসার একমাত্র জাতীয় বোর্ড বেফাকুল মাদারিসই হোক আস্থার শেষ ঠিকানা ৷ এটাই ছিল হযরত শায়খুল হাদীস রাহিমাহুল্লাহর চেতনা ৷
এখানে অবান্তরভাবে আওয়ামীলীগ বিএনপির প্রশ্ন উত্থাপনকে পানি ঘোলা করার আরেকটি অপপ্রয়াস বলে মনে হয় ৷ যে কোনো সরকারের সাথে সুসম্পর্ক রাখা যেতেই পারে ৷ লেয়াঁজো করলেও ভালো কথা ৷ কিন্তু সরকারের এজেণ্ডা বাস্তবায়নের হাতিয়ার হতে চাইলে বা হয়ে গেলে সেটা মেনে নেয়ার কোনো সুযোগ নেই ৷ অনুকম্পা ভোগ করে কখনো অধিকার আদায় করা যায় না ৷

Monday, April 10, 2017

গোল্ডেন রেশিও এবং কা‘বা শরীফ পৃথিবীর নাভি কি না- এ প্রসঙ্গ

মাওলানা মুহাম্মাদ হেমায়েত উদ্দীন

“গোল্ডেন রেশিও” (Golden ratio) অর্থ সোনালী অনুপাত/স্বর্ণানুপাত। এটা হচ্ছে একটা চমৎকার গাণিতিক অনুপাত যা কোন চিত্রকর্ম,
স্থাপত্যকলা ইত্যাদিতে প্রয়োগ করা হলে সেই চিত্রকর্ম ও স্থাপত্যের চমৎকারিত্ব বৃদ্ধি পায়। মিশরের পিরামিড, আগ্রার তাজমহল, আইফেল টাওয়ার, হোয়াইট হাউজ ইত্যাদিতে এই “গোল্ডেন রেশিও” তথা সোনালী অনুপাতের প্রয়োগ ঘটেছে বলেই বোদ্ধাদের কাছে এগুলোর চমৎকারিত্বই ভিন্ন। এতে নাকি আরকিটেকচারাল ডিজাইনের সৌন্দর্য অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। জ্যামিতির অনেক কিছুতেও এই গোল্ডেন রেশিও” - এর প্রয়োগ থাকে।
অনেকে সৃষ্টির মধ্যে গাছপালা, ফল-ফুল, বিভিন্ন প্রাণী, মানুষের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ, এমনকি উর্ধ্ব জগতের বিভিন্ন গ্রহ-নক্ষত্র ও গ্যালাক্সি (ছায়াপথ) - এর বাহুগুলোর মাঝেও এই “গোল্ডেন রেশিও” বা সোনালী অনুপাত রক্ষা হয়েছে বলে দেখিয়ে থাকেন। এমনকি শামুকের খোলস,
ঘূর্ণিঝড়ের ঘুর্ণন, বৃক্ষের কাণ্ড-বিন্যাস, ফল, ফুল ইত্যাদিতেও এই “গোল্ডেন রেশিও” বা সোনালী অনুপাত রক্ষা হয়েছে বলে দেখিয়ে থাকেন। উদাহরণ স্বরূপ মানুষের মাথা থেকে পা পর্যন্ত অংশের মধ্যে মাথা থেকে নাভি এবং নাভি থেকে পা পর্যন্ত যে মানটি পাওয়া যাবে তা হল ১.৬১৮ অর্থাৎ, সোনালী অনুপাত। কনুই থেকে আঙ্গুলের মাথা পর্যন্ত এবং আঙ্গুলের মাথা থেকে কবজি পর্যন্ত এই সোনালী অনুপাত পাওয়া যায়। কাঁধ থেকে হাঁটু এবং হাঁটু থেকে পায়ের আঙ্গুলের মাথা পর্যন্ত দূরত্বের মাঝেও এই সোনালী অনুপাত পাওয়া যায়। এমনিভাবে চেহারা হৃদপি-সহ অন্যান্য অনেক অঙ্গের বিভিন্ন অংশে এই অনুপাত পাওয়া যায়। মানুষের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গসহ প্রকৃতির অনেক কিছুর মাঝে এই অনুপাত পাওয়া যায় বলে কেউ কেউ এটাকে Divine proportion (স্বর্গীয় অনুপাত বা ঐশ্বরিক অনুপাত) বলেও আখ্যায়িত করে থাকেন। গোল্ডেন রেশিওকে “গোল্ডেন মিন” (Golden mean) , “গোল্ডেন সেকশন” (Golden section) ও বলা হয়।
খ্রিস্টের জন্মেরও পাঁচশ বছর পূর্বে এই গোল্ডেন রেশিও বা সোনালী অনুপাত প্রথমে আবিস্কার করেন পিথাগোরাস। তারপর প্লেটো, ইউক্লিড,
ফিবোনাক্কি, কেপলারসহ অনেকে এই সোনালী অনুপাতের জগতে গবেষণায় অগ্রসর হন।
আমরা “গোল্ডেন রেশিও” - এর বিষয়টা আলোচনায় আনছি এজন্য যে, অনেককে ইদানিং বলতে শোনা যাচ্ছে, পৃথিবীর মাঝে বায়তুল্লাহ বা কা‘বা শরীফের যে অবস্থান তাতেও এই অনুপাত রক্ষা করা হয়েছে। তারা বলতে চান, গোল্ডেন রেশিও হিসেবে কা‘বা শরীফ পৃথিবীর নাভি। এ সম্পর্কিত প্রচুর লেখা নেটে দেখতে পাওয়া যায়। বিচিত্র নয় যে, এই ধারায় অনেক বইয়েও বিষয়টা এসে থাকবে বা এসে যাবে।
তা বক্তব্য যদি এতটুকুর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকত যে,
কা‘বা শরীফ পৃথিবীর নাভির অবস্থানে রয়েছে তাহলে তা আমাদের তেমন কিছু উদ্বেগের কারণ ছিল না। কিন্তু যেহেতু অনেকে বক্তব্যকে আরও আগে বাড়িয়ে বলতে চাচ্ছেন, কা‘বা শরীফ পৃথিবীর নাভি আর নাভি হচ্ছে শরীরের মাঝখান, অতএব সেই কা‘বা শরীফ যে মক্কায় অবস্থিত সেই মক্কাকে কেন্দ্র করেই সারা পৃথিবীর রোযা রাখা ও ঈদ করার প্রবর্তন হওয়া চাই,
সোজা কথায় বলতে গেলে তারা বলতে চান, মক্কা শরীফের সাথেই একসাথে রোযা ও ঈদ করতে হবে। একারণেই এ বিষয়টার প্রতি আমাদের মনোযোগ দিতে হচ্ছে।
এটা ভিন্ন কথা যে, কা‘বা শরীফ বা মক্কা রোযা রাখা ও ঈদ করার ভিত্তি কি না - এ ব্যাপারে অত্যন্ত পরিষ্কার কথা হল শরীয়তে রোযা রাখা বা রোযা ছাড়ার তথা ঈদ করার ভিত্তি বানানো হয়েছে কেবল হেলাল (নতুন চাঁদ) দেখাকে। কা‘বা শরীফ বা মক্কা মুকাররমাকে রোযা রাখা বা রোযা ছাড়ার তথা ঈদ করার ভিত্তি বানানো হয়নি। তা ছাড়া পৃথিবীর কোন একটা স্থান নাভির স্থলে হলেই সে স্থানকে সকলের জন্য অন্য কোন আমলের ভিত্তি বানাতে হবে এর পেছনে কোন যুক্তিও নেই। (এমন বলাটা কি যুক্তিযুক্ত হবে যে, মক্কা শরীফ যেহেতু নাভি তাই সকলের বিয়ে-শাদি মক্কাতেই হতে হবে, সকলের কবরও সেখানেই হতে হবে, ইত্যাদি?) আরও কথা হল নাভি তো প্রস্থের মাঝখানে হয়, অথচ কা‘বা শরীফ পৃথিবীর প্রস্থের দিকের মাঝখানে তথা বিষুব রেখাতে অবস্থিত নয়। আল্লাহ পাক যদি কা‘বা শরীফকে নাভির স্থলেই রাখতেন তাহলে কা‘বা শরীফ হত বর্তমান দ্রাঘিমার বরাবর দক্ষিণে বিষুব রেখায় তথা আফ্রিকার কেনিয়ায়। এখন কা‘বা শরীফ তথা নাভি এক সাইডে হয়ে গেল এটা কি বেখাপ্পা হয়ে যায় না? এতে কি আল্লাহর শিল্প ডিজাইন জ্ঞানের ত্রুটি প্রকাশ পায় না? নাউযু বিল্লাহ! যাহোক আমি এ প্রসঙ্গে অতিরিক্ত আর কিছু এখানে লিখতে চাই না। এখানে শুধু গোল্ডেন রেশিও হিসেবে কা‘বা শরীফ পৃথিবীর নাভি কি না - এ প্রসঙ্গেই আলোচনা করতে চাই। মূল আলোচনায় প্রবেশের পূর্বে যারা গোল্ডেন রেশিও সন্বন্ধে মোটেই জানেন না, তাদের সুবিধার্থে প্রথমে গোল্ডেন রেশিও - এর পরিচয় সম্বন্ধে কিছু কথা বলে নিতে চাই।
সহজে “গোল্ডেন রেশিও”-এর পরিচয় হল গোল্ডেন রেশিও হচ্ছে একটি বিশেষ গাণিতিক অনুপাত। সেই অনুপাতটি হল ১.৬১৮। একটা রেখাকে যদি এমন দুই ভাগে ভাগ করা হয় যার বড় অংশকে ছোট অংশ দ্বারা ভাগ করলে যে ভাগফল পাওয়া যায় উভয় অংশের যোগফলকে বড় অংশ দ্বারা ভাগ করলেও সেই ফল পাওয়া যায়, আর সেই ভাগফল হবে ১.৬১৮ (প্রকৃত সংখ্যা হচ্ছে ১.৬১৮০৩৩৯৮৮৭৫) তাহলে সেটা হচ্ছে গোল্ডেন রেশিও। যেমন ৬১০ ইঞ্চি একটা রেখাকে দুই ভাগে ভাগ করুন। বড় অংশ (এটাকে বলা যায় A অংশ) ধরুন৩৭৭ ইঞ্চি আর ছোট অংশ (এটাকে বলা যায় B অংশ) ধরুন২৩৩ইঞ্চি। এবার বড় অংশ তথা A অংশকে ছোট অংশ তথা B অংশ দ্বারা ভাগ দিন ফল হবে ১.৬১৮ (৩৭৭÷২৩৩=১.৬১৮) আবার A+ B- র টোটালকে অর্থাৎ ৬১০ কে A অংশ দ্বারা ভাগ দিন তাহলেও ফল হবে ১.৬১৮ (৬১০÷৩৭৭=১.৬১৮)। তাই সংক্ষেপে গোল্ডেন রেশিওর পরিচয় এভাবেও দেয়া হয় - a+b is to a as a is to bঅর্থাৎ, a+b÷a= a÷b । বিষয়টিকে চিত্রে এভাবে দেখানো যায় -
আবার চিত্রে এভাবেও দেখানো যায় -
গোল্ডেন রেশিওকে সাধারণত তিন প্রকারে ভাগ করা হয়। (এক) সাধারণ গোল্ডেন রেশিও। এ সম্বন্ধে আলোচনা করা হয়েছে। (দুই) ১.৬১৮ রেশিও রক্ষা করে কোন আয়তক্ষেত্র তৈরি করলে (যে আয়তের দৈর্ঘ প্রস্থ উভয়টার রেশিও হবে ১.৬১৮) সেটাকে বলে গোল্ডেন রেকট্যাংগ্ল্
(Golden Rectangle) বা আয়তক্ষেত্রের গোল্ডেন রেশিও। যেমন দ্বিতীয় চিত্রে দেখানো হয়েছে। (উল্লেখ্য, চার সমকোণবিশিষ্ট চতুর্ভূজকে আয়তক্ষেত্র বলা হয়।) (তিন)আবার যদি উভয় আয়তক্ষেত্রের পিঠে ফিবোনাক্কি ক্রম অনুযায়ী (এ বিষয়ে পরে বর্ণনা আসছে।) আরও একটা আয়তক্ষেত্র তৈরি করা হয়, তারপর সবগুলোর পিঠে অনুরূপভাবে আরও একটা আয়তক্ষেত্র তৈরি করা হয়। এভাবে কয়েকটা আয়তক্ষেত্র তৈরি করার পর সবগুলো আয়তের কোণা একের পর এক প্যাঁচানো রেখা দিয়ে যুক্ত করা হয়, তাহলে সেটাকে বলে গোল্ডেন স্পাইরাল (Golden Spiral) বা শঙ্খিল গোল্ডেন রেশিও।এই স্পাইরালের বক্ররেখাতেও গোল্ডেন রেশিও থাকে।
স্পাইরাল হল সমুদ্রের এক ধরনের শামুক যা প্যাঁচানো আকৃতিতে গড়ে ওঠে। সূর্যমুখী ফুলের পাপড়ি এবং হাতের বৃদ্ধ আঙ্গুলের ছাপের দিকে লক্ষ্য করলেও এই গোল্ডেন স্পাইরাল দেখতে পাওয়া যায়। নিচের ছবিতে গোল্ডেন স্পাইরাল লক্ষ্য করুন।
গোল্ডেন রেশিওর সঙ্গে ফিবোনাক্কি
(Fibonacci কেউ কেউ উচ্চারণ লেখেন ফিবোনেসি/ ফিবোনাচ্চি/ ফিবোনোচ্চি) সিরিজের একটা বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে। তাই ফিবোনাক্কি সিরিজ সম্বন্ধেও কিছু কথা জানতে হয়।
ইটালিয়ান গণিতবিদ লিওনার্দ ফিবোনাক্কি
(Leonardo Fibonacci) এই সিরিজটি আবিস্কার করেন বলে একে “ফিবোনাক্কি সিরিজ” বলা হয়। এই সিরিজে কতগুলো সংখ্যা দেখানো হয়, যেগুলোর প্রতিটি সংখ্যা তার আগের দুইটি সংখ্যার যোগফলের সমান। সিরিজভুক্ত সংখ্যাগুলোর প্রত্যেকটিকে তার আগের সংখ্যা দ্বারা ভাগ করলে ভাগফল ১.৬১৮ - এর কাছাকাছি হবে এবং ১৩ তম সংখ্যা এর পরে (৬১০ থেকে)সবগুলোর ভাগফল হুবহু ১.৬১৮ হবে।
এবার “ফিবোনাক্কি সিরিজটি লক্ষ্য করুন- ১, ১, ২,
৩, ৫, ৮, ১৩, ২১, ৩৪, ৫৫, ৮৯, ১৪৪, ২৩৩, ৩৭৭,
৬১০, ৯৮৭, ১৫৯৭, ২৫৮৪, ৪১৮১ ...। এর পরবর্তী আরও সংখ্যা আপনি বের করতে পারবেন। শেষ সংখ্যাকে তার পূর্বের সংখ্যার সাথে যোগ দিলেই পরবর্তী সংখ্যা বের হবে।
এখানে আরও উল্লেখ্য যে, প্রতিটি সংখ্যার A ও B অংশ কি হবে তা বের করা আজকাল সহজ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নেটে Golden ratio calculator পাওয়া যায়, তার সহযোগিতা নিলেই হয়। এমনকি একটা চিত্রে গোল্ডেন রেশিও কীভাবে অবস্থিত তা বের করাও এখন সহজ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
“ফাইমেট্রিক্স - এর সহযোগিতা নিন। ফাইমেট্রিক্স হচ্ছে এক ধরনের সফটওয়ার যা দ্বারা কোন ছবির গোল্ডেন রেশিও পয়েন্ট মাপা হয়।
গোল্ডেন রেশিও বোঝানোর জন্য Φ চিহ্ন ব্যবহৃত হয়। এরূপ লেখা হয় Φ ১.৬১৮ । Φ হচ্ছে একটি ল্যাটিন ভাষার অক্ষর। এটাকে বলা হয় Phi (ফাই) এটা হচ্ছে বড় হাতের ফাই। আবার ছোট হাতের ফাই অর্থাৎ, φ ও ব্যবহৃত হয়। তখন লেখা হয়
φ ০.১৬৮। দেখা গেল ছোট হাতের ফাই ব্যবহার করলে দশমিকের পূর্বের ১ লেখা হয় না। কখনও কখনও এরূপও লেখা হয় Phi ১.৬১৮ আবার এরূপও লেখা হয় G ১.৬১৮ এই G হচ্ছে Golden ratio- এর সংক্ষেপ। তবে বেশিরভাগ Phiই লেখা হয়।
এতক্ষণ গোল্ডেন রেশিও - র পরিচয় সম্বন্ধে মোটামুটি বর্ণনা পেশ করা হল। এবার আমরা মূল আলোচনায় প্রবেশ করছি। যারা কা‘বা শরীফকে পৃথিবীর নাভি বলতে চান তারা অক্ষের বিচারে দুইভাবে গোল্ডেন রেশিও দেখান এবং দ্রাঘিমার বিচারে দুইভাবে তা দেখান। এ ছাড়াও আরও একভাবে (কো অর্ডিনেট পদ্ধতিতে) তা দেখান। সর্বমোট ৫টা পদ্ধতিতে তারা কা‘বা শরীফকে গোল্ডেন রেশিও পয়েন্টে দেখাতে চান। আর কেউ কেউ একভাবে কা‘বা শরীফকে পৃথিবীর মাঝখান বলে দেখাতে চান। এই মোট ৬টা পদ্ধতি। নিম্নে পদ্ধতি ষষ্ট ও সে সম্বন্ধে পর্যালোচনা পেশ করা গেল।
১ম পদ্ধতি: (অক্ষের বিচারে)
A অংশ ১১১.৮২/১৮০=১.৬০৯।
পর্যালোচনা :
এখানে নিখুঁত গোল্ডেন রেশিও হয়নি। কেননা নিখুঁত গোল্ডেন রেশিও হতে হলে দু’টো অনুপাতই (B/ A এবং A /A+ B) ১.৬১৮হতে হবে। এখানে দ্বিতীয় অংশে অনুপাতটি কাছাকাছি হলেও প্রথমটি গোল্ডেন রেশিওর ধারে-কাছেও যায়নি। কেননা A অংশ ১১১.৮২ হলে B অংশ হবে (১৮০-১১১.৮২=) ৬৮.১৮। অতএব
A অংশকে B অংশ দ্বারা ভাগ দিলে হবে (১১১.৮২÷৬৮.১৮=) ১.৬৪০। ১.৬৪০ কে কাছাকাছি ধরা হলেও উভয় অনুপাত এক সমান হয়নি অতএব সঠিক গোল্ডেন রেশিও হল না। সঠিক গোল্ডেন রেশিও হতে গেলে উভয় অনুপাত সমান হতে হবে। এতএব অক্ষের বিচারে এখানে গোল্ডেন রেশিও দেখানোর যে চেষ্টা করা হয়েছে তা নিখুঁত নয়। আল্লাহ পাক কা‘বা শরীফকে পরিকল্পিতভাবে গোল্ডেন রেশিও পয়েন্টে রাখলে নিখুঁত গোল্ডেন রেশিওই থাকত। আল্লাহর সৃষ্টিতে কোন খুঁত থাকে না।
বস্তুত মক্কার সঠিক অবস্থান (২১.৪২২ºউত্তর অক্ষাংশ) হিসাবে A অংশ হওয়া চাই ১১১.৪২ এবং B অংশ হওয়া চাই ৬৮.৫৮। তাহলে ১১১.৪২÷৬৮.৫৮=১.৬২৪ এবং ১৮০÷১১১.৪২= ১.৬১৫। দেখা গেল কোনভাবেই সঠিক গোল্ডেন রেশিও হচ্ছে না।
২য় পদ্ধতি: (অক্ষের বিচারে)
দক্ষিণ মেরু থেকে কা‘বার দূরত্ব ১২৩৪৮.৩২ কি. মি। এটা হচ্ছে A অংশ। আর উত্তর মেরু থেকে কা‘বা শরীফের দূরত্ব হচ্ছে ৭৬৩১.৬৮ কি. মি। এটা হচ্ছে B অংশ। টোটাল - ১৯৯৮০ কি. মি। এখানে সবভাবেই গোল্ডেন রেশিও তথা ১.৬১ পাওয়া যায়।
পর্যালোচনা:
কা‘বা শরীফের উত্তর দক্ষিণে যে দূরত্ব দেখানো হয়েছে, (১২৩৪৮.৩২+৭৬৩১.৬৮=১৯৯৮০ কি. মি) তা ভুল। প্রকৃত দূরত্ব হচ্ছে ১২৪২৯.৯ মাইল= ২০০০৩.৯৩ কি. মি। (নেটে Length of Prime meridian সাইটে সার্চ দিলে বিষয়টি পাওয়া যাবে।) সম্ভবত তারা ইচ্ছাকৃতভাবে এরূপ ভুল তথ্য দিয়ে গোল্ডেন রেশিওর নামে ধোঁকা দিতে চেয়েছে।
৩য় পদ্ধতি (দ্রাঘিমার বিচারে)
অ অংশ ২১৯.৮২/৩৬০=১.৬১
(অর্থাৎ, তারা বোঝাতে চান কা‘বা শরীফ যেহেতু ৩৯.৮২৬ºঊ য়ে অবস্থিত তাহলে আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা থেকে আমেরিকা আফ্রিকার দিক হয়ে কা‘বা শরীফ পর্যন্ত হয় ২১৯.৮২º)
পর্যালোচনা:
(এক) হিসাবে ভুল হয়েছে। সঠিক ফলাফল হবে ১.৬৩৭ আর এটা সঠিক গোল্ডেন রেশিও নয়।
(দুই) এখানে দ্বিতীয় অংশে ১.৬৩৭ তথা গোল্ডেন রেশিওর কাছাকাছি হলেও প্রথম অংশে গোল্ডেন রেশিওর ধারে-কাছেও যায়নি। কেননা A অংশ ২১৯.৮২ হলে B অংশ হবে (৩৬০-২১৯.৮২=) ১৪০.১৮আর ২১৯.৮২÷ ১৪০.১৮=১.৫৬৮। তাহলে গোল্ডেন রেশিওর ধারে-কাছেও গেল না। এ জন্যই সম্ভবত তারা এই প্রথম অংশ হিসেবে দেখান না। অথচ নিখুঁত গোল্ডেন রেশিও প্রমাণ করতে হলে উভয় অংশেই সমান অনুপাত ১.৬১৮ (বা অন্তত এর কাছাকাছি) থাকতে হবে।
বস্তুত সঠিক গোল্ডেন রেশিওর হিসাব মিলাতে হলে কা‘বার শরীফের অবস্থান হতে হবে ২২২.৪৯২º E তথা ৪২.৪৯º E । তাহলে A অংশ হবে ২২২.৪৯২ আর
B অংশ হবে ১৩৭.৫০৮। তাহলে ৩৬০÷২২২.৪৯২=১.৬১৮ এবং ২২২.৪৯২÷১৩৭.৫০৮=১.৬১৮। উল্লেখ্য, উক্ত ৪২.৪৯º E (এবং ২১.২৪º N )- এর অবস্থানে রয়েছে তুরবা ও রনিয়্যা নামক দুটো অঞ্চলের মধ্যবর্তী স্থান। এ স্থানটি মক্কা শরীফ থেকে তায়েফের অবস্থান যত দূরে তায়েফ থেকে তার চেয়ে প্রায় দেড়গুন দূরে পূর্বদিকে অবস্থিত। আল্লাহ তাআলা যদি কা‘বা শরীফকে গোল্ডেন রেশিও পয়েন্টে রাখার পরিকল্পনা রাখতেন তাহলে গোল্ডেন রেশিওর এই নিখুঁত পয়েন্টেই কা‘বা শরীফকে রাখতেন।
(তিন) দ্রাঘিমার বিচারে কা‘বা শরীফকে নাভির স্থানে দেখাতে গিয়ে গ্রীনিচ রেখাকে মূল মধ্যরেখা এবং আন্তর্জাতিক তারিখ রেখাকে পৃথিবীর দৈর্ঘের শুরু মেনে নেয়া হয়েছে। অথচ গ্রীনিচ রেখা পৃথিবীর দৈর্ঘের মধ্যখান এবং আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা পৃথিবীর দৈর্ঘের শুরু - এ বিষয়টা না কোন শরয়ী দলীলে স্বীকৃত বিষয় না বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত। প্রাকৃতিক এমন কোন নিদর্শনও নেই যার ভিত্তিতে বিষয় দু’টো সর্বজনস্বীকৃত হতে পারে। এটা তো নিছক বিশেষ একটা হিসেবের সুবিধের জন্য মেনে নেয়া হয়েছে।। কেউ এটা না মেনে ভিন্ন রকম মানচিত্রও দাঁড় করাতে পারে। যেমন ফ্রান্স প্যারিসের উপর দিয়ে অতিক্রান্ত দ্রাঘিমা রেখাকেই মূল মধ্যরেখা গণ্য করে থাকে।
৪র্থ পদ্ধতি (দ্রাঘিমার বিচারে)
শোনা যায় তাদের অনেকে প্রশান্ত মহাসাগরকে চন্দ্রের প্রথম উদয়স্থল বলতে চায়। এ হিসেবে তারা কা‘বা শরীফকে নাভি প্রমাণ করার চেষ্টা করে থাকেন।
পর্যালোচনা:
তাহলে প্রমাণ করতে হবে যে, চন্দ্রের প্রথম উদয়স্থল ১৭৭.৩৩৪ পূর্ব দ্রাঘিমায়। কেননা পূর্ব দ্রাঘিমার ই অংশ হতে হবে ১৩৭.৫০৮। আর ক’বা শরীফ ৩৯.৮২৬º E তে অবস্থিত। অতএব ৩৯.৮২৬+১৩৭.৫০৮=১৭৭.৫০৮ তে চন্দ্রের প্রথম উদয় ঘটতে হবে। অথচ ১৭৭.৫০৮ তে চন্দ্রের প্রথম উদয় ঘটার বিষয় না শরয়ীভাবে প্রমাণিত না বৈজ্ঞানিকভাবে।
৫ম পদ্ধতি
তারা বলতে চান, কো অর্ডিনেট পদ্ধতিতে কা‘বা শরীফ গোল্ডেন রেশিও পয়েন্টে অবস্থিত। তারা বলতে চান, পূর্ব দ্রাঘিমাংশ + ৩৯.৮২ এবং উত্তর অক্ষাংশ + ২১.৪২। এতে কা‘বা শরীফে গোল্ডেন রেশিও প্রমাণিত হয়। এভাবে - ৯০+৩৯.৮২ = ১১১.৪২
সুতরাং ১১১.৮২/১৮০= ০.৬১...
এবং ১৮০+৩৯.৮২ = ২১৯.৮২
সুতরাং ২১৯.৮২/৩৬০ = ০.৬১...
পর্যালোচনা:
(এক) পুরো হিসেবটাই ভুলে ভরা। কারণ, (১) ৯০ + ৩৯.৮২ = ১১১.৪২ ভুল বরং সঠিক হল ৯০ + ৩৯.৮২ = ১২৯.৮২ (২) অতএব অনিবার্য কারণে পরবর্তী লাইন ১১১.৮২/১৮০ = ০.৬১... এটাও ভুল। বরং এটা হবে ১২৯.৮২/১৮০ = ১.৩৮৬। তাহলে গোল্ডেন রেশিও পাওয়া গেল না। (৩) শেষ লাইনে দেখানো হয়েছে ২১৯.৮২/৩৬০ = ০.৬১... এটাও ভুল। হবে ২১৯.৮২/৩৬০ = ০.৬৩৭...।
(দুই) ৩য় পদ্ধতির পর্যালোচনায় যা বলা হয়েছিল আবারও তাই বলতে চাই যে, এখানে গ্রীনিচ রেখাকে মূল মধ্যরেখা এবং আন্তর্জাতিক তারিখ রেখাকে পৃথিবীর দৈর্ঘের শুরু মেনে নিয়ে হিসেব দাঁড় করানো হয়েছে। অথচ গ্রীনিচ রেখা পৃথিবীর দৈর্ঘের মধ্যখান এবং আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা পৃথিবীর দৈর্ঘের শুরু -
এ বিষয়টা না কোন শরয়ী দলীলে স্বীকৃত বিষয় না বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত। প্রাকৃতিক এমন কোন নিদর্শনও নেই যার ভিত্তিতে বিষয় দুটো সর্বজনস্বীকৃত হতে পারে। এটা তো নিছক বিশেষ একটা হিসাবের সুবিধার জন্য মেনে নেয়া হয়েছে। অতএব এই কল্পিত বিষয়কে কেন্দ্র করে যে গোল্ডেন রেশিও দেখানো হচ্ছে তা কাল্পনিক গোল্ডেন রেশিও হতে পারে বাস্তব গোল্ডেন রেশিও নয়।
৬ষ্ঠ পদ্ধতি
কা‘বা শরীফ পৃথিবীর মাঝখান। কেননা -
(এক) কা‘বা শরীফ থেকে আলাস্কা এবং নিউজিল্যান্ড মাপলে সমান দূরত্ব পাওয়া যায়।
(দুই) কা‘বা শরীফ ম্যাগনেটিক ফিল্ডের মাঝে অবস্থিত।
পর্যালোচনা :
১. নিউজিল্যান্ড ছাড়াও তো তার পূর্বে চ্যাথাম দ্বিপ, বাউন্টি দ্বিপ ইত্যাদি রয়েছে, সেগুলোকে হিসেবে কেন ধরা হল না। তাছাড়া আলাস্কা কা‘বা শরীফ থেকে (গ্লোবে) সোজা উত্তরে - এদিকটা ধরা হল,
সোজা দক্ষিণের মাপ কেন আনা হল না। কা‘বা শরীফ থেকে সোজা পূর্ব পশ্চিমের মাপও কেন আনা হল না?
২. কা‘বা শরীফ ম্যাগনেটিক ফিল্ডের মাঝে অবস্থিত হলে তার বিপরীত দিকের অঞ্চলও তো ম্যাগনেটিক ফিল্ডের মাঝে অবস্থিত হবে, তাহলে সেটাকেও কি পৃথিবীর মাঝখান বলতে হবে?
সারকথা, কা‘বা শরীফকে পৃথিবীর নাভি দেখাতে গিয়ে গোল্ডেন রেশিওর যে বর্ণনাগুলো পেশ করা হয়ে থাকে তা হয় ভুল না হয় খুঁতযুক্ত, যা পূর্বে বিস্তারিতভাবে দেখানো হয়েছে। আর কা‘বা শরীফকে পৃথিবীর মাঝখান দেখানোর যে প্রচেষ্টা দেখানো হয়েছে তা একটা খাপছাড়া বিষয়।

Wednesday, April 5, 2017

মক্কা-মদিনার ইমামগনের তালিকা


মক্কা
ﺻﺎﻟﺢ ﺁﻝ ﻃﺎﻟﺐ - Sheikh Aal Talib
ﻋﺒﺪﺍﻟﻠﻪ ﺍﻟﺠﻬﻨﻲ - Sheikh Juhany
ﺷﻴﺦ ﺍﻟﺴﺪﻳﺲ - Sheikh Sudais
ﺧﺎﻟﺪ ﺍﻟﻐﺎﻣﺪﻱ - Khalid Al Ghamdi
ﻣﺎﻫﺮ ﺍﻟﻤﻌﻴﻘﻠﻲ - Mahir Al Mu'ayqali
ﻓﻴﺼﻞ ﻏﺰﺍﻭﻱ - Sheikh Ghazzawi
ﺷﻴﺦ ﺍﻟﺸﺮﻳﻢ - Sheikh Shuraim
ﺷﻴﺦ ﺑﻠﻴﻠﺔ - Sheikh Baleela
ﺷﻴﺦ ﺣﻤﻴﺪ - Sheikh Humaid
ﺷﻴﺦ ﺧﻴﺎﻁ - Sheikh Khayyat
ﺷﻴﺦ ﺍﻟﺴﺒﻴﻞ - Sheikh Subbyyil
ﺷﻴﺦ ﻋﻠﻲ ﺟﺎﺑﺮ - Sheikh Jaber
ﺍﻟﺸﻴﺦ ﺍﻟﻜﻠﺒﺎﻧﻰ - Sheikh Kalbani
ﺷﻴﺦ ﺍﻟﺪﻭﺳﺮﻱ - Sheikh Dosary
ﻋﺒﺪﺍﻟﻠﻪ ﺍﻟﺨﻠﻴﻔﻲ - Sheikh Khulaifi
ﺷﻴﺦ ﻋﻤﺮ ﺍﻟﺴﺒﻴﻞ - Sheikh Omer Makkah Imams
মদিনা
ﺍﻟﺸﻴﺦ ﺇﺑﻦ ﺣﻤﻴﺪ - Sheikh Hameed
ﺍﻟﺸﻴﺦ ﺍﻷﺧﻀﺮ - Sheikh Al Akhdar
ﺍﻟﺸﻴﺦ ﺍﻟﺒﻌﻴﺠﺎﻥ - Sheikh Bu'ayjaan
ﺷﻴﺦ ﺁﻝ ﺍﻟﺸﻴﺦ - Sheikh Ale Sheikh
ﺷﻴﺦ ﺍﻟﺒﺪﻳﺮ - Sheikh Budair
ﺷﻴﺦ ﺍﻟﺜﺒﻴﺘﻲ - Sheikh Thubaity
ﺷﻴﺦ ﺍﻟﺤﺬﻳﻔﻲ - Sheikh Hudaify
ﺷﻴﺦ ﺍﻟﻘﺎﺳﻢ - Sheikh Qasim
ﻣﺤﻤﺪ ﺃﻳﻮﺏ - Sheikh Ayub

Friday, March 31, 2017

উত্তর প্রদেশে আতঙ্কে মুসলিমরা, মোদিকে মাওলানা বুখারীর চিঠি

ভারতের দিল্লির ঐতিহাসিক জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা সাইয়্যেদ আহমদ বুখারী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চিঠি দিয়ে মুসলিমদের মধ্যে আতঙ্ক দূর করার আহ্বান জানিয়েছেন।
মাওলানা বুখারী তার চিঠিতে বলেছেন, দেশের সবচেয়ে বড় রাজ্য উত্তর প্রদেশে বিজেপি অপ্রত্যাশিত জয় পেয়েছে। কিন্তু গত কিছুদিন ধরে রাজ্যে মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে ভয় এবং আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি হওয়ার খবর আসছে। তিনি এ ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, পারস্পারিক আস্থাকে উৎসাহিত করার পরিবেশ প্রতিষ্ঠিত করায় সরকারের অগ্রাধিকার দেয়া উচিত।
মাওলানা বুখারী বলেন, কেন্দ্র এবং রাজ্যে বিজেপি নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পরে আপনি নিজেই ‘সবকা সাথ সবকা বিকাশ’ (সবার সাথে সবার উন্নয়ন) স্লোগান দিয়ে পারস্পারিক বিশ্বাস পুনর্বহালের স্পষ্ট বার্তা দিয়েছিলেন। উত্তর প্রদেশ সরকার ওই সঙ্কল্পকে বাস্তবায়ন করার জন্য আন্তরিকভাবে সচেষ্ট হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন।
সূত্র : ওয়েবসাইট
http://m.dailynayadiganta.com/?/detail/news/208293

ঢাকা আসছেন মসজিদুল হারাম ও মসজিদে নববীর ইমাম


প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে আসছেন মক্কার পবিত্র মসজিদুল হারামের ইমাম ড. শায়খ আবদুর রহমান আস সুদাইসি ও মদিনা শরিফের মসজিদে নববীর জ্যেষ্ঠ ইমাম শায়খ ড. আলী বিন আবদুর রহমান আল হুযাইফি। তারা ৬ এপ্রিল রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আলেম-উলামা মহাসম্মেলনে অংশ নেবেন। ধর্ম মন্ত্রণালয় ও ইসলামিক ফাউন্ডেশন সূত্রে জানা গেছে এসব তথ্য।

জানতে চাইলে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক সামীম মোহাম্মদ আফজাল বৃহস্পতিবার যুগান্তরকে বলেন, আমাদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে সারা দেশের আলেম-উলামাকে আমরা দাওয়াত দিয়েছি। পবিত্র কাবা শরিফ ও মসজিদুন নববীর ইমামসহ ছয় সৌদি মেহমান সেখানে তাশরিফ আনবেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যাবতীয় প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে। মহাসম্মেলনে ৬-৭ লাখ লোক উপস্থিত হবে বলে আমরা আশা করছি।

সূত্র জানায়, ঢাকায় আসার ব্যাপারে প্রাথমিক সম্মতি জানিয়েছেন মুসলিম উম্মাহর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব দুই ইমাম। ইতিমধ্যে বিষয়টির অনুমোদনও দিয়েছেন সৌদি আরবের বাদশাহ। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ৪২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলেম-উলামা মহাসম্মেলনে বিশেষ মেহমান হিসেবে তারা অংশ নেবেন।

বৃহস্পতিবার ধর্ম মন্ত্রণালয়ে ধর্ম সচিব আবদুল জলিলের সভাপতিত্বে এ সংক্রান্ত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে জানানো হয়, ৪ এপ্রিল দুই ইমামসহ ছয় সদস্যের সৌদি প্রতিনিধি দল ঢাকায় আসবে। এ মেহমানদের সম্মান ও নিজেদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ৬ এপ্রিল সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আলেম-উলামা মহাসম্মেলন করবে ইসলামিক ফাউন্ডেশন।

এ জন্য প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত দুই লাখ ৬০ হাজার মসজিদের ইমাম, মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কেন্দ্রের ৬৫ হাজার শিক্ষক-কর্মচারী, ৯০ হাজার প্রশিক্ষিত ইমাম, ৬১ হাজার ইমাম-মুয়াজ্জিন কল্যাণ ট্রাস্টের সদস্যদের ঢাকায় আসতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি কয়েক লাখ আলেম-উলামা, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক, সরকারি কর্মকর্তা ও ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের মহাসমাবেশে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে।

সূত্র জানায়, ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে এক বৈঠকে মক্কা ও মদিনার দুই ইমামের ঢাকায় আনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়। ওই বৈঠকে আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক শেখ মো. আবদুল্লাহকে প্রধান করে কমিটি গঠন করে দেন প্রধানমন্ত্রী। সদস্য করা হয় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বোর্ড অব গভর্নরসের কয়েকজন সদস্যকে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ঢাকাস্থ সৌদি দূতাবাসের সঙ্গে কথা বলে দুই ইমামকে ঢাকায় আনার প্রক্রিয়া ও প্রয়োজনীয় আলোচনা শেষে চার সদস্যের প্রতিনিধি দল ৭ মার্চ আমন্ত্রণপত্র নিয়ে সৌদি আরব যান। ওই প্রতিনিধি দলে ছিলেন আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক শেখ মো. আবদুল্লাহ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন মহাপরিচালক সামীম মোহাম্মদ আফজাল, সংসদ সদস্য আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দীন নদভী ও ইসলামিক ফাউন্ডেশন বোর্ড অব গভর্নরসের সদস্য মিছবাহুর রহমান চৌধুরী।

Monday, February 27, 2017

ছাত্রদলের গান


আমরা শক্তি আমরা বল
আমরা ছাত্রদল।
মোদের পায়ের তলায় মূর্ছে তুফান
ঊর্ধ্বে বিমান ঝড়-বাদল।
আমরা ছাত্রদল।।
মোদের আঁধার রাতে বাধার পথে
যাত্রা নাঙ্গা পায়,
আমরা                শক্ত মাটী রক্তে রাঙাই
বিষম চলার ঘাস।
যুগে যুগে রক্তে মোদের
সিক্ত হ’ল পৃথ্বীতল।
আমরা ছাত্রদল।।
মোদের কক্ষচ্যুত-ধূমকেতু-- প্রায়
লক্ষ্যহারা প্রাণ
আমরা                ভাগ্যদেবীর  যজ্ঞবেদীর
                        নিত্য বলিদান।
যখন                লক্ষ্মীদেবী  স্বর্গে উঠেন
আমরা পশি নীল অতল!
আমরা ছাত্রদল।।
আমরা ধরি মৃত্যু রাজার
যজ্ঞ-ঘোড়ার রাশ,
মোদের মৃত্যু লেখে মোদের
জীবন--ইতিহাস!
হাসির দেশে আমরা আনি
সর্বনাশী চোখের জল
আমরা ছাত্রদল।।
সবাই যখন বুদ্ধি যোগায়
আমরা করি ভুল!
সাবধানীরা বাঁধ বাঁধে সব,
আমরা ভাঙি কূল।
দারুণ-রাতে আমরা তরুণ
রক্তে করি পথ পিছল!
আমরা ছাত্রদল।।
মোদের                চক্ষে জ্বলে জ্ঞানের মশাল,
বক্ষে ভরা বাক্,
কন্ঠে মোদের কুন্ঠাবিহীন
নিত্য কালের ডাক।
আমরা                তাজা খুনে লাল ক’রেছি
সরস্বতীর শ্বেত কমল।
আমরা ছাত্রদল।।
ঐ                দারুণ উপপ্লবের দিনে
আমরা দানি শির,
মোদের মাঝে মুক্তি কাঁদে
বিংশ শতাব্দীর!
মোরা                গৌরবেরি কান্না দিয়ে
ভ’রেছি মা’র শ্যাম-আঁচল।
আমরা ছাত্রদল।
আমরা রচি ভালোবাসার
আশার ভবিষ্যৎ,
মোদের                স্বর্গ-পথের অভাস দেখায়
আকাশ-ছায়াপথ!
মোদের চোখে বিশ্ববাসীর
স্বপ্ন দেখা হোক সফল।
আমরা ছাত্রদল।।

Sunday, February 26, 2017

এখন কি অবস্থা মিয়ানমারে..?



"আগের চেয়ে খারাপ। আগে তো প্রকাশ্যে হত্যা, জুলুম, ঘর বাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া এবং বিভিন্ন নির্যাতন করা হত। এগুলো বিশ্ব মিডিয়াতে প্রচার হওয়াতে ওরা ভিন্ন কৌশল মুসলমানদের নিধন করতেছে।"
"এখন,
মহল্লার সচেতন পুরুষ, যুবকদের ধরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ধরে নিয়ে যাওয়া মুসলমান গুলোর কোন ধরণের খুঁজ নেই।এভাবে আমাদের কওমকে ধ্বংস করতে চাচ্ছে ওরা!"
"গত পরশু দিনও ১৭ জনকে ধরে নিয়ে গেছে মিলিটারী।মিলিটারী প্রত্যাহার বিষয়ে মিথ্যা সংবাদ প্রচার করেছে। আসলে আরো বাড়িয়ে মিলিটারী তৎপরতা...!!"

হামাসের দাবি

এখন ফিলিস্তিনের পূর্ণ স্বাধীনতা : হামাস
ফিলিস্তিনের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস বলেছে, দু’টি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ফিলিস্তিন সংকট সমাধানের সুযোগ শেষ হয়ে গেছে; কাজেই ফিলিস্তিনের পূর্ণ স্বাধীনতা ছাড়া এখন আর কোনো পথ নেই।
হামাসের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য খলিল হাইয়া শুক্রবার গাজা শহরের জুমার নামাজের খুতবায় এ আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডকে ভাগ করা যাবে না। এখানকার জনগণ তাদের মাতৃভূমি মুক্ত করার লক্ষ্যে সংগ্রাম চালিয়ে যাবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
খলিল হাইয়া বলেন, “ফিলিস্তিনে কোনো দখলদারের স্থান হবে না। আমরা ওদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে করতে এই ভূখণ্ড থেকে ওদেরকে বের করে ছাড়ব।”
ফিলিস্তিনে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এক জনমত জরিপে দেখা গেছে, সেখানকার শতকরা ৬৭ ভাগ মানুষ দুই রাষ্ট্র-ভিত্তিক সমাধান মানেন না। এ ছাড়া, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরাইল ও ফিলিস্তিন নামক দু’টি আলাদা রাষ্ট্র গঠনের মাধ্যমে এই সংকটের স্থায়ী সমাধানের যে চেষ্টা আমেরিকার বিগত সরকারগুলো করে আসছিল নয়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি তার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন।
সূত্র : ওয়েবসাইট

মরক্কোর মসজিদ ‘আল্লাহর দান’ হয়ে এলো সৌরবিদ্যুৎ

আওয়ার। সাইট২৪:মরক্কোর অন্তত ১৫ হাজার মসজিদে কয়েক বছরের মধ্যেই দেখা যাবে এই পরিবর্তন। তখন মারাক্কেশের এই মসজিদটির মতো অন্যগুলোতে ঢুকেও হয়ত কেউ বলে উঠবেন, এ যেন আল্লাহর দান! এমন চমকই দেখিয়েছে মারাক্কেশের কুতুবিয়া মসজিদ। বাইরে থেকে কোনো বৈদ্যুতিক তার যায়নি ভেতরে, অথচ দিব্যি ঝলমলে আলো জ্বলছে মসজিদ জুড়ে। এক শুক্রবারের জুমা নামাজের সময় এ বিষয়টি দেখেই অবাক হয়ে এক কিশোরী বলছিল, এ যেন আল্লাহর দান! আসলে সেখানে সৌরবিদ্যুতের প্যানেল বসিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে আর সেই বিদ্যুতেই আলো জ্বলছে, ফ্যান চলছে দেশের অন্যতম পুরনো মসজিদ কুতুবিয়ায়। জার্মানির আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা জিআইজেড-এর সহায়তায় মসজিদটিতে এখন সৌরবিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। মরক্কোয় ৫০ হাজারের মতো মসজিদ আছে। সে দেশের মিনিস্ট্রি অফ ইসলামিক অ্যাফেয়ার্স ১৫ হাজার মসজিদে সৌরবিদ্যুৎ সরবরাহের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ শুরু করেছে। সরকার চায়, আগামী ২০১৯ সালের মধ্যে অন্তত ৬০০ মসজিদে ফটোভোল্টাইক (পিভি) প্যানেল স্থাপন করতে। মারাক্কেশের কুতুবিয়া মসজিদের কারণে এখন ধীরে ধীরে অন্তত ১৫ হাজার মসজিদে সৌরবিদ্যুৎ সরবরাহ করার পরিকল্পনাকেও বাস্তবসম্মত মনে হচ্ছে। সত্যিই তো, একটিতে সম্ভব হলে, বাকিগুলোতে কেন নয়? ২০১৫ সালেক সারা দেশের জন্য প্রয়োজনীয় বিদ্যুতের অর্ধেক অন্তত দেশেই উৎপাদন করার ঘোষণা দিয়েছিলেন মরক্কোর রাজা। ২০৩০ সালের মধ্যে এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পরিকল্পনাও ঘোষণা করেছিলেন তিনি। মরক্কো এখনো শতকরা প্রায় ৯৫ ভাগ বিদ্যুতের জন্যই অন্য দেশের ওপর নির্ভরশীল। তবে সরকার মনে করছে, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন পরিকল্পনামতো বাড়াতে পারলে এ অবস্থা বেশিদিন থাকবে না। ডয়েচে ভেলে।