Latest Post

কওমীর স্বীকৃতি ও দেবিমূর্তি বিরোধী বক্তব্য আর রাজনৈতিক স্বার্থের ভেল্কিবাজি: মুহাম্মাদ মামুনুল হক

ঢাকা ১৩ই এপ্রিল'১৭ আজকের প্রথম আলোর প্রথম পাতায় প্রধান শিরোনাম দেখে মনে পড়ছে দুই হাজার ছয়ের কথা ৷ যখন হযরত শায়খুল হাদীস রহঃএর দলের...

Showing posts with label National. Show all posts
Showing posts with label National. Show all posts

Wednesday, March 29, 2017

খুকী ও কাঠবিড়ালি



কাঠবেড়ালি! কাঠবেড়ালি! পেয়ারা তুমি খাও?
গুড়-মুড়ি খাও? দুধ-ভাত খাও? বাতাবি নেবু? লাউ?
বেড়াল-বাচ্চা? কুকুর-ছানা? তাও?-
ডাইনি তুমি হোঁৎকা পেটুক,
খাও একা পাও যেথায় যেটুক!
বাতাবি-নেবু সকল্গুলো
একলা খেলে ডুবিয়ে নুলো!
তবে যে ভারি ল্যাজ উঁচিয়ে পুটুস পাটুস চাও?
ছোঁচা তুমি! তোমার সঙ্গে আড়ি আমার! যাও!
কাঠবেড়ালি! বাঁদরীমুখী! মারবো ছুঁড়ে কিল?
দেখনি তবে? রাঙাদা'কে ডাকবো? দেবে ঢিল!
পেয়ারা দেবে? যা তুই ওঁচা!
তাইতো তার নাকটি বোঁচা!
হুতমো-চোখী! গাপুস গুপুস!
একলাই খাও হাপুস হুপুস!
পেটে তোমার পিলে হবে! কুড়ি-কুষ্টি মুখে!
হেই ভগবান! একটা পোকা যাস পেটে ওর ঢুকে!
ইস। খেয়োনা মস্তপানা ঐ সে পাকাটাও!
আমিও খবই পেয়ারা খাই যে! একটি আমায় দাও!
কাঠবেড়ালি! তুমি আমার ছোড়দি' হবে? বৌদি হবে? হুঁ,
রাঙা দিদি? তবে একটা পেয়ারা দাও না! উঁঃ!
এ রাম! তুমি ন্যাংটা পুঁটো?
ফ্রকটা নেবে? জামা দু'টো?
আর খেয়ো না পেয়ারা তবে,
বাতাবি নেবুও ছাড়ুতে হবে!
দাঁত দেখিয়ে দিচ্ছ যে ছুট? অ-মা দেখে যাও!-
কাঠবেড়ালি! তুমি মর! তুমি কচু খাও!

তোরা আমাকে বানাস পর!



আমার
এক কাঁধে 'জমিয়ত'
আর
এক কাঁধে 'খেলাফত'
এই
বুকজুড়ে 'হেফাজত'
আর
দু'চোখে 'আন্দোলন'।
...
আমার
আঙুলে আঙুলে দল
তাই
দু'হাতে পাই না বল
দেখি
দলে দলে কোন্দল
আর
চুঁপি চুঁপি কাঁদে মন।
...
আমি
কারও সাথে নই ভাগ
আমি
কারও প্রতি নই রাগ
আমি
সকলেরে বলি- 'জাগ্!
গড়ে
একতার বন্ধন'।
...
আমি
দলকে করি না দ্বীন
আমি
প্রতীকে হই না লীন
আমি
'মিনাল মুসলিমীন'
করি
কালেমা উত্তোলন।
...
বলি
সকলেরে 'ওরে আয়!
এই
কালেমার পতাকায়
যারে
দূরে ঠেলে দিলি হায়!
তারে
করে নে আলিঙ্গন।'
...
আমি
তাবলীগে দিই সাল
আমি
ময়দানে হই লাল
আমি
রাজপথে উত্তাল
আমি সব মিলে একজন।
...
আমি
সকলের মাঝে রই
আমি
সকলের কথা কই
কারও
পকেটের কবি নই
রবো
এভাবেই আমরণ।
...
তোরা
আমাকে বানাস পর!
কর্
যা খুশি তোদের কর্
তোরা
কাঁদবি জনমভর
করে
আমার কথা স্মরণ।

Monday, February 27, 2017

ছাত্রদলের গান


আমরা শক্তি আমরা বল
আমরা ছাত্রদল।
মোদের পায়ের তলায় মূর্ছে তুফান
ঊর্ধ্বে বিমান ঝড়-বাদল।
আমরা ছাত্রদল।।
মোদের আঁধার রাতে বাধার পথে
যাত্রা নাঙ্গা পায়,
আমরা                শক্ত মাটী রক্তে রাঙাই
বিষম চলার ঘাস।
যুগে যুগে রক্তে মোদের
সিক্ত হ’ল পৃথ্বীতল।
আমরা ছাত্রদল।।
মোদের কক্ষচ্যুত-ধূমকেতু-- প্রায়
লক্ষ্যহারা প্রাণ
আমরা                ভাগ্যদেবীর  যজ্ঞবেদীর
                        নিত্য বলিদান।
যখন                লক্ষ্মীদেবী  স্বর্গে উঠেন
আমরা পশি নীল অতল!
আমরা ছাত্রদল।।
আমরা ধরি মৃত্যু রাজার
যজ্ঞ-ঘোড়ার রাশ,
মোদের মৃত্যু লেখে মোদের
জীবন--ইতিহাস!
হাসির দেশে আমরা আনি
সর্বনাশী চোখের জল
আমরা ছাত্রদল।।
সবাই যখন বুদ্ধি যোগায়
আমরা করি ভুল!
সাবধানীরা বাঁধ বাঁধে সব,
আমরা ভাঙি কূল।
দারুণ-রাতে আমরা তরুণ
রক্তে করি পথ পিছল!
আমরা ছাত্রদল।।
মোদের                চক্ষে জ্বলে জ্ঞানের মশাল,
বক্ষে ভরা বাক্,
কন্ঠে মোদের কুন্ঠাবিহীন
নিত্য কালের ডাক।
আমরা                তাজা খুনে লাল ক’রেছি
সরস্বতীর শ্বেত কমল।
আমরা ছাত্রদল।।
ঐ                দারুণ উপপ্লবের দিনে
আমরা দানি শির,
মোদের মাঝে মুক্তি কাঁদে
বিংশ শতাব্দীর!
মোরা                গৌরবেরি কান্না দিয়ে
ভ’রেছি মা’র শ্যাম-আঁচল।
আমরা ছাত্রদল।
আমরা রচি ভালোবাসার
আশার ভবিষ্যৎ,
মোদের                স্বর্গ-পথের অভাস দেখায়
আকাশ-ছায়াপথ!
মোদের চোখে বিশ্ববাসীর
স্বপ্ন দেখা হোক সফল।
আমরা ছাত্রদল।।

জাগরণী


কোরাস্:—
ভিক্ষা দাও! ভিক্ষা দাও!
ফিরে চাও ওগো পুরবাসী,
সন্তান দ্বারে উপবাসী,
দাও মানবতা ভিক্ষা দাও!
জাগো গো,জাগো গো,
তন্দ্রা-অলস জাগো গো,
জাগো রে! জাগো রে!
মুক্ত করিতে বন্দিনী মা'য়
কোটি বীরসুত ঐ হেরো ধায়
মৃত্যু-তোরণ-দ্বার-পানে—
কার টানে?
দ্বার খোলো দ্বার খোলো!
একবার ভুলে ফিরিয়া চাও।
কোরাস্:— ভিক্ষা দাও...
জননী আমার ফিরিয়া চাও!
ভাইরা আমার ফিরিয়া চাও!
চাই মানবতা, তাই দ্বারে
কর হানি মা গো বারেবারে—
দাও মানবতা ভিক্ষা দাও!
পুরুষ-সিংহ জাগো রে!
সত্যমানব জাগো রে।
বাধা-বন্ধন-ভয়-হারা হও
সত্য-মুক্তি-মন্ত্র গাও!
কোরাস্:— ভিক্ষা দাও...
লক্ষ্য যাদের উৎপীড়ন আর অত্যাচার,
নর-নারায়ণে হানে পদাঘাত
জেনেছে সত্য-হত্যা সার।
অত্যাচার! অত্যাচার!!
ত্রিশ কোটি নর-আত্মার যারা অপমান হেলা
করেছে রে
শৃঙ্খল গলে দিয়েছে মা'র—
সেই আজ ভগবান তোমার!
অত্যাচার! অত্যাচার!!
ছি-ছি-ছি-ছি-ছি-ছি-নাই কি লাজ—
নাই কি আত্মসম্মান ওরে নাই জাগ্রত
ভগবান কি রে
আমাদেরো এই বক্ষোমাঝ?
অপমান বড় অপমান ভাই
মিথ্যার যদি মহিমা গাও!
কোরাস্:— ভিক্ষা দাও...
আল্লায় ওরে হকতা'লায়
পায়ে ঠেলে যারা অবহেলায়,
আজাদ-মুক্ত আত্মারে যারা শিখায়ে ভীরুতা
করেছে দাস—
সেই আজ ভগবান তোমার!
সেই আজ ভগবান তোমার!
সর্বনাশ! সর্বনাশ!
ছি-ছি নির্জীব পুরবাসী আর খুলো না দ্বার!
জননী গো! জননী গো!
কার তরে জ্বালো উৎসব-দীপ?
দীপ নেবাও! দীপ নেবাও!!
মঙ্গল-ঘট ভেঙে ফেলো,
সব গেল মা গো সব গেল!
অন্ধকার! অন্ধকার!
ঢাকুক এ মুখ অন্ধকার!
দীপ নেবাও! দীপ নেবাও।
কোরাস্:— ভিক্ষা দাও...
ছি ছি ছি ছি
এ কি দেখি
গাহিস তাদেরি বন্দনা-গান,
দাস সম নিস হাত পেতে দান!
ছি-ছি-ছি ছি-ছি-ছি
ওরে তরুণ ওরে অরুণ!
নরসুত তুমি দাসত্বের এ ঘৃণ্য চিহ্ন
মুছিয়া দাও!
ভাঙিয়া দাও,
এ-কারা এ-বেড়ি ভাঙিয়া দাও!
কোরাস্:— ভিক্ষা দাও...
পরাধীন বলে নাই তোমাদের
সত্য-তেজের নিষ্ঠা কি!
অপমান সয়ে মুখ পেতে নেবে বিষ্ঠা ছি?
মরি লাজে, লাজে মরি!
এক হাতে তোরে 'পয়জার' মারে
আর হাতে ক্ষীর সর ধরি!
অপমান সে যে অপমান!
জাগো জাগো ওরে হতমান!
কেটে ফেলো লোভী লুব্ধ রসনা,
আঁধারে এ হীন মুখ লুকাও!
কোরাস্:— ভিক্ষা দাও...
ঘরের বাহির হয়ো না আর,
ঝেড়ে ফেলো হীন বোঝার ভার,
কাপুরুষ হীন মানবের মুখ
ঢাকুক লজ্জা অন্ধকার।
পরিহাস ভাই পরিহাস সে যে,
পরাজিতে দিতে মনোব্যথা—যদি
জয়ী আসে রাজ-রাজ সেজে।
পরিহাস এ যে নির্দয় পরিহাস!
ওরে কোথা যাস
বল কোথা যাস ছি ছি
পরিয়া ভীরুর দীন বাস?
অপমান এত সহিবার আগে
হে ক্লীব, হে জড়, মরিয়া যাও!
কোরাস্:— ভিক্ষা দাও...
পুরুষসিংহ জাগো রে!
নির্ভীক বীর জাগো রে!
দীপ জ্বালি কেন আপনারি হীন কালো অন্তর
কালামুখ হেন হেসে দেখাও!
নির্লজ্জ রে ফিরিয়া চাও!
আপনার পানে ফিরিয়া চাও!
অন্ধকার! অন্ধকার!
নিশ্বাস আজি বন্ধ মা'র
অপমানে নির্মম লাজে,
তাই দিকে দিকে ক্রন্দন বাজে—
দীপ নেবাও! দীপ নেবাও!
আপনার পানে ফিরিয়া চাও!
কোরাস্:— ভিক্ষা দাও...

সরকার দেশে হিন্দুয়ানি সংস্কৃতি বাস্তবায়ন করতে চায়:চরমোনাই

গ্রিক দেবীর মূর্তি স্থাপনের মাধ্যমে সরকার দেশে হিন্দুয়ানি সংস্কৃতি বাস্তবায়ন করতে চায়। আমরা বুকের তাজা রক্ত দিয়ে হলেও তাদের এ অপচেষ্টাকে রুখে দেবো, ইনশাআল্লাহ। ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলনের ইতিহাস মসজিদ রক্ষার আন্দোলনে শহীদ হওয়ার ইতিহাস। তাই সব ধরনের অপসংস্কৃতির বিরুদ্ধে ইশা ছাত্র আন্দোলনকেই অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে। চরমোনাই বার্ষিক মাহফিলের তৃতীয় দিন চরমোনাই ময়দানে ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন আয়োজিত ছাত্র-গণজমায়েতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম (পীর সাহেব চরমোনাই) এ কথা বলেন।
পীর সাহেব চরমোনাই আরো বলেন, হিন্দুত্ববাদী সিলেবাসের বিরুদ্ধে যেভাবে আন্দোলনের মাধ্যমে তা পরিবর্তন করতে বাধ্য করা হয়েছে, ঠিক তেমনিভাবে মূর্তি অপসারণের জন্য রাজপথে আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারকে বাধ্য করতে হবে। ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সভাপতি জিএম রুহুল আমীনের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি জেনারেল শেখ মুহাম্মাদ সাইফুল ইসলামের উপস্থাপনায় ছাত্র-গণজমায়েতে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নায়েবে আমির আল্লামা আবদুল হক আজাদ, মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ, শায়খ যাকারিয়া, ইসলামিক রিসার্চ সেন্টারের মহাপরিচালক মুফতি মিজানুর রহমান সাঈদ, জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া ঢাকার ইফতা বিভাগের প্রধান মুফতি হিফজুর রহমান, জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের সিনিয়র পেশ ইমাম মুফতি মুহিব্বুল্লাহিল বাকী আন-নদভী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের রাজনৈতিক উপদেষ্টা অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন, যুগ্ম মহাসচিব অধ্যাপক মাওলানা এ টি এম হেমায়েত উদ্দীন, অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, সহকারী মহাসচিব মাওলানা মুহাম্মদ আবদুল কাদের ও মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম।

Sunday, February 26, 2017

পল্লীবালার আঁচল কোলে

কবি মুহিব খান

আঁজল ভরে কাজল ধোয়া
জল ছড়িয়ে মুখে
পল্লীবালার আঁচল কোলে
চলছি মনের সুখে রে হায়
চলছি মনের সুখে-
বধুর কানের বনের ফুলে
আমার মনের মুকুল দুলে
দু'কুল ভেজা নদীর কুলে
অকুল কবির বুকে
বইছে প্রেমের ব্যাকুল হাওয়া
গজল গাওয়া চোখে রে হায়
গজল গাওয়া চোখে-
পুষ্প হাসির কান্না রেনু কেউ নাহি রে খোঁজে
শান্ত নদীর গভীর বুকের ঢেউ নাহি রে বোঝে
গুমরে ওঠে বনের পাখি
অশ্রু মনে, শুষ্ক আঁখি
মন-মোহনায় তোমায় ডাকি
গোলাপ শুকায় শোকে
কবির প্রেমের গভীর কথন
বুঝবে না সে লোকে রে হায়
বুঝবে না সে লোকে-
( আদর্শ বিশ্বাস চেতনা ও জাতি জাগানিয়া গানের পাশাপাশি প্রেম-বিরহ, মাটি মানুষ, প্রকৃতি ও জীবনের গানও হতে পারে।
বাংলা সাহিত্য ও সংগীতের মূলধারা রবীন্দ্র-নজরুলের বাইরেও প্রবাহিত হোক।)

ভারী হয়ে ওঠে বনানী কবরস্থানের বাতাস

নিহত সেনা সদস্যদের স্বজনদের কান্নায়
পিলখানার ঘাতকদের বিচার ও শাস্তি দ্রুত কার্যকর করার দাবি
স্টাফ রিপোর্টার : পিলখানায় নিহত সেনা কর্মকর্তাদের স্বজনদের কান্নায় বাতাস ভারী হয়ে উঠছিল। প্রিয় সন্তান হারা মা-বাবা ও স্ত্রী-সন্তানেরা কবর জিয়ারত করতে এসে রাজধানীর বনানী কবরস্থানে গতকাল কান্নায় ভেঙে পড়েন। আবার কেউ কেউ ঘাতকদের বিচার ও শাস্তি দ্রুত কার্যকর করার দাবী জানিয়েছেন।
গতকাল সকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, বনানী সামরিক কবরস্থানে এক তরুণ ও কিশোরকে সঙ্গে নিয়ে একটি কবরের সামনে দাঁড়ালেন লাঠি হাতে আসা ষাটোর্ধ্ব এক নারী। সেখানে বসে থাকলেন বেশ কিছুটা সময়। কাঁদলেন, দোয়া করলেন, তারপর আবার ফিরতে শুরু করলেন প্রধান ফটকের দিকে। ষাটোর্ধ্ব ওই নারীর চোখে তখন অশ্রু। তরুণ ও কিশোর ছেলে দুটির চোখে-মুখে বেদনার ছাপ। তারা হাঁটছিলেন ধীরপায়ে। কাছে এগিয়ে গিয়ে কথা বলতেই সেই বৃদ্ধার কান্নার যেন বাঁধ ভেঙে গেলো। কাঁদতে কাঁদতেই বললেন, ‘আমি এক দুঃখিনী মা, ৮ বছর ধরে বুকে কষ্ট বয়ে বেড়াচ্ছি।
৮ বছর আগে আমার নিষ্পাপ, নির্দোষ ছেলেকে ওরা মেরে ফেলেছে।’ আলাপচারিতায় জানা গেলো, তার নাম কোহিনুর বেগম। পিলখানা ট্রাজেডিতে নিহত মেজর মিজানুর রহমানের মা তিনি। মিজানুরের দুই সন্তানকে নিয়ে পিলখানা ট্রাজেডির দিকে কবর জিয়ারত করতে এসেছিলেন তারা। সাদাকাত বিন মমিনের বয়স আট বছর। গতকাল মায়ের সঙ্গে বনানীর সামরিক কবরস্থানে এসে কাঁদছিল সে। বাবার কবরের সামনে দাঁড়িয়ে অস্ফুটস্বরে বলছে, ‘ওদের জন্য আমি আমার বাবাকে দেখতে পেলাম না।’ জন্মের পর বাবাকে দেখার সৌভাগ্য হয়নি সাদাকাতের। পিলখানা ট্রাজেডির ১১ দিন পরে জন্ম নেয় সে। ওই হামলার ঘটনায় নিহত মেজর মোমিনুল ইসলামের ছেলে সে।
গতকাল ২৫ ফেব্রুয়ারি ছিল পিলখানা ট্রাজেডির ৮ বছর। ২০০৯ সালের এই দিনে (২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি) পিলখানায় বিডিআর-এর (বর্তমানে বিজিবি-বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ) বিপথগামী সদস্যরা কিছু দাবি-দাওয়া আদায়ের নামে নারকীয় এক হত্যাকান্ড চালায়। এসময় তারা অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটও করে। ওই দু’দিনে তারা ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তা ছাড়াও নারী-শিশুসহ আরও ১৭ জনকে নৃশংসভাবে হত্যা করে। পিলখানা ট্রাজেডির ৮ বছর পূর্তিতে সকালে বনানীর সামরিক কবরস্থানে নিহতদের স্মরণে স্থাপিত স্মৃতিস্তম্ভে প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, তিন বাহিনীর প্রধান, বিজিবি প্রধানসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও পরিবারের পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানানো হয়।
সকাল ৯টার দিকে কোরআন তেলওয়াতের মাধ্যমে নিহতদের করা শুরু হয়। এর আগে নিহতদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। বিউগল বাজিয়ে ও স্যালুটের মাধ্যমেও জানানো হয় শ্রদ্ধা। তারপর স্মৃতিস্তম্ভে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন সবাই। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, বিজিবি প্রধান মেজর জেনারেল আবুল হোসেনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের সেনা কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো ও কবর জিয়ারত শেষে নিহত মেজর মিজানের মায়ের সঙ্গে ফিরছিলেন তার দুই সন্তান তাহসিন রহমান রামি ও ফারদিন রহমান সামিও। রামি মির্জাপুর ক্যাডেট কলেজে একাদশ শ্রেণিতে পড়েন। আর ১১ বছরের সামি পড়ে চতুর্থ শ্রেণিতে বনানীর একটি স্কুলে। ৮ বছর আগের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে রামি বলেন, ‘সেদিন সকালে বাবার (মেজর মিজান) নতুন র্যাঙ্ক পড়ার কথা ছিল। সকালে বাবা যখন নাস্তা করে বাসা থেকে বের হন তখন আমার সঙ্গে কথা হয়। আমি তাকে বিদায় জানাই। সেদিন আমাদের জন্য ছিল শুভ দিন। কিন্তু সেটা হয়ে যায় অশুভ। র্যাঙ্ক পরার বদলে তিনি দুই দিন পর ফিরেন লাশ হয়ে।’
অশ্রসিক্ত হয়ে পড়েন রামি। চোখ মুছে আবার বলতে থাকেন, ‘এতবড় একটা ঘটনা ঘটলো। এই ঘটনার দোষীরা এখনো শাস্তি পেলো না। এই ঘটনা কেন ঘটলো তাও আমরা জানতে পারলাম না। একটি ঘটনা তো আর এমনি এমনি হয় না। কেউ আমাদের কোনও প্রশ্নের উত্তর দেয়নি। আমার জানার খুব ইচ্ছা কেন আমার বাবাকে হত্যা করা হলো? পিলখানায় রামি-সামির বাবার নির্মম মৃত্যুর নয় মাস আগে মাকে হারান তারা। ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান মা রেবেকা ফারহানা রোজী। এখন দাদা-দাদির সঙ্গেই থাকেন দুই ভাই। পিলখানার ঘটনার সময় সামীর বয়স তিন বছর। ফলে তার সেই স্মৃতি আর মনে নেই। তবে রামির হৃদয়ে গেঁথে আছে বেদনাসিক্ত সেই সময়ের প্রতিটি মুহূর্ত। সামি বলেন, আমি ক্যাডেট কলেজে পড়ছি। আমার ইচ্ছা আমি আর্মিতে জয়েন করার। আমি আমার বাবার মতো হতে চাই।
রামি-সামির মতোই বাবার কবর জিয়ার করতে মা সানজানা সোনিয়ার সঙ্গে এসেছিলেন ৮ বছরের সাদাকাত বিন মমিন। পিলখানা ট্রাজেডিতে নিহত মেজর মোমিনুল ইসলামের ছেলে। জন্মের পর বাবাকে দেখার সৌভাগ্য হয়নি তার। পিলখানা ট্রাজেডির ১১ দিন পর জন্ম হয় তার। মা সানজানা সোনিয়া বলেন,‘বাবার ছবি দেখে ও গল্প শুনে সে বুঝে গেছে তার বাবার কী হয়েছে। এজন্য মাঝে মধ্যেই সে বলে আমি বড় হয়ে অফিসার হবো তারপর ওদের গুলি করে মারবো।’
নিহত মেজর মমিনুলের বাবা মফিজুল ইসলাম বলেন, ‘ছেলে হারিয়েছি, ছেলেকে তো আর কোনওদিন ফিরে পাবো না। কিন্তু বিচারটা দেখে যেতে পারলে মনে শান্তি পেতাম।’ তিনি বলেন, ‘আমরা কীভাবে দিনাতিপাত করছি আমাদের খোঁজ কেউ নেয় না।’ কান্নাজড়িতকণ্ঠে মোমিনের বোন মেহেরুন্নাহারও বলেন একই কথা। শহীদ সৈনিক জহিরুল ইসলামের স্ত্রী ফারজানা আফরিন বলেন, ‘আমরা শুধু হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। এর বেশি আমাদের কোনও চাওয়া নেই।’ নিহত কর্নেল কিবরিয়ার ছোট ভাই জাফর আহমেদ বলেন, ‘শহীদ পরিবারের সদস্য হিসেবে আমরা বাকরুদ্ধ। আমরা বছরের পর বছর কষ্ট বুকে নিয়ে আছি। আর যেন কোনও শৃঙ্খলা বাহিনীতে এমন কোনও ঘটনা না ঘটে। আমরা যেন এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দেখতে পাই, এই আমাদের প্রত্যাশা।’
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে বারবার কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন নিহত কর্নেল কুদরত-ই-এলাহীর বাবা হাবীবুর রহমান। বলেন, ‘আল্লাহর কাছে বিচার চাই। আমার সন্তান সম্পূর্ণ নিরপরাধ ছিল। সন্তান হারিয়ে আমাদের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। এত কষ্ট আর সহ্য করতে পারি না।’
এদিকে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, ‘পিলখানা ট্রাজেডির ঘটনায় পলাতকদের খুঁজে বের করার জন্য কাজ করে যাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। খুঁজে বের করে তাদেরও বিচারের আওতায় আনা হবে।’ পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক সেনা প্রধান মাহবুবুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের জন্য এটি দুঃখের একটি দিন। এই ঘটনার এখনো বিচার চলছে। কিন্তু ঘটনার রহস্য এখনো উন্মোচিত হয়নি। মূল পরিকল্পনাকারী বা নেপথ্য নায়ক কে? তারা কোথায়? তাদের খুঁজে বের করে এই ঘটনার ‘শ্বেতপত্র’ প্রকাশের দাবি জানান তিনি।
বিডিয়ার বিদ্রোহে বাধা দিতে গিয়ে প্রাণ হারানো সুবেদার মেজর নুরুল ইসলামের পরিবার গত আড়াই বছরেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত প্লটটি পায়নি বলে অভিযোগ করেছেন নিহতের স্ত্রী সন্তান। তাঁরা বলছেন, বিদ্রোহে নিহত শহীদ সেনা সদস্যদের পরিবারের সদস্যরা প্লট পেয়েছেন বহু আগেই। গত আড়াই বছর ধরে আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় নুরুলের পরিবারের জন্য বরাদ্দ প্লটের ফাইলটি বন্দি হয়ে আছে ‘লাল ফিতায়’। এমন পরিস্থিতে কবে নাগাদ তারা এই প্লট বুঝে পাবেন তাও নিশ্চিত করতে পারেনি সংশ্লিষ্টরা।
বিডিআর বিদ্রোহে নির্মমভাবে নিহত শহীদ নুরুলের ছেলে আশরাফুল আলম হান্নান জানান, বিডিআর বিদ্রোহে ৫৭ সেনা কর্মকর্তা ছাড়াও বিডিআরের বেশকিছু সদস্য মারা যায়। এর মধ্যে তারা বাবাই সেনা অফিসারদের নির্মমভাবে হত্যার আগে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। সেই কারণে ঘাতক বিডিআর সদস্যরা তাকে নির্মমভাবে হত্যা করে। বিদ্রোহে বাধা দিতে প্রাণ হারানোয় ৫৭ সেনা সদস্যের পাশপাশি তার বাবা সুবেদার মেজর নুরুল ইসলামকেও শহীদ হিসেবে স্বীকৃতি দেন সরকার। বিডিআর বিদ্রোহে শহীদ পরিবারের জন্য সরকার প্লট বরাদ্দের ঘোষণার পর ইতোমধ্যে সবাই প্লট পেয়ে গেছেন।
৫৭ সেনা কর্মকর্তার পরিবারকে যে প্লট দেওয়া হয়েছে ওই প্লটের জায়গা প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ছিলো। কিন্তু তার বাবা ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের আওতাধীন। তাই সেখানে প্লট দেওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় বর্তমান বিজিবিকে লিখিতভাবে জানানো হলে বিষয়টি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অবগত করা হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গণপূর্ণ মন্ত্রণালয়কে একটি চিঠি দেয়। গণপূর্ণ মন্ত্রণালয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রালয়ের চিঠির প্রেক্ষিতে রাজউক চেয়ারম্যান বরাবার নির্দেশনা দিয়ে প্লট ব্যবস্থার নির্দেশ দিয়ে আদেশ পাঠান। কিন্তু গত আড়াই বছরও প্লট পাওয়া যায়নি।
হান্নান জানান, তাদের পরিবারকে প্লট ও ফ্ল্যাট সুযোগ দেওয়ার জন্য তৎকালীন উপসচিব শাহরিয়ার (প্রশা-২) স্বাক্ষরিত একটি চিঠি রাজউক চেয়ারম্যান বরাবর পাঠানো হয়। যার স্মারক নং প্রঃ শাঃ৬/রাজ-১৬/২০১৩/৩০৭। ১২ জুন ২০১৪ সালে পাঠানো ওই চিঠিতি ফ্যাক্সযোগ রাউজক পায় ১৬ জুন ২০১৪ সালে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে ২০১৩ সালের ২৪ নভেম্বর পাওয়া ৪৪,০০,০০০০.১১৬.৩৬.০০১.১২/৪২৫ নম্বর স্মারকের কথা চিঠিতে সূত্র হিসেবে উল্লেখ করে প্লট ও ফ্ল্যাট বরাদ্দের জন্য নির্দেশ মোতাবেক অনুরোধ করা হয়। চিঠির পর আমি ১০ থেকে ১২ বার রাজউক চেয়ারম্যানের সাথে সাক্ষাৎ করি। কিন্তু এখনো কোনো সুফল হয়নি।
সূত্রমতে,২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টায় তার মেজর নুরুল ইসলাম নাস্তা না করেই বাসা থেকে বেরিয়ে পড়েন ডিজিকে রিসিভ করার জন্য। এরপর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পিলখানায় গোলাগুলির পর থেকে নুরুল ইসলামের মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়। কিছুক্ষণ পর তার ছোট মেয়ে নাসরীন আক্তার ইতি এসএম কোয়ার্টারের দ্বিতীয় তলার বাসা থেকে দেখতে পায় চার মুখোশধারী জোয়ান তার বাবাকে কাঁধে তুলে নিয়ে যাচ্ছে।
শহীদ সুবেদার মেজর মো. নুরুল ইসলামের স্ত্রী আয়েশা বেগম জানান, বিডিআর বিদ্রোহে ৫৭ সেনা কর্মকর্তা শহীদ হন। সেনাদের বাঁচাতে তার স্বামী বিডিআর জওয়ানদের ঠেকাতে গিয়ে প্রাণ হারান। তার স্বামী অত্যন্ত সৎ ছিলেন। কর্মজীবনে তিনি ৪ বার ডিজি পদক পেয়েছিলেন। সৎ ও অসাধারণ কৃতিত্বের জন্য সরকার তাকে পবিত্র হজব্রত পালন করায়। স্বামী শহীদ হওয়ার পর তার সব আশা ভেঙে যায়। ৪ সন্তানের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে সর্বদাই তিনি মানসিকভাবে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত থাকেন।
আয়েশা বেগম জানান, শহীদ ৫৮ জনের মধ্যে ৫৭ শহীদ সেনা কর্মকর্তা প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী ৪ কাঠার প্লট বরাদ্দ পান। কিন্তু এখনো বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি।qij

Saturday, February 25, 2017

মাহমুদুর রহমানের সেমিনারে পুলিশের বাধা

দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে সেমিনারে প্রবন্ধ উপস্থাপন করতে দেয়নি পুলিশ। প্রবন্ধ উপস্থাপনের আগেই পুলিশের বাধায় সেমিনার বন্ধ হয়ে যায়। আজ শনিবার গুলশানের একটি সেন্টারে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছিল।
‘সীমান্ত হত্যা রাষ্ট্রের দায়’ শীর্ষক এ সেমিনারের আয়োজক ছিল ‘জনগণতান্ত্রিক আন্দোলন’ নামের একটি সংগঠন। এতে উপস্থাপক ছিলেন বিশিষ্ট কলামিস্ট ফরহাদ মজহার। সেমিনার মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনের কথা ছিল মাহমুদুর রহমানের।
সকাল ১০ টায় সেমিনার শুরুর সাথে সাথে গুলশান থানা পুলিশের এক কর্মকর্তা অনুষ্ঠানে গিয়ে তা বন্ধ করতে বলেন। তিনি জানান, অনুমতি না থাকায় এ সেমিনার করতে দেয়া যাবে না। তাই তা বন্ধ করতে হবে।
এরপর সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে মাহমুদুর রহমান বলেন, আজকের ঘটনা প্রমাণ করে দেশ পুলিশি রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। কারণ কোনো ঘরোয়া অনুষ্ঠনে পূর্বানুমতির প্রয়োজন হয় তা কখনো শুনিনি।
পরে উপস্থাপক ফরহাদ মজহার সবার কাছে ক্ষমা চেয়ে সেমিনারের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

গুরুত্বপূর্ণ ১০০ টি Translation! যা প্রায় পরীক্ষাতেই আসে।

০১. যার কোন গুণ নাই তার কপালে আগুন
= It is a pity, he is good for nothing.
০২. আপন গায়ে কুকুর রাজা।
= Every dog is a lion at home.
০৩. ডোল ভরা আশা আর কুলো ভরা ছাই।
= Extravagant hopes lead to complete disappointment.
০৪. নিজের পায়ে কুড়াল মারা ।
= To dig one’s own grave.
০৫. উঠন্ত মুলো পত্তনে চেনা যায় ।
= Morning shows the day.
০৬. উলুবনে মুক্তো ছড়ানো ।
= Pearls before swine.
০৭. উৎপাতের কড়ি চিৎপাতে যায়।
= Ill got, ill spent.
০৮. একবার না পারিলে দেখ শতবার ।
= If at first try you don’t succeed, try, try again!
০৯. কত হাতি গেল তল, মশা বলে কত জল ।
= Fools rush in where angels fear to tread.
১০. কম পানির মাছ বেশ পানিতে উঠলে ও মাছে বেশ লাফালাফি করে ।
= Being unnecessarily flashy is pointless
১১. কাঁটা দিয়ে কাঁটা তোলা ।
= Using a thorn to remove a thorn.
১২. কাটা ঘায়ে নুনের ছিটে ।
= To add insult to injury.
১৩. কানা গরুর ভিন্ন পথ ।
= The fool strays from the safe path.
১৪. কারও পৌষ মাস, কারও সর্বনাশ ।
= One’s harvest month, is another’s complete devastation.
১৫. বিপদ কখনও একা আসে না।
= Misfortune never comes alon.
১৬. আয়ের অধিক ব্যয় করো না।
= Do not live above your means.
১৭. কিনতে পাগল বেচতে ছাগল
= Necessity never makes a bargain.
১৮. কুকুরের পেটে ঘি মজে না।
= Habit is the second nature.
১৯. কুমিরের সঙ্গে বিবাদ করে জলে বাস
= It is hard to sit at Rome and strike with the Pope.
২০. ঘষতে ঘষতে পাথরও ক্ষয় হয়।
= Constant dripping wears out the stone.
২১. গাইতে গাইতে গায়েন
= Practice makes a man perfect.
২২. ঘরে পোড়া গরু সিঁদুরে মেঘ দেখলে ডরায়
= A burnt child dreads the fire.
২৩. গেঁয়ো যোগী ভিখ পায় না
= A prophet is not honoured in his own country.
২৪. অধীনতা অপেক্ষা মৃত্যু শ্রেয়
= Even death is preferable to bondage.
২৫. সে হাড়ে হাড়ে দুষ্ট
= He is wicked to the backbone.
২৬. ভাই ভাই ঠাঁই ঠাঁই
= Brothers will part.
২৭. ঘুঘু দেখেছ, ফাঁদ দেখ নি।
= You must not see things with half an eye.
২৮. চেনা বামুনের পৈতার দরকার হয় না।
= Good wine needs no bush.
২৯. চোখের আড়াল হলেই মনের আড়াল হয়।
= Out of sight, out of mind.
৩০. চোর পালালে বুদ্ধি বাড়ে।
= To lock the stable when the mare is stolen.
৩১. চোরা না শোনে ধর্মের কাহিনী।
= The devil would not listen to the scriptures.
৩২. চোরে চোরে মাসতুত ভাই।
= Birds of a feather flock together.
৩৩. টাকায় টাকা আনে।
= Money begets money.
৩৪. ঠাকুর ঘরে কেরে, অামি কলা খাই না।
= A guilty mind is always suspicious.
৩৫. গাছে কাঁঠাল গোঁফে তেল।
= To count one’s chickens before they are hatched.
৩৬. মরা হাতি লাখ টাকা।
= The very ruins of greatness are great.
৩৭. জলে কুমির ডাঙায় বাঘ।
= Between the devil and the deep sea.
৩৮. মশা মারতে কামান দাগা।
= To break a butterfly on a wheel.
৩৯. দুধ কলা দিয়ে কালসাপ পোষা।
= To cherish a serpent in one’s bossom.
৪০. এক মাঘে শীত যায় না
= One swallow does not make a summer.
৪১. এক হাতে তালি বাজে না
= It takes two to make a quarrel.
৪২. ওস্তাদের মার শেষ রাতে
= All’s well that ends well.
৪৩. কর্জ নাই, কষ্ট নাই
= Out of debt, out of danger.
৪৪. কত ধানে কত চাল বুঝবে
= you will know now what’s what.
৪৫. কাঁচায় না নোয়ালে বাঁশ পাকলে করে ট্যাশ ট্যাশ
= To strike the iron while it is hot.
৪৬. কারো পৌষ মাস কারো সর্বনাশ
= What is sport to the cat is death to the rat.
৪৭. কান টানলে মাথা আসে
= Given the one, the other will follow.
৪৮. অতি চালাকের গলায় দড়ি
= Too much cunning over reaches itself.
৪৯. অতি লোভে তাতি নষ্ট
= Grasp all,lose all.
৫০. ভাবিয়া করিও কাজ
= Look before you leap
৫১. অধিক সন্ন্যাসীতে গাজন নষ্ট
= Too many cooks spoil the broth
৫২. অতি ভক্তি চোরের লক্ষণ
= Too much courtesy, too much craft.
৫৩. অভাবে স্বভাব নষ্ট
= Necessity knows no law
৫৪. অতি দর্পে হত লংকা।
= Pride goes before its fall.
৫৫. আপনি বাঁচলে বাপের নাম
= Self preservation is the first law of nature.
৫৬. অহিংসা পরম ধর্ম
= Non-violence is a supreme virtue
৫৭. অসারের তর্জন গর্জনই সার
= Empty vessels sound much.
৫৮. আয় বুঝে ব্যয় কর
= Cut your coat according to your cloth.
৫৯. আসলের চেয়ে সুদ মিষ্টি
= Interest is sweeter than principal.
৬০. যেমন কর্ম তেমন ফল।
= As you sow, so you reap.
৬১. সততাই সর্বোৎকৃষ্ট পন্থা।
= Honesty is the best policy.
৬২. সব ভাল তার শেষ ভাল যার।
= All’s well that ends well.
৬৩. দশের লার্ঠি একের বোঝা।
= Many a little makes a mickle.
৬৪. বিপদ কখনো একা আসে না।
= Misfortune never comes alone.
৬৫. নাই মামার চেয়ে কানা মামা ভাল।
= Something is better than nothing.
৬৬. মানুষ মাত্রই ভুল করে।
= To err is human.
৬৭. সময়ের এক ফোঁড় অসময়ের দশ ফোঁড়।
= A stitch in time save nine.
৬৮. নাচতে না জানলে উঠান বাঁকা।
= A bad workman quarrels with his tools.
৬৯. উঠন্ত মুলো পত্তনেই চেনা যায়।
= Morning shows the day.
৭০. ভিক্ষার চাল কাঁড়া আকাঁড়া।
= Beggars must not be choosers.
৭১. ঢিলটি মারলে পাটকেলটি খেতে হয়।
= Tit for tat.
৭২. মন্ত্রের সাধন কিংব শরীর পতন।
= Do or die.
৭৩. বাপ কা বেট।
= Like father, like son.
৭৪. নানা মুনির না পথ।
= Many men, many minds.
৭৫ প্রয়োজনই আবিষ্কারের প্রসূতি।
= Necessity is the mother of invention.
৭৬. যত গর্জে তত বর্ষে না।
= Barking dogs seldom bite.
৭৭. যতক্ষণ শ্বাস ততক্ষণ আশ।
= While there is life there is hope.
৭৮. এক মাঘে শীত যায় না।
= One swallow doesn’t make a summer.
৭৯. টাকায় টাকা আনে।
= Money begets money
৮০. চকচক করলেই সোনা হয় না।
= All that glitters is not gold.
৮১. জোর যার মুলুক তার।
= Might is right
৮২. ইচ্ছা থাকলে উপায় হয়।
= Where there is a will, there is a way.
৮৩. চোরে চোরে মাসতুতো ভাই।
= Birds of the same feather flock together.
৮৪. গাছ তার ফলে পরিচয়।
= A tree is known by its fruits.
৮৫. চাচা আপন প্রাণ বাঁচা।
= Every one for himself.
৮৬. আয় বুঝে ব্যয় কর।
= Cut your coat according to your cloth.
৮৭. জ্ঞানই শক্তি।
= Knowledge is power.
৮৮. একতাই বল।
= Unity is strength.
৮৯. অল্প বিদ্যা ভয়ঙ্করী।
= A little learning is a dangerous thing.
৯০. অসময়ের বন্ধুই প্রকৃত বন্ধু।
= A friend in need is a friend indeed.
৯১. একতায় উত্থান, বিভেদে পতন।
= United we stand, divided we fail.
৯২. অপচয় করো না, অভাবও হবে না।
= Waste not, want not.
৯৩. অসারের তর্জন গর্জন স্যার।
= Empty vessel sounds much.
৯৪. আপন চরকায় তেল দাও।
= Oil your own machine.
৯৫. কষ্ট বিনা কেষ্ট মেলে না।
= No pains, no gains.
৯৬. কয়লা ধূলে ময়লা যায় না।
= Black will take no other hue.
৯৭. আপন ভাল তো জগত ভালো।
= To the pure all things are pure.
৯৮. উপদেশের চেয়ে দৃষ্টান্ত ভালো।
= Example is better than precept.
৯৯. এক হাতে তালি বাজে না।
= It takes two to make quarrel.
১০০. উদোর পিন্ডি বুদোর ঘাড়ে।
= One doth the scathe, another hath the scorn.

শয্যাশায়ী সমগ্র বাংলাদেশ ও তার সংস্কৃতি

মুফতি ফয়জুল্লাহ 
কোন পরিবারে কেউ মৃত্যুশয্যায় পতিত হলে সে পরিবারে দুশ্চিন্তার অন্ত থাকে না। অথচ এখন শয্যাশায়ী সমগ্র বাংলাদেশ ও তার সংস্কৃতি। বাংলাদেশের মুসলমানদের জন্য এটি এক বিপদজনক দিক। আগ্রাসী শত্রুর হামলার মুখে আজ অরক্ষিত দেশটির রাজনৈতিক সীমান্তু, প্রচন্ড ভাবে অরক্ষিত দেশের সাংস্কৃতিক ও আদর্শিক সীমান্তও। অসংখ্য আলেম, অনেক বুদ্ধিজীবী, বহু রাজনীতিক,শিক্ষাবিদ ও লেখক এ বিষয়টি নিয়ে ক্ষুদ্ধ, ক্রুদ্ধ ও উদ্বিগ্ন।
শত্রুর হামলার মুখে প্রতিরোধের দায়ভার প্রতিটি মুসলমানের, প্রতিটি আলেম, প্রতিটি শিক্ষক, প্রতিটি ছাত্র ও প্রতিটি নাগরিকের । এ লড়াই হতে হবে কোরআনী জ্ঞানের তরবারী দ্বারা। ইসলামে এটিও জিহাদ। জিহাদের অংশ হিসেবেই অনেকেই মুখ খুলেছেন, প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন।
আমাদের একচ্ছত্র মালিক মহান আল্লাহ।

দিবস উদযাপন : ইসলামী ঐতিহ্য ও ভাবধারা -

মাওলানা উবায়দুর রহমান

ইসলামী শরীয়তে কিছু নির্দিষ্ট বিশেষ দিবস ও রজনী রয়েছে। নির্দিষ্ট এ সময়গুলোর বাইরে আরও কোন দিবস তৈরী করা বা উদযাপন করার ব্যাপারে ইসলাম আমাদের উৎসাহিত করে না। কারণ, আমাদের ইতিহাস সাড়ে ১৪শ’ বছরের ইতিহাস। এখন ১৪৩৬ হিজরী চলমান। এর অর্থ হল আজ থেকে ১৪৩৬ বছর আগে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনায় হিজরত করেছেন। হিজরতের পূর্বে মক্কায় ১৩ বছর অবস্থান করেছেন। নবুওয়াতের পর হিজরতের আগের ১৩ বছরসহ আমাদের শরীয়তের ইতিহাস সাড়ে ১৪শ’ বছরের। এ দীর্ঘ সময়ে বহু এমন ঘটনা সংঘটিত হয়েছে যার প্রত্যেকটিই বিশেষ দিবসের দাবী রাখে। যেসব ঘটনা কেন্দ্র করে আমাদের দেশে দিবস উদযাপিত হয় এর চেয়ে বহুগুণ তাৎপর্যপূর্ণ ও মর্যাদাবান ঘটনা ইসলামের এ দীর্ঘ ইতিহাসে এত পরিমাণ বিদ্যমান রয়েছে যে, যার সবগুলোকে উদযাপন করা হলে বছরের ৩৬৫ দিনই দিবস উদযাপিত হবে।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জীবদ্দশায় কমপক্ষে একশ’টি ঘটনা অবশ্যই এমন পাওয়া যাবে যার প্রতিটি ভিন্ন ভিন্ন দিবস হতে পারে যেমন, রাসূলে করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্মদিবস, দুধমার নিকট যাওয়ার দিবস, বক্ষবিদারণ দিবস, মাতৃবিয়োগ দিবস, কাবা সংস্কার দিবস, হিলফুল ফুজুল প্রতিষ্ঠা দিবস, সিরিয়া গমন দিবস ও প্রত্যাবর্তন দিবস, হজরে আসওয়াদ স্থাপন দিবস, নবুওয়াতপ্রাপ্তি দিবস, আবু কুবাইসে ভাষণ প্রদান, মক্কার বিশিষ্ট নাগরিকদের বাড়িতে আমন্ত্রণ, ওকাজ মেলায় বক্তৃতা, তায়েফ গমন ও নির্যাতনের শিকার হওয়া, হযরত খাদিজা রাযি. এর মৃত্যু, চাচা আবু তালিবের মৃত্যু ইত্যাদি দিবস। হিজরতের দিবস, বদর, উহুদ, খন্দক যুদ্ধের দিবস, নামায, রোযা, জিহাদ ইত্যাদি ফরজ হওয়ার দিবস- এভাবে রাসূলের জীবদ্দশায়ই একশ ঘটনাকে কেন্দ্র করে একশ দিবস হয়ে যাবে। এরপর রাসূলের পর সাহাবায়ে কেরামের যুগেও বহু স্মরণীয় ঘটনা রয়েছে। যেমন, ইরাক ও ইরান বিজয়, সিরিয়া বিজয়, আমর ইবনুল আস রাযি. কর্তৃক মিসর বিজয়, উকবা ইবনে নাফে রাযি. কর্তৃক আফ্রিকার বিশাল অঞ্চল বিজয়, কুসাম বিন আব্বাস রাযি. কর্তৃক রাশিয়া বিজয়- এভাবে হিসেব করলে বহু বিজয় দিবস হবে শুধু সাহাবায়ে কেরামের যুগেই। এরপর উম্মাহর জীবনে কত যে বিজয় দিবস, স্বাধীনতা দিবস, শহীদ দিবস ও শোক দিবস পাওয়া যাবে তার কোন সীমা সরহদ নেই।
অপরদিকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ইন্তেকালের দিবস, হযরত আবূ বকর রাযি. এর মৃত্যুদিবস, হযরত উমর রাযি. এর শাহাদাত দিবস, উসমান রাযি. ও আলী রাযি. এর শাহাদাতের দিবস, ইমাম হুসাইন রাযি. এর শাহাদাত দিবস- এভাবে আরও অসংখ্য ঘটনা পাওয়া যাবে। এ দিনগুলো কি মুসলমানের পালনীয় দিবস হতে পারে না? এভাবে হিসেব করলে সাহাবাযুগের ঘটনা কেন্দ্র করেই আরও একশ’টি দিবস উদযাপন করা যাবে।
মুসলমানদের প্রায় সাড়ে ১৩শ’ বছরের ইতিহাসের বহু ঘটনাকে কেন্দ্র করে দিবস উদযাপিত হতে পারে। শুধু আমাদের ভারতবর্ষের ইতিহাসেই একশ’টি দিবস হতে পারে। এর বাইরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মুসলমানদের ইতিহাস থেকে আর ৬৫টি দিবস অনায়াসেই বাছাই করা যাবে। বুঝা গেল, দিবস উদযাপন করা হলে ইসলামের সুদীর্ঘ সাড়ে ১৪শ’ বছরের ইতিহাসের আলোকে বছরের ৩৬৫ দিনই কোন না কোন দিবস উদযাপন করতে হবে।
এবার ভেবে দেখি, যদি বছরের ৩৬৫ দিনই বিশেষ দিবস উদযাপিত হয় আর এর প্রতিটিতেই আমাদের ছুটি থাকে তাহলে কী অবস্থা হবে। দিবস পালন করা হলে একটিকে বাদ দিয়ে অপরটি পালন করার সুযোগ কোথায়? এর একটিও তো অন্যটির তুলনায় কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। মনে রাখতে হবে, ইসলাম একটি প্রগতিশীল ও জীবনবাদী ধর্ম। এখানে কাজ বন্ধ রেখে শুধু উৎসব-আনন্দ বা শোকতাপ-কান্নাকাটি করার কোন সুযোগ নেই। ৩৬৫ দিনই গুরুত্বপূর্ণ দিবস রয়েছে তাই বলে কি ৩৬৫ দিনই কাজ বন্ধ রাখব? ইসলামের কনসেপট হল, কোন দিবস নেই। যেদিন আপনার পিতা মারা গেলেন সেদিন কি আপনার জন্য জোহরের নামাজ মাফ? কেউ কি বলবে- থাক ওর বাবা মারা গেছে আজ নামাজ না পড়ুক। কোনদিন যদি বাংলাদেশে প্রচণ্ড ঝড় তুফানে সব লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় তাহলে ঐ দিন কি এশার নামাজ মাফ? পরের দিন কি ফজরের আযান হবে না? ইসলামে আনন্দ উৎসবের দিনেও ইবাদতে বিঘ্ন ঘটার সুযোগ রাখা হয়নি। ঈদের দিনে ফরজ নামাজগুলো পড়তে হবে না, এমন তো নয়। বরং উৎসব উপলক্ষে ঈদের আরো দুই রাকাত ওয়াজিব নামায মহানন্দে আদায়ের বিধান রাখা হয়েছে। বান্দার জন্য আল্লাহর ইবাদতে নিমগ্ন হওয়ার চেয়ে বেশি আনন্দের আর কিছুই হতে পারে না।
যারা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্মদিবস পালন করেন না তাদের যুক্তি হল, ইসলামের দৃষ্টিতে যদি তা পালনীয় হত তাহলে সাহাবায়ে কেরাম তা পালন করতেন। সাহাবায়ে কেরামের চেয়ে নবীকে কে বেশি ভালোবাসে? তাঁরা রাসূলের জন্য নিজেদের জীবন বিসর্জন দিয়েছেন, সকল সম্পত্তি দান করে পরম ধন্য ও আনন্দিত হয়েছেন, জিহাদের ময়দানে রাসূলকে তীরের আঘাত থেকে রক্ষা করতে বুক পেতে দিয়েছেন, আঘাতে আঘাতে জর্জরিত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে দেখা গেছে তাঁদের শরীরে অসংখ্য তীরের আঘাত। যে মানুষগুলো রাসূলকে এতো ভালোবাসতেন তারা কেন রাসূলের জন্মদিবসে উৎসব করেননি। রাসূল তো ৬৩ বছর দুনিয়ার জিন্দেগিতে ছিলেন, একদিনও তো বললেন না তোমরা আমার জন্মদিনে উৎসব কর, মিছিল কর। ইসলামে দিবস পালন স্বীকৃত নয় তাই সাহাবায়ে কেরাম এসব পালন করেননি।
আমাদের সাপ্তাহিক ছুটির দিন জুমার দিন। এ দিনে কি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ মাফ? না, বরং এদিনে কাজ আরও বেশি। ফজরের পর থেকেই জুমার প্রস্তুতি নিতে হয়। অন্যদিনের জোহরের নামাজ প্রয়োজনে ঘরে পড়ে নেয়া যায় কিন্তু জুমার দিন মসজিদে উপস্থিত হয়ে নামাজ আদায় করতে হয়। কোরআনে কারীমে আল্লাহ তাআলা বলেন-
ﯾٰۤﺎَﯾُّﻬَﺎ ﺍﻟَّﺬِﯾْﻦَ ﺍٰﻣَﻨُﻮْۤﺍ ﺍِﺫَﺍ ﻧُﻮْﺩِﯼَ ﻟِﻠﺼَّﻠٰﻮۃِ ﻣِﻦْ ﯾَّﻮْﻡِ ﺍﻟْﺠُﻤُﻌَۃِ ﻓَﺎﺳْﻌَﻮْﺍ ﺍِﻟٰﯽ ﺫِﻛْﺮِ ﺍﻟﻠﻪِ ﻭَ ﺫَﺭُﻭﺍ ﺍﻟْﺒَﯿْﻊَ ؕ
ওহে যারা ঈমান এনেছ! যখন জুমার নামাযের আযান হয় তখন আল্লাহর যিকিরের উদ্দেশ্যে দ্রুত অগ্রসর হও। ব্যবসা বাণিজ্য তথা পার্থিব কাজ-কারবার বন্ধ কর।
জুমার দিনে আযানের সঙ্গে সঙ্গেই মসজিদের দিকে দ্রুত অগ্রসর হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দারুল উলূম দেওবন্দের প্রথম নিদর্শন শাইখুল হিন্দ মাওলানা মাহমুদুল হাসান দেওবন্দী রহ.। জুমার দিনে তাঁকে দেখা যেত- তিনি গোসল করে কাপড় ধুয়ে দিতেন। তাঁদের জীবন অত্যন্ত সাদাসিধা ছিল। এক কাপড়েই জীবন কাটাতেন। যে কাপড়টি ধুয়ে দিলেন তা পরিধান করেই জুমা আদায় করতে যাবেন। জুমার ওয়াক্ত শুরু হলেই দেখা যেত- তিনি লুঙ্গি গায়ে মসজিদের দিকে ছুটছেন, ভেজা পাঞ্জাবী তার কাঁধে অথবা লাঠিতে ঝুলানো। লোকেরা এর কারণ জিজ্ঞেস করলে বললেন- জুমার আযানের সঙ্গে সঙ্গে মসজিদে ছুটে যাওয়ার প্রতি আল্লাহ তাআলা সরাসরি নির্দেশ দিয়েছেন। বলেছেন- ﻓَﺎﺳْﻌَﻮْﺍ ﺍِﻟٰﯽ ﺫِﻛْﺮِ ﺍﻟﻠﻪِ অর্থাৎ আল্লাহর যিকিরের উদ্দেশ্যে দ্রুত অগ্রসর হও।
আমি আল্লাহর নির্দেশ পালনার্থে আযানের সঙ্গে সঙ্গে মসজিদের দিকে ছুটতে থাকি।
যে জুমার দিন আমাদের সাপ্তাহিক ছুটি সেদিনও মূলত কাজ বন্ধ নেই; বরং অতিরিক্ত কাজ রয়েছে। আর শুক্রবার দিন আমাদের ছুটির দিন এটাও পুরোপুরি ঠিক বলে মনে হয় না। আসলে শুক্রবারে কাজ বন্ধ ও ছুটি বলতে জুমার নামাযের জন্য বন্ধ। আযান হলে কাজ বন্ধ থাকবে, নামাজ শেষ হয়ে গেলে সকলেই নিজ নিজ কাজে ফিরে যাবে। বলা হয়েছে-
ﻓَﺎِﺫَﺍ ﻗُﻀِﯿَﺖِ ﺍﻟﺼَّﻠٰﻮۃُ ﻓَﺎﻧْﺘَﺸِﺮُﻭْﺍ ﻓِﯽ ﺍﻟْﺎَﺭْﺽِ ﻭَ ﺍﺑْﺘَﻐُﻮْﺍ ﻣِﻦْ ﻓَﻀْﻞِ ﺍﻟﻠﻪِ
জুমার নামায আদায় হয়ে গেলে তোমরা তোমাদের কাজে যমিনে ছড়িয়ে পড় এবং আল্লাহর অনুগ্রহ তালাশ কর। সূরা জুমা :
এজন্য আমাদের আকাবেরদের কারো কারো জীবনীতে পাওয়া যায়, তারা জুমার পর কোন কাজে বেরিয়ে পড়তেন। তারা আল্লাহ তাআলার নির্দেশ পালনের জন্য এমনটি করতেন।
বুঝা গেল, আমাদের বিশেষ দিবসে ছুটির পরিমাণ এতটুকু, কয়েক ঘণ্টামাত্র। আর এ বন্ধ বা ছুটি তো আমাদের কাজ আরও ভালোভাবে করার জন্যই, বেশি কাজের জন্য। যেমন, ১০ই মুহাররম একটি বিশেষ দিন। এদিনে অন্যান্য ইবাদত বন্দেগীর পাশাপাশি বাড়তি আরেকটি ইবাদতের কথা বলা হয়েছে। তা হল, রোযা রাখা। ফরজ রোযার পর সবচেয়ে ফজীলতপূর্ণ রোযা হল, মুহাররম মাসের রোযা। হাদীস শরীফে ১০ই মুহাররমের আগে বা পরে একদিন মিলিয়ে রোযা রাখার কথা এসেছে। ১০ তারিখের আগে বা পরে আরেকটি রোযা রাখার কারণ হিসাবে বলা হয়েছে, ইহুদীদের বিপরীত কর। তারা একদিন রোযা রাখে তোমরা দু’দিন রাখ। এখানে অন্য জাতির সাথে ইবাদতের ক্ষেত্রেও বৈপরিত্ব ধরে রাখার নীতি লক্ষণীয়। বর্তমানে মুসলমানদের মনগড়া উৎসব আয়োজনেও দেখা যায়, সংস্কৃতির নামে ভিন্নজাতির অনুকরণ।
মূল কথা হল, আমাদের মনে ইসলামের এই কনসেপ্ট তথা ধারনা ও বিশ্বাস নির্মাণ করতে হবে যে, ইসলামে কোন দিবস পালনের কথা নেই। তবে কোন রাষ্ট্র বা সমাজে যদি কোন দিবস প্রচলিত থাকে যা দেশের নাগরিকরা পালন করে তবে তা আমরা ততটুকু পালন করব যতটুকু আমাদের শরীয়ত অনুমোদন করে। আর তা-ও পালন করব আমাদের মতো করে। কোন দিবস বা বিশেষ দিনে যেমন মসজিদের আযান বন্ধ থাকে না তেমনি আমাদের দ্বীনি শিক্ষাও বন্ধ থাকবে না। আমাদের কওমি মাদরাসার ইতিহাসে এমন ঘটনা নেই। কারণ, কওমি মাদরাসা কোন স্কুল, কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয় নয়, কাওমি মাদরাসাগুলো ইবাদতখানা। এসব কেবল দরসগাহ নয়, তরবিয়তগাহ্, খানকাহ্ ও ইবাদতগাহ্ও বটে। বছরের কোন একটি দিনে যেমন মসজিদে যাওয়া বন্ধ হয় না তেমনি আমাদের মাদরাসার কুরআন তিলাওয়াত ও হাদীসের পাঠও বন্ধ হবে না। কোন দেশের সংস্কৃতি ও নিয়ম-কানুন শরীয়ত পরিপন্থী না হলে পালন করতে নিষেধ নেই। তবে মুসলামান পৃথিবীর যে দেশ ও সমাজেই বসবাস করুক না কেন শরীয়তবিরোধী বিশ্বাস, কর্ম বা সংস্কৃতিতে অংশগ্রহণ তার জন্য বৈধ নয়। এমন কোন রীতি-ঐতিহ্য পালনও তার জন্য জায়েয নয় যা ইসলামের দৃষ্টিতে গুনাহের কাজ।

কান্ডারী হুশিয়ার! - কাজী নজরুল ইসলাম


- কাজী নজরুল ইসলাম

দুর্গম গিরি, কান্তার-মরু, দুস্তর পারাবার
লঙ্ঘিতে হবে রাত্রি-নিশীথে, যাত্রীরা হুশিয়ার!
:
দুলিতেছে তরি, ফুলিতেছে জল, ভুলিতেছে মাঝি পথ,
ছিঁড়িয়াছে পাল, কে ধরিবে হাল, আছে কার হিম্মৎ?
কে আছ জোয়ান হও আগুয়ান হাঁকিছে ভবিষ্যৎ।
এ তুফান ভারী, দিতে হবে পাড়ি, নিতে হবে তরী পার।
:
তিমির রাত্রি, মাতৃমন্ত্রী সান্ত্রীরা সাবধান!
যুগ-যুগান্ত সঞ্চিত ব্যথা ঘোষিয়াছে অভিযান।
ফেনাইয়া উঠে বঞ্চিত বুকে পুঞ্জিত অভিমান,
ইহাদের পথে নিতে হবে সাথে, দিতে হবে অধিকার।
:
অসহায় জাতি মরিছে ডুবিয়া, জানে না সন্তরন
কান্ডারী! আজ দেখিব তোমার মাতৃমুক্তি পন।
হিন্দু না ওরা মুসলিম? ওই জিজ্ঞাসে কোন জন?
কান্ডারী! বল, ডুবিছে মানুষ, সন্তান মোর মার
:
গিরি সংকট, ভীরু যাত্রীরা গুরু গরজায় বাজ,
পশ্চাৎ-পথ-যাত্রীর মনে সন্দেহ জাগে আজ!
কান্ডারী! তুমি ভুলিবে কি পথ? ত্যজিবে কি পথ-মাঝ?
করে হানাহানি, তবু চলো টানি, নিয়াছ যে মহাভার!
:
কান্ডারী! তব সম্মুখে ঐ পলাশীর প্রান্তর,
বাঙালীর খুনে লাল হল যেথা ক্লাইভের খঞ্জর!
ঐ গঙ্গায় ডুবিয়াছে হায়, ভারতের দিবাকর!
উদিবে সে রবি আমাদেরি খুনে রাঙিয়া পূনর্বার।
:
ফাঁসির মঞ্চে গেয়ে গেল যারা জীবনের জয়গান,
আসি অলক্ষ্যে দাঁড়ায়েছে তারা, দিবে কোন্ বলিদান
আজি পরীক্ষা, জাতির অথবা জাতের করিবে ত্রাণ?
দুলিতেছে তরী, ফুলিতেছে জল, কান্ডারী হুশিয়ার!

কারার ঐ লৌহ-কপাট - কাজী নজরুল ইসলাম---ভাঙ্গার গান

- কাজী নজরুল ইসলাম

কারার ঐ লৌহকপাট,
ভেঙ্গে ফেল, কর রে লোপাট,
রক্ত-জমাট
শিকল পূজার পাষাণ-বেদী।
ওরে ও তরুণ ঈশান!
বাজা তোর প্রলয় বিষাণ!
ধ্বংস নিশান
উড়ুক প্রাচীর প্রাচীর ভেদি।

গাজনের বাজনা বাজা!
কে মালিক? কে সে রাজা?
কে দেয় সাজা
মুক্ত স্বাধীন সত্যকে রে?
হা হা হা পায় যে হাসি,
ভগবান পরবে ফাঁসি!
সর্বনাশী
শিখায় এ হীন তথ্য কে রে!

ওরে ও পাগলা ভোলা!
দে রে দে প্রলয় দোলা
গারদগুলা
জোরসে ধরে হেচ্কা টানে!
মার হাঁক হায়দারী হাঁক,
কাধে নে দুন্দুভি ঢাক
ডাক ওরে ডাক,
মৃত্যুকে ডাক জীবন পানে!

নাচে ওই কালবোশাখী,
কাটাবী কাল বসে কি?
দে রে দেখি
ভীম কারার ঐ ভিত্তি নাড়ি!
লাথি মার, ভাঙ্গরে তালা!
যত সব বন্দী শালায়-
আগুন-জ্বালা,
-জ্বালা, ফেল উপাড়ি।।

আবার ফিরে এলো শোকাবহ ও ভয়াবহ সেই ২৫ ফেব্রুয়ারি


উমর ফারুক আলহাদী : আবার ফিরে এলো শোকাবহ ও ভয়াবহ সেই ২৫ ফেব্রুয়ারি। যা বাংলাদেশের ইতিহাসের এক কলঙ্কময় দিন। দেশের ইতিহাসে জঘন্যতম এ কালো দিনটিকে পিলখানা ট্রাজেডি হিসাবেও দেখে থাকেন অনেকেই। ২০০৯ সালের এই দিন ঢাকার পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহের নাটক মঞ্চস্থ করে বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার অতন্দ্র প্রহরী দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীকে ধ্বংস করে বাংলাদেশকে একটি অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত করার চক্রান্ত শুরু হয়েছিল। কিন্তু সরকার তা রুখে দিয়ে দেশকে রক্ষা করতে পারলেও প্রাণ দিতে হয়েছে ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাকে। ষড়যন্ত্রকারীদের ষড়যন্ত্রে বাংলাদেশের দীর্ঘ প্রায় ২০০ বছরের ঐতিহাসিক বিডিআরের চেতনাকে ধ্বংস করেছে। ১৯৭১’র মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় ২৩ মার্চ যে বাহিনী প্রথম স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেছিল সেই বাহিনীকে করেছে কলংকিত। শুধু বাংলাদেশ নয়, পৃথিবীর ইতিহাসে এতজন সেনাকর্মকর্তাকে হত্যা করার ঘটনা বিরল। এ নারকীয় হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে ২৫ ফেব্রুয়ারী পিলখানায়। তবে সরকার বিডিআর বিদ্রোহের ওই ঘটনাটিকে ‘পিলখানা হত্যা দিবস’ হিসেবে প্রতি বছর পালন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং তা পালন করছে। দিবসটি পালন উপলক্ষে সরকারের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে বিভিন্ন কর্মসূচি। স্বজন হারানোর বেদনা এবং সেই দুর্বিষহ যন্ত্রণার স্মৃতি বুকে ধারণ করে আজো নিহত সেনা কর্মকর্তাদের পরিবারগুলো কেঁদে বেড়াছেন। নিহতদের স্ত্রী সন্তানেরা বয়ে বেড়াচ্ছেন চিরতরে হারিয়ে যাওয়া প্রিয় মানুষটির স্মৃতি। তাঁদের হৃদয়ের রক্ত ক্ষরণ আজো বন্ধ হয়নি। পিতা হারা সন্তান আজো ঘুমের ভেতর কান্নায় ভেঙে পড়েন। নিহত সেনা কর্মকর্তাদের পরিবারের কয়েকজন সদস্যের সাথে কথা বলেন এমনটি জানা গেছে। ২০০৯ সালের এই দিনে রাজধানীর পিলখানায় বিজিবি সদর দফতরের ভেতরে এক লোমহর্ষক মর্মান্তিক ঘটনায় ৫৭ জন মেধাবী সেনা কর্মকর্তার প্রাণ হারান। পিলখানায় পরিণত হয় এক রক্তাক্ত ভয়ানক হত্যাকান্ডে। ওই নারকীয় হত্যাকান্ডের ঘটনার পর পিলখানা থেকে আবিষ্কৃত হয় গণকবর। গণকবর থেকে উদ্ধার করা হয় সেনা কর্মকর্তাদের লাশ।

২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি সকাল ৯ টা ২৭ মিনিট। দরবার হলে চলমান বার্ষিক দরবারে একদল বিদ্রোহী বিডিআর সৈনিক ঢুকে মহাপরিচালকের বুকে আগ্নেয়াস্ত্র তাক করেন। বিডিআরের বিদ্রোহী সৈনিকরা আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং সেনা কর্মকর্তাদের হত্যা করে। এখানেই ঘটনার শেষ নয়, তাদের পরিবারকে জিম্মি করে ফেলেন। চারটি প্রবেশ গেটেই নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আশেপাশের এলাকায় গুলি ছুঁড়তে থাকে। জন্ম নেয় এক বীভৎস ও আতঙ্কে সেদিন গুলির শব্দ আর রক্তের বন্যা বয়ে যায় ওই ঘটনায়। বিদ্রোহের এ ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় বিশেষ আদালত ১৫২ জনকে ফাঁসি, ১৬১ জনের যাবজ্জীবন কারাদন্ড ও ২৬৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা প্রদান করেন। ২৭১ জনকে খালাস দেয়া হয়েছে। কিন্তু ভয়ঙ্কর দিনটির কথা আজো ভুলতে পারেননি নিহতদের স্বজনসহ দেশবাসী। ওই ঘটনায় ৫৭ জন মেধাবী সেনা কর্মকর্তা ছাড়াও একজন সৈনিক, দুইজন সেনা কর্মকর্তার স্ত্রী, ৯ জন বিডিআর সদস্য ও ৫ জন বেসামরিক ব্যক্তি প্রাণ হারাণ। পিলখানায় এ বিদ্রোহের ঘটনায় বিডিআরের সাংগঠনিক কাঠামো ভেঙে যায়। শুরু হয় বিডিআরকে পুনর্গঠনের কাজ। বিডিআরের নাম, পোশাক, লোগো, সাংগঠনিক কাঠামো, পদোন্নতি ইত্যাদি ব্যাপার পুনর্গঠন করে নতুন নামে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) জন্ম হয়।

এদিকে গতকালও প্রতিবছরের মতো এবারো মেজর মো. মিজানুর রহমানের কবরের সামনে বসে অঝোর ধারায় কাঁদলেন সত্তর ছুঁই ছুঁই কোহিনূর বেগম ও বাবা আবদুল খালেক। নাতি ফারদিন রহমান সামীর কাঁধে হাত রেখে বিলাপ করে বলে যাচ্ছিলেন, তোমার ছেলেদের আমি আঁকড়ে ধরে আছি বাবা। যতদিন বাঁচি আমি দেখব। তোমাকে দেখতে বড় বেশি ইচ্ছে করে। তিনি জানান, মিজানুরের স্ত্রী রোজী পিলখানা হত্যাকান্ডের ৮ মাস আগে মারা গেছেন। ২ ছেলে-তাহসীন রহমান রামী ও ফারদিন রহমান সামী ছিল মিজানুরের বাঁচার একমাত্র অবলম্বন। কিন্তু তিনিও অকালে চলে গেলেন। পিতার কথা স্মরণ হলেই সামী ও রামী আজো বনানী কবরস্থানে ছুটে যান। তাদের চোখের পানি দেখে প্রতিবেশীরা চোখের পানি ধরে রাখতে পারেন না।

নিহত মেজর মোহাম্মদ মমিনুল ইসলাম সরদারের বৃদ্ধ বাবা মফিজুল ইসলাম সরকার। তিনি বলেন, রাতে আমি ঘুমাতে পারি না। ছেলের মেধা ও বুদ্ধিমত্তা নিয়ে মফিজুল ইসলাম সরকার চোখ মুছতে মুছতে বলেন, আমার ছেলে ছোটবেলা থেকেই মেধাবী ছিল। সেনাবাহিনীতে সবাই তাকে ডিকশনারি মমিন বলে ডাকত। এই নামেই একবারে সবাই চিনত। অক্সফোর্ড ডিকশনারি তার মুখস্থ ছিল। কেউ কোনো কিছু জানতে চাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে উত্তর দিয়ে দিত। আমার ছেলে অনেক ভালো মানুষ ছিল।

নিহত মেজর মমিনুলের বড় বোন নুরজাহার চৌধুরী জানান, মমিনুল ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন ব্যাচমেট সানজানা সরকার সোনিয়াকে। তাদের এক কন্যা সন্তান রয়েছে। মমিনুলের মৃত্যুর পর সরকারের সব ধরনের আর্থিক সহায়তা পায় সোনিয়া ও তার মেয়ে সাদাকাত। বাবা-মা কোনো সহযোগিতা পায়নি। ছোট ভাইয়ের স্মৃতি আউড়ে নুরজাহান জানান, খাগড়াছড়িতে মমিনুলের পোস্টিং ছিল। সে ছিল একজন কমান্ডো। ফেব্রুয়ারি মাসের ৬ তারিখ তাকে পিলখানায় বদলি করা হয়। বিডিআর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদের সঙ্গেই থাকতে হতো। ঘটনার দিনেও দরবারে তার সঙ্গে ছিল। আমরা পরে জানতে পেরেছি, শাকিল আহমেদের সঙ্গেই তাকে হত্যা করা হয়।

এদিকে এ দিনটি উপলক্ষে গতকাল জুম্মাবার পিলখানায় নিহত বিডিআর (বর্তমানে বিজিবি) সদস্যদের স্মরণে দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. মোহসিন রেজা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছেন। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ২৫ ফেব্রুয়ারি শহীদ ব্যক্তিবর্গের রুহের মাগফিরাতের উদ্দেশ্যে বিজিবির সব রিজিয়ন, সেক্টর, প্রতিষ্ঠান ও ইউনিটের ব্যবস্থাপনায় বাদ ফজর খতমে কোরআন এবং বিওপি পর্যায়ে দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হবে।

শনিবার সকাল ৯ টায় বনানী সামরিক কবরস্থানে নিহত সেনা কর্মকর্তাদের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হবে। প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর প্রতিনিধি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, তিন বাহিনীর প্রধান, স্বরাষ্ট্র সচিব এবং বিজিবি মহাপরিচালক শহীদদের স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। এছাড়া শহীদদের স্মরণে আজ বাদ আসর পিলখানার বীর উত্তম ফজলুর রহমান খন্দকার মিলনায়তনে মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।

www.dailyinqilab.com/article/66321/স্বজনদের-চোখের-পানি-থামেনি-এখনো

Friday, February 24, 2017

গ্রিক দেবীর মূর্তি অপসারণের দাবিতে হেফাজতের সান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ


সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে স্থাপন করা গ্রিক দেবীর মূর্তি অপসারণের দাবি হেফাজতে ইসলামের হাজার হাজার সমর্থক শুক্রবার ঢাকায় বিক্ষোভ করেছে।
ঢাকার বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ প্রাঙ্গনের বাইরে জুমার নামাজের পর এই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।
হেফাজত নেতারা সমাবেশে হুমকি দিয়েছেন যে সুপ্রিম কোর্ট চত্বর থেকে মূর্তিটি অপসারণ করা না হলে 'শাপলা চত্বরের মতো পরিস্থিতি' তৈরি হতে পারে।
সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে স্থাপন করা এই মূর্তি নিয়ে গত কিছুদিন ধরেই হেফাজতে ইসলামসহ কয়েকটি দল আপত্তি জানিয়ে আসছিল। কিন্তু এই প্রথম ঢাকায় এরকম বড় কোনো সমাবেশ থেকে দলটি গ্রিক দেবীর মূর্তি অপসারণের জন্য সরকারকে কড়া হুঁশিয়ারি দেয়া হলো।
শুক্রবার জুমার নামাজের আগে থেকেই বায়তুল মোকাররম চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমর্থকরা জড়ো হতে শুরু করেন।
জুমার নামাজের পর হেফাজতে ইসলামের প্রতিবাদ সমাবেশ শুরু হয়। সেখানে সংগঠনের নেতা নুর হোসেন কাশেমিসহ অনেকে বক্তব্য দেন।
সুপ্রিম কোর্ট চত্বর থেকে গ্রিক দেবীর মূর্তি অপসারণের দাবি জানিয়ে তারা বলেন, সুপ্রিম কোর্ট সবার প্রতিষ্ঠান। কাজেই সেখানে এরকম মূর্তি স্থাপন করা যাবে না।
হেফাজত নেতারা বলেছেন, মূর্তি অপসারণের দাবিতে তাদের কর্মসূচি শুরু হলো মাত্র। সরকার যদি তাদের দাবি না মানে তাহলে শাপলা চত্বরের মতো পরিস্থিতি তৈরি হবে বলে হুমকি দেন সংগঠনের নীচের স্তরের কয়েকজন নেতা।
সমাবেশ শেষে কড়া পুলিশ পাহারায় হেফাজতে ইসলামের একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়।

আবার যুদ্ধ হবে...

কবি মহিব খান


যদি আমার দেশের সীমানা বন্ধু মুছে
দিতে কেউ চায়,
যদি আমার মাটির ধন-সম্পদ লুটে নিতে
কেউ চায়,
যদি আমার সাগরে আমার পাহাড়ে
ভেড়ায় লোভের চোখ,
আমি প্রতিবাদে জ্বলে উঠবোই তবে
যা হবার তাই হোক,
এই শান্ত সবুজ পতাকায় যদি পড়ে শকুনের
থাবা,
এই সুপ্ত বারুদ জাতি নিয়ে ফের খেলে
যদি কেউ দাবা,
কোটি মানুষের প্রাণের কুটিরে
আগ্রাসনের হাত যদি কেউ বাড়ায় তবে
............
আবার যুদ্ধ হবে... আবার যুদ্ধ হবে...
আবার যুদ্ধ হবে... আবার যুদ্ধ হবে... (২)
যদি ষড়যন্ত্রের জাল ফেলে কেউ আমার
দেশকে ঘিরে,
রেসকোর্সের তপ্ত ভাষণ আবার আসবে
ফিরে।
দুশমন যদি খর্গ চালায় নকল বন্ধু সেজে,
কালুরঘাটের দৃপ্ত ঘোষণা আবার উঠবে
বেজে।
সেই স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্র
আবার গর্জে উঠবে।
আর বাংলা মাটির সূর্যসেনারা
রাইফেল হাতে ছুটবে।
হোক নমস কিংবা নভোচর, জাতি জীবন
মরণ লড়াই করে
মুক্ত রবে....
আবার যুদ্ধ হবে… আবার যুদ্ধ হবে
আবার যুদ্ধ হবে… আবার যুদ্ধ হবে...(২)
যদি ইটপাথরের দুর্গ দেয়াল ভেঙ্গে
ভেঙ্গে যায় পড়ে
শহীদ তিতুর বাঁশের কেল্লা আবার
তুলবো গড়ে
যদি রক্তের নদী পেরিয়ে আবার নতুন
রক্ত ঝরে,
সেই ভাঙ্গা কেল্লায় উড়াবো নিশাণ
আবার নতুন করে।
এই মুসলমানের অভয়ারন্যে কাউকে
দিবোনা ঢুকতে,
মোরা পাথরের নয় পাজরের বাঁধ গড়বো
তাদের রুখতে
কোন তাবেদার কোন গাদ্দার যদি মীর
জাফরের সেই কালোপথ মাড়ায় তবে....
আবার যুদ্ধ হবে...আবার যুদ্ধ হবে…
আবার যুদ্ধ হবে...আবার যুদ্ধ হবে… (২)
মোরা পৃথিবীর কোন পরাশক্তির
মানিনা খবরদারী
কোন শৃঙ্খল , কোন অবরোধ , কোন হুমকি
বা হুশিয়ারী
এই পৃথিবীর বুকে বন্ধু সবাই , প্রভু নয় কেউ
কারো
দখল শোষণ উৎপীড়নের সব পাঁয়তারা
ছাড়ো
মোদের ইতিহাস আছে সম্মান আছে, না
থাক বস্ত্র অন্ন
এই দেশের জন্য লড়েছি আমরা, মরেছি
ভাষার জন্য
যদি জলস্থল কিবা অন্তরিক্ষে কেউ
আমাদের বাঁধার শিকল পড়ায় তবে.......
আবার যুদ্ধ হবে... আবার যুদ্ধ হবে...
আবার যুদ্ধ হবে... আবার যুদ্ধ হবে...(২)
কথা ও সুরঃ মুহিব খান
এলবামঃ "আবার যুদ্ধ হবে"

★ সমাপ্ত ★

জনগন নীরব জুলুমের শিকার

লাবিব আব্দুল্লাহ 

গ্যাস হবে 950 টাকা!
বাড়ছে বাসা ভাড়া৷ বাড়ছে সবকিছু কিন্তু
কওমী মাদরাসার শিক্ষকের. বেতন বাড়ছে না
এক টাকাও৷ ইমাম মুআজ্জিনদেরও বেতন ভাতার কোনো নিয়মনীতি নেই৷ নেই ইনক্রিমেন্টের যথাযথ ব্যবস্থা৷ নেই যথাযথ স্কেল৷
কী হবে আগামী দিনে কওমী মাদরাসার শিক্ষদের? ইমাম মুআজ্জিনের?
বিকল্প উপার্জনের চিন্তা না করলে কঠিন হবে কওমী শিক্ষকদের আগামী দিন৷
সম্মানজনক জীবনের জন্য ব্যবসা বাণিজ্যের ফিকিক করতে হবে৷
কওমী মাদরাসাগুলোতে শিক্ষকতায় আসবে না মেধাবীরা যদি বেতন ভাতার যথাযথ ব্যবস্থা না করা হয়৷ যদিও আবেগে শুরু করবে কিন্তু টিকতে পারবে না বেশী দিন৷
সমস্যা থেকে উত্তরণ সম্ভব যদি যৌথ চিন্তা করা হয়৷
শুধু কালেকশন নির্ভর জীবন সম্মানজনক নয়৷
বিকল্প অর্থনৈতিক চিন্তা করতে হবে ব্যাক্তিগত বা প্রাতিষ্ঠানিক৷
সরকার গ্যাসের দাম বাড়াচ্ছে বার বার৷ গরীবের প্রতি কোনো সহমর্মিতা নেই৷ সহমর্মিতা নেই আমজনতা প্রতি৷ জনগন নীরব জুলুমের শিকার৷

জুলম কিন্তু অন্ধাকারময় পথ৷ জুলুমের নৌকা ডুববেই৷

অভিযান

কাজী নজরুল ইসলাম

নতুন পথের যাত্রা-পথিক
চালাও অভিযান !
উচ্চ কণ্ঠে উচ্চার আজ -
“মানুষ মহীয়ান !”
চারদিকে আজ ভীরুর মেলা ,
খেলবি কে আর নতুন খেলা ?
জোয়ার জলে ভাসিয়ে ভেলা
বাইবি কি উজান ?
পাতাল ফেড়ে চলবি মাতাল
স্বর্গে দিবি টান্ ।।
সরল সাজের নাইরে সময়
বেরিয়ে তোরা আয় ,
আজ বিপদের পরশ নেব
নাঙ্গা আদুল গায় ।
আসবে রণ-সজ্জা করে ,
সেই আশায়ই রইলি সবে !
রাত পোহাবে প্রভাত হবে
গাইবে পাখি গান ।
আয় বেরিয়, সেই প্রভাতে
ধরবি যারা তান ।।
আঁধার ঘোরে আত্নঘাতী
যাত্র-পথিক সব
এ উহারে হানছে আঘাত
করছে কলরব !
অভিযানে বীর সেনাদল !
জ্বালাও মশাল, চল্ আগে চল্ ।
কুচকাওয়াজের বাজাও মাদল ,
গাও প্রভাতের গান !
ঊষার দ্বারে পৌছে গাবি
‘জয় নব উত্থান !’

কাব্যগ্রন্থ: সিন্ধু-হিন্দোল

মূর্তি সরা.. মূর্তি সরা.. নইলে তোরা পড়বি ধরা..


কবি মহিব খান
দেশের সকল ইমাম আলেম পীর মাশায়েখ বুজুর্গরা
কান ফাটিয়ে বলছে তোদের, যায় না কানে! বধির তোরা?
কঠিন কথা! যায় না বোঝা? কঠিন ভাষা! যায় না ধরা?
সহজ ভাষায় বলছি তবে-'মূর্তি সরা.., মূর্তি সরা..'
দ্বীন ঈমানের এই মাটিতে, মুসলমানের এই ঘাঁটিতে
মিনার ভরা রাজধানীতে পথ, আদালত, ভার্সিটিতে
ধর্মনিরপেক্ষ নামে হিন্দুয়ানির এই মহড়া!
খোদার গজব পড়বে ঘাড়ে, বলছি ওরে-'মূর্তি সরা..।
থাক না কঠিন প্রাচীর ঘেরা, থাক না যতই লোহার বেড়া
লাত-মানাতের ভাঙবে পাথর মুহাম্মাদের উম্মতেরা
নাস্তিকতার পক্ষ নিলে গুণতে হবে মূল্য চড়া
বলছি তোদের- আর দেরি নয়, থাকতে সময় মূর্তি সরা..।
মূর্তি সরা.. মূর্তি সরা..
নইলে তোরা পড়বি ধরা..

'পাগলের মাথা খারাপ'

রশীদ জামীল

কেউ যদি বিজ্ঞান নিয়ে একটা বই লেখে আর বই'র নাম দেয় 'ভূতের বাচ্চা আইনস্টাইন! কেউ যদি দর্শন নিয়ে বই লেখে আর নাম দেয় হনুমানের বাচ্চা সক্রেটিস! অবশ্যই সেটা এক্সেপ্টেবল না। কারণ, নামগুলো স্ব স্ব ক্ষেত্রে একেকটি ব্র্যান্ড হয়ে গেছে।
কোনো পণ্ডিত যদি রাজনীতি নিয়ে বই লিখে বই'র নাম দিয়ে দেয় ...'র বাচ্চা জিয়া, তাহলে ভাঙ্গা কোমর নিয়ে হামাগুড়ি দিয়ে হলেও বিএনপির লোকজন রাস্থায় বেরিয়ে আসবে। আর কোনো কারণে এবং অকারণেই ...'র বাচ্চা শেখ মুজিব নাম দিলে তো আর হয়েছেই। লেখকের চৌদ্দগোষ্ঠীর খবর হয়ে যাবে।
নামে কিছুই যায় আসে না আবার অনেক কিছুই যায় আসে। তাই, যে যুক্তিতে ...'র বাচ্চা আইনস্টাইন/

সক্রেটিস/জিয়া/মুজিব বলা অমার্জনীয় ধৃষ্টতা হবে, সেই যুক্তিতে, বরং তারচে'ও শক্তিশালী যুক্তিতে 'ভূতের বাচ্চা সোলায়মান' বলাটাও অমার্জনীয় ধৃষ্টতার শামিল...