Latest Post

কওমীর স্বীকৃতি ও দেবিমূর্তি বিরোধী বক্তব্য আর রাজনৈতিক স্বার্থের ভেল্কিবাজি: মুহাম্মাদ মামুনুল হক

ঢাকা ১৩ই এপ্রিল'১৭ আজকের প্রথম আলোর প্রথম পাতায় প্রধান শিরোনাম দেখে মনে পড়ছে দুই হাজার ছয়ের কথা ৷ যখন হযরত শায়খুল হাদীস রহঃএর দলের...

Showing posts with label সাংস্কৃতি. Show all posts
Showing posts with label সাংস্কৃতি. Show all posts

Saturday, February 25, 2017

পৃথিবীটা ভালো মানুষে ভরে গেলে ক্ষতি কী?

হা মিম কেফায়েত
:
মানুষের এই পৃথিবীতে যেখানে এবং যেইখানে মাটি আছে, সেখানেই কিন্তু চাষ হচ্ছে না। গড়ে উঠছে না সজীব রঙিন ফুল-ফল। তেমনিভাবে পৃথিবীর সব পরিসরে ভালো কাজ হচ্ছে না। অথচ পৃথিবীটা ভালো কাজের জায়গা- এখানে ফুল হেসে হেসে ঝরে আর জোছনারা হাসিমুখে মিলিয়ে যায়। না, পৃথিবীটা কখনও এমন ছিল না। ভালোমন্দের সমানতলায় তার পুরোটাই পড়ে আছে। কিন্তু এই যে মন্দের কথা বলছি, জিনিসটা এলো কোত্থেকে। কারা-ই বা বলে কয়ে মন্দের জাল বুনে চলেছে ধীরে? একটি মাত্র মন্দ প্ররোচনায় মন্দেরা বেশ জেগে ওঠে।
  শ্রেষ্ঠ জীব মানুষের পিছু পিছু দৌড়োয় মন্দের ছায়া। এই ছায়া কখনো শীতল নয়, এই ছায়া কখনো সুশীতল হয় না- জাহান্নামের আগুনের মতোই তা তাপদাহ। তবে আশার কথা, সকল দেশে এবং সব শহরেই ভালো মানুষ আছে- এই বাংলাদেশেও শুনেছি ভালো মানুষ বাস করে! কিন্তু মানুষের ভালো কাজ সবসময় ভালো হয়ে উঠছে না, আবার কখনো হয়ে উঠছে মন্দের ভয়াবহ উপমা। এই দেশ এবং শহরটার ব্যাপারেও ঠিক তা-ই। প্রতিদিন গড়ে উঠছে ভালো কাজের মেলা স্বপ্ন এবং ঐশ্বর্য। কিন্তু আলাহতায়ালার বিচার যে বড়ো কঠিন এবং সবচে সহজ। ভালো কাজ গ্রাহ্য হয় কি সহজেই, সবচে সহজেই তো তার কাছে ভালো কাজ গ্রাহ্য হয়। ...ভালো কাজ চিনবার চোখই বা কোথায়?
চোখের পর্দায় মন্দের পাহাড় দেখতে দেখতে প্রশ্ন জাগে, রূপকথার মতো করে শোনা ভালো কাজে ভরপুর সেই পৃথিবী কি এখন আর নেই? ইদানীং একেবারেই এমনটি চোখে পড়েনি যে। আমরাই তো দেখতে পাই না। তবে হ্যাঁ, কেউ ভালো কাজকে দেখছে সুন্দর, সে দিনরাত ভালো কাজের পথে ছুটছে। কেউ দেখছে মন্দ কাজকে সুন্দর, সে সেই দিকেই চলেছে। কিন্তু দু’জনেরই মনে রয়েছে সুন্দর কাজ অথবা সুন্দর রকমের অকাজ। এই যে আত্মনির্বাচিত সৌন্দর্য, বড়ই ভয়ঙ্কর। বিচারবিশ্লেষণ এক্কেবারেই না বুঝতে বুঝতে বিষয়টি বাগধারার মতোই হয়ে গেছে। কেউ কেউ কহেন
‘ভয়ঙ্কর সুন্দর’। কাব্যগ্রন্থের নাম হয়ে যায় ‘সৌন্দর্য হে ভয়ানক’।
কবি বলেছেন, ‘মানুষ যখন মানুষ ছিল মানুষ ছিল ভালো’। ওইসব ভালো মানুষ দেখতে ফেরেশতার মতো। ফেরেশতা কখনো দেখিনি। তবু বলবো, তারা ফেরেশতার মতো। এখন তারা নেই, থাকার কথাও নয়। তবে মনে মনে তাদেরকে খুঁজে ফিরি এখানে আর ওখানটায়। মনে মনে তাদের দিকে তাকাই, বারবার দেখলেও আমার দেখা যেন শেষ হয় না। খুব কাছ থেকে, দূর থেকে- প্রতিবারের দেখায় আমি নতুন করে আনন্দ পাই এবং ভালো মানুষের স্বভাব ও আনন্দকে আবিষ্কার করি। সময়ের কথা ভুলে গিয়ে দেখতে থাকি প্রিয় সেইসব মানুষের মুখ। আমার মনে হয়, আধুনিক সভ্যতার এই পৃথিবীতে যারা নেই, তারা নেই বলেই পূর্ণাঙ্গ বই রচিত হয়ে যায়
‘মুসলমানদের পতনে বিশ্ব কী হারাল’।
আজ পর্যন্ত তো অনেক কিছুই হারালাম। ভালো কাজের ইচ্ছা ও প্রার্থনা আমাদের মাঝে যতটুকুই যা রয়েছে তার সবটুকুই প্রকাশ করছি মন্দের পথ ধরে। অথচ এ সকল মন্দের পথ স্থায়িত্বের জন্য নির্মিত হয়নি, ভালো তো মন্দকে দূরীভূত করবেই। ভালো আর মন্দের পার্থক্যটা অন্তত প্রতিটি মানুষের ব্যাপারেই বিচার্য। চিন্তার ব্যাপার তো আছেই, ভালোর কাছাকাছি আমরা কীভাবে থাকব আর মন্দের আশপাশে যেন না যেতে হয় সে ব্যবস্থাটাই বা নির্মিত হওয়ার পথ ও পাথেয় কী?
এই পৃথিবীতে সর্বক্ষেত্রেই ধর্ম এবং ধর্মের বিচারই মানুষকে দেখিয়ে দিয়েছে ভালোমন্দের পরিচয়। জগতের সর্বশ্রেষ্ঠ ধর্ম ইসলাম চিরকালের জন্যই ভালোমন্দের পার্থক্যটা বুঝিয়ে দিয়েছে। মানুষের সংখ্যা এবং এ নিয়ে ভাবনার খেইগুলো হচ্ছে ওপরের এইসকল কথা। কিন্তু সবকিছু ছাপিয়ে যে প্রশ্নটা ধাঁ করে মাথায় চাপে সেটা হচ্ছে পৃথিবীটা ভালো মানুষে ভরে গেলে ক্ষতি কী? কারও কাছে মনে হতে পারে, প্রশ্নটার কোনো মাথামুন্ডু নেই। অবান্তর কিছু না। নিজেকে নিজেই জিজ্ঞাসা করেছি এই প্রশ্নটার মানে কী? একে কি আক্ষরিক অর্থে বুঝতে হবে নাকি এটা কোনো বিমূর্ত প্রশ্ন? আক্ষরিক অর্থে হলে আঙুলে গুণে সেটা বের করা যাবে যে, মানুষের সংখ্যা এত্তো বেশি হয়ে গেছে, ভালো থাকাটা মুশকিল। ভালো করাটাও সমস্যার ব্যাপার। সংখ্যাটা অধিক হলে নিয়ন্ত্রণ করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। কিন্তু কথা হচ্ছে, গাণিতিক হিসেব মতে সংখ্যা অধিক হলে মন্দ থাকাটা মুশকিল নয় কেন? মন্দ হওয়াটাও সমস্যার ব্যাপার নয় কেন? আর যাঁরা আঙুলে গুণতে নারাজ তাঁদের জন্য ভিন্ন প্রসঙ্গে বলার কিছু রইল?
আবুল কালাম শামসুদ্দীন একবার ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, ...আপনি কেন এতগুলো সন্তান নিলেন? প্রশ্ন তো অবশ্যই। কিন্তু এ প্রশ্নের উত্তরটা দিতে হবে বিশদ ব্যাখ্যায়, ধীরে সুধীরে। তাই কিছুক্ষণ চুপ থেকে শহীদুল্লাহ সাহেব বলেছিলেন ‘আমি এতগুলো সন্তান না নিলে মুর্তজা বশীর হতো না, দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর যদি এতগুলো সন্তান না নিতেন তাহলে রবীন্দ্রনাথকে পেতাম কোথায়?’ পিতার পঞ্চদশ সন্তান রবীন্দ্রনাথ পরিপূর্ণ রবীন্দ্রনাথ হবার পর
‘বঙ্গমাতা’ কবিতায় লিখে গেছেন
‘সাত কোটি সন্তানেরে হে মুগ্ধ জননী,/রেখেছ বাঙালি করে, মানুষ করনি।’
আধুনিক জগৎটাই বড়ো তাজ্জবের জায়গা। যারা এখানে মন্দের জাল বুনে তারাই কিন্তু ভালোর সবচে বড়ো নির্মাতা। সাদা মনের মানুষ তারা খুঁজে বের করে, পদক দেয়। যারা দেয়, তাদের পরিচয়টাও বড় অদ্ভূত- উহারা হইতেছে বহুজাতিক কোম্পানী। মানে, বহুদেশীয়
বাবাদের প্রজেক্ট। এক সন্তানের জন্মদাতা পিতা একাধিক হলে যা হয়, তা-ই হয়েছে এইসব ক্ষেত্রে। তবে সন্দেহ নেই, এই ‘বহু’র কারণেই তাদের ব্যবসাটা চাঙ্গা থাকে সবসময়। এই
‘বহু’র ফল তারা ঠিকই ভোগ করে, এর ফল দিয়ে বিলাস করে। আবার বহুসংখ্যককে চোখ রাঙায়। মনে হয়, এক্ষুণি জনসংখ্যাকে বোমা মেরে উড়িয়ে দেবে। জনসংখ্যায় ভরপুর দেশের দিকে তাকালে আবার তাদের করুণা (?) হয়। কত কষ্টে তারা বাঁচে, কত কষ্টে ঘুমায়- আর এত্তো মানুষ খাবেটাই বা কী? জায়গাটা মুসলমানদের জন্য সমস্যা না। উহাদের অনেক আছে, তাই খুব বেশি নাই নাই। আমাদের আছেটা কম, তাই নাই নাইটাও এক্কেবারে কম। বেঁচে থেকে মাথা গুজবার ঠাঁই আর সেজদার জায়গা এবং মরে গেলে কবরের জায়গাটা ছাড়া চাওয়ার আছেটাই বা কী?
পৃথিবীর প্রতিটি পরতেই এখন বহুজাতিক কোম্পানির অধিকার সবচে বেশি। তারা চাইলে অনেক কিছুই করতে পারে যখন-তখন। তবে তাদের এই পারা-না পারাটা প্রকৃত অর্থেই ক্ষুদ্র আকৃতির। কিন্তু কথাবার্তার বেলায় তারা স্বচ্ছ নয়। ভীষণ গ্যাঞ্জাম পাকিয়ে পাকিয়ে তারা কথা বলে। কেন এত্তো কথা বলে, নিজেরাও ভালো করে জানে না। এই দেশে তারা জন্মনিয়ন্ত্রণের কথা বলে, মানুষ মরে যাক এটাও তারা চায়। অন্যদিকে আবার বেশ গর্ব নিয়ে বিজ্ঞাপন দেয়- ‘আমাদের মোবাইল ব্যবহারকারীর সংখ্যা দেড় কোটি’। এ দেশের মানুষ তিনবেলা খেয়ে-নেয়ে বাঁচুক এটাও তাদের কাছে অপ্রত্যাশিত। কিন্তু তাদের প্রত্যাশার ব্যাপারটা হচ্ছে- ‘একজন কৃষকও যেন দাঁড়িতে শ্যাম্পু করে, ক্ষেতে সার দেয়, বাচ্চার জন্যে লোশন কিনে আনে...’।
গ্রামের হাটে-বাজারের ছোট্ট হোটেলের মালিক দুপুরের খাবারটা হোটেলেই সেরে নেয়। যা বিক্রি হচ্ছে হোটেলে, তা দিয়েই সে খাবার খেয়ে নেয়। কিন্তু বহুজাতিক কোম্পানির উচ্চপদস্থ কোনো কর্মকর্তাই কিন্তু নিজেদের কোনো পণ্য ব্যবহার করে না- অন্তত নিজের সাথে তো কেউ বেঈমানি করতে চায় না। কারণ এটাই! হোটেল মালিকের ব্যবসায় বেঈমানি নেই। তাই সে মানুষকে যা খাওয়াচ্ছে, নিজেও তা খাচ্ছে। কিন্তু ওরা নিজেদের পণ্য ব্যবহার করতে পারছে না, কারণ তাদের ব্যবসাটা বেঈমানিতে ভরপুর। মদ-গাঁজা-হেরোইনের মতো করে তাদের পণ্যও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে দেশময়। এবং জনসংখ্যার প্রাচুর্যই হচ্ছে তাদের সবচে বড় পুঁজি। পরিবার পরিকল্পনা বলে তারা জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের যেই বিষয়টা প্রচার করে এটা কেবলই ভন্ডামি। তবে তারা ভন্ডামিটাও নিঃস্বার্থ ভাবে করে না, এখানেও তাদের বিজ্ঞাপন এবং পণ্যবিক্রির বিষয় জড়িয়ে আছে।#

শয্যাশায়ী সমগ্র বাংলাদেশ ও তার সংস্কৃতি

মুফতি ফয়জুল্লাহ 
কোন পরিবারে কেউ মৃত্যুশয্যায় পতিত হলে সে পরিবারে দুশ্চিন্তার অন্ত থাকে না। অথচ এখন শয্যাশায়ী সমগ্র বাংলাদেশ ও তার সংস্কৃতি। বাংলাদেশের মুসলমানদের জন্য এটি এক বিপদজনক দিক। আগ্রাসী শত্রুর হামলার মুখে আজ অরক্ষিত দেশটির রাজনৈতিক সীমান্তু, প্রচন্ড ভাবে অরক্ষিত দেশের সাংস্কৃতিক ও আদর্শিক সীমান্তও। অসংখ্য আলেম, অনেক বুদ্ধিজীবী, বহু রাজনীতিক,শিক্ষাবিদ ও লেখক এ বিষয়টি নিয়ে ক্ষুদ্ধ, ক্রুদ্ধ ও উদ্বিগ্ন।
শত্রুর হামলার মুখে প্রতিরোধের দায়ভার প্রতিটি মুসলমানের, প্রতিটি আলেম, প্রতিটি শিক্ষক, প্রতিটি ছাত্র ও প্রতিটি নাগরিকের । এ লড়াই হতে হবে কোরআনী জ্ঞানের তরবারী দ্বারা। ইসলামে এটিও জিহাদ। জিহাদের অংশ হিসেবেই অনেকেই মুখ খুলেছেন, প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন।
আমাদের একচ্ছত্র মালিক মহান আল্লাহ।

'শহীদ মিনার নেই মাদ্রাসায়' এই নিয়ে 'কালের কণ্ঠের' চেতনা ব্যবসা এবং আমার কিছু কথা।


আলি আজম


আচ্ছা বায়ান্নতে যারা 'রাষ্ট্রভাষা বাঙলা চাই' বলে রাজপথে স্লোগান তুলেছিলেন তারা ধর্ম পরিচয়ে কি মুসলিম ছিলেন, নাকি অমুসলিম? সালাম, রফীক, জাব্বার, বরকতদের কেউতো অমুসলিম ছিলেন বলে মনে হয় না। আর মুসলিমরাতো কখনো কোনো প্রাণহীন ভাস্কর্য, স্মৃতিস্তম্ভ, কিংবা মিনারকে শ্রদ্ধা জানাতে পারেন না। মূর্তিকে শ্রদ্ধা প্রদর্শন করা ইসলামতো সমর্থন করে না। সেদিন যারা মায়ের ভাষাকে পূর্ণ মর্যাদা দিতে নিজেদের জীবন বিলিয়ে দিয়েছিলেন তাদের কেউ কি বলে গিয়েছিলেন যে, তোমরা ভাষার জন্য আমাদের আত্মত্যাগ, অবদান আর ইতিহাসকে পরবর্তী প্রজন্ম পর্যন্ত পৌঁছে দিতে স্মৃতিস্তম্ভ বানিয়ে তার প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করবে!?

.

জাতির গর্বিত সন্তান ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগের কথা যুগযুগ পর্যন্ত স্মরণ রাখতে স্মৃতিসৌধ তৈরি করার এই প্রবণতা আসলো কোত্থেকে? তাতে তাদের আত্মা শান্তি লাভ করবে এমনটা ভাবাও বোকামি নয় কি? আর ইতিহাস স্মরণ রাখার জন্য কি স্মৃতিসৌধের প্রয়োজন আছে? কই! ইসলামের ইতিহাসের ছোটবড়ো জিহাদগুলোতে অকাতরে জীবন বিলিয়ে দেওয়া অসংখ্য প্রকৃত শহীদ সাহাবীদের স্মৃতি স্মরণ রাখার জন্যতো কোনো ভাস্কর্য, স্মৃতিসৌধ তৈরির প্রয়োজন পড়েনি! শতশত বছর পূর্বে বদর, উহুদ, খায়বারে দ্বীনের জন্য জীবন বিলিয়ে দেওয়া শহীদদের স্মৃতিসৌধ তো পৃথিবীর কোথাও নেই। তারপরেও কি মুসলিমরা সেই বীর শহীদদের বীরত্বের কথা ভুলে গেছে?!

.

মুসলিম জাতির সেইসমস্ত বীর সেনানীদের কৃতিত্বপূর্ণ ইতিহাস আজ-অবধি গোটা পৃথিবী জানে। চৌদ্দশত বছর পূর্বের সাহাবীদের বীরত্বপূর্ণ সেই ইতিহাস, আত্মত্যাগ, আজও মুসলিমদের ঘুমন্ত চেতনাকে জাগ্রত করে তোলে বিধায় কুফফার শক্তি প্রতিনিয়ত নববী-সাহাবীদের সেই ঈমানী চেতনাবোধ দুনিয়া থেকে মুছে দিতে রাতদিন কোশেশ করে যাচ্ছে। অথচ ইসলামের ইতিহাসের সেইসমস্ত বীর শহীদদের কোনো ভাস্কর্য, মূর্তি, স্মৃতিস্তম্ভ, স্মৃতিসৌধ, পৃথিবীর কোথাওতো নেই। তারপরেও মুসলমান তাদের আত্মত্যাগের কথা ভুলে যায়নি। রাসূল (স:) এর কোন প্রতিকৃতি পৃথিবীর কোথাও নেই। তার বাদেও কি আজ কোটি-কোটি মুসলিম তার উপর প্রতিনিয়ত শান্তির দরূদ পড়ে না?!

.

-তাহলে এসব কেনো করা হচ্ছে? আচ্ছা বুঝলাম তাদের আত্মত্যাগের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনের জন্যই শহীদ মিনার কিংবা স্মৃতিস্তম্ভের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করা হচ্ছে। শহীদ মিনার তৈরি করা হচ্ছে। তবে এভাবে সারাজীবনও যদি স্মৃতিস্তম্ভের সামনে দাঁড়িয়ে ভাষা শহীদদের আত্মার শান্তির জন্য নীরবতা পালন করা হয় এর মাধ্যমে ভাষা শহীদরা কি কোনোপ্রকার শান্তি লাভ করবে?! অসম্ভব। উলটো আরো তারা আমাদের প্রতি আখেরি দিবসে মওলার দরবারে অভিযোগ তোলবে যে, তারা আমাদের ভাষার জন্য নিজের জীবন বিলিয়ে দিয়েছিলেন, অথচ আমরা তাদের আত্মার শান্তির জন্য কিছুই করিনি। উলটো তাদের প্রতি শ্রদ্ধা, ভালবাসা প্রদর্শনের নামে গানবাজনা আর অপসংস্কৃতির সয়লাব ঘটিয়েছি।

.

যদি সত্যিই আপনাদের মধ্যে দেশপ্রেম, মাতৃভাষাপ্রেম বেশি থাকে, তাহলে স্মৃতিস্তম্ভে ফুল না দিয়ে শহীদদের আত্মার শান্তির জন্য গরীব-দুখীদের বেশি করে ভালো করে খাবার খাওয়ান। কারণ, ফুল কবরবাসীর কোনো উপকার করতে পারে না । কিন্তু গরীবদের খানা খাওয়ালে নিঃসন্দেহে সওয়াব হবে, যা কবরে কাজে লাগবে । শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের নামে কবরে ফুল দেওয়া, নীরবতা পালন করা সম্পূর্ন বিধর্মীদের কালচার। যা মুসলমানদের শোভা পায় না। এরধারা শহীদদের কোনো উপকারও হয় না। শহীদদের আত্মার শান্তির জন্য দুইরাকা'ত নামাজ পড়ুন। তাদের জন্য কোরআন খতম করুন। তাদের কবর জিয়ারত করুন। এটাই হচ্ছে আমাদের প্রতি তাদের চাওয়া-পাওয়া। আমরা তাদের জন্য তাই করে যাচ্ছি।

.

শুনে রাখো ভিনদেশী গোলাম, চর, ত্বাগুতের ভাড়াটিয়া মিডিয়া 'কালের কণ্ঠ', হুজুর কিংবা মাদ্রাসাওয়ালারা তো ২১শের পবিত্র চেতনা নিয়ে নোংরা রাজনীতি করে না। তাই লৌকিকতা তাদের মধ্যে থাকবে না সেই তো স্বাভাবিক। মাদ্রাসাগুলোতে ২১শে ফেব্রুয়ারী, ২৬শে মার্চ, ১৫আগস্ট, ১৬ই ডিসেম্বর এই বিশেষ দিনগুলোতে কুরআন খতম করে শহীদের আত্মার শান্তির জন্য বিশেষভাবে দোয়া করা হয়। এই খবর রাম-বাম বিকৃত চেতনার শেখরভোলা সুবিধাবোগী মিডিয়া রাখবে না সেও স্বাভাবিক! ওরা খবর রাখবে, কোন নায়িকার কখন ঋতুশ্রাব হলো, কখন শেষ হলো! সাকিবের মেয়ে কখন হাগু করল,কখন পেশাব করল! যত্তসব কানা মিডিয়া! আমরা যা করি নিঃস্বার্থ করি। কাউকে দেখানোর জন্য নয়।

লেখক আলি আজম

আবার ফিরে এলো শোকাবহ ও ভয়াবহ সেই ২৫ ফেব্রুয়ারি


উমর ফারুক আলহাদী : আবার ফিরে এলো শোকাবহ ও ভয়াবহ সেই ২৫ ফেব্রুয়ারি। যা বাংলাদেশের ইতিহাসের এক কলঙ্কময় দিন। দেশের ইতিহাসে জঘন্যতম এ কালো দিনটিকে পিলখানা ট্রাজেডি হিসাবেও দেখে থাকেন অনেকেই। ২০০৯ সালের এই দিন ঢাকার পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহের নাটক মঞ্চস্থ করে বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার অতন্দ্র প্রহরী দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীকে ধ্বংস করে বাংলাদেশকে একটি অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত করার চক্রান্ত শুরু হয়েছিল। কিন্তু সরকার তা রুখে দিয়ে দেশকে রক্ষা করতে পারলেও প্রাণ দিতে হয়েছে ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাকে। ষড়যন্ত্রকারীদের ষড়যন্ত্রে বাংলাদেশের দীর্ঘ প্রায় ২০০ বছরের ঐতিহাসিক বিডিআরের চেতনাকে ধ্বংস করেছে। ১৯৭১’র মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় ২৩ মার্চ যে বাহিনী প্রথম স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেছিল সেই বাহিনীকে করেছে কলংকিত। শুধু বাংলাদেশ নয়, পৃথিবীর ইতিহাসে এতজন সেনাকর্মকর্তাকে হত্যা করার ঘটনা বিরল। এ নারকীয় হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে ২৫ ফেব্রুয়ারী পিলখানায়। তবে সরকার বিডিআর বিদ্রোহের ওই ঘটনাটিকে ‘পিলখানা হত্যা দিবস’ হিসেবে প্রতি বছর পালন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং তা পালন করছে। দিবসটি পালন উপলক্ষে সরকারের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে বিভিন্ন কর্মসূচি। স্বজন হারানোর বেদনা এবং সেই দুর্বিষহ যন্ত্রণার স্মৃতি বুকে ধারণ করে আজো নিহত সেনা কর্মকর্তাদের পরিবারগুলো কেঁদে বেড়াছেন। নিহতদের স্ত্রী সন্তানেরা বয়ে বেড়াচ্ছেন চিরতরে হারিয়ে যাওয়া প্রিয় মানুষটির স্মৃতি। তাঁদের হৃদয়ের রক্ত ক্ষরণ আজো বন্ধ হয়নি। পিতা হারা সন্তান আজো ঘুমের ভেতর কান্নায় ভেঙে পড়েন। নিহত সেনা কর্মকর্তাদের পরিবারের কয়েকজন সদস্যের সাথে কথা বলেন এমনটি জানা গেছে। ২০০৯ সালের এই দিনে রাজধানীর পিলখানায় বিজিবি সদর দফতরের ভেতরে এক লোমহর্ষক মর্মান্তিক ঘটনায় ৫৭ জন মেধাবী সেনা কর্মকর্তার প্রাণ হারান। পিলখানায় পরিণত হয় এক রক্তাক্ত ভয়ানক হত্যাকান্ডে। ওই নারকীয় হত্যাকান্ডের ঘটনার পর পিলখানা থেকে আবিষ্কৃত হয় গণকবর। গণকবর থেকে উদ্ধার করা হয় সেনা কর্মকর্তাদের লাশ।

২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি সকাল ৯ টা ২৭ মিনিট। দরবার হলে চলমান বার্ষিক দরবারে একদল বিদ্রোহী বিডিআর সৈনিক ঢুকে মহাপরিচালকের বুকে আগ্নেয়াস্ত্র তাক করেন। বিডিআরের বিদ্রোহী সৈনিকরা আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং সেনা কর্মকর্তাদের হত্যা করে। এখানেই ঘটনার শেষ নয়, তাদের পরিবারকে জিম্মি করে ফেলেন। চারটি প্রবেশ গেটেই নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আশেপাশের এলাকায় গুলি ছুঁড়তে থাকে। জন্ম নেয় এক বীভৎস ও আতঙ্কে সেদিন গুলির শব্দ আর রক্তের বন্যা বয়ে যায় ওই ঘটনায়। বিদ্রোহের এ ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় বিশেষ আদালত ১৫২ জনকে ফাঁসি, ১৬১ জনের যাবজ্জীবন কারাদন্ড ও ২৬৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা প্রদান করেন। ২৭১ জনকে খালাস দেয়া হয়েছে। কিন্তু ভয়ঙ্কর দিনটির কথা আজো ভুলতে পারেননি নিহতদের স্বজনসহ দেশবাসী। ওই ঘটনায় ৫৭ জন মেধাবী সেনা কর্মকর্তা ছাড়াও একজন সৈনিক, দুইজন সেনা কর্মকর্তার স্ত্রী, ৯ জন বিডিআর সদস্য ও ৫ জন বেসামরিক ব্যক্তি প্রাণ হারাণ। পিলখানায় এ বিদ্রোহের ঘটনায় বিডিআরের সাংগঠনিক কাঠামো ভেঙে যায়। শুরু হয় বিডিআরকে পুনর্গঠনের কাজ। বিডিআরের নাম, পোশাক, লোগো, সাংগঠনিক কাঠামো, পদোন্নতি ইত্যাদি ব্যাপার পুনর্গঠন করে নতুন নামে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) জন্ম হয়।

এদিকে গতকালও প্রতিবছরের মতো এবারো মেজর মো. মিজানুর রহমানের কবরের সামনে বসে অঝোর ধারায় কাঁদলেন সত্তর ছুঁই ছুঁই কোহিনূর বেগম ও বাবা আবদুল খালেক। নাতি ফারদিন রহমান সামীর কাঁধে হাত রেখে বিলাপ করে বলে যাচ্ছিলেন, তোমার ছেলেদের আমি আঁকড়ে ধরে আছি বাবা। যতদিন বাঁচি আমি দেখব। তোমাকে দেখতে বড় বেশি ইচ্ছে করে। তিনি জানান, মিজানুরের স্ত্রী রোজী পিলখানা হত্যাকান্ডের ৮ মাস আগে মারা গেছেন। ২ ছেলে-তাহসীন রহমান রামী ও ফারদিন রহমান সামী ছিল মিজানুরের বাঁচার একমাত্র অবলম্বন। কিন্তু তিনিও অকালে চলে গেলেন। পিতার কথা স্মরণ হলেই সামী ও রামী আজো বনানী কবরস্থানে ছুটে যান। তাদের চোখের পানি দেখে প্রতিবেশীরা চোখের পানি ধরে রাখতে পারেন না।

নিহত মেজর মোহাম্মদ মমিনুল ইসলাম সরদারের বৃদ্ধ বাবা মফিজুল ইসলাম সরকার। তিনি বলেন, রাতে আমি ঘুমাতে পারি না। ছেলের মেধা ও বুদ্ধিমত্তা নিয়ে মফিজুল ইসলাম সরকার চোখ মুছতে মুছতে বলেন, আমার ছেলে ছোটবেলা থেকেই মেধাবী ছিল। সেনাবাহিনীতে সবাই তাকে ডিকশনারি মমিন বলে ডাকত। এই নামেই একবারে সবাই চিনত। অক্সফোর্ড ডিকশনারি তার মুখস্থ ছিল। কেউ কোনো কিছু জানতে চাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে উত্তর দিয়ে দিত। আমার ছেলে অনেক ভালো মানুষ ছিল।

নিহত মেজর মমিনুলের বড় বোন নুরজাহার চৌধুরী জানান, মমিনুল ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন ব্যাচমেট সানজানা সরকার সোনিয়াকে। তাদের এক কন্যা সন্তান রয়েছে। মমিনুলের মৃত্যুর পর সরকারের সব ধরনের আর্থিক সহায়তা পায় সোনিয়া ও তার মেয়ে সাদাকাত। বাবা-মা কোনো সহযোগিতা পায়নি। ছোট ভাইয়ের স্মৃতি আউড়ে নুরজাহান জানান, খাগড়াছড়িতে মমিনুলের পোস্টিং ছিল। সে ছিল একজন কমান্ডো। ফেব্রুয়ারি মাসের ৬ তারিখ তাকে পিলখানায় বদলি করা হয়। বিডিআর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদের সঙ্গেই থাকতে হতো। ঘটনার দিনেও দরবারে তার সঙ্গে ছিল। আমরা পরে জানতে পেরেছি, শাকিল আহমেদের সঙ্গেই তাকে হত্যা করা হয়।

এদিকে এ দিনটি উপলক্ষে গতকাল জুম্মাবার পিলখানায় নিহত বিডিআর (বর্তমানে বিজিবি) সদস্যদের স্মরণে দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. মোহসিন রেজা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছেন। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ২৫ ফেব্রুয়ারি শহীদ ব্যক্তিবর্গের রুহের মাগফিরাতের উদ্দেশ্যে বিজিবির সব রিজিয়ন, সেক্টর, প্রতিষ্ঠান ও ইউনিটের ব্যবস্থাপনায় বাদ ফজর খতমে কোরআন এবং বিওপি পর্যায়ে দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হবে।

শনিবার সকাল ৯ টায় বনানী সামরিক কবরস্থানে নিহত সেনা কর্মকর্তাদের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হবে। প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর প্রতিনিধি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, তিন বাহিনীর প্রধান, স্বরাষ্ট্র সচিব এবং বিজিবি মহাপরিচালক শহীদদের স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। এছাড়া শহীদদের স্মরণে আজ বাদ আসর পিলখানার বীর উত্তম ফজলুর রহমান খন্দকার মিলনায়তনে মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।

www.dailyinqilab.com/article/66321/স্বজনদের-চোখের-পানি-থামেনি-এখনো

Friday, February 24, 2017

'পাগলের মাথা খারাপ'

রশীদ জামীল

কেউ যদি বিজ্ঞান নিয়ে একটা বই লেখে আর বই'র নাম দেয় 'ভূতের বাচ্চা আইনস্টাইন! কেউ যদি দর্শন নিয়ে বই লেখে আর নাম দেয় হনুমানের বাচ্চা সক্রেটিস! অবশ্যই সেটা এক্সেপ্টেবল না। কারণ, নামগুলো স্ব স্ব ক্ষেত্রে একেকটি ব্র্যান্ড হয়ে গেছে।
কোনো পণ্ডিত যদি রাজনীতি নিয়ে বই লিখে বই'র নাম দিয়ে দেয় ...'র বাচ্চা জিয়া, তাহলে ভাঙ্গা কোমর নিয়ে হামাগুড়ি দিয়ে হলেও বিএনপির লোকজন রাস্থায় বেরিয়ে আসবে। আর কোনো কারণে এবং অকারণেই ...'র বাচ্চা শেখ মুজিব নাম দিলে তো আর হয়েছেই। লেখকের চৌদ্দগোষ্ঠীর খবর হয়ে যাবে।
নামে কিছুই যায় আসে না আবার অনেক কিছুই যায় আসে। তাই, যে যুক্তিতে ...'র বাচ্চা আইনস্টাইন/

সক্রেটিস/জিয়া/মুজিব বলা অমার্জনীয় ধৃষ্টতা হবে, সেই যুক্তিতে, বরং তারচে'ও শক্তিশালী যুক্তিতে 'ভূতের বাচ্চা সোলায়মান' বলাটাও অমার্জনীয় ধৃষ্টতার শামিল...

Thursday, February 23, 2017

মানুষের সাথে কোমল ব্যবহার ও হাসিমুখে মেলামেশা করা

রবির কিরণে উদ্ভাসিত হয়ে চাঁদ জোৎস্না ছড়ায়। স্নিগ্ধ চন্দ্রালোকে হেসে ওঠে ধরণী, মানব হৃদয়ে বয়ে যায় আনন্দের বন্যা। নিস্পন্দ জোৎস্না প্লাবিত রজনী ধরণীর শিয়রে জেগে থেকে চুপি চুপি ভাবের তরঙ্গ জাগিয়ে তোলে মানব হৃদয়ের শান্ত সরোবরে। একই ভাবে আল্লাহর দেয়া ‘রিফক’র আলোতে উদ্ভাসিত হয়ে মানুষ তার উত্তম আখলাক ছড়িয়ে পরিবার সমাজকে অলোকিত করে, সুখময় করে গড়ে তোলে। এমন সুন্দর চরিত্রের প্রতিচ্ছবি দেখতে পাওয়া যায় নবী জীবনে। তাই সুখী পরিবার ও সমাজ গঠনের প্রয়োজনে নবী জীবনের আদর্শকে আমাদেরকে গ্রহণ করতে হবে। নবী জীবন কেমন ছিল, তার পরিচয় মেলে নিম্নোক্ত হাদিস খানাতে।
আতা ইবনে ইয়াসার (রাঃ) বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবনে আমর বিন আস (রাঃ) -এর সাথে সাক্ষাৎ করে বললাম : তওরাতে বর্ণিত রসুলুল্লাহ (সঃ)-এর বিশেষণসমূহ সম্পর্কে আমাকে অবগত করুন। তখন তিনি বললেন: হ্যাঁ, (তাই হবে) নিঃসন্দেহে তওরাতে রসুলুল্লাহ (সঃ)-কে এমন কতিপয় বিশেষণে বিশেষিত করা হয়েছে -যা দ্বারা কোরআন শরীফে তিনি বিশেষিত হয়েছেন। ঃ “ হে নবী আমি আপনাকে সাক্ষ্যদাতা, সুসংবাদ দাতা ও ভয় প্রদর্শনকারী রূপে পাঠিয়েছি। ” (আহযাব- ৪৫)
এবং ‘নিরক্ষরদের স্মরণ  স্থল ’, ‘আপনি আমার দাস ও আমার পয়গাম বাহী রসুল ’, আমি আপনার নাম করণ করেছি ‘মুতাওয়াক্কিল’- আল্লাহ্তে নির্ভরশীল।  রুক্ষ মেজাজ, দুর্মুখ বা হাট বাজারে শোরগোল কারী নন, দুর্ব্যবহারের দ্বারা দুর্ব্যবহারের জবাব দেন না, বরং মার্জনা ও ক্ষমা করে দেন। (আল- আদবুল মুফরদ- ২৪৬ঃ১)
রাবী আতা ইবনে ইয়াসার আসল নাম আবু মোহাম্মাদ আল হিলালী আল মাদানী। তিনি ছিলেন উম্মুল মুমিনীন মাইমুনা (রাঃ)’র মুক্তদাস তিনি ছিলেন নির্ভরযোগ্য রাবী (সিকাহ)। তিনি ৯৪ হিজরীতে ইন্তেকাল করেন।  তিনি যায়েদ ইবনে সাবেত, আবু আইউব ইবনে মাসউদ, আবু দারদা, হযরত আয়েশা (রাঃ), উসামা ইবনে যায়েদ আবু হোরায়রার সূত্রে এবং যায়েদ ইবনে আসলাম, আমর ইবনে দীনার ও আরও অনেকে তাঁর সূত্রে হাদিস বর্ণনা করেন।
 রসুল (সঃ) ছিলেন জ্যোতিষ্মান প্রদীপ বিশেষ। তাঁর প্রশংসা করতে গিয়ে এক আরব কবি বলেনঃ
ইয়া সাহিবাল জামালি ইয়া সাইয়্যিদাল বাশার
বি- ওয়াজহিকাল মুনিরি লাক্বাদ নাওয়ারাল কামার
হে জ্যোতির্ময়, হে মানব শ্রেষ্ঠ, তোমার পূত চেহারার দীপ্তি থেকেই চাঁদ আলোক প্রাপ্ত হয়েছে।
যার হৃদয় যত পবিত্র কলুষ মুক্ত তিনি হতে পারেন তত কোমল ব্যবহারের অধিকারী, সদা হাস্যোজ্জ্বল চেহারা অধিকারী। রসুল সঃ)-এর চেয়ে পবিত্র মনের অধিকারী ধরণীতে কোন ব্যক্তির আগমন ঘটেনি তাই তার চেয়ে আকর্ষণীয় আচরণের অধিকারীও কেউ ধরাধামে আগমন করেনি, ভবিষ্যতেও করবেন ন॥
নবী করীম (সঃ) সব সময় হাসি মুখে থাকতেন, সঙ্গী সাথীদের সাথে সাক্ষাৎ হওয়া মাত্র হাসিমুখে অভ্যর্থনা করতেন; কিন্তু জীবনে কেউ কোনদিন তাঁকে অট্টহাসি হাসতে দেখেনি। প্রবল হাসির উদ্রেক হলে কখনও কখনও  বিদ্যুৎ চমকের মত একফালি দাঁতের ঔজ্জ্বল্য ফুটে বের হত। সাহাবী জাবির ইবনে আবদুল্লাহ বর্ণনা করেন, জীবনে যতবার আমি রসুলে পাকের (সঃ) সাথে সাক্ষাত করেছি, ‘ প্রত্যেক বারই তিনি আমাকে হাসিমুখে সম্ভাষণ করেছেন। অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে আমার কথা শুনেছেন।’ “হযরত আবদুল্লাহ ইবনে হারিস (রাঃ) বলেছেনঃ  মা কানা দেহ্কা রসুলিল্লাহে (সঃ) ইল্লা তাবাস্ সুমা- নূরনবী (সঃ) মৃদু হাসি ব্যতিত কখনও উচ্চ হাস্য করতেন না।
পবিত্র আখলাকের সৌন্দর্য দ্বারা মানুষের প্রেম প্রীতি ও সম্মান হাসিল করা যায়। গোমরামুখী হওয়া কোন তাকওয়ার পরিচয় বহন করে না। ব্যক্তিগত জীবনে দেখা যায় অনেক সৎ চরিত্রের অধিকারীদের চরিত্রে কোমলতা কম থাকে, মেজাজ থাকে কিছুটা কর্কশ। মুমিনের এমন চরিত্র হওয়া বাঞ্ছনীয় নয়। কিয়ামতের দিন এমন লোককেও আল্লাহর সামনে হাযির করা হবে যার আমল নামার মধ্যে নামায, রোযা, যাকাত প্রভৃতি নেক আমল থাকবে। কিন্তু বিভিন্ন ব্যক্তি তার মন্দ আচরণের জন্য আল্লাহর কাছে নালিশ করবে। তাই মিষ্টি হাসি, মধুর আচরণ ও কোমল চিত্তের অধিকারী হওয়া পরিবার প্রধান  সমাজ সংস্কারকদের অপরিহার্য বৈশিষ্ট্য হওয়া প্রয়োজন।
রসুল (সঃ) ছিলেন এমন বৈশিষ্ট্যের অধিকারী। কোরআন সাক্ষ্য দেয়ঃ ফাবিমা রহমাাতিম্ মিনাল্লাহে লিন্তা লাহুম ওয়া লাও কুনতা ফাজ্জান্ গালিজাল কালবে লান্ফাদ্দু মিন হাওলিকা- অল্লাহর অনুগ্রহে তুমি তাদের জন্য কোমল। হে মুহাম্মাদ! আর যদি তুমি কঠোর হৃদয় হতে তা হলে অবশ্য তারা তোমার পাশ থেকে সরে দাঁড়াত। ( আলে ইমরান-১৭০)
মধুর চরিত্রের অধিকারী ও মিষ্টভাষীদের জন্য জান্নাতের সুখবর রয়েছে পবিত্র হাদিসে। আনাস রাঃ) থেকে বর্ণিত : রসুলল্লাহ (সঃ) বলেছেন-  যে কথাটি প্রকৃতই মিথ্যা এবং অসঙ্গত, যে ব্যক্তি উহা বলা এবং উহা আলোচনা করা পরিত্যাগ করে, তার জন্য জান্নাতের কিনারায় স্থান নির্মিত হয়। যে ব্যক্তি সঙ্গত কারণ থাকা সত্ত্বেও ঝগড়া বিবাদ পরিত্যাগ করে, তার জন্য জান্নাতের মধ্যে বাসস্থান নির্মিত হয়।  যে ব্যক্তি বাক সংযম, মিষ্টভাষণ এবং সত্য কথার প্রভৃতি সকল গুণ দ্বারা নিজের চরিত্র সৌন্দর্যমন্ডিত করে, তার জন্য জান্নাতের সর্বোচ্চ স্থানে বাসস্থান নির্মিত হয়। ( মেশকাত)
যে জীবনে আনন্দ রস একবারেই নেই, সাধারণ মানুষ তেমন জীবনকে আদর্শরূপে গ্রহণ করতে পারে না। কিন্তু হাসি তামাশা যেন ভব্যতার সীমা ছাড়িয়ে না যায় সে জন্য সূক্ষ্ম রস বোধ ও আত্ম সংযম থাকা দরকার। নবী জীবনের হাসি তামাশার দিকটায় এই সত্যের প্রতি আলোক পাত করা হয়েছে। হয়রত আয়েশা (রাঃ) সাক্ষ্য দেনঃ রসুলুল্লাহ (সঃ) কাউকে অভিশাপ দিতে কারো নিন্দা করতে বা কারো সঙ্গে কর্কশ ব্যবহার করতে অভ্যস্ত ছিলেন না।
‘নীরবতা, নির্জনতা, স্থির ও সমাজ বিচ্ছিন্ন একক জীবন ইসলাম নয়।’ তাই দেখা যায় রসুল (সঃ)-এর পারিবারিক জীবন ছিল, জীবনে হাসি তামাশা ছিল, ছিল তাঁর জীবনে তুলনা বিহীন কোমল ব্যবহার । এই কোমল ব্যবহারের গুণটি আসে আল্লাহর পক্ষ থেকে রহমত রূপে। হযরত আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসুল (সঃ) বলেছেনঃ “কোন গৃহের কল্যাণ করার উদ্দেশ্য ছাড়া আল্লাহ তাদেরকে ‘রিফক’ দান করার ইচ্ছা করেন না এবং তাদের ক্ষতি করা ছাড়া তাদেরকে ‘রিফক’ থেকে বঞ্চিত করেন না। ”
হাদিসে ব্যবহৃত ‘রিফক’ শব্দের অর্খ ব্যাপক। শুধুমাত্র দয়া বা নম্রতা  কিংবা নরম মেজাজ দ্বারা অর্থ প্রকাশ করে শেষ করা যায় না। তাই পরিবার ও সমাজের কল্যাণ কামনায় আল্লাহর কাছে ‘রিফ্ক’র মোহতাজ হয়ে তা লাভের জন্য আবেদন করতে হবে।
এই রিফ্কের গুণে গুণান্বিত হয়ে পরিবারের সাথে, প্রতিবেশীর সাথে, সমাজের সমস্ত মানুষের সাথে হাসি মুখে, হাস্যোজ্জ্বল চেহারা নিয়ে তাদের সাথে মিলতে হবে, কোমল আচরণ করতে হবে।এ সব যেন লোক দেখানোর না হয়। এ কথা সবার জানা, স্নেহ যত গোপনের, যত নির্জনের হয় ততই প্রবল হতে থাকে। তাই হৃদয়ের গোপন আস্তানা থেকে ভালবাসতে হবে, ভাল ব্যবহার করতে হবে। তা হলে আশা করা যায় পরিবার ও সমাজ সংশোধনের কাজ আঞ্জাম দেয়া অনেকটা সহজ হবে।
মানুষের সাথে প্রতিবেশীর সাথে সুন্দর আচরণ করা ঈমানের অন্যতম শিক্ষা। তাই সর্বাবস্থায় সর্ব স্তরের মানুষের সাথে ভদ্র আচরণ করা ঈমানদার ব্যক্তির কর্তব্য।