Latest Post

কওমীর স্বীকৃতি ও দেবিমূর্তি বিরোধী বক্তব্য আর রাজনৈতিক স্বার্থের ভেল্কিবাজি: মুহাম্মাদ মামুনুল হক

ঢাকা ১৩ই এপ্রিল'১৭ আজকের প্রথম আলোর প্রথম পাতায় প্রধান শিরোনাম দেখে মনে পড়ছে দুই হাজার ছয়ের কথা ৷ যখন হযরত শায়খুল হাদীস রহঃএর দলের...

Showing posts with label উত্তম আচরণ. Show all posts
Showing posts with label উত্তম আচরণ. Show all posts

Sunday, April 9, 2017

নম্রতা ও কোমলতা

ইবনে নসীব
মনে করা হয়, রুক্ষতা ও কঠোরতা তারবিয়তের পক্ষে সহায়ক। কিন্তু তা ঠিক নয়। কঠোরতার দ্বারা শিশু-কিশোরদের স্তব্ধ করে দেওয়া যায়, একে তারবিয়ত বলে না। প্রকৃত অর্থে তারবিয়ত হচ্ছে শিশুর প্রতিভাগুলোকে বিকশিত হতে সাহায্য করা। মানুষের প্রতিভাগুলো অতি নাযুক ও সংবেদনশীল। সদ্য অঙ্কুরিত চারা গাছের মতোই কোমল। এর পূর্ণ বিকাশের জন্য প্রয়োজন খোলা আকাশের আলো আর প্রয়োজনীয় পরিচর্যা। আলোহীন বদ্ধ ঘরে চারাগাছ যেভাবে হলদে হয়ে শুকিয়ে যায় সেভাবে স্তব্ধ মানসের মধ্যেও প্রতিভাগুলো শুকিয়ে যায়। তাই শিশুর স্বতঃস্ফূর্ত মানসিক বিকাশের জন্য তারবিয়তকারীর কোমল আচরণ অতি প্রয়োজন।
শুধু শিশু-কিশোরদের বেলায়ই নয়, সকল শ্রেণীর তারবিয়ত গ্রহণকারীর জন্য নম্রতা ও কোমলতা অত্যন্ত ফলপ্রসু। কুরআন মজীদে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন-(তরজমা) আল্লাহর অনুগ্রহে আপনি তাদের জন্য কোমল হয়েছেন। আপনি যদি রূঢ় ও কঠিন-হৃদয় হতেন তাহলে তারা আপনার চার পাশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যেত। অতএব তাদের ক্ষমা করুন এবং তাদের জন্য (আল্লাহর কাছে) ক্ষমা প্রার্থনা করুন এবং (বিভিন্ন) বিষয়ে তাদের সঙ্গে পরামর্শ করুন। এরপর যখন কোনো বিষয়ে সংকল্পবদ্ধ হবেন তো আল্লাহর উপর ভরসা করুন। নিশ্চয় আল্লাহ তাওয়াক্কুলকারীদের ভালবাসেন।-সূরা আল ইমরান : ১৫৯
এই আয়াতের তাফসীরে মুফতী শফী রাহ. লেখেন-উপরোক্ত বিষয়গুলো থেকে ইসলাহ ও সংশোধন এবং তাবলীগ ও দ্বীন প্রচারের বিষয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা পাওয়া গেল। তা এই যে, যে ব্যক্তি মানুষের ইসলাহ ও সংশোধন এবং দাওয়াত ইলাল্লাহর কাজে আত্ম নিয়োগ করতে চায় তার জন্য উপরোক্ত গুণাবলি-নম্রতা ও সুন্দর ব্যবহার এবং কোমলতা ও ক্ষমাশীলতা, অর্জন করা অপরিহার্য। কেননা, আল্লাহর পেয়ারা হাবীব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পক্ষ হতে কঠোরতা হলে তাও মানুষ বরদাশত করতে পারে না তাহলে আর কার পক্ষে সম্ভব হবে যে, রুক্ষতা ও মন্দ ব্যবহার দ্বারা আল্লাহর বান্দাদের নিজের সঙ্গে একত্র করবে এবং তাদের ইসলাহ ও সংশোধনের কাজ আঞ্জাম দিবে?-তাফসীরে মাআরিফুল কুরআন ২/২১৬-২১৭ কোমলতা ও এর ফলাফল উল্লেখ করে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে বিষয়ে কোমলতা আছে তা সৌন্দর্যমণ্ডিত। আর যেখানে কোমলতা নেই তা হচ্ছে ত্রুটিপূর্ণ।-সহীহ মুসলিম হাদীস : ২৫৯৪
কোমলতার দ্বারা মানুষের কথাবার্তা ও আচার-ব্যবহার সুন্দর হয়। আর সুন্দর ব্যবহার মানুষের মনে যে প্রভাব সৃষ্টি করে তা অন্য কোনোভাবে সৃষ্টি হয় না।
এ প্রসঙ্গে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পবিত্র সীরাত থেকে কিছু দৃষ্টান্ত পেশ করছি।
হযরত মুআবিয়া ইবনুল হাকাম আসসুলামী রা. বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পিছনে জামাতে নামায পড়ছিলাম। ইতিমধ্যে এক ব্যক্তি হাঁচি দিল। আমি বললাম, ‘ইয়ারহামুকাল্লাহ।’ এতে অন্য মুসল্লীরা আমার দিকে তীক্ষ্ণ চোখে তাকাতে লাগল। আমি বললাম, হা! আমার মরণ! তোমরা আমার দিকে এভাবে তাকাচ্ছ কেন? এতে তারা আরো বিচলিত হল এবং তাদের উরুতে চাপড় দিয়ে আমাকে নিবৃত্ত করতে চাইল। এতে আমি নিশ্চুপ হলাম। নবীজী যখন নামায সমাপ্ত করলেন-আমার পিতামাতা তাঁর ওপর কুরবান হোক! কোনো শিক্ষককে তাঁর চেয়ে উত্তমরূপে শিক্ষা দিতে আমি দেখিনি! না তার আগে আর না তার পরে।-খোদার কসম, তিনি আমাকে কোনো ধমক দিলেন না, প্রহার করলেন না, কোনো কটুবাক্য বললেন না। শুধু বললেন-‘এ নামাযে জাগতিক কথাবার্তা বলা যায় না।’-সহীহ মুসলিম
আরেকটি দৃষ্টান্ত দেখুন। হযরত আবু উমামা রা. বলেন, এক যুবক এসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলল, ‘ইয়া রাসূলুল্লাহ, আমাকে যিনা করার অনুমতি দিন।’ একথা শুনে উপস্থিত সবাই চমকে উঠলেন এবং তাকে তিরস্কার করতে লাগলেন, কিন্তু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমার কাছে এস। সে কাছে এল। বললেন, বস। সে বসল। এরপর বললেন, ‘তুমি কি তোমার মায়ের জন্য এটা পছন্দ করবে?’ সে বলল, না ইয়া রাসূলুল্লাহ। আল্লাহ আমাকে আপনার প্রতি উৎসর্গিত করুন। কোনো মানুষই তার মায়ের জন্য এটা পছন্দ করবে না।’
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘তাহলে তোমার মেয়ের জন্য?’ যুবকটি বলল, না, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমি আপনার প্রতি উৎসর্গিত। কোনো মানুষই তার
মেয়ের জন্য এটা পছন্দ করবে না।’ নবীজী জিজ্ঞাসা করলেন, তাহলে তোমার বোনের জন্য?’ যুবক বলল, ‘না ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমি আপনার প্রতি উৎসর্গিত। কোনো মানুষই তার বোনের জন্য এটা পছন্দ করবে না।’ নবীজী জিজ্ঞাসা করলেন, ‘তাহলে তোমার ফুফুর জন্য?’ যুবক বলল, ‘না ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমি আপনার প্রতি উৎসর্গিত। কোনো মানুষই তার ফুফুর জন্য এটা পছন্দ করবে না।’ নবীজী জিজ্ঞাসা করলেন, তাহলে তোমার খালার জন্য?’ যুবক বলল, না কক্ষনো না। আল্লাহ আমাকে আপনার জন্য উৎসর্গিত করুন। কোনো মানুষই তার খালার জন্য এটা পছন্দ করবে না।’ এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার শরীরে হাত রাখলেন এবং দুআ করলেন- ইয়া আল্লাহ তার গুনাহ ক্ষমা করুন, তার অন্তর পবিত্র করুন এবং তার চরিত্র রক্ষা করুন। বর্ণনাকারী বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শিক্ষার ফলাফল এই হল যে, পরবর্তী জীবনে সে কোনো দিকে চোখ তুলেও তাকাত না।- মুসনাদে আহমদ ৫/২৫৬-২৫৭

শিশু-কিশোর : আমরা কাউকে গালি দিব না

ইবনে নসিব

ভালো মানুষ কখনো গালি দেয় না। দিতেই পারে না। কারো প্রতি রাগান্বিত হলেও সে খারাপ ভাষা ব্যবহার করে না। ভালো মানুষের রাগ প্রকাশের ভঙ্গিটাও হয় সুন্দর ও সংযত। পক্ষান্তরে মন্দ মানুষ যখন রাগান্বিত হয় তখন সে ভুলে যায় ভদ্রতা এবং তার আসল রূপ বের হয়ে পড়ে। সে তখন গালি দিতে থাকে। সে প্রতিপক্ষকে পরাস্ত করতে চায়, কিন্তু নিজেই পরাস্ত হয়ে যায়। কেননা, সবাই তাকে অভদ্র বলে চিনে ফেলে।
কুরআন মজীদে আল্লাহ তাআলা মুমিনদের ভদ্রতা শিক্ষা দিয়েছেন, (তরজমা) ‘হে ঈমানদারগণ, তোমাদের কোনো দল যেন অপর কোনো দলকে উপহাস না করে। কেননা, যাদের উপহাস করা হল তারা উপহাসকারী অপেক্ষা উত্তম হতে পারে এবং নারীরা যেন অপর নারীদের উপহাস না করে। কেননা, যাদের উপহাস করা হল তারা উপহাসকারীনী অপেক্ষা উত্তম হতে পারে। তোমরা একে অপরকে দোষারোপ করো না এবং মন্দ নামে ডেকো না। ঈমানের পর ফুসূক অতি মন্দ। যারা তওবা করে না তারাই যালেম।’-সূরা হুজুরাত : ১১
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুমিন ও মনাফিকের পরিচয় দিয়ে বলেছেন-‘চারটি বৈশিষ্ট্য যার মধ্যে পাওয়া যাবে সে প্রকৃত মুনাফিক। আর যার মধ্যে কোনো একটা পাওয়া যাবে তার মধ্যে মুনাফিকের একটি বৈশিষ্ট্য পাওয়া গেল, যে পর্যন্ত না সে তা পরিত্যাগ করে। সেই বিষয়গুলো এই যে, যখন তাকে বিশ্বাস করা হয় সে বিশ্বাস ভঙ্গ করে। যখন কথা বলে তো মিথ্যা বলে। যখন অঙ্গিকার করে তো অঙ্গিকার ভঙ্গ করে এবং যখন বিবাদ-বিসম্বাদে উপনীত হয় তখন অন্যায় পথ অবলম্বন করে।’-সহীহ বুখারী হাদীস : ৩৪; সহীহ মুসলিম হাদীস : ১০৬
অন্য হাদীসে আছে, ‘মুমিন কখনো দোষারোপকারী, অভিশাপকারী, অশ্লীল ও গালিগালাজকারী হয় না।’-জামে তিরমিযী হাদীস : ২০৪৩ এমনকি ইসলামের মাহাত্ম দেখ। মক্কার কাফিরেরা নবীজীকে কত কষ্ট দিল, সাহাবীদেরকে কষ্ট দিল কিন্তু যখন আল্লাহ তাআলা মুমিনদের বিজয় দান করলেন তখন কাফিরদের প্রতি বিন্দুমাত্রও জুলুম করা হয়নি। তাদের জান-মাল, ইযযত-আব্রু সম্পূর্ণ নিরাপদ ছিল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের জন্য সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেছিলেন এবং মুমিনগণ আল্লাহর আদেশের অনুগত ছিলেন।
ইসলাম এসেছে মানুষকে ভালো বানানোর জন্য। তাই যারা ইসলামের শিক্ষা গ্রহণ করে তারা হয় ভদ্র ও শালীন। কুরআন মজীদে আল্লাহ তাআলা মুমিনদেরকে বলেছেন, (তরজমা) ‘যারা পবিত্র মসজিদ থেকে তোমাদেরকে বাধা প্রদান করেছিল, সেই সমপ্রদায়ের শত্রুতা যেন তোমাদেরকে সীমালঙ্ঘনে প্ররোচিত না করে। সৎকর্ম ও খোদাভীতিতে একে অন্যের সাহায্য কর। পাপ ও সীমা লঙ্ঘনের ব্যাপারে একে অন্যের সহায়তা করো না। আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা কঠোর শাস্তিদাতা।’-সূরা মাইদা : ২
এটাই হচ্ছে ইসলামের শিক্ষা। এই শিক্ষাই আমাদের জন্য অনুসরণীয়। কেননা, এর চেয়ে উত্তম শিক্ষা আর হতে পারে না। আজকের আধুনিক শিক্ষা আজ পর্যন্ত এই পর্যায়ে উন্নীত হতে পারেনি। এজন্য কোনো ‘শিক্ষিত’ মানুষকেও যদি দেখি তিনি তার প্রতিপক্ষকে অন্যায়ভাবে দোষারোপ করছেন এবং বিভিন্ন মন্দ উপাধী ব্যবহার করে তাকে হেয় করার চেষ্টা করছেন তবে তার ওই কাজটা আমরা বর্জন করব। তিনি ‘শিক্ষিত’ বা ‘ভদ্র’ বলেই তার অভদ্র আচরণকে আমরা অনুসরণ করব না।
আমরা কিন্তু এমন দৃষ্টান্ত অহরহ দেখছি। বেশ কিছুদিন আগে একজন ‘শিক্ষিত’ মানুষ একটি দৈনিক পত্রিকায় কলাম লিখেছিলেন। তাতে তিনি কী ধরনের শব্দ ও বাক্য ব্যবহার করেছেন দেখ-‘ধর্মান্ধ এই শক্তিটা হচ্ছে অশুভ শক্তি। আমাদের দেশে এই অশুভ শক্তিটা কীভাবে জানি নিজেদের উদ্দেশ্যগুলো বাস্তবায়িত করে ফেলছে। তাঁরা (যারা এই শক্তিকে সহযোগিতা করেন) যদি সারাক্ষণ ধর্মব্যবসায়ীদের মতো ‘ইসলাম গেল, ইসলাম গেল, বলে আহাজারি করতেন তাহলেও আমরা বুঝতে পারতাম। কিন্তু আধুনিক চেহারার প্রগতিশীল মানুষ কাজ করে যাচ্ছেন মধ্যযুগের ধর্মান্ধ মানুষের জন্য-এর চেয়ে ভয়ঙ্কর ব্যাপার আর কিছু হতে পারে না।
‘... যাদের লক্ষ্য করে এই আলোচনা (অর্থাৎ মাদারাসার ছাত্র-শিক্ষক) তাদের কানে তুলো ঠেসে দেওয়া হয়েছে, কালো কাপড় দিয়ে তাদের চোখ বেঁধে দেওয়া হয়েছে। কাজেই সেই আলোচনা বোঝার ক্ষমতা তাদের নেই।’
(ড. জাফর ইকবাল, এখন তারুণ্যের সময়, দৈনিক প্রথম আলো) পুরো নিবন্ধে বহুবার তিনি এভাবে গালাগালি করেছেন।
আরেকজনের দৃষ্টান্ত দেই। তিনিও একজন অধ্যাপক।
বললেন, ‘চারদিকে দাঁতাল দানবেরা মাথা তুলে দাড়িয়েছে। অসহায়দের (অধ্যাপক হাসান আজিজুল হক, সংস্কৃতির প্রতিপক্ষকে মোকাবেলার আহ্বান, দৈনিক প্রথম আলো ১৫ নভেম্বর ’০৮)
এ ধরনের বাক্যই তারা লিখে থাকেন এবং সেগুলো পত্রিকার পাতার প্রকাশিতও হয়। তা লেখুন গে। তাতে আপত্তি নেই। কিন্তু তাঁরা যে নিজেদেরকে ভদ্র, শিক্ষিত, সুশীল এবং আলোকিত মানুষ বলে পরিচয় দিয়ে থাকেন! এগুলোও কি তাদের আলোকিত কর্মকাণ্ড! আমরা এই চরিত্র অনুসরণ করব না। প্রতিপক্ষের সঙ্গে আমাদের আলোচনা হবে শালীন ও যুক্তিপূর্ণ। আমরা মোকাবেলা করব দলীলপ্রমাণ দিয়ে, গালাগাল দিয়ে নয়। আমাদের আদর্শ ও সুমহান ঐতিহ্য এরই নির্দেশনা দেয়।
আমাদের আদর্শ আলকুরআন ও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহ। আমাদের রয়েছে সাহাবা-তাবেয়ীন এবং ফুকাহা-মুহাদ্দিসীনের আদর্শিক উত্তরাধিকার। তাহলে আমরা কেন বিভ্রান্ত হব? এই আদর্শ আমাদেরকে আলোকিত পথে মনযিলে মাকসূদ পর্যন্ত নিয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ। বলাবাহুল্য, সে আদর্শের ধারে কাছে পৌঁছতেও আমাদের ‘সুশীল’ বন্ধুদের অনেক সময় লাগবে।

Sunday, February 26, 2017

দয়া সূলভ ও নম্র আচরণের ব্যাপারে প্রীয় নবীর কয়েকটি বাণী

হাবিবুল্লাহ মেসবাহ

১) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া
সাল্লাম বলেন:
"আল্লাহ তাআলা দয়ালু, তিনি
দয়াশীলতাকে ভালবাসেন। নম্র আচরণে
আল্লাহ যা দেন কঠিন আচরণ বা অন্য
কোন পন্থায় তা দেন না।"(সহীহ মুসলিম)
২) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া
সাল্লাম আয়েশা রা.কে বলেন: “দয়া
সুলভ আচরণ করবে। রূঢ় ও অশালীন আচরণ
থেকে দূরে থাকবে। যে কোন জিনিসে
ধীরস্থীরতা ও নম্রতা থাকলে তা
সৌন্দর্য মণ্ডিত হয়। আর কোন জিনিসে
ধীরস্থীরতা ও নম্রতা না থাকলে তার
সৌন্দর্য্যহানী ঘটে।” (সহীহ মুসলিম)
৩) “হে আয়েশা নম্র হও। আল্লাহ
তাআলা আহলে বায়ত তথা নবী
পরিবারের কল্যাণ চেয়েছেন বিধায়
তাদের মধ্যে নম্রতা দিয়েছেন।” (মুসনাদ
আহমদ-সহীহ)
৪) “যার মধ্যে নম্রতা নেই সে সব
কল্যাণ থেকে বঞ্চিত।” (সহীহ মুসলিম)
৫) “যার ভাগ্যে নম্রতা দেয়া হয়েছে
সে বিরাট কল্যাণের অধিকারী। আর
যার ভাগ্যে নম্রতা দেয়া হয় নি সে
অনেক কল্যাণ থেকে বঞ্চিত।” (আহমদ,
তিরমিযী। আরনাবুত হাদীসটিকে
হাসান বলেছেন)
৬) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া
সাল্লাম কোন কাজে সাহাবীদেরকে
প্রেরণ করলে বলতেন, “তোমরা মানুষকে
সু সংবাদ দাও। তাদেরকে দূরে সরিয়ে
দিও না। সহজ ও নম্র আচরণ কর, কঠিন
করিও না।” (বুখারী ও মুসলিম)
৭) তিনি বলেন: “আমি নামায শুরু
করার পর ইচ্ছা থাকে নামায লম্বা করব
কিন্তু যখন শিশুর কান্নার আওয়াজ কানে
আসে তখন নামায তাড়াতাড়ি শেষ
করি। কারণ আমি জানি শিশুর আওয়াজে
তার মায়ের মানসিক কত কষ্ট
হয়।” (বুখারী ও মুসলিম)