Latest Post

কওমীর স্বীকৃতি ও দেবিমূর্তি বিরোধী বক্তব্য আর রাজনৈতিক স্বার্থের ভেল্কিবাজি: মুহাম্মাদ মামুনুল হক

ঢাকা ১৩ই এপ্রিল'১৭ আজকের প্রথম আলোর প্রথম পাতায় প্রধান শিরোনাম দেখে মনে পড়ছে দুই হাজার ছয়ের কথা ৷ যখন হযরত শায়খুল হাদীস রহঃএর দলের...

Showing posts with label জীবন ইতিহাস. Show all posts
Showing posts with label জীবন ইতিহাস. Show all posts

Saturday, April 1, 2017

দোলনায় কথা বলা তিন শিশু

মাহফুজ
আবু হুরায়রা (রা.) হ’তে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, (বনী ইসরাঈলের মধ্যে)তিন ব্যক্তি ছাড়া আর কেউই দোলনায় কথা বলেনি।
(১) ঈসা ইবনে মারইয়াম।
মারইয়াম (আলাইহিসসালাম)-এর গর্ভে ঈসা (আলাইহিসসালাম) অলৌকিক ভাবে জন্মগ্রহণ করলে লোকজন তার ব্যাপারে সন্দিহান হ’ল।তখন মারইয়াম (আলাইহিসসালাম)-এর ইঙ্গিতে ঈসা (আলাইহিসসালাম) তাঁর মাতার পক্ষ থেকে জবাব দিয়ে বললেন, ‘আমি আল্লাহ্র দাস। তিনি আমাকে কিতাব (ইনজীল) প্রদান করেছেন এবং আমাকে নবী করেছেন’। ‘আমি যেখানেই থাকি, তিনি আমাকে বরকতময় করেছেন। তিনি আমাকে জোরালো নির্দেশ দিয়েছেন যতদিন জীবিত থাকি, ততদিন ছালাত ও যাকাত আদায় করতে এবং আমার মায়ের অনুগত থাকতে। আল্লাহ আমাকে উদ্ধত ও হতভাগা করেননি’। ‘আমার প্রতি শান্তি যেদিন আমি জন্মগ্রহণ করেছি, যেদিন আমি মৃত্যুবরণ করব এবং যেদিন জীবিত পুনরুত্থিত হব’ {মারিয়াম ১৯/২৯-৩৩}।
(২) ছাহেবে জুরাইজ (জুরাইজের সাথে সংশ্লিষ্ট একটি বাচ্চা)।
জুরাইজ একজন আবেদ বান্দা ছিলেন। তিনি নিজের জন্য একটি ইবাদতগাহ তৈরী করলেন। তিনি সেখানে থাকা অবস্থায় একদিন তার মা সেখানে আসলেন। এ সময় তিনি ছালাতে রত ছিলেন। তার মা বললেন, ‘হে জুরাইজ! তখন তিনি (মনে মনে) বলেন, ‘হে প্রভু! একদিকে আমার ছালাত আর অন্যদিকে আমার মা’।
জুরাইজ ছালাতেই রত থাকলেন। তার মা চলে গেলেন। পরবর্তী দিন তার মা আসলেন । এবারও তিনি ছালাতে মগ্ন ছিলেন। তার মা তাকে ডাকলেন, ‘হে জুরাইজ’! তিনি (মনে মনে) বলেন, ‘হে প্রভু! একদিকে আমার ছালাত আর অন্যদিকে আমার মা’।
তিনি তার ছালাতেই ব্যস্ত থাকলেন। এভাবে তৃতীয় দিনেও জুরাইজ একই কাজ করলে তার মা বললেন, ‘হে আল্লাহ! একে তুমি যেনাকারী নারীর মুখ না দেখা পর্যন্ত মৃত্যু দিও না’। বনী ইসরাঈলের মধ্যে জুরাইজ ও তার ইবাদতের কথা আলোচিত হ’তে লাগল। এক ব্যভিচারী নারী ছিল। সে উল্লেযোগ্য রূপ-সৌন্দর্যের অধিকারিণী ছিল। সে বলল, তোমরা যদি চাও, আমি তাকে (জুরাইজ) বিভ্রান্ত করতে পারি। সে তাকে ফুসলাতে লাগল, কিন্তু তিনি সেদিকে ভ্রুক্ষেপ করলেন না। অতঃপর সে তার ইবাদতগাহের কাছাকাছি এলাকায় এক রাখালের কাছে আসল। সে নিজের উপর তাকে অধিকার দিল এবং উভয়ে ব্যভিচারে লিপ্ত হ’ল। এতে সে গর্ভবতী হ’ল। সে বাচ্চা প্রসব করে বলল, এটা জুরাইজের সন্তান। বনী ইসরাঈল (ক্ষিপ্ত হয়ে) তার কাছে এসে তাকে ইবাদতগাহ থেকে বের করে আনল, তার ইবাদতগাহ ধূলিসাৎ করে দিল এবং তাকে মারধর করতে লাগল। জুরাইজ বললেন, তোমাদের কি হয়েছে? তারা বলল, তুমি এই নষ্টা মহিলার সাথে যেনা করেছ। ফলে একটি শিশু ভূমিষ্ঠ হয়েছে। তিনি বললেন, শিশুটি কোথায়? তারা শিশুটিকে নিয়ে আসল। জুরাইজ বললেন, আমাকে একটু সুযোগ দাও ছালাত আদায় করে নেই। তিনি ছালাত আদায় করলেন। ছালাত শেষ করে তিনি শিশুটির কাছে এসে তার পেটে খোঁচা মেরে জিজ্ঞেস করলেন, ‘এই শিশু! তোমার পিতা কে’? সে বলল, ‘আমার পিতা অমুক রাখাল’।
উপস্থিত লোকেরা তখন জুরাইজের নিকটে এসে তাকে চুম্বন করতে লাগল এবং তার শরীরে হাত বুলাতে লাগল। আর তারা বলল, এখন আমরা তোমার ইবাদতগাহটি সোনা দিয়ে তেরী করে দিচ্ছি। তিনি বললেন, দরকার নেই, বরং পূর্বের মত মাটি দিয়েই তৈরী করে দাও। অতঃপর তারা তাই করল।
(৩) একটি শিশু
তার মায়ের দুধ পান করছিল। এমন সময় একটি লোক দ্রুতগামী ও উন্নত মানের একটি পশুতে সওয়ার হয়ে সেখান দিয়ে যাচ্ছিল। তার পোষাক-পরিচ্ছদ ছিল উন্নত। শিশুটির মা বলল, ‘হে আল্লাহ! আমার ছেলেটিকে এই ব্যক্তির মত যোগ্য কর’।
শিশুটি দুধ পান ছেড়ে দিয়ে লোকটির দিকে এগিয়ে এসে তাকে দেখতে লাগল। অতঃপর বলল, ‘হে আল্লাহ! আমাকে এই ব্যক্তির মত কর না’? অতঃপর ফিরে এসে পুনরায় মায়ের দুধ পান করতে লাগল। (বর্ণনাকারী বলেন) আমি যেন এখনও দেখছি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) শিশুটির দুধ পানের চিত্র তুলে ধরছেন এবং নিজের তর্জনী মুখে দিয়ে চুষছেন। তিনি বলেন, লোকেরা একটি বাঁদিকে মারতে মারতে নিয়ে যাচ্ছিল। আর বলছিল, তুমি যেনা করেছ এবং চুরি করেছ। মেয়ে লোকটি বলছিল, ‘আল্লাহ আমার জন্য যথেষ্ট এবং তিনিই আমার উত্তম অভিভাবক’।
শিশুটির মা বলল, ‘হে আল্লাহ! তুমি আমার সন্তানকে এই নষ্টা নারীর মত কর না’।
শিশুটি দুধ পান ছেড়ে দিয়ে মেয়েটির দিকে তাকাল, অতঃপর বলল, ‘হে আল্লাহ! তুমি আমাকে এই নারীর মত কর’।
এ সময় মা ও শিশুটির মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়ে গেল। মা বলল, হায় দুর্ভাগা! একটি সুশ্রী লোক চলে যাওয়ার সময় আমি বললাম,‘হে আল্লাহ! আমার সন্তানকে এরূপ যোগ্য করে দাও’। তুমি প্রত্যুত্তরে বললে, ‘হে আল্লাহ! আমাকে এর মত কর না’।
আবার এই ক্রীতদাসীকে লোকেরা মারধর করতে করতে নিয়ে যাচ্ছে এবং বলছে, তুমি যেনা করেছ এবং চুরি করেছ। আমি বললাম, ‘হে আল্লাহ! আমার সন্তানকে এরূপ করোনা। তুমি বললে ,”হে আল্লাহ্ আমাকে এরূপ কর ।” শিশুটি এবার জবাব দিল, প্রথম ব্যক্তি ছিল স্বৈরাচারী যালেম। সেজন্যই আমি বললাম, ‘হে আল্লাহ! আমাকে এ ব্যক্তির মত কর না? আর এই মহিলাটিকে তারা বলল, তুমি যেনা করেছ। প্রকৃতপক্ষে সে যেনা করেনি। তারা বলছিল, তুমি চুরি করেছ। আসলে সে চুরি করেনি। এজন্যই আমি বললাম, ‘হে আল্লাহ! আমাকে এই মেয়ে লোকটির মত কর’
{বুখারী হা/৩৪৩৬ ‘নবীদের কাহিনী’ অধ্যায়, অনুচ্ছেদ-৪৮, হা/২৪৮২ ‘মাযালিম’ অধ্যায়, অনুচ্ছেদ-৩৫; মুসলিম হা/২৫৫০ ‘সদ্ব্যবহার ও শিষ্টাচার’ অধ্যায়, অনুচ্ছেদ-২}
শিক্ষা :
১. আল্লাহ্র উপর পূর্ণ আস্থা থাকলে কেউ পদস্খলন ঘটাতে পারবে না।
২. কোন হক্বপন্থী ব্যক্তির বিরুদ্ধে যতই ষড়যন্ত্র করা হোক না কেন, তা একদিন সত্যরূপে প্রকাশিত হবেই এবং ষড়যন্ত্রকারীরা লজ্জিত হবে।
৩. আমরা যাকে ভাল মনে করি, প্রকৃতপক্ষে সে ভাল নাও হ’তে পারে। পক্ষান্তরে যাকে খারাপ মনে করি, প্রকৃতপক্ষে সে খারাপ নাও হ’তে পারে।
৪. সর্বদা পিতা-মাতার প্রতি সদ্ব্যবহার করতে হবে

Saturday, February 25, 2017

মাকামে ইমাম আযম আবু হানীফা রহঃ

আল্লামা আবূ সাবের আব্দুল্লাহ দা.বা.


হিদায়েত লাভের জন্য কুরআন হাদীছ মানা যেমন জরুরী তেমনি কুরআন হাদীছের ব্যাখ্যা হিসাবে সাহাবীগণের মতামত ও কর্ম, তাবেঈ ও তাবে তাবেয়ীগণের মতামত এবং দ্বীনের ইমাম ও উলামায়ে কেরামের মতামত লক্ষ্য রাখাও জরুরী। দীনের সহীহ ব্যাখ্যা, সমজ, বুঝ এবং রুচি প্রকৃতি রাসূল সাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সাহাবায়ে কেরাম তাবেয়ীন ও তাবে তাবেয়ীন হয়ে নিরবিচ্ছিন্ন সূত্র ও কর্মের শ্রোতধারার মাধ্যমে পরবর্তীদের নিকট পৌঁছেছে। কাজেই যারা সাহাবী, তাবেয়ী, তাবে তাবেয়ী ও আয়েম্মায়ে দীন এবং প্রাজ্ঞ উলামায়ে কেরামের ব্যাখ্যাকে উপেক্ষা করে কুরআন হাদীস বোঝার চেষ্টা করে তাদের গোমরাহী অনিবার্য। এই মূলনীতি লংঘন করার কারণে ইসলামের ইতিহাসে খারিজী, শিয়া, বাতিনী এবং কাদিয়ানী ইত্যাদি বাতিল ফেরকা জন্ম লাভ করে।
কুরআন কারীমে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন-
ﻓَﺈِﻥْ ﺁﻣَﻨُﻮﺍ ﺑِﻤِﺜْﻞِ ﻣَﺎ ﺁﻣَﻨْﺘُﻢْ ﺑِﻪِ ﻓَﻘَﺪِ ﺍﻫْﺘَﺪَﻭْﺍ ﻭَﺇِﻥْ ﺗَﻮَﻟَّﻮْﺍ ﻓَﺈِﻧَّﻤَﺎ ﻫُﻢْ ﻓِﻲ ﺷِﻘَﺎﻕٍ
অতঃপর তারা যদি সে রকম ঈমান আনে যেমন তোমরা (সাহাবীরা) ঈমান এনেছ তবে তারা সঠিক পথ পেয়ে যাবে। আর তারা যদি মুখ ফিরিয়ে নেয় তবে তারা মূলত শত্রুতায় লিপ্ত হয়ে পড়েছে। বাকারা:১৩৭
বুঝা গেল সাহাবায়ে কেরাম পরবর্তী সকলের ঈমান আমলের মাপকাঠি।
ﻭَﺍﻟﺴَّﺎﺑِﻘُﻮﻥَ ﺍﻟْﺄَﻭَّﻟُﻮﻥَ ﻣِﻦَ ﺍﻟْﻤُﻬَﺎﺟِﺮِﻳﻦَ ﻭَﺍﻟْﺄَﻧْﺼَﺎﺭِ ﻭَﺍﻟَّﺬِﻳﻦَ ﺍﺗَّﺒَﻌُﻮﻫُﻢْ ﺑِﺈِﺣْﺴَﺎﻥٍ ﺭَﺿِﻲَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻨْﻬُﻢْ ﻭَﺭَﺿُﻮﺍ ﻋَﻨْﻪُ ﻭَﺃَﻋَﺪَّ ﻟَﻬُﻢْ ﺟَﻨَّﺎﺕٍ ﺗَﺠْﺮِﻱ ﺗَﺤْﺘَﻬَﺎ ﺍﻟْﺄَﻧْﻬَﺎﺭُ ﺧَﺎﻟِﺪِﻳﻦَ ﻓِﻴﻬَﺎ ﺃَﺑَﺪًﺍ ﺫَﻟِﻚَ ﺍﻟْﻔَﻮْﺯُ ﺍﻟْﻌَﻈِﻴﻢُ
মুহাজির ও আনসারদের মধ্যে যারা প্রথমে ঈমান এনেছে এবং যারা নিষ্ঠার সাথে তাদের অনুসরণ করেছে আল্লাহ তাদের সকলের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তাঁরাও তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছে। আল্লাহ তাদের জন্য এমন উদ্যানরাজি তৈরী করে রেখেছেন যার তলদেশে নহর বহমান। তাতে তারা সর্বদা থাকবে। এটাই মহা সাফল্য। তাওবা :১০০
ﻳﺎ ﺍﻳﻬﺎ ﺍﻟﺬﻳﻦ ﺍﻣﻨﻮﺍ ﺍﻃﻴﻌﻮﺍ ﺍﻟﻠﻪ ﻭﺍﻃﻴﻌﻮﺍ ﺍﻟﺮﺳﻮﻝ ﻭﺍﻭﻟﻰ ﺍﻻﻣﺮ ﻣﻨﻜﻢ
হে মুমিনগণ, তোমরা আনুগত্য কর আল্লাহর, তাঁর রাসূলের এবং তোমাদের মধ্যে যারা ইখতেয়ারধারী (শাসক, আলেম, ফকীহ) তাদেরও। আলে ইমরান :৫৯
ﻭَﻣَﻦْ ﻳُﺸَﺎﻗِﻖِ ﺍﻟﺮَّﺳُﻮﻝَ ﻣِﻦْ ﺑَﻌْﺪِ ﻣَﺎ ﺗَﺒَﻴَّﻦَ ﻟَﻪُ ﺍﻟْﻬُﺪَﻯ ﻭَﻳَﺘَّﺒِﻊْ ﻏَﻴْﺮَ ﺳَﺒِﻴﻞِ ﺍﻟْﻤُﺆْﻣِﻨِﻴﻦَ ﻧُﻮَﻟِّﻪِ ﻣَﺎ ﺗَﻮَﻟَّﻰ ﻭَﻧُﺼْﻠِﻪِ ﺟَﻬَﻨَّﻢَ ﻭَﺳَﺎﺀَﺕْ ﻣَﺼِﻴﺮًﺍ
যে কেউ রাসূলের বিরুদ্ধাচারণ করে তাদের কাছে সরল পথ প্রকাশিত হওয়ার পর এবং সকল মু‘মিনের অনুসৃত পথের (আলেমদের ইজমার) বিরুদ্ধে চলে, আমি তাকে ওই দিকেই ফেরাব যেদিক সে অবলম্বন করেছে এবং তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করব। আর তা নিকৃষ্টতর গন্তব্যস্থান। সূরা নিসা:১১৫
হাদীছ শরীফে ইরশাদ হয়েছে
ﺇﻧﻪ ﻣﻦ ﻳﻌﺶ ﻣﻨﻜﻢ ﻓﺴﻴﺮﻯ ﺍﺧﺘﻼﻓﺎ ﻛﺜﻴﺮﺍ، ﻓﻌﻠﻴﻜﻢ ﺑﺴﻨﺘﻰ ﻭﺳﻨﺔ ﺍﻟﺨﻠﻔﺎﺀ ﺍﻟﺮﺍﺷﺪﻳﻦ ﺍﻟﻤﻬﺪﻳﻴﻦ ﺗﻤﺴﻜﻮﺍ ﺑﻬﺎ ﻭﻋﻀﻮﺍ ﻋﻠﻴﻬﺎ ﺑﺎﻟﻨﻮﺍﺟﺬ، ﻭﺇﻳﺎﻛﻢ ﻭﻣﺤﺪﺛﺎﺕ ﺍﻻﻣﻮﺭ ﻓﺈﻥ ﻛﻞ ﻣﺤﺪﺛﺔ ﺑﺪﻋﺔ ﻭﻛﻞ ﺑﺪﻋﺔ ﺿﻼﻟﺔ .
মনে রেখো, আমার পরে তোমাদের যারা জীবিত থাকবে তারা বহু মতানৈক্য দেখতে পাবে। তখন আমার সুন্নত ও আমার হেদায়েতপ্রাপ্ত খলীফাগণের সুন্নতকে আকড়ে রাখবে। একে অবলম্বন করবে এবং মাড়ির দাঁত দিয়ে প্রাণপণ করে কামড়ে রাখবে। এবং তোমরা (ধর্মীয় বিষয়ের) নব আবিস্কৃত বিষয়াদি থেকে খুব সতর্কতার সাথে বেঁচে থাকবে। কেননা প্রতিটি নব আবিস্কৃত বিষয় বেদআত। আর প্রতিটি বেদআত হল গোমরাহী। সুনানে আবু দাউদ: ৪৬০৭ জামে তিরমিযী ২৬৭৬.
ﻋﻦ ﺍﺑﻦ ﻋﻤﺮ ﺃﻥ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗﺎﻝ : ‏( ﺇﻥ ﺍﻟﻠﻪ ﻻ ﻳﺠﻤﻊ ﺃﻣﺘﻰ - ﺃﻭ ﻗﺎﻝ ﺃﻣﺔ ﻣﺤﻤﺪ – ﻋﻠﻰ ﺿﻼﻟﺔ ، ﻭﻳﺪﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻰ ﺍﻟﺠﻤﺎﻋﺔ ، ﻭﻣﻦ ﺷﺬ ﺷﺬ ﺇﻟﻰ ﺍﻟﻨﺎﺭ ) .
আব্দুল্লাহ ইবনে উমার রা. থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আল্লাহ আমার উম্মতকে কিংবা বলেছেন মুহাম্মদ (সাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর উম্মতকে গোমরাহীর উপর ঐক্যবদ্ধ করবেন না। আল্লাহর হাত রয়েছে জামাআর উপর। যে বিচ্ছিন্ন হয় সে জাহান্নাম অভিমুখে বিচ্ছিন্ন হয়। জামে তিরমিযী:২৩০৫
হাদীছ শরীফে আরো বর্ণিত আছে-
ﺗﻔﺘﺮﻕ ﺃﻣﺘﻲ ﻋﻠﻰ ﺛﻼﺙ ﻭﺳﺒﻌﻴﻦ ﻣﻠﺔ ﻛﻠﻬﻢ ﻓﻲ ﺍﻟﻨﺎﺭ ﺇﻻ ﻣﻠﺔ ﻭﺍﺣﺪﺓ ﻗﺎﻟﻮﺍ : ﻣﻦ ﻫﻲ ﻳﺎ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ؟ ﻗﺎﻝ ﻣﺎ ﺃﻧﺎ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺃﺻﺤﺎﺑﻲ
অর্থাৎ ইমাম খুরাইবী রহ.বলেন, অজ্ঞ বা হিংসুক ছাড়া আর কেউ ইমাম আবু হানীফা সম্পর্কে কটুক্তি করবে না। তিনি আরো বলেন, মুসলমানদের ওপর ওয়াজিব তাদের নামাযে ইমাম আবু হানীফার জন্য দুআ করা। (ইমাম বুখারীর খাস উস্তাদ, মুহাদ্দেছ) মক্কী ইবনে ইবরাহীম বলেন, ইমাম আবু হানীফা তার যুগের সবচে বড় আলেম ছিলেন। মানাকিবুল ইমাম আবু হানীফা: ২৭ পৃ.
ﻗﺎﻝ ﺍﻟﺨﺮﻳﺒﻰ : ﻣﺎ ﻳﻘﻊ ﻓﻰ ﺃﺑﻰ ﺣﻨﻴﻔﺔ ﺍﻻ ﺟﺎﻫﻞ ﺍﻭ ﺣﺎﺳﺪ - ﺍﺑﻮ ﻣﺴﻠﻢ ﺍﻟﻜﺠﻰ ﻋﻦ ﻣﺤﻤﺪ ﺑﻦ ﺳﻌﺪ ﺍﻟﻜﺎﺗﺐ ﻋﻦ ﺍﻟﺨﺮﻳﺒﻰ ﺃﻧﻪ ﻗﺎﻝ : ﻳﺠﺐ ﻋﻠﻰ ﺍﻫﻞ ﺍﻻﺳﻼﻡ ﺍﻥ ﻳﺪﻋﻮﺍ ﺍﻟﻠﻪ ﻷﺑﻰ ﺣﻨﻴﻔﺔ ﻓﻰ ﺻﻼﺗﻬﻢ - ﻭﻋﻦ ﻣﻜﻰ ﺑﻦ ﺍﺑﺮﺍﻫﻴﻢ ﻗﺎﻝ : ﻛﺎﻥ ﺍﺑﻮ ﺣﻨﻴﻔﺔ ﺃﻋﻠﻢ ﺃﻫﻞ ﺯﻣﺎﻧﻪ .
অর্থাৎ ইমাম খুরাইবী রহ.বলেন, অজ্ঞ বা হিংসুক ছাড়া আর কেউ ইমাম আবু হানীফা সম্পর্কে কটুক্তি করবে না। তিনি আরো বলেন, মুসলমানদের ওপর ওয়াজিব তাদের নামাযে ইমাম আবু হানীফার জন্য দুআ করা। (ইমাম বুখারীর খাস উস্তাদ, মুহাদ্দেছ) মক্কী ইবনে ইবরাহীম বলেন, ইমাম আবু হানীফা তার যুগের সবচে বড় আলেম ছিলেন। মানাকিবুল ইমাম আবু হানীফা: ২৭ পৃ.

Thursday, February 23, 2017

ইমামে আজম (রহ.)-এর কর্মজীবন ও চিন্তাধারা

মুফতি আরিফ মাহমুদ হাবীবি

মুসলিম সম্প্রদায়ে চারটি মাজহাব স্বীকৃত। এই চার মাজহাবের চার ইমাম রয়েছেন,
যাঁরা পুরো মুসলিম সমাজেই বরেণ্য ও সম্মানিত। হানাফি, মালেকি, শাফেয়ি ও
হাম্বলি_ এই চার মাজহাবের চার ইমাম প্রায় সমসাময়িক কালের ইসলামী চিন্তাবিদ ও
শরিয়তের ব্যাখ্যাকার। লক্ষ করার বিষয় হলো, এ চার ইমাম ইসলামের শরিয়ত নিয়ে
নিজেদের চিন্তাধারাপ্রসূত দল বা উপদল তৈরি করেননি। তাঁরা প্রত্যেকেই গোটা
মুসলিম সমাজের কাছে সমানভাবে গ্রহণীয় ও বরণীয়। শরিয়ত ব্যাখ্যা করার ক্ষেত্রে
তাঁরা নিজ নিজ দৃষ্টিভঙ্গি অনুসরণ করেছেন। এর ফলে ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে এসেছে
বৈচিত্র্য এবং পরে তৈরি হয়েছে ভিন্ন ভিন্ন চার মাজহাব। আরো লক্ষণীয় বিষয় হলো,
এই মুজতাহিদ ইমামরা শরিয়ত বিধিবদ্ধ করার কাজ করেছেন মহানবী (সা.)-এর ওফাতের
প্রায় ২০০ বছর পর। সুতরাং সহজেই বোঝা যায় শরিয়তের ব্যাখ্যা প্রদান,
বিধিবদ্ধকরণ ও মাজহাবের অভ্যুদয়_এগুলো কোনো বিতর্কিত বা স্পর্শকাতর বিষয় নয়,
বরং জ্ঞান চর্চার ফসল। আমরা এ পাতায় ধারাবাহিকভাবে চার ইমামের কর্মময় জীবন ও
তাঁদের মাজহাবের সংক্ষিপ্ত আলোচনা তুলে ধরার চেষ্টা করব। হানাফি মাজহাবের
প্রতিষ্ঠাতা ইমামে আজম আবু হানিফা। তাঁর প্রকৃত নাম আল নোমান ইবনে সাবিত
(রহ.)। ৮০ হিজরিতে (৬৯৯ খ্রি.) ইরাকের কুফা নগরীতে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর
জন্ম সাল সম্পর্কে ঐতিহাসিকদের মধ্যে বিভিন্ন অভিমত পাওয়া যায়। তবে অধিকাংশের
মতে, তিনি ৮০ হিজরিতেই জন্মগ্রহণ করেন। আবু হানিফা (রহ.)-এর শেষ বয়সে খলিফা আল
মানসুর (৭৫৪-৭৭৫ খ্রি.) মুসলিম সাম্রাজ্যের ভাগ্যনিয়ন্তা ছিলেন। তাঁর কোপানলে
পরেই ইসলামের এই মহামনীষী কারাগারে নিক্ষিপ্ত হন এবং সেখানেই মৃত্যুবরণ করেন।
আবু হানিফা (রহ.)-এর বাবা সাবিত ইবন যুতী (রহ.) ছিলেন পারস্য বংশোদ্ভূত অভিজাত
ব্যক্তিদের একজন। তাঁর দাদা যুতী (রা.) ছিলেন কাবুলের অধিবাসী। আবু হানিফা
(রহ.) শৈশবকাল থেকেই অত্যন্ত মেধাবী, প্রখর বুদ্ধিদীপ্ত এবং অসাধারণ
স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন ছিলেন। জীবনের অধিকাংশ সময়ই ইল্ম ও ইসলামী সংস্কৃতির
লালনভূমি কুফা নগরীতে বসবাস করেন এবং জ্ঞান আহরণ, বিতরণ এবং ইল্মী গবেষণায়
জীবন উৎসর্গ করেন। তাঁর বাবা একজন ধর্মভীরু সওদাগর ছিলেন। ছেলের অসামান্য মেধা
দেখে মুগ্ধ ও আনন্দিত হয়ে বাবা তাঁকে নিজের ব্যবসায় জড়িত না করে উচ্চশিক্ষা
দেওয়ার জন্য মনোযোগী হন। তিনি অল্পদিনের মধ্যেই সমগ্র কোরআন হেফজ করে হাফেজে

কোরআনের মর্যাদা লাভ করেন। সেই সঙ্গে তিনিহাদিসশাস্ত্র, ভাষা ও ইসলামের নানা
বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করেন। আবু হানিফা (রহ.) ছিলেন একজন একনিষ্ঠ ধর্মানুরাগী।
দুনিয়াবি খ্যাতি-সম্মান বা অর্থ-সম্পদ কিছুতেই তাঁর কোনো আকর্ষণ ছিল না। তিনি
খলিফা বা স্থানীয় শাসকদের অনুগ্রহ ভিখারি ছিলেন না। তিনি অফুরন্ত পাণ্ডিত্য ও
ইসলামী ব্যবহারতত্ত্বে অনন্য সাধারণ জ্ঞান প্রয়োগ করে মুসলিম উম্মাহ্র জন্য
শরিয়তের জ্ঞানভাণ্ডার সমৃদ্ধ করে গেছেন। তিনি কুফা নগরীতেই স্বীয় কর্মস্থল
নির্ধারণ করে সেখানেই বসবাস করতেন। সে সময় কুফার শাসনকর্তা ছিলেন ইবনে হুবায়রা
নামক এক স্বেচ্ছাচারী লোক। তিনি আবু হানিফা (রহ.)-এর পাণ্ডিত্যের কথা ও তাঁর
অসামান্য ব্যুৎপত্তির কথা শ্রবণ করে তাঁকে কুফা নগরীর কাজির পদ গ্রহণ করতে
আহ্বান করেন। কিন্তু জ্ঞান সাধক আবু হানিফা (রহ.) এ লোভনীয় পদ গ্রহণ করতে
অস্বীকার করলেন। পরে বাগদাদের খলিফা তাঁকে সাম্রাজ্যের প্রধান বিচারপতি বা
কাজি নিয়োগ করার প্রস্তাব দিলেও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। বাদশাহ ইমাম
সাহেবকে গ্রেপ্তার করে বেত্রাঘাত করার আদেশ দিলেন। কথিত আছে যে ইমাম সাহেবকে
বন্দি করে এনে প্রকাশ্য স্থানে ১১ দিন পর্যন্ত প্রত্যহ ১০ ঘা করে বেত্রাঘাত
করা হতো। এর পরেও দাম্ভিক শাসক আল মানসুর তাঁকে অব্যহতি দেননি। আবু হানিফা
(রহ.)-এর অপরাধ ছিল তাঁর নির্ভীক স্পষ্টবাদিতা। তিনি আস্সাফ্ফাহ বা
রক্তপাতকারী বলে আখ্যায়িত আল্ মানসুরের অমানুষিক হত্যাকাণ্ড ও ইসলাম বিরুদ্ধ
জোরপূর্বক শাসনের প্রকাশ্যে সমালোচনা করতেন। মূলত এ অপরাধে বাদশাহ আল মানসুর
আবু হানিফাকে কারাগারে নিক্ষেপ করেন এবং অনেকের মতে, তাঁকে বিষ প্রয়োগ করে
হত্যা করতে গোপনে আদেশ প্রদান করেন। কারাকক্ষের অন্তরালেই ইসলামের এ জ্ঞানসাধক
(১৫০ হিজরি ৭৬৭ খ্রি.) এ পৃথিবী থেকে চিরবিদায় গ্রহণ করেন। আবু হানিফা
(রহ.)-এর হাতেই 'কি্বয়াস' মুসলিম আইনশাস্ত্রের একটি বিশিষ্ট শাখায় রূপায়িত হয়।
এ 'কি্বয়াসে'র পূর্ণাঙ্গ প্রকাশেই তাঁর হাতে 'ইসতিহসান' বা ইকুইটির উদ্ভব হয়।
এটি দৃষ্টান্ত দিয়ে 'কি্বয়াস' ও 'ইসতিহসান'-এর বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করছি_ শরিয়ত
অনুযায়ী বিক্রয় সম্বন্ধে কোনো চুক্তি করতে হলে বিক্রয়ের বিষয়বস্তুর অস্তিত্ব
চুক্তির সময় থাকা দরকার। এ নিয়মানুসারে কোনো শিল্পী বা কারিগরের সঙ্গে তাঁর
উৎপাদিত বস্তুর ক্রয়ের আগাম চুক্তি প্রথানুযায়ী 'ইসতিহসান'। এ ধরনের চুক্তিকে
ন্যায়সংগত হিসেবে আইনে স্বীকৃতি দেয়। আবু হানিফা (রহ.)-এর আরো অভিমত ছিল যে
'ইজমায়' মুসলমানদের অধিকার সর্বকালেই আছে।

গোঁড়া মুসলিম সম্প্রদায়ের মতে
'ইজমা'র অধিকার কেবলমাত্র আসহাবে রাসুল বা রাসুলের সাক্ষাৎ সহচরদের এবং বড়জোর
তাঁদের সহচরদের অর্থাৎ তাবেয়ীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। কিন্তু আবু হানিফা (রহ.)
উদাত্তস্বরে ঘোষণা করেন যে, সর্ব যুগের সব মুসলমানের ইজমায় নিরঙ্কুশ অধিকার
রয়েছে। তিনি স্বীকৃতি দিয়েছেন, প্রচলিত দেশাচার ও লোকায়ত রীতিনীতি এবং কৃষ্টি
ও ঐতিহ্য আইন-সংকলনের কাজে বিশেষ সহায়ক। ইসলামে এ মতবাদ তিনিই প্রথমে স্বীকার
করেন। এর ফলে মুসলিম ব্যবহারশাস্ত্রে 'ফরফ্' বা দেশাচার ও প্রথার মর্যাদা
স্বীকৃত হয়েছে। তাঁর মতে কোরআন ও হাদিস মুসলিম আইনশাস্ত্রের মৌলিক ভিত্তি।
'ইজমা'র স্থান এর পরেই এবং 'কি্বয়াস', 'ইসতিহসান' ও 'উরফ্' দ্বিতীয় স্তরের
উপাদান। হজরত ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর শরিয়ত ব্যাখ্যার দৃষ্টিভঙ্গি ছিল
মর্মবস্তুনির্ভর। তিনি শাব্দিক অর্থের চেয়ে মর্মার্থের ওপর গুরুত্ব আরোপ
করেছেন বেশি। জুমার খোতবা নিজ মাতৃভাষায় দেওয়া যেতে পারে_এ ব্যাপারেও একমত
প্রকাশ করেছেন। যেমন ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর কথা উল্লেখ করে আল মুহিতুল
বুরহানি [(প্রণেতা ইমাম বুরহানুদ্দীন ইবনে মাজাহ) দ্বিতীয় খণ্ডের ১৬৭ পৃষ্ঠায়
কিতাবুস সালাত আল ফাসলুল খামেসওয়াল ইশরুন ফি সালাতিল জুমা] গ্রন্থে তিনি
উল্লেখ করেছেন, 'খতিব সাহেব অবস্থা বিবেচনায় যদি ফার্সিতে খোতবা দেন, হজরত
ইমাম আবু হানিফার দৃষ্টিতে তা বৈধ।' মুসলিম ধর্মতাত্তি্বকদের মধ্যে তিনি এমনই
উদারমনা ও প্রগতিপন্থী ছিলেন। হজরত ইমাম আবু হানিফা (রহ.) তাঁর জীবনের ৫২ বছর
উমাইয়া খিলাফতে এবং ১৮ বছর আব্বাসীয় খিলাফতে কাটান। মূলত তিনি মুসলিম
সামাজ্যের দুইটি বংশের তথাকথিত খেলাফত আমল স্বয়ং গভীরভাবে দেখার সুযোগ লাভ
করেন। উমাইয়া খেলাফতের জীবনকাল এবং তারপর সেই খিলাফতের পতন যুগও প্রত্যক্ষ
করেন। আব্বাসীয় খিলাফতের সেই যুগও তিনি দেখার সুযোগ পান, যখন পারস্য অঞ্চলে
অত্যন্ত সংগোপনে উমাইয়া শাসনের পতন ঘটানোর জন্য আন্দোলনের সূচনা লাভ করে। আর
সেই আন্দোলন উমাইয়া শাসকদের চোখের অন্তরালে ধীরে ধীরে শক্তি সঞ্চয় করতে থাকে।
এভাবে আব্বাসীয়রা পরবর্তী সময়ে উমাইয়াদের কাছ থেকে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ছিনিয়ে
নিতে সক্ষম হয়। আব্বাসীয়রা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নিকটাত্দীয়ের কারণে সত্যিকার
অর্থে তাঁরাই খিলাফত তথা রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্বের অধিকারী এই দৃষ্টিভঙ্গি জনগণের
মধ্যে প্রচার করা হয়। কারবালা প্রান্তরে এজিদের হাতে রাসুল (সা.)-এর বংশধরদের

পরাজয়ের প্রতিশোধও এর প্রেরণা ছিল। হজরত ইমাম আবুহানিফা (রহ.) এসব রাজনৈতিক
অবস্থার দ্বারা প্রভাবিত হননি এবং তিনি এসব আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ থেকে
বিরত ছিলেন। উমাইয়া শাসকদের প্রতি তাঁর কোনো সমর্থন ছিল না এবং আন্দোলনকারী
নেতাদের সঙ্গেও তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। হজরত ইমাম আবু হানিফা (রহ.)
অত্যন্ত স্পর্শকাতর মনের মানুষ ছিলেন। কারো কোনো দুঃখ-কষ্ট দেখলে ভেতর থেকেই
তিনি উতলা হয়ে উঠতেন। একবার তিনি মসজিদে দরস দিচ্ছিলেন, কেউ একজন এসে বলল,
অমুকে দালানের ওপর থেকে পড়ে গেছে। এ কথা শুনে তিনি এত জোরে আর্তচিৎকার করলেন
যে উপস্থিত সবাই হতবাক হয়ে গেল। তিনি হন্তদন্ত খালি পায়েই ছুটলেন সেই লোকের
বাড়ির দিকে। এমন উন্নততর হৃদয়ের অধিকারী ছিলেন তিনি। অথচ নিজের ওপর কোনো বিপদ
এলে তা নীরবে একা একাই সয়ে যেতেন। স্বৈরাচারী শাসকগোষ্ঠী ও তার পাইক-পেয়াদা
কতভাবে কত রকম তাঁকে কষ্ট দিয়েছে, যার হিসাব নেই। কিন্তু তারা কোনোভাবেই তাঁর
মাথা নত করতে পারেনি। উমাইয়া বা আব্বাসিয়া কোনো বংশের স্বৈরাচারী শাসকরাই
পারেননি তাঁকে তাঁদের দরবারি মোল্লা বানাতে। তিনি জগৎবাসীর জন্য ইসলাম ধর্মের
মহান শিক্ষার রূপরেখা উপহার দিয়ে গেছেন।।
রব্বে কারিম তাঁকে জান্নাতের উচ্চ আসনে সমাসীন করুন। আমিন, ছুম্মা আমিন।।
.
.
মুফতি আরিফ মাহমুদ হাবীবি
খতীবঃ শতবছরের ঐতিহ্যবাহী কেন্দ্রীয় কাশিপুর বড় মসজিদ, নারায়ণগঞ্জ।
szarif786@gmail.com
01914555679

সড়কের নাম থেকে হযরত হাফেজ্জী হুজুরের নাম বাদ দেয়া দুরভিসন্ধি -মহাসচিব ইসলামী আন্দোলন

ঢাকা সিটির বিভিন্ন স্থাপনা থেকে বিভিন্ন ইসলামী মনীষীদের নাম বাতিল করার সিদ্ধান্তকে দুরভিসন্ধি বলে আখ্যায়িত করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর মহাসচিব অধ্যক্ষ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, হযরত গোলাপ শাহ (রহ.) এর পাশের সড়ক, যা চকবাজার পর্যন্ত পৌঁছেছে সেই সড়কের নাম থেকে বিশ্ববরেণ্য বুজুর্গ ও আলাহর ওলি হযরত হাফেজ্জী হুজুরের নাম বাতিলের সিদ্ধান্ত দুরভিসন্ধি। এ চক্রান্ত থেকে সরে না আসলে আল্লাহর ওলিদের বদদোয়ায় তাদের ভয়াবহ ক্ষতি হতে পারে। সড়কটির নাম হযরত হাফেজ্জী হুজুর সড়ক থাকলে কারো কি কোন ক্ষতি হবে? না হলে তা বাতিলে এত মরিয়া কেন, জাতি জানতে চায়। তৎকালীন সময়ে যারা হুজুরের নামে সড়কটির নামকরণ করেছিলেন তারা অত্যন্ত যৌক্তিক কারণেই নামকরণ করেছিলেন। এখন যারা বুজুর্গ আলেম-ওলামাদের নাম মুছে দিতে চায় তারাই ইতিহাস থেকে মুছে যেতে পারেন। মহাসচিব ইউনুছ আহমাদ বলেন, মসজিদের নগরী ঢাকাতে আলেম বা বুজুর্গ ব্যক্তিদের নামে নামকরণটাই স্বাভাবিক। যারা মসজিদের নগরী ঢাকাকে মূর্তির শহরে পরিণত করতে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে গ্রিক দেবী মূর্তি স্থাপনের পক্ষে কথা বলেছেন হযরত হাফেজ্জী হুজুরের নাম বাদ দেয়ার বিষয়ে তারাই এ চক্রান্তে জড়িত। তাদের নিজেদের স্বার্থেই এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসা উচিত।

ট্রাম্পের মুসলিম বিদ্বেষই ইসলাম গ্রহণে উৎসাহ যুগিয়েছে : লিজা

ইনকিলাব ডেস্ক : ফেসবুক স্ট্যাটাস জানিয়েছেন লিজা সাকলিন নামের এক মার্কিন নারী বলেছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘৃণিত আচরণই তাকে ইসলাম গ্রহণে উৎসাহ যুগিয়েছে। নওমুসলিম ওই নারী বলেছেন, ট্রাম্পের ইসলামবিদ্বেষী কথাবার্তা আমাকে ইসলাম সম্পর্কে জানতে এবং বুঝতে উৎসাহ ও প্রেরণা যুগিয়েছে। যা আমাকে ইসলাম গ্রহণে অনুপ্রাণিত করেছে। এক বছর আগে ট্রাম্পের ঘৃণিত আচরণের কারণে তিনি ইসলাম সম্পর্কে জানতে আগ্রহী হন বলে স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেন।
ফেসবুকে দেয়া স্ট্যাটাসটিতে বলা হয়েছে এভাবেÑ এক বছর আগের কথা, ডোনাল্ড ট্রাম্পের কিছু ঘৃণিত আচরণ আমাকে কোরআন পড়তে উদ্বুদ্ধ করে (আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত অবস্থায় তুলনামূলকভাবে ধর্মের বিষয়ে তেমন পড়তাম না) এবং আমি এখন এটা আন্তরিকতার সাথে পড়ি। আর এটাই মুসলমানদের সাথে আলাপচারিতার মাধ্যমে আমাকে ইসলাম গ্রহণের ক্ষেত্রে উদ্বুদ্ধ করে। যার ফলে আমি নিজেই কৃতজ্ঞ অনুভব করি। আমি এখন সিদ্ধান্ত নেই যে, ট্রাম্পের শপথগ্রহণের দিন অর্থাৎ ২০ জানুয়ারি ২০১৭ থেকেই আমি জনসম্মুখে হিজাব পরা শুরু করব সবসময়ের জন্য। আমি গর্বের সাথে হিজাব পরিধান করব এবং আমি মানুষকে গোপনে ও প্রকাশ্যে সবধরনের ধর্মান্ধতার ওপর জানার আহ্বান করব। এফবি।