Latest Post

কওমীর স্বীকৃতি ও দেবিমূর্তি বিরোধী বক্তব্য আর রাজনৈতিক স্বার্থের ভেল্কিবাজি: মুহাম্মাদ মামুনুল হক

ঢাকা ১৩ই এপ্রিল'১৭ আজকের প্রথম আলোর প্রথম পাতায় প্রধান শিরোনাম দেখে মনে পড়ছে দুই হাজার ছয়ের কথা ৷ যখন হযরত শায়খুল হাদীস রহঃএর দলের...

Showing posts with label বিজ্ঞান. Show all posts
Showing posts with label বিজ্ঞান. Show all posts

Sunday, February 26, 2017

হেলথ টিপস : গেঁটেবাত থেকে মুক্তি পেতে

হঠাৎ পায়ের বুড়ো আঙুলে তীব্র ব্যথা, আঙুলের গোড়া ফুলে যাওয়া, আঙুল বা হাত-পায়ের গিড়া লাল ও গরম হয়ে যাওয়া গাউট বা ইউরেট ক্রিস্টাল প্রদাহজনিত গেঁটেবাতের লক্ষণ। খাদ্যের পিউরিন বিপাক ক্রিয়ার মাধ্যমে ভেঙে ইউরিক অ্যাসিডে পরিণত হয় যা রক্তে মিশে অবশেষে প্রস্রাবের মাধ্যমে বেরিয়ে যায়। কিন্তু এই ইউরিক অ্যাসিড দেহে অতিরিক্ত হলে বা কিডনির অকার্যকারিতায় শরীর থেকে বের হতে না পারলে তা রক্তে জমা হতে থাকে। ফলে সন্ধির ভেতর ইউরেট ক্রিস্টাল তৈরি হয়ে প্রদাহ সৃষ্টি করে ও বাত হয়। তাই গেঁটেবাত থেকে মুক্তি পেতে খাদ্যাভ্যাস এবং জীবনযাপনে কিছুটা পরিবর্তন আনতে হবে। ইউরিক অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলে গেঁটেবাতের সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। এ ক্ষেত্রে প্রতিদিন তরল খাবার বেশি গ্রহণ করতে হবে। এড়িয়ে চলতে হবে অ্যালকোহল, মুরগির চামড়া, মগজ, গিলা, কলিজা, চর্বিযুক্ত গরু-খাসির গোশত, মগজ, হাঁস ইত্যাদি। খাদ্যতালিকা থেকে বাদ দিতে হবে মাছের মাথা, চিংড়ি, কাঁকড়া, মসুর ডাল, পুঁইশাক, পালংশাক, অড়হর ডাল, টিনজাত খাবার এবং টমেটোর সস। আমিষ গ্রহণ করতে হবে পরিমিত, কমও নয় আবার বেশিও নয়। ওজনাধিক্য থাকলে তা ডায়েটের মাধ্যমে কমিয়ে আনতে হবে। ইন্টারনেট।
সূত্র :নয়া দিগান্ত

Saturday, February 25, 2017

আপনার কোন ধরনের অ্যালার্জি হয়?

অ্যালার্জির রয়েছে বিভিন্ন রকম ভেদ। ছবি : রিডার্স ডাইজেস্ট
অ্যালার্জিতে অনেকেই আক্রান্ত হন। অ্যালার্জির রয়েছে রকমভেদ। অ্যালার্জির বিভিন্ন ধরন নিয়ে আমাদের আজকের আলোচনা।
অ্যানাফাইলেক্সিস
Advertisement
এটি সবচেয়ে ভয়াবহ অ্যালার্জিজনিত প্রতিক্রিয়া। রোগ নিরূপণকারী রেডিও কনট্রাস্ট মিডিয়া, কিছু ওষুধ, যেমন: পেনিসিলিন, হেপারিন, আফিম, বিভিন্ন পোকামাকড়, মৌমাছি, সাপের কামড় ইত্যাদিতে যে মারাত্মক অ্যালার্জিজনিত প্রতিক্রিয়া হয়, তাতে একজন মানুষের মুহূর্তের মধ্যে মৃত্যু হতে পারে। এ ধরনের অ্যালার্জিজনিত প্রতিক্রিয়ায় যেসব উপসর্গ দেখা দেয় সেসব হলো : শ্বাসকষ্ট, হৃৎস্পন্দন বেড়ে যাওয়া, রক্তচাপ কমে যাওয়া, ডায়রিয়া, বমি, চোখমুখ ফুলে যাওয়া প্রভৃতি।
খাবারজনিত অ্যালার্জি
কারো কারো ক্ষেত্রে বিভিন্ন খাবার, যেমন : দুধ বা দুধজাত পণ্য, মাছ, গরুর গোশত, ডিম, নারকেল, কচু, পুঁইশাক ইত্যাদি খাওয়ার পর বিভিন্ন উপসর্গ যেমন চোখমুখ ফুলে যাওয়া, চুলকানি, শ্বাসকষ্ট, ত্বকে ফুসকুড়ি, বমি ও ডায়রিয়া দেখা দেয়। মূলত এসব অ্যালার্জিজনিত প্রতিক্রিয়া। আবার জন্মগতভাবে ল্যাক্টোজ জাতীয় খাবারের প্রতি অসহনীয়তা যেকোনো শিশুর দুগ্ধজাত খাবারে ডায়রিয়া দেখা দিতে পারে। সাধারণত এটা হয় শিশুকে দ্রুত বড়দের খাবার ও গরুর দুধে অভ্যস্ত করতে চাইলে। তবে দেখা গেছে, যেসব শিশুর ছোটবেলায় দুধ ও দুধজাত খাবারের প্রতি অ্যালার্জি ছিল, তাদের ৬০-৯০ শতাংশ শিশুই চার বছর বয়সে এসব খাবারে ধীরে ধীরে সহনীয় হয়ে পড়েছে।
ওষুধ অ্যালার্জি
সাধারণত এক থেকে তিন শতাংশ ক্ষেত্রে প্রায় সব ওষুধেই অ্যালার্জিজনিত প্রতিক্রিয়া হতে পারে। ওষুধজনিত অ্যালার্জি কখনোই উপেক্ষা করা যাবে না। দেখা গেছে, এ ধরনের অ্যালার্জিতে আক্রান্ত রোগীর মধ্যে প্রতি ১০ হাজারে একজনের মৃত্যু হয়। আমেরিকার বোস্টন কোলাবোরেটিভ ড্রাগ সার্ভিলেন্সের এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, পেনিসিলিন ও তার সমগোত্রীয় ওষুধগুলো, সালফোনামাইডস, এনএসএআইডি এবং অ্যাসপিরিন-জাতীয় ওষুধে সবচেয়ে বেশি অ্যালার্জি দেখা দেয়। ব্যক্তিবিশেষে অ্যালার্জিজনিত প্রতিক্রিয়া ভিন্ন হতে পারে। যেমন : একজন বয়স্ক পুরুষের প্রতিক্রিয়ার হার কম। মহিলাদের প্রতিক্রিয়ার হার তুলনামূলক বেশি। অসুস্থ ব্যক্তিরও অ্যালার্জিজনিত প্রতিক্রিয়া বেশি হয়।
অ্যালার্জিজনিত সর্দি-কাশি
অ্যালার্জিজনিত প্রতিক্রিয়ার কারণে অনেকের সর্দিকাশি হতে পারে। সর্দিকাশির সঙ্গে ঘন ঘন হাঁচি। নাক-চোখ চুলকানো, চোখ দিয়ে পানি পড়া প্রভৃতি উপসর্গ দেখা দিতে পারে। বংশগত কারণে এটা হতে পারে। সাধারণত নারীদের তুলনায় পুরুষদের মধ্যে এ ধরনের অ্যালার্জির প্রবণতা বেশি থাকে। শীতকালে এর প্রকোপ বেড়ে যায়। অ্যালার্জির সঙ্গে অনেক সময় হাঁপানি বা শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে। সাধারণত বাতাসে ভেসে আসা ধূলিকণা কিংবা পরাগরেণু গ্রহণে এ ধরনের প্রকৃতিগত অ্যালার্জি হয়ে থাকে। জন্মের দুই বছর পর থেকে এ ধরনের অ্যালার্জিতে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে।
ত্বকের অ্যালার্জি
অ্যালার্জেন বা উত্তেজক রাসায়নিক পদার্থের প্রভাবে এ ধরনের অ্যালার্জি হয়ে থাকে। এসব রোগীর চার-পঞ্চমাংশই প্রাথমিক এবং সহজাত উত্তেজক পদার্থ যেসব জৈব দ্রাবক, ধৌতকারক সাবান, ডিটারজেন্ট বা এ ধরনের সামগ্রীর কারণে অ্যালার্জির শিকার হন। যেসব লোক চামড়া, প্রসাধন সামগ্রী কিংবা ধাতববস্তু তৈরির কারখানায় কাজ করে তারাও এ ধরনের অ্যালার্জিতে আক্রান্ত হতে পারে।
অ্যাটোপিক অ্যালার্জি
এটা হলো জন্মগত অ্যালার্জি। যেসব শিশু এ ধরনের অ্যালার্জি নিয়ে জন্ম নেয়। দেখা গেছে, পরে তারা অ্যালার্জিজনিত সর্দি ও হাঁপানিতে ভোগে। সাধারণত দুই থেকে আট শতাংশ শিশু জন্মের পর দুই থেকে তিন মাসেই অ্যাটোপিক অ্যালার্জির শিকার হয় এবং শৈশবের তিন থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত তাদের এ অবস্থায় কাটে। এরপর তারা ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠে। উপসর্গ হিসেবে তাদের পুরো শরীরে চুলকানি দেখা যায়। বালিশ বা বিছানার চাদরের ঘর্ষণে মুখে, গালে ও শরীরের বিভিন্ন অংশে লালচে দাগ ও আঠালো ক্ষত দেখা যায়। অ্যালার্জিজনিত খাবার গ্রহণ করলে কিংবা সাবান বা শ্যাম্পু ব্যবহারে এ ধরনের অ্যালার্জি আবার দেখা দেয় ও সেটা প্রকট আকার ধারণ করে।
পোকামাকড়জনিত অ্যালার্জি
অনেকেরই মশা, পিঁপড়া প্রভৃতির কামড়ে ত্বকের নির্দিষ্ট অংশে অ্যালার্জিজনিত প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। কিন্তু এ ছাড়া কিছু কিছু পিঁপড়াগোত্রীয় প্রাণী, মৌমাছি, ভোমরা প্রভৃতির কারণে প্রাণঘাতী অ্যালার্জিজনিত অ্যানাফাইলেক্টিক প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। পোকামাকড়জনিত অ্যালার্জির কারণে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট জায়গা ফুলে যাওয়া, সর্দি, চোখের কনজাংটিভার প্রদাহ, এমনকি হাঁপানি দেখা দিতে পারে।
পরিবেশগত অ্যালার্জি
বিভিন্ন ফুলের পরাগরেণু অ্যালার্জির ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা পালন করে থাকে। রংবৈচিত্র্যহীন ফুলগুলোর পরাগরেণু হালকা থাকে। এগুলো সাধারণত বাতাসের মাধ্যমে পরাগায়ন ঘটায়। বৈচিত্র্যপূর্ণ রঙিন ফুলগুলো পোকামাকড় ও পাখির মাধ্যমে পরাগায়ন ঘটায় এবং এদের পরাগরেণু অপেক্ষাকৃত ভারি ও আঠালো ধরনের। এজন্য বাতাসজনিত পরাগরেণুগুলো বেশির ভাগ ক্ষেত্রে নিঃশ্বাসের সঙ্গে শরীরে প্রবেশ করে অ্যালার্জির সংক্রমণ ঘটিয়ে থাকে। যুক্তরাষ্ট্রের এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, সেখানে রেগ উইড নামক এক ধরনের গুল্ম বর্ষার সময় অ্যালার্জির প্রকোপ ঘটায়। আমাদের দেশে সরিষা ফুলের ভারি পরাগরেণু পোকামাকড়ের মাধ্যমে এ ধরনের সংক্রমণ ঘটিয়ে থাকে। এ ছাড়া পোকামাকড়ের মল, লোমশ প্রাণী যেমন কুকুর-বিড়ালের শরীরের ধুলো প্রভৃতি অ্যালার্জির পেছনে বিরাট ভূমিকা রাখে।
পেশাগত অ্যালার্জি
পেশাগত কারণে এ পর্যন্ত প্রায় ২০০টি বিভিন্ন প্রাকৃতিক অ্যালার্জিক বস্তুর সন্ধান পাওয়া গেছে। এসবের মধ্যে রয়েছে প্লাটিনামের এক ধরনের জটিল লবণ আইসো সায়ানাইটিস, অ্যাপোক্সি রেসিন, কলোফনির ধোঁয়া, প্রোটিনধ্বংসী এনজাইম, রসায়নাগারের জন্তুর মলমূত্র, শস্যের ধুলো, প্রাকৃতিক আটা প্রভৃতি। এ ধরনের অ্যালার্জিক পদার্থ কর্মক্ষেত্রে শ্বাসতন্ত্রের প্রদাহ ঘটায়। যেসব কুলি-মজুর জাহাজের মাল খালাস করে, তারা সাধারণত পেডিকিউলয়েডস ভেন্ট্রিকোসাস নামক এক ধরনের উঁকুনের শিকার হয়। এটি থেকে ত্বকের অ্যালার্জি দেখা দেয়।
দেশজুড়ে সকল বিভাগের অভিজ্ঞ ডাক্তারদের খোঁজ পেতে ও অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে ভিজিট করুন www.doctorola.com অথবা কল করুন 16484 নম্বরে। Doctorola.com বাংলাদেশের প্রথম অনলাইন ও কল সেন্টার ভিত্তিক ডাক্তার অ্যাপয়েন্টমেন্ট সার্ভিস।
m.ntvbd.com/health/107999/আপনার-কোন-ধরনের-অ্যালার্জি-হয়

নাক দিয়ে রক্ত ক্ষরণ হলে দ্রুত কী করবেন?

অনেক সময় হঠাৎ নাক দিয়ে রক্ত পড়া শুরু হয়। তখন দ্রুত কী করবেন? এনটিভির নিয়মিত আয়োজন স্বাস্থ্য প্রতিদিন অনুষ্ঠানের ২৬৪৮তম পর্বে এ বিষয়ে কথা বলেছেন ডা. মো. নাজমুল ইসলাম। বর্তমানে তিনি ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে নাক, কান, গলা বিভাগে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত আছেন।
প্রশ্ন : হঠাৎ করে নাক দিয়ে রক্তক্ষরণ হলে আতঙ্কিত হওয়ার মতো বিষয় ঘটে। নাক দিয়ে হঠাৎ রক্ত পড়তে থাকলে কী করতে হবে?

উত্তর : নাক দিয়ে রক্ত পড়তে শুরু করলে ভীষণ রকম আতঙ্ক শুরু হয়। নাক দিয়ে ঝড় ঝড় করে রক্ত পড়ছে, সাদা কাপড় লাল হয়ে যাচ্ছে। আশপাশে যারা থাকে, এরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। আমি বলব, এখানে আতঙ্কিত হওয়ার মতো কিছু নেই। খুব সাধারণভাবে আমরা নাককে যদি একটু চেপে ধরি, নাক চেপে ধরে মাথাকে একটু সামনের দিকে নিচু করে রেখে, একটি শান্ত নীরব ঘরে যদি রোগীকে সরিয়ে নিয়ে যাই, আশপাশটা একটু খোলামেলা করে রাখি, লোকজনের ভিড়টা কমিয়ে দেই, তাকে আমরা আশ্বস্ত করতে থাকি, ‘তোমার ভয় পেয়ে যাওয়ার কিছু নেই’- তাহলে ভালো হয়। নাক চেপে রোগীকে ধরে রাখতে পারেন।
অন্তত মিনিট দশেক চেপে ধরে রাখতে হবে। এর মধ্যে যেটা করতে হবে একজন ভালো ফিজিশিয়ান যদি থাকে বা অন্য কেউ যার ন্যূনতম মেডিক্যাল জ্ঞান আছে তারা দেখলে ভালো হয়। পালস একটু ধরে দেখার চেষ্টা করলেন, রোগী ঘামছে কি না, শকে চল যাচ্ছে কি না- এগুলো দেখতে হবে। এই রকম কোনো পরিস্থিতি যদি না হয়, তাহলে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ঘরে বসে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে দেওয়া সম্ভব।
কিন্তু এমন যদি হয় যে শিরার গতি খুব দ্রুত হয়ে গেছে, ভলিয়্যুমটা কম আসছে, ঘাম হচ্ছে, রক্তচাপ কমে যাচ্ছে, সেসব ক্ষেত্রে হাসপাতালের জরুরি বিভাগ হচ্ছে সঠিক জায়গা। অবশ্যই নাক কান গলার একটি ব্যবস্থা আছে। এই রকম জায়গায় দিতে হবে। ১০ মিনিট নাক চেপে রাখার পর ছেড়ে দিয়ে দেখতে হবে রক্তক্ষরণ হচ্ছে কি না। যদি থেমে যায় তাহলে ভালো। এর মধ্যে রোগীর কাছ থেকে ইতিহাসটা শুনতে হবে। তার আগে কখনো হয়েছে কি না, এবারই প্রথম হলো কি না, কতক্ষণ আগে শুরু হলো, যেখানে হলো সেখানের আশপাশটা কেমন ছিল, সব কিছু জেনে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
দেশজুড়ে সকল বিভাগের অভিজ্ঞ ডাক্তারদের খোঁজ পেতে ও অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে ভিজিট করুন www.doctorola.com অথবা কল করুন 16484 নম্বরে। Doctorola.com বাংলাদেশের প্রথম অনলাইন ও কল সেন্টার ভিত্তিক ডাক্তার অ্যাপয়েন্টমেন্ট সার্ভিস।

Friday, February 24, 2017

চোখ লাল হলে

ডা: রশিদ হায়দার

স্বাভাবিক অবস্থায় আমাদের চোখ সাদা। চোখের ৫০ শতাংশ অসুখ এ চোখে হয়। বাকি ৫০ শতাংশ অসুখ এ চোখে হয়। বাকি ৫০ শতাংশ হয় লাল চোখে। সাধারণ ভাষায় একে ‘চোখ ওঠা’ বলে। এটি অত্যন্ত সংক্রামক রোগ, যা ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় শরণার্থীদের মধ্যে মহামারী রূপ ধারণ করেছিল। তবে লাল চোখকে অবহেলা করা ঠিক নয়। কারণ এ থেকে অন্ধও হয়ে যেতে পারে। চোখ লাল হওয়ার পাশাপাশি চিকিৎসার সুবিধার্থে চারটি জিনিস খতিয়ে দেখা দরকার।
১. চোখে ব্যথা ২. দৃষ্টিহানি ৩. কেতর বা পিচুটি ৪. নাকি তিনটির একটিও নেই, শুধুই চোখ লাল। চোখের সামনে স্বচ্ছ ও পাতলা পর্দা যাকে কনজাংটিভা বলে, সেখানে ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস সংক্রমণ হলে তাকে ‘চোখ ওঠা’ বলে। চোখ উঠলে চোখে প্রচুর কেতর বা পিচুটি হতে পারে। এ ক্ষেত্রে তিন-চার দিন চোখের এন্টিবায়োটিক ড্রপ দিলেই সেরে যায়। ব্যাকটেরিয়ার জন্য চোখে প্রচুর কেতর জন্মে। তবে লাল চোখে যদি ব্যথা থাকে ও দৃষ্টি কমে যায় তবে চোখের চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। এমন হলে প্রথমে যে অসুখটির কথা আসে তা হচ্ছে গ্লুকোজ। চোখের উচ্চ চাপের জন্য এমনটি হয়।
এ ছাড়া কর্নিয়া ও আইরিসে প্রদাহের কারণেও এ সমস্যা হতে পারে। এ ক্ষেত্রে এন্টিবায়োটিক ড্রপ দিলে চোখ সারে না। ঠিকমতো চিকিৎসা না করালে দৃষ্টিহানি অবশ্যম্ভাবী।

লেখক : চক্ষু বিশেষজ্ঞ ও এমবি লেজারভিশন
m.dailynayadiganta.com/?/detail/news/176718

দুধ কি প্রতিদিন খাবেন?

‘দুধ না খেলে হবে না ভালো ছেলে’। মায়ের মুখে শোনা কথাটাই যখন গান হয়ে যায় তখন আর বিষয়টিকে হেলফেলা করা যায় না। বাস্তবিকই দুধে রয়েছে এত প্রয়োজনীয় উপাদান যে পুষ্টিবিদরা বলছেন, দুধকে কখনও ‘না’ বলবেন না।
❏ ‌অনেকেই ‘খারাপ খেতে’ বলে দুধ পছন্দ করেন না। তবে পরীক্ষায় প্রমাণিত দুধের মতো পুষ্টিকর পানীয় আর নেই। শুধু শিশুদের নয়, প্রাপ্ত বয়স্কদেরও দুধ খাওয়া দরকার।
❏ ‌হাড় গঠনের অন্যতম উপাদান ক্যালসিয়াম। সেই ক্যালসিয়ামে ভরপুর দুধ। যারা শিশু বয়সে দুধ খান বয়স কালেও তাদের হাড় ভালো থাকে। দুধে রয়েছে ভিটামিন ডি। ক্যালসিয়াম শুষে নিয়ে হাড়ের বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।
❏ দাঁতের ক্ষয় রোধ করতে পারে দুধ। কারণ এতে রয়েছে ক্যালসিয়াম। শিশুদের দাঁতের স্বাস্থ্য ভালো থাকে দুধ খেলে। কোলা জাতীয় খাবার খাওয়ার থেকে পানীয় হিসেবে দুধ খান। লালায় থাকা রোগ প্রতিরোধী জীবাণু ভালো থাকবে।
❏ ওজন কমাতেও দুধের জড়ি মেলা ভার। দেখা গেছে, এক গ্লাস দুধে রয়েছে পুরো খাবারের মতোই পুষ্টি। তবে ক্যালরি অর্ধেক।
❏ শরীরে পানির মাত্রা ঠিক রাখে দুধ। অন্যান্য শক্তিবর্ধক পানীয়ের থেকে দুধ তাই আলাদা।
❏ দুধে যদি কারো অ্যালার্জি না থাকে তবে কোষ্টকাঠিন্য হলে দুধ খান। উপকার পাবেন।
❏ শরীরে ধকল গেছে বুঝলে দুধ খান। এতে রয়েছে ধকল কাটানোর উপযোগী ভিটামিন এবং মিনারেল। রাতে ঘুমতে যাওয়ার আগে এক গ্লাস গরম দুধ ধকল কাটানোর পক্ষে যথেষ্ট।
m.dailynayadiganta.com/?/detail/news/178388

পৃথিবীর মতো সাত গ্রহ আবিষ্কার

নাসা থেকে প্রকাশিত নতুন সাত গ্রহের কাল্পনিক চিত্র : ইন্টারন

সৌর জগতের নিকটবর্তী একটি নত্রকে ঘিরে ঘূর্ণায়মান পৃথিবীর মতো অন্তত সাতটি গ্রহের সন্ধান পেয়েছেন
জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। গ্রহগুলোর সন্ধানকে বিরল হিসেবে দেখছেন বিজ্ঞানীরা। গ্রহগুলো পৃথিবীর আকৃতির এবং সেগুলোর পৃষ্ঠে পানি থাকতে পারে, এর আবহাওয়া হতে পারে প্রাণের জন্য উপযুক্ত।
বিজ্ঞানীদের নতুন এ আবিষ্কার গত বুধবার জার্নাল ন্যাচারে প্রকাশিত হয়। পাশাপাশি ওয়াশিংটনে নাসার সদরদফতরে সংবাদ সম্মেলনেও এ ঘোষণা দেয়া হয়। পৃথিবী থেকে ৪০ আলোকবর্ষ দূরের নত্রটিকে ঘিরে গ্রহগুলোর সন্ধানকে বিরল হিসেবে দেখছেন বিজ্ঞানীরা। কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, গ্রহগুলো পৃথিবীর আকৃতির এবং সেগুলোর পৃষ্ঠে পানি থাকতে পারে, এর আবহাওয়া হতে পারে প্রাণের জন্য উপযুক্ত। গবেষণায় নেতৃত্ব দেয়া বেলজিয়ামের লিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের
জ্যোতির্বিদ মাইকেল গালোন বলেন, ‘এবারই প্রথমবারের মতো একই নত্র ঘিরে এ ধরনের এতগুলো গ্রহ পাওয়া গেছে।’
অতি শীতল ুদ্রাকৃতির ওই নত্রের নাম দেয়া হয়েছে টিআরএপিপিআইএসটি-১। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এ নত্রকে ঘিরে আবর্তিত গ্রহগুলো শক্ত গঠনের; সেগুলো বৃহস্পতির মতো গ্যাসীয় নয়; বরং শিলা দ্বারা গঠিত হতে পারে।
টিআরএপিপিআইএসটি-১ ই, এফ ও জি নামে তিনটি গ্রহ তথাকথিত ‘বাসযোগ্য এলাকায়’ এবং সেগুলোতে মহাসাগরও থাকতে পারে। ‘বাসযোগ্য এলাকা’ বলতে কোনো নত্রের চারপাশে ঘূর্ণায়মান গ্রহগুলোর অবস্থানের এমন একটি এলাকা বোঝানো হয়, যে অবস্থানে থাকলে ওই গ্রহ বা গ্রহদের পৃষ্ঠে তরল পানি থাকার সম্ভাবনা থাকে। আর তরল পানি থাকলে প্রাণ থাকারও জোরালো সম্ভাবনা থাকে।
গবেষকদের বিশ্বাস, টিআরএপিপিআইএসটি-১এফ প্রাণের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত। এটা পৃথিবীর চেয়ে কিছুটা শীতল। তবে সঠিক অ্যাটমোসফিয়ার ও পর্যাপ্ত গ্রিনহাউজ গ্যাসসহ এটা প্রাণের জন্য উপযুক্ত হতে পারে। ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের  জ্যোতির্বিজ্ঞানী আমাউরি ট্রিউড বলেন, ‘আমি মনে করি, আর কোথাও প্রাণের অস্তিত্ব আছে কি না তা খুঁজে বের করার েেত্র আমরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ এগিয়েছি। আমি মনে করি এর আগে কখনো আমাদের এমন কোনো গ্রহ আবিষ্কারের ছিল না যেখানে প্রাণ আছে কি না তা খুঁজে দেখার মতো। এখানে যদি কোনো প্রাণের অস্তিত্ব থাকে এবং গ্যাস নিঃসরণ করে, যেমনটি আমরা পৃথিবীতে করি, তাহলে আমরা তা জানব।’
গত বুধবার রাতে নাসার ওই ঘোষণার পর বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এমনকি ঘোষণার সাথে সাথে ডুডল পরিবর্তন করে ফেলেছে গুগল। নতুন আবিষ্কারকে স্বাগত জানিয়েছে তারা। সেখানে দেখানো হচ্ছে সুন্দর একটি অ্যানিমেশন। ছোট্ট দূরবীনে চোখ রেখেছে স্বয়ং পৃথিবী। সাথে একটু উকিঝুঁকি মারছে চাঁদও। হঠাৎ হাসিমুখে সামনে চলে এসেছে পৃথিবীর মতোই একটি গ্রহ।
এ দিকে নাসা জানিয়েছে, নতুন গ্রহগুলোতে প্রাণ আছে কি নাÑ তা বোঝা যাবে গ্রহগুলোর আবহাওয়া ও পরিবেশ নিয়ে গবেষণার পর। তবে প্রাণ থাকার সম্ভাবনাই বেশি। ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (এমআইটি) বিজ্ঞানী সারা সিগার বলেন, ‘গ্রহ সন্ধানের ইতিহাস বলছে, যদি একটি গ্রহ আবিষ্কার হয়, তাহলে সেখানে আরো বহু গ্রহ থাকবে।’ তিনি জানান, ২০১৮ সালেই নাসা জেমস ওয়েব টেলিস্কোপ আনছে। এর মাধ্যমেই গ্রহগুলোর বায়ুমণ্ডলে কী রয়েছে, তা জানা যাবে। যদি বায়ুমণ্ডলে ওজোন, অক্সিজেন বা মিথেনের অস্তিত্ব প্রমাণিত হয়, তাহলে প্রাণের সন্ধান থাকার সম্ভাবনা বেশ উজ্জ্বল। নাসার গবেষক থমাস জুরবুচেনের মতে, এই আবিষ্কার থেকে একটা ইঙ্গিত স্পষ্টÑ দ্বিতীয় পৃথিবী রয়েছে।
সূত্র : সিএনএন

Wednesday, February 22, 2017

প্রযুক্তি : প্রযুক্তির অপব্যবহার

আবদুল্লাহ নাসীব
--
গত মাসের শেষের দিকে বিটিআরসি জানিয়েছে যে
‘বাংলাদেশে ইন্টারনেট-পর্নোগ্রাফি ও আপত্তিকর কন্টেন্ট প্রকাশ বন্ধের প্রক্রিয়ার শুরুতে ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো ৫৬০ টি সাইট বন্ধ করেছে।’
এটা একটা ইতিবাচক পদক্ষেপ। ফাঁক ফোকর কতটুকু বন্ধ করা যাবে বা করা হবে সে আলোচনায় না গিয়ে আপাতত এই পদক্ষেপটিকে সাধুবাদযোগ্য বলা প্রয়োজন। প্রযুক্তির নামে এখন যে এক প্রকারের ‘হিস্টিরিয়াগ্রস্ততা’- এ অবস্থায় এ পদক্ষেপও কম নয়! এটা প্রমাণ করছে পরিস্থিতি আসলেই কত ভয়াবহ।
একটি দৈনিকের রিপোর্টে বলা হয়েছে, বেসরকারী সংস্থা মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের এক জরিপের তথ্য অনুযায়ী ঢাকার স্কুলগামী শিশুদের প্রায় ৭৭ শতাংশ নিয়মিত পর্নোগ্রাফি দেখছে। (দৈনিক নয়াদিগন্ত, ২৯ ডিসেম্বর ২০১৬, পৃ. ১১)
এই প্রজন্মের বর্তমান ও ভবিষ্যত নানা দিক থেকে চরম ঝুঁকিগ্রস্ত হয়ে পড়ার কারণেই হয়তো বাধ্য হয়ে এই পদক্ষেপ নিতে হয়েছে। যে কারণেই নেয়া হোক, এখন এই বোধোদয় প্রয়োজন যে, মানুষের জীবনে সংযমের কোনো বিকল্প নেই। সুস্থ জীবন-যাপনের জন্য এ এক বিকল্পহীন ব্যাপার। মনের সকল ইচ্ছা পূরণ করা, এককথায় প্রবৃত্তিপরায়ণতা মানুষের সুস্থতা ও সুখী-সুন্দর জীবনের জন্যই হুমকি। আর এর জন্য যেমন দরকার ব্যক্তিগত চেতনা তেমনি দরকার সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ।
এই চেতনাও প্রয়োজন যে, যৌনতা জীবনের একটি অংশমাত্র; এটিই জীবন নয়। আর জীবনের এই অংশেও অতি প্রয়োজন সংযম রক্ষা । কারণ এক্ষেত্রের স্বেচ্ছাচারও একজন মানুষের শেষ হয়ে যাওয়ার জন্য যথেষ্ট।
ইসলাম এই সীমা-সরহদই স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, যা রক্ষা করা মানুষের নিজের স্বার্থেই প্রয়োজন। এ কারণে যে বন্ধুরা জীবন-যাপনে ইসলামের বিধি-বিধান সম্পর্কে অমনোযোগী এবং যারা ইসলামের সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্বের বিরোধী তাদের জন্য বেদনাবোধ হয় বৈকি।
সংশ্লিষ্ট বিভাগের দায়িত্বশীল অনেক বড় আশা প্রকাশ করে বলেছেন, ‘৮০ থেকে ৭০ শতাংশ পারলেও বড় কাজ হবে।’ এই আগ্রহটা ইতিবাচক। সম্ভাব্য সকল ব্যবস্থাই গ্রহণ করা উচিত। সদিচ্ছা ও নিষ্ঠা থাকলে কিছু সফলতাও যে আসবে না, তা নয়। কিন্তু একইসাথে এই কথাটিও মনে রাখলে ভালো হবে যে, এটি খুবই সীমাবদ্ধ ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক কিছু সুফল পাওয়ার মতো একটি ব্যবস্থা। গোটা সমাজ-ব্যবস্থা যখন এক ধারায় চলে তখন দু’এক জায়গায় কিছু বিধি নিষেধ বিশেষ কোনো পরিবর্তন আনতে পারে না।
এখানেই বড় পার্থক্য সমাজ-সংস্কারের ইসলামী ব্যবস্থা ও তথাকথিত প্রগতিবাদী ব্যবস্থায়। ইসলামেও দৃষ্টির সংযমের সুস্পষ্ট বিধান আছে। কিন্তু ইসলাম যখন দৃষ্টির সংযমের বিধান দিয়েছে তখন একটি মাত্র বিচ্ছিন্ন বিধান দেয়নি, ঐ ব্যবস্থাটাও দিয়েছে, যা এই সংযমের পক্ষে সহায়ক। ইসলামের পর্দা-ব্যবস্থায় সতর থেকে শুরু করে নারী-পুরুষের সম্পর্ক ও লেবাস-পোষাক পর্যন্ত নানা বিষয়ে এবং ব্যক্তি ও পরিবার থেকে শুরু করে শিক্ষা-দীক্ষা,বিচরণ-উপার্জন, সংস্কৃতি-বিনোদন, পর্ব-উৎসব প্রভৃতি নানা ক্ষেত্রে বিস্তৃত এক ব্যবস্থা, যা দৃষ্টির সংযম থেকে শুরু করে চারিত্রিক শুদ্ধতা রক্ষা পর্যন্ত পবিত্রতার সব কিছুকেই সহজ করে তোলে। আর এই ব্যবস্থার সাথে রয়েছে ইসলামের খোদাভীতি, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য, আখিরাতে জবাবদিহিতার অনুভূতির মতো গভীর চেতনা ও বিশ্বাসের পৃষ্ঠপোষকতা, যা একজন মানুষকে সংযমের বিধান পালনে স্বতঃস্ফূর্ততা দান করে। সারকথা এই যে, ইসলামে একেকটি বিধানের পেছনে একেকটি ব্যবস্থা কাজ করে তেমনি এর প্রতিটি বিধান ইসলামী চেতনা ও বিশ্বাসের গভীর পৃষ্ঠপোষকতা লাভ করে। এটা তার সাফল্যের এক বড় কারণ। আর এ কারণে বর্তমান প্রতিকূল স্রোতেও ব্যক্তিগত পর্যায়ে এর সাফল্যের উদাহরণ একেবারে কম নয়।
পক্ষান্তরে এখনকার প্রগতিবাদী সমাজে অপারগতাবশত যে সকল সংযমের বিধান বা ব্যবস্থা কখনো কখনো আসছে এগুলো সাধারণত সাফল্যের মুখ দেখছে না। কারণ, এসব বিধান ও ব্যবস্থা ‘বিচ্ছিন্ন’ ও
‘আরোপিত’। অর্থাৎ বিশেষ কোনো ক্ষেত্রের ঐ বিধানটি এসংক্রান্ত ব্যবস্থার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, সাংঘর্ষিক। যেমন, আলোচ্য বিষয়টিই ধরুন। এখানে বিশেষ একটি ক্ষেত্রে একটি বিধি-নিষেধ আরোপিত হলেও নারী-পুরুষের সম্পর্ক, মেলা-মেশা, লেবাস-পোষাক ও অন্যান্য ক্ষেত্রের প্রচলিত ধারাটা ঐ ব্যবস্থার সম্পূর্ণ পরিপন্থী। বরং বলা যায়, বিদ্যমান পরিবেশ-পরিস্থিতির একটি বড় অংশ দৃষ্টির স্বেচ্ছাচারের অনুকূল ও প্রেরণাদানকারী। এ অবস্থায় এ ধরনের বিচ্ছিন্ন কোনো পদক্ষেপ কীভাবে সফল হতে পারে? তাছাড়া এই বিধি-নিষেধ স্বতঃস্ফূর্তভাবে গ্রহণ করার মতো শক্তিশালী কোনো চেতনা ও প্রেরণাও তো কার্যকর নেই। বরং নানাভাবে ঈমান ও তাকওয়ার চেতনাকেই দুর্বল ও বিলুপ্ত করার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। ফলে এইসকল বিধি-ব্যবস্থা হয়ে যাচ্ছে অনেকটাই ‘আরোপিত’ প্রকৃতির। কাজেই ফাঁক ফোকর খোঁজার ব্যাপারটা অনেক বড় ও ব্যাপকভাবেই এসে যাচ্ছে। এ কারণে সত্যিকার অর্থেই জাতি ও সমাজকে অশ্লীলতা ও তার কুফল থেকে রক্ষা করতে হলে ঈমান ও তাকওয়া;বিশ্বাস ও খোদাভীতির চর্চার কোনো বিকল্প নেই। চিন্তা-চেতনায়, বিশ্বাস ও কর্মে ইসলামী শিক্ষা ও জীবনধারা অনুসরণের দাওয়াতই আল্লাহর ইচ্ছায়- ব্যক্তি ও সমাজকে আত্মসংযমের পথে নিয়ে আসতে পারে। তখন দায়িত্বশীলদের পক্ষ হতে অন্যায়-অপরাধ নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ-আয়োজনগুলোও সফলতার মুখ দেখবে।
এই সংযম ও নিয়ন্ত্রণ কোনোভাবেই সত্যিকারের প্রগতি ও চিন্তার মুক্তির পরিপন্থী নয়; বরং তার সহায়ক ও পৃষ্ঠপোষক। দৃষ্টির সংযম থেকে শুরু করে চরিত্র ও নৈতিকতার শুদ্ধি পর্যন্ত গোটা ব্যবস্থাটা ব্যক্তি ও সমাজের সুস্থতার জন্যই প্রয়োজন। সমাজ যদি সুস্থ থাকে তবেই না প্রগতি ও প্রযুক্তি। অসুস্থ মৃতপ্রায় সমাজে প্রযুক্তি ও প্রগতি কী কাজে আসবে?