Latest Post

কওমীর স্বীকৃতি ও দেবিমূর্তি বিরোধী বক্তব্য আর রাজনৈতিক স্বার্থের ভেল্কিবাজি: মুহাম্মাদ মামুনুল হক

ঢাকা ১৩ই এপ্রিল'১৭ আজকের প্রথম আলোর প্রথম পাতায় প্রধান শিরোনাম দেখে মনে পড়ছে দুই হাজার ছয়ের কথা ৷ যখন হযরত শায়খুল হাদীস রহঃএর দলের...

Friday, March 31, 2017

আজানে নবীজী সাঃ এর নাম শুনে আঙ্গুল চুম্বন বিদআত!

মুফতী লুৎফুর রহমান ফরায়েজী

ইদানিং আজানের সময় “আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ” শব্দ শুনে আঙ্গুলে চুমু খেয়ে চোখে মোছা বিষয়ে বেশ বিতর্ক চলছে। এ বিষয়ে পরিস্কার ধারণা পেতে অনেকে অনুরোধ করছেন। সেই হিসেবে এ বিষয়ে অল্প সময়ে কিছু তথ্যাদি উপস্থাপন করার চেষ্টা করা হল।
হাদীসের কোন গ্রহণযোগ্য কিতাবে আজানের সময় আঙ্গুল চুমু খাওয়া ও চোখে মোছা সম্পর্কিত কোন কথা বর্ণিত হয়নি।
আঙ্গুলে চুমু খাওয়া বন্ধুরা যেসব কিতাব থেকে উক্ত মাসআলাটির প্রমাণ পেশ করার চেষ্টা করে থাকেন, তা মূলত কয়েকটি। যথা-

কানযুল ইবাদ।

ফাতাওয়ায়ে সূফিয়া।

কুহুস্তানী রহঃ এর লিখা জামেউর রূমূজ।

কিতাবুল ফিরদাউস।
মূল উৎস এ ৪টি গ্রন্থ। যে ৪ কিতাবের রেফারেন্সে তা আনা হয়েছে, ফাতাওয়া শামী, তাহতাবী আলা মারাকিল ফালাহ, তাফসীরে রূহুল বয়ান, আলবাহরুর রায়েক এবং জালালাইনের হাশিয়ায়।
তাহলে মূল উৎস কিন্তু ৪টিই থাকছে। পরবর্তী কিতাব তথা ফাতাওয়া শামী, মারাকিল ফালাহ ইত্যাদি গ্রন্থে উল্লেখ হওয়া মানে আলাদা হয়ে যাওয়া নয়। বরং মূল প্রমাণ্য উক্ত কয়েকটি কিতাবই থাকে। এবার আমরা দেখবো উপরোক্ত কিতাবগুলোতে বর্ণিত সব কথাই কি গ্রহণযোগ্য? নাকি তাহকীক করতে হবে?
কানযুল ইবাদ
ﻛﻨﺰ ﺍﻟﻌﺒﺎﺩ، ﻓﻲ ﺷﺮﺡ ﺍﻷﻭﺭﺍﺩ
ﻳﻌﻨﻲ : ﺃﻭﺭﺍﺩ ﺍﻟﺸﻴﺦ، ﺍﻷﺟﻞ، ﻣﺤﻴﻲ ﺍﻟﺴﻨﺔ : ﺷﻬﺎﺏ ﺍﻟﺪﻳﻦ ﺍﻟﺴﻬﺮﻭﺭﺩﻱ .
ﻭﺍﻟﺸﺮﺡ : ﻟﺒﻌﺾ ﺍﻟﻤﺸﺎﻳﺦ . ﻓﻲ ﻣﺠﻠﺪ . ﻣﻨﻘﻮﻝ ﻣﻦ : ﻛﺘﺐ ﺍﻟﻔﺘﺎﻭﻯ، ﻭﺍﻟﻮﺍﻗﻌﺎﺕ .
ﻭﻫﻮ : ﺷﺮﺡ ﻓﺎﺭﺳﻲ : ﺑﻘﻮﻟﻪ . ﻟﻌﻠﻲ ﺑﻦ ﺃﺣﻤﺪ ﺍﻟﻐﻮﺭﻱ، ﺍﻟﺴﺎﻛﻦ ﺑﺨﻄﺔ : ﻛﺮﻩ .
কানযুল ইবাদ ফী শরহিল আওরাদ অর্থাৎ আওরাদুশ শায়খুল আজল মুহিউস সুন্নাহ শিহাবুদ্দীন আসসাহরাওয়ার্দীর ওযীফা এবং মালফুজাত কোন বুযুর্গ ব্যক্তি লিখেছেন। যা ফাতাওয়ার কিতাব ও জীবনী গ্রন্থ থেকে নেয়া। এক খন্ডে প্রকাশিত। এটি ফার্সি ভাষায় আলী বিন আহমাদ আলগুরীর অনুবাদে প্রকাশিত। যিনি খাত্তা এলাকার বাসিন্দা। [কাশফুজ জুনুন-২/১৫১৭]
এই হল, কানযুল ইবাদ কিতাবের হালাত। কোন বুযুর্গ লিখেছেন? কোন উৎসমূল থেকে তা সংগ্রহ করেছেন? তার কিছুই জানা নেই। এমন একটি মাজহূল গ্রন্থে উদ্ধৃত বিষয় কি করে মুস্তাহাবের মত শরয়ী বিধানের অন্তর্ভূক্ত হতে পারে?
 ফাতাওয়া সূফিয়্যাহ
আল্লামা আব্দুল হাই লাক্ষ্ণৌবী রহঃ বলেনঃ
(( ﺍﻟﻔﺘﺎﻭﻱ ﺍﻟﺼﻮﻓﻴّﺔ (( ﻟﻔﻀﻞ ﺍﻟﻠﻪ ‏[ ﺑﻦ ‏] ﻣﺤﻤﺪ ﺑﻦ ﺃﻳﻮﺏ، ﺗﻠﻤﻴﺬ )) ﺟﺎﻣﻊ ﺍﻟﻤﻀﻤﺮﺍﺕ (( ﻛﻤﺎ ﻧﻘﻠﻪ ﺻﺎﺣﺐ )) ﺍﻟﻜﺸﻒ (( ﻋﻦ ﺍﻟﺒِﺮْﻛِﻠﻲّ ﺃﻧّﻪ ﻗﺎﻝ : ﺇﻧّﻬﺎ ﻟﻴﺴﺖ ﻣﻦ ﺍﻟﻜﺘﺐ ﺍﻟﻤﻌﺘﺒﺮﺓ، ﻓﻼ ﻳﺠﻮﺯُ ﺍﻟﻌﻤﻞ ﺑﻤﺎ ﻓﻴﻬﺎ ﺇﻻ ﺇﺫﺍ ﻋﻠﻢَ ﻣﻮﺍﻓﻘﺘﻬﺎ ﻟﻸﺻﻮﻝ .
“জামেউল মুজমারাত” গ্রন্থ প্রণেতার ছাত্র ফযল বিন মুহাম্মদ বিন আইয়্যুব এর কিতাব “ফাতাওয়া সূফিয়্যাহ” সম্পর্কে “কাশফুজ জুনুন” প্রণেতা বিরকিলিই এর বরাতে উল্লেখ করেছেনঃ নিশ্চয় এটি [ফাতাওয়া সুফিয়্যাহ] কোন গ্রহণযোগ্য কিতাব নয়। তাই এর মাঝে থাকা যেসব বিষয় উসূলে শরীয়তের সাথে না মিলে, এমন কথার উপর আমল করা যাবে না। [মুকাদ্দিমায়ে উমদাতুর রিয়ায়াহ বিহাশিয়াতি শরহিল বিকায়া-১/৫১, কাশফুজ জুনুন-২/১২২৫]
কুহুস্তানী
ﻭﺍﻟﻘُﻬُﺴْﺘَﺎﻧِﻲُّ ﻛﺠﺎﺭﻑِ ﺳﻴﻞ، ﻭﺣﺎﻃﺐ ﻟﻴﻞ ﺧﺼﻮﺻﺎً ﻭﺍﺳﺘﻨﺎﺩﻩ ﺇﻟﻰ ﻛﺘﺐ ﺍﻟﺰﺍﻫﺪﻱّ ﺍﻟﻤﻌﺘﺰﻟﻲّ . ﺍﻧﺘﻬﻰ
আল্লামা শামী রহঃ বলেনঃ কুহুস্তানী হল, স্রোতে ভেসে যাওয়া এবং অন্ধকারে লাকড়ি সংগ্রহকারী। বিশেষ করে তিনি যখনি যাহেদ মু’তাজিলীর কিতাব থেকে কোন কথা গ্রহণ করে। [তানকীহুল ফাতাওয়াল হামিদিয়্যাহ-২/৩২৪, মুকাদ্দিমায়ে উমদাতুর রিয়ায়াহ বিহাশিয়াতি শরহিল বিকায়া-১/৪৮]
মোল্লা আলী কারী হানাফী রহঃ কুহুস্তানী সম্পর্কে বলেনঃ
ﻭﻗﺎﻝ ﻋﻠﻰ ﺍﻟﻘﺎﺭﻱ ﺍﻟﻤﻜﻲّ ﻓﻲ ﺭﺳﺎﻟﺘِﻪ : )) ﺷﻢ ﺍﻟﻌﻮﺍﺭﺽ ﻓﻲ ﺫﻡ ﺍﻟﺮﻭﺍﻓﺾ :(( ﻟﻘﺪ ﺻﺪﻕَ ﻋﺼﺎﻡُ ﺍﻟﺪﻳﻦ ﻓﻲ ﺣﻖّ ﺍﻟﻘُﻬُﺴْﺘَﺎﻧِﻲّ ﺃﻧّﻪ ﻟﻢ ﻳﻜﻦ ﻣﻦ ﺗﻼﻣﻴﺬ ﺷﻴﺦ ﺍﻹﺳﻼﻡ ﺍﻟﻬَﺮَﻭﻱ، ﻻ ﻣﻦ ﺃﻋﺎﻟﻴﻬﻢ، ﻭﻻ ﻣﻦ ﺃﺩﺍﻧﻴﻬﻢ، ﻭﺇﻧّﻤﺎ ﻛﺎﻥ ﺩﻻّﻝ ﺍﻟﻜﺘﺐ ﻓﻲ ﺯﻣﺎﻧﻪ، ﻭﻻ ﻛﺎﻥ ﻳُﻌﺮﻑ ﺑﺎﻟﻔﻘﻪ ﻭﻏﻴﺮﻩ ﺑﻴﻦ ﺃﻗﺮﺍﻧﻪ، ﻭﻳﺆﻳّﺪُﻩ ﺃﻧّﻪ ﻳﺠﻤﻊَ ﻓﻲ )) ﺷﺮﺣِﻪ (( ﻫﺬﺍ ﺑﻴﻦ ﺍﻟﻐﺚ ﻭﺍﻟﺴﻤﻴﻦ، ﻭﺍﻟﺼﺤﻴﺢ ﻭﺍﻟﻀﻌﻴﻒ ﻣﻦ ﻏﻴﺮ ﺗﺤﻘﻴﻖ ﻭﺗﺪﻗﻴﻖ، ﻓﻬﻮ ﻛﺤﺎﻃﺐ ﺍﻟﻠﻴﻞ، ﺍﻟﺠﺎﻣﻊِ ﺑﻴﻦ ﺍﻟﺮﻃﺐ ﻭﺍﻟﻴﺎﺑﺲ ﻓﻲ ﺍﻟﻠﻴﻞ . ﺍﻧﺘﻬﻰ.
মোল্লা আলী কারী আলমক্কী তার রিসালা “শাম্মুল আওয়ারিজ ফী জাম্মির রাওয়াফিজ” নামক গ্রন্থে লিখেনঃ ইসামুদ্দীন সাহেব কুহুস্তানীর বিষয়ে হক কথা বলেছেনঃ যে, তিনি আসলে শাইখুল ইসলাম আলহারওয়ী এর বড় ছোট কোন ছাত্রের মাঝেই অন্তর্ভূক্ত ছিলেন না। বরং তিনি তার সময়কালে [ফিরাক্বে বাতিলার] কিতাবের দালাল ছিলেন। তিনি তার সময়কালে ফিক্বহ বা অন্য কোন বিষয়ে প্রসিদ্ধ ছিলেন না। [ইমামুদ্দীন সাহেবের কথাটি] এ বিষয়টি আরো শক্তিশালী করে তার এই শরহে মুখতাসারুল বিকায়া [অর্থাৎ জামিউর রূমূজ] কিতাবে তাহকীক ছাড়াই গলত, সহীহ, সঠিক বেঠিক সব ধরণের কথা একত্রিত করা দেখে। তিনি যেন রাত্রের ঐ লাকড়ি একত্রকারীর মত, যে রাতের অন্ধকারে ভিজা শুকনা সব ধরণের লাকড়ি সংগ্রহ করে যায়। [মুকাদ্দিমায়ে উমদাতুর রিয়ায়াহ বিহাশিয়াতি শরহিল বিকায়া-১/৪৮]
এসব কথা জানার পরও কুহুস্তানী কিতাবের রেফারেন্স কিভাবে উপস্থাপন করে বিদআতি বন্ধুরা? অথচ এ বিষয়ে কোন বিশুদ্ধ হাদীসের টিকিটিও পাওয়া যায় না।
ফাতাওয়া শামী লেখকের মন্তব্যঃ
ইবনে আবেদীন শামী রহঃ আঙ্গুল চুমু খাওয়া সংক্রান্ত দলীল কানযুল ইবাদ, ফাতাওয়া সুফিয়া, কুহুস্তানী এবং বাহরুর রায়েকের উদ্ধৃতিতে নকল করার পর উল্লেখ করেনঃ
ﻭَﺫَﻛَﺮَ ﺫَﻟِﻚَ ﺍﻟْﺠِﺮَﺍﺣِﻲُّ ﻭَﺃَﻃَﺎﻝَ، ﺛُﻢَّ ﻗَﺎﻝَ : ﻭَﻟَﻢْ ﻳَﺼِﺢَّ ﻓِﻲ ﺍﻟْﻤَﺮْﻓُﻮﻉِ ﻣِﻦْ ﻛُﻞِّ ﻫَﺬَﺍ ﺷَﻲْﺀٌ .
এসব জিরাহী ও উল্লেখ করেছেন ও দীর্ঘ আলোচনা করেছেন, তারপর লিখেনঃ এসবের [আঙ্গুল চুমু খেয়ে চোখে লাগানো] কোন দলীলই মারফূ নয়। [ফাতাওয়ায়ে শামী-১/৩৭০]
আঙ্গুল চুমু খেয়ে চোখে মোছার কথাগুলো যেমন ইবনে আবেদীন রহঃ উল্লেখ করছেন, তেমনি শেষে এসবের কোনটিই যে বিশুদ্ধ নয়, তাও উল্লেখ করে দিয়ে তিনি তার অবস্থান পরিস্কার করে দিয়েছেন। তারপরও ইমাম শামী রহঃ উক্ত কাজের প্রবক্তা বলা কতটা খিয়ানত তা ভাবা যায়?
জালালাইনের হাশিয়ার মন্তব্য
ﻭﻳﻜﺮﻩ ﺗﻘﺒﻴﻞ ﺍﻟﻈﻔﺮﻳﻦ ﻭﻭﺿﻌﻬﻤﺎ ﻋﻠﻰ ﺍﻟﻌﻴﻨﻴﻦ ﻻﻧﻪ ﻟﻢ ﻳﺮﺩ ﻓﻴﻪ ﻭﺍﻟﺬﻯ ﻭﺭﺩ ﻓﻴﻪ ﻟﻴﺲ ﺑﺼﺤﻴﺢ ‏( ﺗﻌﻠﻴﻘﺎﺕ ﺟﺪﻳﺪﺓ ﺣﺎﺷﻴﺔ ﺟﻼﻟﻴﻦ 357-
আঙ্গুলের নখ চুমু দেয়া এবং চোখে লাগানো মাকরূহ। কেননা, এর কোন প্রমাণ নেই। আর যেসব বর্ণনা এর স্বপক্ষে পেশ করা হয়, এর কোন কোনটিই সঠিক নয়। [জালালাইনের হাশিয়া-৩৫৭]
কিতাবুল ফিরদাউস এবং আলমাকাসিদুল হাসানাহ!
আঙ্গুলে চুমু খাওয়া বন্ধুরা সবচে’ বেশি দলীল দিতে দেখা যায় আল্লামা সাখাবী রহঃ এর কিতাব “আলমাকাসিদুল হাসানাহ ফী বায়ানি কাছিরিম মিনাল আহাদীসিল মুশতাহারাহ আলাল আলছিনাহ” নামক গ্রন্থ থেকে। অথচ উক্ত কিতাবে যদিও অনেক বর্ণনা এ প্রসঙ্গে আনা হয়েছে। কিন্তু কোনটিই সংকলক ইমাম সাখাবী সহীহ বলেননি। বরং প্রতিটি বর্ণনাকেই অগ্রহণযোগ্য বলেছেন।

ﺫَﻛَﺮَﻩُ ﺍﻟﺪَّﻳْﻠَﻤِﻲُّ ﻓِﻲ ﺍﻟْﻔِﺮْﺩَﻭْﺱِ ﻣِﻦْ ﺣَﺪِﻳﺚِ ﺃَﺑِﻲ ﺑَﻜْﺮٍ ﺍﻟﺼِّﺪِّﻳﻖِ ﺃَﻧَّﻪُ ﻟَﻤَّﺎ ﺳَﻤِﻊَ ﻗﻮﻝ ﺍﻟﻤﺆﺫﻥ ﺃﺷﻬﺪ ﺃﻥ ﻣﺤﻤﺪ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪ ﻗَﺎﻝَ ﻫَﺬَﺍ، ﻭَﻗَﺒَّﻞَ ﺑَﺎﻃِﻦَ ﺍﻷُﻧْﻤُﻠَﺘَﻴْﻦِ ﺍﻟﺴَّﺒَّﺎﺑَﺘَﻴْﻦِ ﻭَﻣَﺴَﺢَ ﻋَﻴْﻨَﻴْﻪِ، ﻓَﻘَﺎﻝَ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ : ﻣَﻦْ ﻓَﻌَﻞَ ﻣِﺜْﻞَ ﻣَﺎ ﻓَﻌَﻞَ ﺧَﻠِﻴﻠِﻲ ﻓَﻘَﺪْ ﺣَﻠَّﺖْ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﺷَﻔَﺎﻋَﺘِﻲ، ﻭﻻ ﻳﺼﺢ
দায়লামী ফিরদাউস নামক কিতাবে লিখেছেন যে, হযরত আবূ বকর সিদ্দীক রাঃ মুআজ্জিনের মুখ থেকে “আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ” শুনে হুবহু তা বললেন। তারপর শাহাদত আঙ্গুলের ভিতরের অংশে চুমু খেলেন এবং উভয় চোখ মাসাহ করলেন। এ কর্ম দেখে রাসূল সাঃ বললেন, যে ব্যক্তি আমার বন্ধুর অনূরূপ কাজ করবে তার জন্য সুপারিশ করা আমার উপর অপরিহার্য।
আল্লামা সাখাবী বলেনঃ এ বর্ণনা সহীহ নয়। [মাকাসিদুল হাসানাহ-৪৪০-৪৪১, বর্ণনা নং-১০১৯]
বর্ণনা আনার পর পরই আল্লামা সাখাবী রহঃ এর “বর্ণনাটি সহীহ নয়” বলে দেয়ার মাধ্যমে পরিস্কার এটি জাল। জাল বলার পরও উক্ত বর্ণনা দলীল হিসেবে কিভাবে পেশ করা হয়?

ﻭﻛﺬﺍ ﻣﺎ ﺃﻭﺭﺩﻩ ﺃﺑﻮ ﺍﻟﻌﺒﺎﺱ ﺃﺣﻤﺪ ﺍﺑﻦ ﺃﺑﻲ ﺑﻜﺮ ﺍﻟﺮﺩﺍﺩ ﺍﻟﻴﻤﺎﻧﻲ ﺍﻟﻤﺘﺼﻮﻑ ﻓﻲ ﻛﺘﺎﺑﻪ “ ﻣﻮﺟﺒﺎﺕ ﺍﻟﺮﺣﻤﺔ ﻭﻋﺰﺍﺋﻢ ﺍﻟﻤﻐﻔﺮﺓ ” ﺑﺴﻨﺪ ﻓﻴﻪ ﻣﺠﺎﻫﻴﻞ ﻣﻊ ﺍﻧﻘﻄﺎﻋﻪ، ﻋﻦ ﺍﻟﺨﻀﺮ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ ﺃﻧﻪ : ﻣﻦ ﻗﺎﻝ ﺣﻴﻦ ﻳﺴﻤﻊ ﺍﻟﻤﺆﺫﻥ ﻳﻘﻮﻝ ﺃﺷﻬﺪ ﺃﻥ ﻣﺤﻤﺪ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠَّﻪ : ﻣﺮﺣﺒﺎ ﺑﺤﺒﻴﺒﻲ ﻭﻗﺮﺓ ﻋﻴﻨﻲ ﻣﺤﻤﺪ ﺑﻦ ﻋﺒﺪ ﺍﻟﻠَّﻪ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ، ﺛﻢ ﻳﻘﺒﻞ ﺇﺑﻬﺎﻣﻴﻪ ﻭﻳﺠﻌﻠﻬﻤﺎ ﻋﻠﻰ ﻋﻴﻨﻴﻪ ﻟﻢ ﻳﺮﻣﺪ ﺃﺑﺪﺍ ،
প্রথম বর্ণনার মত এটিও বিশুদ্ধ নয় যে, যা সূফী আবুল আব্বাস আহমাদ বিন আবী বকর ইয়ামানী স্বীয় কিতাব “মুজিবাতুর রহমাহ ওয়া আজায়িমুল মাগফিরাহ” এ এমন সনদের সাথে উল্লেখ করেছেন, যাতে রয়েছে অপরিচিত লোক এবং হযরত খিজির আঃ থেকে সূত্র বিচ্ছিন্নতাও বিদ্যমান। বর্ণনাটি হল, হযরত খিজির আঃ থেকে বর্ণিত। যে ব্যক্তি মুআজ্জিনকে “আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ বলতে শুনে বলবে “মারহাবান বিহাবীবী ওয়া কুররাতা আইনী মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। তারপর তার উভয় বৃদ্ধাঙ্গুলিকে চুমু খাবে, এবং তা রাখবে দুই চোখে, সে ব্যক্তির চোখ কখনো পীড়িত হবে না।
[মাকাসিদুল হাসানাহ-৪৪১, বর্ণনা নং-১০১৯]
আশা করি কিছু বলার প্রয়োজন নেই। আল্লামা সাখাবী যেখানে মানুষের মুখে প্রচলিত হাদীসের আলোচনায় এমন একটি বর্ণনা এনে, তা বিশুদ্ধ নয়, এতে প্রচুর অপরিচিত ব্যক্তি আছে এবং তাতে রয়েছে সূত্রবিচ্ছিন্নতা, এসব কিছু বলার পরও উক্ত কিতাবের নামে এ বর্ণনা দলীল হিসেবে পেশ করা কত বড় প্রতারণা ভাবা যায়?
এরপর আল্লামা সাখাবী রহঃ আরো ৬/৭টি বর্ণনা তার আলমাকাসিদুল হাসানাহ গ্রন্থে এনেছেন। আনার পর পরিশেষে তিনি এসব বর্ণনা বিষয়ে মন্তব্য করেনঃ
ﻭﻻ ﻳﺼﺢ ﻓﻲ ﺍﻟﻤﺮﻓﻮﻉ ﻣﻦ ﻛﻞ ﻫﺬﺍ ﺷﻲﺀ .
এখানের কোন বর্ণনাই হাদীসে মারফূ দ্বারা প্রমাণিত নয়। [আলমাকাসিদুল হাসানাহ-৪৪১, প্রকাশনী দারুল কুতুব, বাইরুত]
“হাদীসে মারফূ” দ্বারা প্রমাণিত নয় মানে কী?
বিদআতি বন্ধুরা ইমাম সাখাবী রহঃ এর মন্তব্য “হাদীসে মারফূ দ্বারা প্রমাণিত নয়” দ্বারা সাধারণ লোকদের একটি ধোঁকা দিয়ে থাকেন। সেটি হল এই যে, তারা বলেন “ইমাম সাখাবীর মত হল, এসব বিষয় মারফূ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত নয়, কিন্তু মাকতূ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত।
এটি একটি জলজ্যান্ত প্রতারণা। মূলত ইমাম সাখাবী রহঃ এর উক্ত কথার দ্বারা উদ্দেশ্য হল, উক্ত বিষয় মূলত কোন প্রকার হাদীস দ্বারাই প্রমাণিত নয়। পুরোটাই বানোয়াট।
যা পরিস্কার হয়ে যায় “আলমাকাসিদুল হাসানাহ” গ্রন্থের উক্ত কথাটির টিকা দেখলেই। টিকায় মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ সিদ্দীক আলআজহারী আলগুমারী লিখেনঃ
ﻭﺣﻜﻰ ﺍﻟﺨﻄﺎﺏ ﻓﻲ ﺷﺮﺡ ﻣﺨﺘﺼﺮﻩ ﺧﻠﻴﻞ ﺣﻜﺎﻳﺔ ﺃﺧﺮﻯ ﻏﻴﺮ ﻣﺎ ﻫﻨﺎ، ﻭﺗﻮﺳﻊ ﻓﻲ ﺫﻟﻚ، ﻭﻻ ﻳﺼﺢ ﺷﻲﺀ ﻣﻦ ﻫﺬﺍ ﻓﻲ ﺍﻟﻤﺮﻓﻮﻉ ﻛﻤﺎ ﻗﺎﻝ ﺍﻟﻤﺆﻟﻒ، ﺑﻞ ﻛﻠﻪ ﻣﺨﺘﻠﻖ ﻣﻮﺿﻮﻉ . ‏[ ﻁ ﺍﻟﺨﺎﻧﺠﻲ
খাত্তাব শরহে মুখতাছারাহ খলীল নামক গ্রন্থে এখানে উদ্ধৃত হয়নি এমন আরেকটি ঘটনা নকল করেছেন। আর তিনি এ বিষয়ে শিথিলতা প্রদর্শন করেছেন। অথচ এর মাঝের কোনটিই হাদীসে মারফূ দ্বারা প্রমাণিত নয় বরং সব ক’টিই হল মনগড়া ও বানোয়াট। [তা’লীকে আলমাকাসিদুল হাসানাহ-৪৪১-৪৪২, মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ সিদ্দীক আলগুমারী]
মোল্লা আলী কারী রহঃ এর মন্তব্যঃ
মোল্লা আলী কারী রহঃ দায়লামীর “আলফিরদাউস” কিতাবের বরাতে হযরত আবু বকর সিদ্দীক রাঃ এর দিকে নিসবত করা আঙ্গুলে চুমু খাওয়া সংক্রান্ত ঘটনাটি উদ্ধৃত করার পর আল্লামা সাখাবী রহঃ এর মন্তব্য উল্লেখ করেনঃ
ﻭﻗﺎﻝ ﺍﻟﺴﺨﺎﻭﻯ : ﻻ ﻳﺼﺢ، ﻭﺃﻭﺭﺩﻩ ﺍﻟﺸﻴﺦ ﺍﺣﻤﺪ ﺍﻟﺮﺩﺍﺩ ﻓﻰ ﻛﺘﺎﺑﻪ ﻣﻮﺟﺒﺎﺕ ﺍﻟﺮﺣﻤﺔ ” ﺑﺴﻨﺪ ﻓﻴﻪ ﻣﺠﺎﻫﻴﻞ ﻣﻊ ﺍﻧﻘﻄﺎﻋﻪ ﻋﻦ ﺍﻟﺨﻀﺮ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ، ﻭﻛﻞ ﻣﺎ ﻳﺮﻭﻯ ﻓﻰ ﻫﺬﺍ ﻓﻼ ﻳﺼﺢ ﺭﻓﻌﻪ ﺍﻟﺒﺘﺔ
ﻗﻠﺖ : ﻭﺍﺫﺍ ﺛﺒﺖ ﺭﻓﻌﻪ ﻋﻠﻰ ﺍﻟﺼﺪﻳﻖ ﻓﻴﻜﻔﻰ ﺍﻟﻌﻤﻞ ﺑﻪ
সাখাবী বলেন, এটি বিশুদ্ধ নয়। আর শায়খ আহমাদ আররদাদ স্বীয় কিতাব “মুজিবাতুর রহমাহ” এ এমন সনদের সাথে উল্লেখ করেছেন, যাতে রয়েছে অপরিচিত লোক এবং হযরত খিজির আঃ পর্যন্ত সূত্র বিচ্ছিন্নতাও বিদ্যমান। এ বিষয়ে যা কিছু বর্ণিত এর কোনটিই রাসূল সাঃ এর ফরমান হওয়া প্রমাণিত নয়।
আমি বলি, যদি আবু বকর সিদ্দীক রাঃ পর্যন্ত এর সনদ সহীহ হতো, তাহলে এর উপর আমল করা সঠিক হতো। [আলমওজুআতুল কুবরা, মোল্লা আলী কারী-২১০, বর্ণনা নং-৮২৯]
কিন্তু আফসোস! এ সংক্রান্ত কোন বর্ণনাকেই মুহাদ্দিসগণ বিশুদ্ধ বলে রায় দেননি। তাই এ আমলটি একটি মনগড়া ও বানোয়াট আমলই প্রমাণিত হয়।
একটি যুক্তি
বাইয়াতে রিজওয়ানে রাসূল সাঃ স্বীয় বাম হাতকে হযরত উসমান রাঃ এর হাত সাব্যস্ত করে, স্বীয় ডান হাতের মাধ্যমে সাহাবায়ে কেরামের বাইয়াত গ্রহণ করেছেন।
নবীজী সাঃ নিজের হাতকে যেহেতু হযরত উসমান রাঃ এর হাত সাব্যস্ত করে বাইয়াত নিতে পারেন, তাহলে আমরা কেন আজানের সময় রাসূল সাঃ এর নামের সময় স্বীয় বৃদ্ধাঙ্গুলিকে রাসূল সাঃ এর আঙ্গুল মনে করে চুমু খেতে পারবো না? [উৎসঃ ইশতিহার ওয়াজিবুল ই’তিবার, লেখক, মৌলভী মুখতার আহমাদ, কানপুর থেকে প্রকাশিত]
আমাদের জবাব
গায়রে মুজতাহিদ যখন মুজতাহিদের ভাব ধরে, তখন এমন ভয়ানক ইজতিহাদই করবে, এটাই স্বাভাবিক। রাসূল সাঃ বাইয়াতে রিজওয়ানে স্বীয় হাতকে হযরত উসমান রাঃ এর হাত সাব্যস্ত করেছেন রূপক অর্থে। আর উক্ত কাজটি তিনি করেছেন আল্লাহর অহী অনুপাতে। কারণ রাসূল সাঃ এর কর্ম অহীয়ে গায়রে মাতলু। আর উক্ত বিষয়টি কুরআনে পরিস্কার বর্ণিত হয়েছে।
বিদআতি বন্ধুরা কি নিজেদের নবীজী সাঃ এর মত মনে করেন নাকি? স্বীয় পাপিষ্ঠ হাতের আঙ্গুলকে নবীজী সাঃ এর আঙ্গুল মনে করা কত বড় ধৃষ্ঠতা ভাবা যায়? আর এ ধৃষ্ঠতার নাম নাকি মুহাব্বতে রাসূল! বড়ই আজীব মানসিকতা তাদের।
মজার বিষয় হল, আঙ্গুল চুমুদাতা বন্ধুরা নিজের আঙ্গুলকে নবীজী সাঃ এর আঙ্গুল সাব্যস্ত করার পর, সেই সম্মান প্রদর্শন করেন, যা হযরত উসমান রাঃ করেছিলেন? হযরত উসমান রাঃ তো রাসূল সাঃ এর হাতে যে হাতে বাইয়াত গ্রহণ করেছিলেন, সেই হাত দ্বারা মৃত্যু পর্যন্ত আর লজ্জাস্থান স্পর্শ করেননি। [সুনানে ইবনে মাজাহ-২৭]
কিন্তু নবীর আশেক দাবিদার এসব বন্ধুরা স্বীয় আঙ্গুলকে নবীর আঙ্গুল সাব্যস্ত করার পর, তারা কি উক্ত সম্মান প্রদর্শন করে থাকেন? নবীজী সাঃ এর আঙ্গুল সাব্যস্তকৃত অঙ্গ দ্বারা নাপাক স্থানে হাত রাখা কত বড় বেআদবের কাজ একবার ভেবে দেখার সময় হবে কি?
কোন অহীর বিধানের ভিত্তিতে স্বীয় নাপাক আঙ্গুলকে রাসূল সাঃ এর আঙ্গুল সাব্যস্ত করার ধৃষ্ঠতা দেখায় এসব বিদআতিরা?
ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্নাইলাইহি রাজেঊন।
জালালুদ্দীন সুয়ূতী রহঃ এর বক্তব্য
ﺍﻟﺤﺪﻳﺚ ﺍﻟﻠﺘﻰ ﺭﻭﻳﺖ ﻓﻰ ﺗﻘﺒﻴﻞ ﺍﻻﻧﺎﻣﻴﻞ ﻭﺟﻌﻠﻬﺎ ﻋﻠﻰ ﺍﻟﻌﻴﻨﻴﻦ ﻋﻨﻪ ﺳﻤﺎﻉ ﺍﺳﻤﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻋﻦ ﺍﻟﻤﺆﺫﻥ ﻓﻰ ﻛﻠﻤﺔ ﺍﻟﺸﻬﺎﺩﺓ ﻛﻠﻬﺎ ﻣﻮﺿﻮﻋﺎﺕ ‏( ﺗﻴﺴﻴﺮ ﺍﻟﻤﻘﺎﻝ ﻟﻠﺴﻴﻮﻃﻰ 123- )
মুআজ্জিনের মুখে কালিমায়ে শাহাদাত পাঠকালে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নাম শুনে আঙ্গুল চুমু খাওয়া এবং তা চোখের উপর রাখা সংক্রান্ত যত হাদীস বর্ণিত হয়েছে, সবই জাল-বানোয়াট। {তাইসীরুল মাক্বাল লিস সুয়ূতী-১২৩}
আব্দুল হাই লাক্ষ্ণেৌবী রহঃ এর মন্তব্যঃ
ﻭﺍﻟﺤﻖ ﺍﻥ ﺗﻘﺒﻴﻞ ﺍﻟﻈﻔﺮﻳﻦ ﻋﻨﺪ ﺳﻤﺎﻉ ﺍﻻﺳﻢ ﺍﻟﻨﺒﻮﻯ ﻓﻰ ﺍﻻﻗﺎﻣﺔ ﻭﻏﻴﺮﻫﺎ ﻛﻠﻤﺎ ﺫﻛﺮ ﺍﺳﻤﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺼﻼﺓ ﻭﺍﻟﺴﻼﻡ ﻣﻤﺎ ﻟﻢ ﻳﺮﺩ ﻓﻴﻪ ﺧﺒﺮ ﻭﻻ ﺍﺛﺮ ﻭﻣﻦ ﻗﺎﻝ ﺑﻪ ﻓﻬﻮ ﺍﻟﻤﻔﺘﺮﻯ ﺍﻻﻛﺒﺮ ﻓﻬﻮ ﺑﺪﻋﺔ ﺷﻨﻴﻌﺔ ﺳﻴﺌﺔ ﻻ ﺍﺻﻞ ﻟﻬﺎ ﻓﻰ ﻛﺘﺐ ﺍﻟﺸﺮﻳﻌﺔ ﻭﻣﻦ ﺍﺩﻋﻰ ﻓﻌﻠﻴﻪ ﺍﻟﺒﻴﺎﻥ ‏( ﺍﻟﺴﻌﺎﻳﺔ - 1/46 )
সত্য কথা হল, রাসূল সাঃ এর নাম একামত বা অন্য কোন স্থানে শুনার পর আঙ্গুল চুমু খাওয়ার ব্যাপারে না কোন হাদীসে নববী [বিশুদ্ধ সূত্র অনুপাতে] আছে, না কোন সাহাবীর আমল বা বক্তব্য [বিশুদ্ধ সূত্রে] বর্ণিত আছে। তাই যে ব্যক্তি এ আমলের প্রবক্তা, সে ব্যক্তি অনেক বড় অপবাদ আরোপকারী। তাই একাজ ঘৃণ্য ধরণের বিদআত। শরয়ী গ্রন্থাবলীতে যার কোন ভিত্তি নেই। যে এসব কথা বলে, তার উচিত [সহীহ] প্রমাণ পেশ করা। [আসসিয়ায়া-১/৪৬]
শেষ কথা
উপরের দীর্ঘ আলোচনা ও তথ্য প্রমাণ দ্বারা আশা করি পরিস্কার হয়ে গেছে যে, আজানের সময় বা অন্য সময় রাসূল সাঃ এর নাম শুনে আঙ্গুলে চুমু খেয়ে চোখে মোছা সম্পর্কিত কোন বর্ণনাই সহীহ নয়। সবই মনগড়া ও বানোয়াট।
তাই এ কাজকে সুন্নত বা মুস্তাহাব মনে করা সুষ্পষ্ট বিদআত। কিন্তু সুন্নত বা মুস্তাহাব না মনে করে সওয়াবের নিয়ত ছাড়া এমনিতেই যদি কোন ব্যক্তি রাসূল সাঃ এর নাম শুনে মুহাব্বতে করে থাকে, তাহলে এটিকে বিদআত বলা যাবে না। কারণ তখন এটি আর বিদআতের সংজ্ঞায় থাকে না। কারণ বিদআত হবার জন্য তা সওয়াবের কাজ, বা সুন্নাত মুস্তাহাব ইত্যাদি মনে করতে হয়।
আবারো বলছি! একাজকে সুন্নত বা মুস্তাহাব মনে করলে তা পরিস্কার হবে।
আল্লাহ তাআলা আমাদের দ্বীনের সহীহ বুঝ দান করুন। মোহাব্বতের নামে বিদআতী ও আমলের নামে শিরকী কাজ করা থেকে হিফাযত করুন। আমীন।

লা-মাযহাবী বন্ধুরা! দয়া করে জবাব দেবেন কি?

মুফতী মনসূরুল হক্ব :
-
আহলে হাদীস নামধারী লা-মাযহাবী বন্ধুরা সেই
যে ১৮৭৯ সাল থেকে ‘চ্যালেঞ্জ’, ‘ওপেন
চ্যালেঞ্জ’ আর রুপি-টাকার টোপসংবলিত লিফলেট
প্রকাশ করে আসছেন, তার আর থামাথামি নেই; থামার
লক্ষণও নেই।
পার্থক্য এতটুকু যে সেকালের দশ রুপি একালে
এসে লাখের ঘর ছাড়িয়েছে। এসব লিফলেটে তারা
উম্মাহর প্রথম সারির উলামায়ে কেরাম ও মাযহাবের
সর্বজন শ্রদ্ধেয় ইমামগ ণে র প্র তি লাগামহীন
বিষোদগার করে থাকে। পাশাপাশি উম্মতের
সর্ববাদী দ্বীনি সিদ্ধান্ত ও ‘আমালুল মুতাওয়ারাস’ তথা
প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম পরম্পরায় নির্দ্বিধায় পালিত
বিভিন্ন আমলের প্রামাণ্যতার বিরুদ্ধে বাহারি
চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয়।
তাদের এসব চ্যালেঞ্জের মোকাবিলায় সরলমনা
সাধারণ দ্বীনদার ভাইয়েরা, যারা কোরআন-সুন্নাহয়
বিশেষজ্ঞ নন দোটানায় পড়ে যান এবং
ক্ষেত্রবিশেষে বিভ্রান্তও হন। মুসলিম জন
সাধারণের ঈমান – আমল হেফাযতের উদ্দেশ্যে
তাদের লিফলেটবাজির জবাবে সর্বপ্রথম কলম
দেগেছিলেন দারুল উলূম দেওবন্দের প্রথম
সন্তান হযরত শাইখুল হিন্দ (রহ.)।
তাঁর লিখিত ‘আদিল্লায়ে কামিলাহ’ ও ‘ঈযাহুল আদিল্লাহ’
ওদের দাঁতই ভেঙে দেয়নি; মাি ড়-চোয়ালও অালগা
করে দিয়েছিল। যার জবাব আজ ১৩৫ বছর পর্যন্তও
ওরা দিতে সক্ষম হয়নি, ইনশাআল্লাহ কিয়ামত পর্যন্ত
সক্ষম হবেও না।
কিন্তু ‘যার যা স্বভাব’। ওরা লিফলেটবাজি বন্ধ করেনি।
সত্য প্রকাশের দায়বোধ থেকে তাই উলামায়ে
কেরামও কলম বন্ধ করেননি।
সেই ধারাবাহিকতায় শুধুমাত্র কোরআন ও সহীহ
হাদীস মানার দাবিদার (ইজমা, কিয়াস নয়) লা-মাযহাবী
বন্ধুদের নিকট আমরা কিছু প্রশ্ন রাখছি।
প্রশ্নগুলোর সঠিক জবাব এ দেশের দ্বীনদরদি
প্রতিটি মুসলমানই আন্তরিকভাবে কামনা করে।
১.
আমাদের হাদীস মানতে হবেএ বিষয়ে একটি
সুস্পষ্ট ও সহীহ হাদীস পেশ করুন ( দয়া করে
‘সুন্নাহ’ মানার হাদীসকে ‘হাদীস’ মানার হাদীস
হিসেবে চালিয়ে দেবেন না।)
২.
একটি সহীহ হাদীসের মাধ্যমে সহীহ
হাদীসের সংজ্ঞা পেশ করুন।
৩.
হাদীস ও সুন্নাত কি একই জিনিস? রাসূল (সা.) আমাদের
হাদীস মানতে বলেছেন, নাকি সুন্নাত মানতে
বলেছেন প্রমাণসহ বলুন।
৪.
ইজমা ও কিয়াস শরীয়তের দলিল হওয়ার বিষয়টি
কোরআন-সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত। যেমন : আল্লাহ
তা’আলা বলেন,
অর্থ : কারও নিকট হিদায়াতের পথ প্রকাশিত হওয়ার পর
সে যদি রাসূলের বিরুদ্ধাচরণ করে এবং মু’মিনদের
পথ ব্যতীত অন্য পথ অনুসরণ করে, তবে আমি
তাকে সেদিকেই ফিরিয়ে দেব, যেদিকে সে
ফিরে যায় এবং তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করব। আর
তা বড় মন্দ আভাস! (সূরা নিসা, আয়াত নং ১১৫) আল্লাহ
তা’আলা আরো বলেন,
অর্থ : হে মুমিনগণ! তোমরা আনুগত্য করো
আল্লাহর, আনুগত্য করো রাসূলের এবং তাঁদের , যারা
তোমাদের মধ্যে দায়িত্বশীল। কোনো
বিষয়ে তোমাদের মধ্যে মতভেদ ঘটলে তা
পেশ করো আল্লাহ ও রাসূলের নিকট, যদি তোমরা
আখিরাতে বিশ্বাস করো। এটাই উত্তম ও পরিণামে
প্রকৃষ্টতর। (সূরা নিসা, আয়াত নং ৫৯ ) সুতরাং আপনারা যে
ইজমা, কিয়াসকে শরীয়তের দলিল মানেন না, যার
ফলে কোরআনের এসব আয়াতকে অস্বীকার
করা হয়, এতে আপনাদের ঈমানের ব্যাপারে
আপনাদের সিদ্ধান্ত কী?
৫.
ইজমা ও কিয়াসের আশ্রয় নেওয়া ছাড়া সরাসরি
কোরআন-হাদীসের ভাষ্য দ্বারা নিম্নোক্ত
আধুনিক মাসআলাগুলোর সমাধান পেশ করুন।
চেয়ারে বসে নামায আদায় করা জায়েয আছে কি
না?
ডেসটিনি-২০০০ লিঃ জায়েয হবে কি না?
প্রাইজবন্ড কেনা জায়েয হবে কি না?
প্রভিডেন্ড ফান্ডের টাকা ও লভ্যাংশ গ্রহণ করা
জায়েয হবে কি না?
বর্তমান শেয়ারবাজারে শেয়ার ক্রয়-বিক্রয়
জায়েয হবে কি না?
প্লাস্টিক সার্জারি করা জায়েয হবে কি না?
বীমা-ইনস্যুরেন্স করা জায়েয হবে কি না?
ট্রেডমার্ক বেচাকেনা জায়েয হবে কি না?
বিমানে নামাজ পড়া জায়েয হবে কি না?
দেশি-বিদেশি কাগজের নোট পরস্পরে কম-
বেশি মূল্যে ক্রয়-বিক্রয় করা জায়েয হবে কি না?
যদি কোরআন-হাদীসের সুস্পষ্ট ভাষ্য দ্বারা এর
উত্তর দিতে না পারেন তাহলে
“আজ তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে
পরিপূর্ণ করে দিলাম”
এ আয়াতের প্রেক্ষিতে দ্বীন কিভাবে পূর্ণাঙ্গ
হলো তা শুধুমাত্র কোরআন ও সহীহ হাদীসের
মাধ্যমে ব্যাখ্যা করুন।
৬.
আপনাদের লেখা তাফসীর-উসূলে তাফসীর,
হাদীস-উসূলে হাদীস, ফিকহ ও উসূলে ফিকহের
কোনো কিতাব আছে কি? থাকলে সেগুলোর
নামধাম ও কোন সালে তা লেখা হয়েছে, জানিয়ে
বাধিত করুন। ৭. আপনাদের দাবি হলো, আপনারা সহীহ
বুখারী মানেন। তো প্রশ্ন হলো,
ইমাম বুখারী (রহ.) তো বুখারী শরীফে তিন
তালাকে তিন তালাক পতিত হওয়ার কথা বলেছেন; (হাঃ নং
৫২৫৯,) তাহলে আপনারা কেন তিন তালাকে এক
তালাকের কথা বলেন?
ইমাম বুখারী (রহ.) দুই হাত দিয়ে মুসাফাহার কথা
বলেছেন (হাঃ নং ৬২৬৫) আপনারা কেন এক হাত দিয়ে
মুসাফাহার কথা বলেন?
ইমাম বুখারী (রহ.) আবু হুমাইদ আস সায়েদীর
সূত্রে নবীজির নামাযের বর্ণনা দিয়েছেন (হাঃ নং
৮২৪ ) সেখানে মাত্র একবার হাত তোলার কথা
আছে, তাহলে আপনারা কেন নামাযে বারবার হাত
তোলেন?
বুখারী শরীফে আছে নবীজি (সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একই সময়ে ৯ জন বিবির সঙ্গে
সংসার করেছেন, তো আপনারা কেন হাদীসের
ওপর আমল করে ৯ বিবি নিয়ে সংসার করছেন না? ৮.
বুখারী শরীফের সব হাদীস কি আমলযোগ্য,
বিশেষ করে যেসব হাদীস নবীজি সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লামের পরবর্তী স্পষ্ট নির্দেশনা
দ্বারা রহিত হয়ে গিয়েছে, যেমনÑ
বুখারী শরীফের কিতাবুল জানায়েযের ১৩০৭
থেকে ১৩১৭ নং হাদীসসমূহ। এসব হাদীসে
কাউকে জানাযা নিয়ে যেতে দেখলে সকলকে
দাঁড়িয়ে যেতে বলা হয়েছে। অথচ এই বিধান
অন্যান্য সহীহ হাদীস দ্বারা রহিত হয়ে গেছে।
(উমদাতুল কারী ৬/১৪৬)
ইসলামের প্রথম যুগে নামাযরত অবস্থায় কথা বলা,
সালাম দেওয়া, সালামের উত্তর দেওয়াÑসবই বৈধ ছিল।
কিন্তু পরবর্তীতে এই বিধান রহিত হয়ে গেছে।
(সহীহ বুখারী, হাঃ নং ১১৯৯, ১২০০)
নবীজি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হিজরতের
পর মদীনায় ১৬/১৭ মাস বাইতুল মুকাদ্দাসের দিকে
ফিরে নামায আদায় করেছেন। কিন্তু পরবর্তীতে
এই বিধান রহিত হয়ে যায়। (সহীহ বুখারী, হাঃ নং ৭২৫২)
হযরত আয়েশা (রা.) হতে বর্ণিত বুখারী
শরীফের ২২৯, ২৩০, ২৩১, ২৩২ নং হাদীসগুলো
যেখানে বীর্যপাতহীন সহবাসে গোসল ফরয না
হওয়ার কথা বর্ণিত হয়েছে,
সেগুলো স্বয়ং হযরত আয়েশা (রা.) হতে বর্ণিত
সহীহ ইবনে হিব্বানের ১১৭৬ নং হাদীস দ্বারা রহিত
হয়ে গেছে, যেখানে বীর্যপাতহীন
সহবাসের দ্বারাও গোসল ফরয হওয়ার কথা বলা
হয়েছে। জানার বিষয় হলো, আপনারা এসব রহিত
হাদীসের ওপর কিভাবে আমল করেন?
৯.
আপনারা শুধু বুখারী শরীফ মানতে চান, তাহলে
বুখারী শরীফের সব হাদীস মিলিয়েই না হয় দুই
রাক’আত নামায আদায়ের পূর্ণাঙ্গ পদ্ধতি পেশ করুন।
১০.
আপনারা নির্দিষ্ট ইমামের তাকলীদ (অনুসরণ) করাকে
শিরক বলে থাকেন, তাহলে এযাবৎকাল যত বড় বড়
মুহাদ্দিস হাদীস সংকলন করেছেন,
তাফসীরবীদগণ তাফসীর লিখেছেন তাঁরা
সকলেই তো কোনো না কোনো নির্দিষ্ট
মাযহাবের অনুসরণ করেছেন, তাহলে তাঁরা সকলেই
কি মুশরিক হয়ে গেছেন? আপনাদের দাবির
আলোকে মাযহাব গ্রহণের শিরক করার কারণে তাঁরা
যদি সত্যি সত্যিই ঈমানহারা হয়ে থাকেন, তাহলে
কিভাবে আপনারা তাঁদের কিতাব থেকে হাদীসের
দলিল পেশ করেন? এবং কিভাবে তাঁদের কিতাবের
ভিত্তিতে কোনো হাদীসকে সহীহ,
কোনো হাদীসকে যয়ীফ বলেন? এতে কি
মুশরিক ও বেঈমানদের কিতাব দ্বারা দলিল দেও য়া হয়
না?

জঙ্গীবাদের মতো ‘তুলে নিয়ে যাওয়া’র বিরুদ্ধেও সকলকে সোচ্চার হতে হবে

মুনির আহমদ:https://mobile.facebook.com/munir.ahmed.monthly.mueenul.islam?refid=12&ref=Footer

জঙ্গীবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার মতো আমাদের সকলের উচিত, “তুলে নিয়ে যাওয়া”, “রাজনৈতিক হত্যা” এবং “ক্ষমতা, স্বার্থ ও আধিপত্য প্রতিষ্ঠার জন্য খুনাখুনি”-এর মতো সন্ত্রাসের বিরুদ্ধেও সমান গুরুত্ব দিয়ে ঐক্যবদ্ধ হওয়া ও সোচ্চার প্রতিবাদ করা।
এই “তুলে নিয়ে যাওয়া” সন্ত্রাসে অনেকগুলো ক্লু, যেমন- তুলে নিয়ে যাওয়া লোকগুলোর চেহারার বর্ণনা, পোষাক ও বেশ-ভূষার বর্ণনা, কথা বলার ধরণ, গাড়ির শ্রেণী, কালার ও গাড়ির নম্বর, তুলে নিয়ে যাওয়ার গতিপথ, হ্যান্ডকাপ ইত্যাদি জানা থাকা সত্ত্বেও আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা সরকারকে এসব নৃশংস অপরাধের হোতাদের ধরতে বা ঘটনা উদ্ঘাটনে তৎপর হতে একদম দেখা যায় না।
অথচ, কত কত ক্লু হীন খুনাখুনির ঘটনায় পুলিশ বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তড়িৎ বেগে অপরাধীদেরকে পাকড়াও করতে ও হত্যার কারণ উদ্ঘাটন করতে আমরা দেখতে পাই....।
সরকার, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলাবাহিনী যদি অপরাধকে শ্রেণী বিভাজন করে, তবে কীভাবে সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদ মুক্ত করা যাবে দেশ কে??
বোমাবাজি ও চাপাতি দিয়ে মানুষ খুন করা, আর তুলে নিয়ে খুন করার মধ্যে তফাৎটা কোথায়??? একটার জন্য চিল্লাফাল্লা করে দেশ কাঁপিয়ে তুলবেন- ঠিকাছে, আমরাও প্রতিবাদ করি; কিন্তু আরেকটার দিকে ফিরেও তাকাবেন না; সেটা তো ন্যায্য হলো না।
গত পরশু ছাত্রদলের একজন কেন্দ্রিয় নেতাকে চট্টগ্রামের বাসা থেকে পরিবারের সব লোকের সামনে থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় দিয়ে একদল লোক তুলে নিয়ে হত্যা করে নদীর পাড়ে লাশ ফেলে গেল, কই আমরা তো এখনো শুনছি না, পুলিশ লাশের সুরতহাল রিপোর্ট নিয়ে, লাশের হাত বাঁধা বা চোখ বাঁধা থেকে অপরাধীদের ফিঙ্গার প্রিন্ট নিয়ে এবং সেই নেতার পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া লোকজনের চেহারার বর্ণনা নিয়ে, গাড়ির নম্বর ধরে অনুসন্ধানে নেমে গাড়িটা উদ্ধার করতে এবং কারা তুলে নিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নাম ব্যবহার করে রাষ্ট্রীয় বাহিনীকে অপরাধীর কাঠ গড়ায় তুলতে, সেটা উদ্ঘাটন করতে তো আমরা সরব কোন তৎপরতা দেখছি না। এমন শত শত ঘটনা আছে....
তো ডজনে ডজনে অপরাধকে প্রশ্রয় দিয়ে কীভাবে দেশকে সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদ মুক্ত করবেন এবং দেশে শান্তি স্থাপন করবেন??!!!
আমরা সাধারণ মানুষ চাই, প্রতিটা জঙ্গী তৎপরতা, প্রতিটা অপরাধ, প্রতিটা খুনাখুনির ঘটনা, প্রতিটা তুলে নিয়ে যাওয়া বা গুম করার ঘটনা, প্রতিটা আধিপত্য প্রতিষ্ঠার হত্যা এবং প্রতিটা রাজনৈতিক হত্যাকান্ড বা অপরাধকে সমান গুরুত্ব দিয়ে, সমান অপরাধ বিবেচনা করে বিচার করুন, উৎখাত করুন এবং দমন করুন।।
একজন হিন্দু বা অমুসলিম অন্যায় খুনের শিকার হলে আমরা আলেমরা, সাধারণ মানুষরা, কথিত সুশীল ব্যক্তিত্বরা, সর্বোপরি আপজনতা সেটার প্রতিবাদ করি। আমার ব্যক্তিগত মত হচ্ছে, একজন ভিন্ন চিন্তার বা ভিন্ন রাজনৈতিক দর্শনের মানুষও যদি অন্যায়ভাবে খুন বা হেনস্থার শিকার হয়, তখন সেটারও একই রকম জোর প্রতিবাদ আসা উচিত। না হয় এ ধরণের অন্যায়-অপরাধে সকলকেই কোন না কোন সময় আক্রান্ত হতে হবে। সব সংক্ষুব্ধ পক্ষই এরকম অপরাধ ঘটাতে চাইবে স্বার্থে আঘাত লাগলে। তখন বাকীরা সবাই চুপ থাকবে.....। দেখা যাবে, তিন ইক্ষু চোরের বিচারের গল্পের মতো এক সময় সকলকেই আক্রান্ত হতে।
পরম করুণাময় আল্লাহ সকলকে সুমতি দান করুন, দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করুন, অপরাধীদেরকে হিদায়াত বা নিশ্চিহ্ন করুন এবং দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা করুন। আমীন।।লেখক:  হেফাজত আমীরের প্রেসসচিব

উত্তর প্রদেশে আতঙ্কে মুসলিমরা, মোদিকে মাওলানা বুখারীর চিঠি

ভারতের দিল্লির ঐতিহাসিক জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা সাইয়্যেদ আহমদ বুখারী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চিঠি দিয়ে মুসলিমদের মধ্যে আতঙ্ক দূর করার আহ্বান জানিয়েছেন।
মাওলানা বুখারী তার চিঠিতে বলেছেন, দেশের সবচেয়ে বড় রাজ্য উত্তর প্রদেশে বিজেপি অপ্রত্যাশিত জয় পেয়েছে। কিন্তু গত কিছুদিন ধরে রাজ্যে মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে ভয় এবং আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি হওয়ার খবর আসছে। তিনি এ ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, পারস্পারিক আস্থাকে উৎসাহিত করার পরিবেশ প্রতিষ্ঠিত করায় সরকারের অগ্রাধিকার দেয়া উচিত।
মাওলানা বুখারী বলেন, কেন্দ্র এবং রাজ্যে বিজেপি নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পরে আপনি নিজেই ‘সবকা সাথ সবকা বিকাশ’ (সবার সাথে সবার উন্নয়ন) স্লোগান দিয়ে পারস্পারিক বিশ্বাস পুনর্বহালের স্পষ্ট বার্তা দিয়েছিলেন। উত্তর প্রদেশ সরকার ওই সঙ্কল্পকে বাস্তবায়ন করার জন্য আন্তরিকভাবে সচেষ্ট হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন।
সূত্র : ওয়েবসাইট
http://m.dailynayadiganta.com/?/detail/news/208293

বিদায়


কিছুদিন বাদে আদিল কহিল, “গান ত হইল শেষ,
সোনার বরণী সকিনা আমার চল আজ নিজ দেশ।
তোমার জীবনে আমার জীবনে দুখের কাহিনী যত,
শাখায় লতায় বিস্তার লভি এখন হয়েছে গত।
চল, ফিরে যাই আপনার ঘরে শূন্য শয্যা তথা,
শুষ্ক ফুলেরা ছাড়িছে নিশ্বাস স্মরিয়া তোমার কথা।”

শুনিয়া সকিনা ফ্যাল ফ্যাল করি চাহিল স্বামীর পাানে,
সে যেন আরেক দেশের মানুষ বোঝে না ইহার মানে।
আদিল কহিল“সেথায় তোমার হলুদের পাটাখানি,
সে শুভ দিনের রঙ মেখে গায় ডাকিছে তোমারে রাণী,
উদাস বাতাস প্রবেশ করিয়া শূূনো কলসীর বুকে,
তোমার জন্যে কাঁদিছে কন্যে শত বিরহের দুখে।
মাটির চুলা যে দুরন্ত বায়ে উড়ায়ে ভস্মরাশ,
ফাটলে ফাটরে চৌচির হয়ে ছাড়িছে বিরহ শ্বাস।
কন্যা-সাজানী সীমলতা সেথা রোপেছিলে নিজ হাতে।
রৌদ্রে-দাহনে মলিন আজিকে কেবা জল দিবে তাতে।
চল, ফিরে যাই আপনার ঘরে, সেথায় সুখের মায়া।
পাখির কুজনে ঝুমিছে সদাই গাছের শীতল ছায়া।

ক্ষণেক নীরব রহিয়া সকিনা শুধাল স্বামীরে তার,
“কোথা সেই ঘর আশ্রয়-ছায়া মিলিবে জীবনে আর ?
অভাগিনী আমি প্রতি তিলে তিলে নিজেরে করিয়া দান,
কত না দুঃখের দাহনে কিরনু সে ঘরের সন্ধান।
সে ঘর আমার জনমের মত পুড়িয়া হয়েছে ছাই,
আমার সমুখে শুষ্ক মরু যে ছাড়ে আগুনের হাই।”

আদিল কহিল, “সে মরুতে আজি বহিছে মেঘের ধারা,
তুমি সেথা চল নকসা করিয়া রচিবে তৃণের চারা।
সেথা অনাগত শিশু কাকলীর ফুটিবে মধুর বোল,
নাচিবে দখিন বসন্ত বায় দোলায়ে সুখের দোল।”

“মিথ্যা লইয়া কতকাল পতি প্রবোধিব আপনায় ?”
ম্লান হাসি হেসে শুধায় সকিনা, “দুঃখের দাহনায়
অনেক সহিয়া শিখেছি বন্ধু, মিছার বেসাতি করি,
ভবের নদীতে ফিরিছে কতই ভাগ্যবানের তরী।
সেথায় আমার হলনাক ঠাঁই, দুঃখ নাহি যে তায়,
সান্ত্বনা রবে, অসত্য লয়ে ঠকাইনি আপনায়।
কোন ঘরে মোরে নিয়ে যাবে পতি?যেথায় সমাজনীতি,
প্রতি তিলে তিলে শাসনে পিষিয়া মরিছে জীবন নিতি।
না ফুটিতে যেথা প্রেমের কুসুম মরিছে নিদাঘ দাহে,
না ফুটিতে কথা অধরে শুকায় বিভেদের কাঁটা রাহে।
সাদ্দাদ সেথা নকল ভেস্ত গড়িয়া মোহের জালে,
দম্ভে ফিরেছে টানিছে ছিঁড়িছে আজিকার এই কালে।
সে দেশের মোহ হইতে যে আজি মুক্ত হয়েছি আমি,
স্বার্থক যেন লাগিছে যে দুখ সয়েছি জীবনে, স্বামী।
কোন ঘরে তুমি নিয়ে যাবে পতি, কুলটার দুর্নাম,
যেথায় জ্বলিছে শত শিখা মেলি অফুরান অবিরাম।
যেথায় আমার অপাপ-বিদ্ধ শিশু সন্তান তরে,
দিনে দিনে শুধু রচে অপমান নানান কাহিনী করে।
যেথায় থাপড়ে নিবিছে নিমেষে বাসরের শুভ বাতি.
মিলন মালিকা শুকায় যেখানে শেষ না হইতে রাতি।
যেথায় মিথ্যা সম্মান অর খ্যাতি আর কুলমান,
প্রেম-ভালবাসা স্নেহ-মায়া পরে হানিছে বিষের বাণ।
সেথায় আমার ঘর কোথা পতি ? মোরে ছায়া দিতে হায়,
নাই হেন ঠাঁই রীতি নীতি ঘেরা তোমাদের দুনিয়ায়।
এ জীবনে আমি ঘরই চেয়েছিনু সে ঘরের মোহ দিয়ে,
কেউ নিল হাসি, কেউ নিল দেহ কেউ গেল মন নিয়ে।
ঘর ত কেহই দিল না আমারে, মিথ্যা ছলনাজাল,
পাতিয়া জীবনে নিজেরে ভুলায়ে রাখি আর কতকাল।”

আদিল কহিল, “আমিও জীবনে অনেক দুঃখ সয়ে,
নতুন অর্থ খুঁজিয়া পেয়েছি তোমার কাহিনী লয়ে।
আর কোন খ্যাতি, কোন গৌরব, কোন যশ কুলমান,
আমাদের মাঝে আনিতে নারিবে এতটুকু ব্যবধান।
বিরহ দাহনে যশ কুলমান পোড়ায় করেছি ছাই,
তোমার জীবন স্বর্ণ হইয়া উজলিছে সেথা তাই।
চল ঘরে যাই, নতুন করিয়া গড়িব সমাজনীতি,
আমাদের ভালবাসী দিয়ে সেথা রচিব নতুন প্রীতি,

সে ঘর বন্ধু, এখনো রচিত হয় নাই কোনখানে,
সে প্রীতি ফুটিবে আমারি মতন কোটি কোটি প্রাণদানে।
তুমি ফিরে যাও আপনার ঘরে, রহিও প্রতীক্ষায়.
হয়ত জীবনে আবার মিলন হইবে তোমা-আমায়।’

“কারে সাথে করে ফিরে যাব ঘরে ? শূন্য বাতাস তথা,
ফুঁদিয়ে এ বুকে আগুন জ্বালাবে ইন্ধনি মোর ব্যথা।”
“একা কেন যাবে ?”সকিনা যে কহে, “এই যে তোমার ছেলে,
এরে সাথে করে লইও সেথায় নতুন জীবন মেলে।
দিনে দিনে তারে ভুলে যেতে দিও জনম দুখিনী মায়,
শিখাইও তারে, মরিয়াছে মাতা জীবনের ঝোড়ো বায়।
কহিও, দারুণ বনের বাঘে যে খায়নি তাহারে ধরে,
মনের বাঘের দংশনে সে যে মরিয়াছে পথে পড়ে।
এতদিন পতি, তোমার আশায় ছিনু আমি পথ চেয়ে,
আঁচলের ধন সঁপিলাম পায় আজিকে তোমারে পেয়ে।
কতেকদিন সে কাঁদিবে হয়ত অভাগী মায়ের তবে,
সে কাঁদব তুমি সহ্য করিও আর এক শুভ স্মরে।
মোর জীবনের বিগত কাহিনী মোর সাথে সাথে ধায়,
তাহারা আঘাত হানিবে না সেই অপাপ জীনটায়।
বড় আদরের মোর তোতামণি তারে যাও সাথে নিয়ে,
আমারি মতন পালিও তাহারে বুকের আদর দিয়ে।”
এই কথা বলি অভাগী সকিনা ছেলেরে স্বামীর হাতে,
সঁপিয়া যে দিতে নয়নের জল লুকাইল নিরালাতে।

তোতামণি কয়, “মাগো, মা আমার লক্ষী আমার মা,
তোমারে ছাড়িয়া কোথাও যে মোর পরাণ টিকিবে না।
কোন বনবাসে আমারে মা তুমি আজিকে সঁপিয়া দিয়া,
কি করিয়া তুমি জীবন কাটাবে একেলা পরাণ নিয়া।”
“বাছারে! সে সব শুধাসনে মোরে, এটুকু জানিস সার,
ছেলের শুভের লাগিয়া সহিতে বহু দুখ হয় মার।
রজনী প্রভাতে মা বোল বলিয়া আর না জুড়াবি বুক,
শতেক দুখের দাহন জুড়াতে হেরিব না চাঁদ মুখ।
তবু বাছা তোরে ছাড়িতে হইবে, জনম দুখিনী মার,
সাধ্য হল না বক্ষে রাখিতে আপন ছেলেরে তার।”

ছেলেরে আঁচলে জড়ায়ে সকিনা কাঁদিল অনেকক্ষণ,
তারপর কোন দৃঢতায় যেন বাঁধিয়া লইল মন।
উসাদ কন্ঠে কহিল স্বামীকে, “ফিরে যাও, নিজ ঘরে,
মোদের মিলন বাহিরে হল না রহিল হৃদয় ভরে।
আমার লাগিয়া উদাসী হইয়া ফিরিয়াছ গাঁয় গাঁয়,
এই সান্ত্বনা রহিল আমার সমুখ জীবনটায়।
যাহার লাগিয়া এমন করিয়া অমন পরাণ করে,
আজি জানিলাম, তাহারো পরাণ আমারো লাগিয়া ঝরে।
এ সুখ আমার দুখ-জীবনের শ্রেষ্ঠ পুরস্কার,
সারাটি জনম তপস্যা করি শোধ নাহি হবে তার।
এই স্মরণের শক্তি আমারে চালাবে সমুখ পানে,
যে অজানা সুর মোহ বিস্তারি নিশিদিন মোর টানে।”

“প্রাণের সকিনা ?” আদিল শুধায়, “সে তব জীবনটায়,
আমার তরেতে এতটুকু ঠাই নাহি কোন তরুছায় ?”
“আছে, আছে পতি, “সকিনা যে কহে, “হায়রে যাহারে পাই,
তাহারে আবার হারাইতে সখা, বড় যে আরাম তাই।
ফুলেরে ডাকিয়া পুছিনু সেদিন, “ফুল ! তুমি বল কার ?
ফুলে কহে, যারে কিছু না দিলাম আমি যে সবটা তার।
শুধালাম পুন; বল বল ফুল ! সব তুমি দিলে যারে,
সেকি আজ হাসে বরণে সুবাসে তোমার দানের ভাবে ?
“সে আমার কাছে কিছু পায় নাই। ফুল কহে ম্লান হাসি,
‘পদ্মের বনে ফিরিছে সারসী কুড়ায়ে শামুক রাশি।
পুছিলাম পুন ফুল !তুমি বল কোথায় সবতি তব ?
ফুল কহে, যারে কিছু দেই নাই সেথা মোর চিরভব।
এ জীবনে মোর এই অভিশাপ যারে কিছু দিতে যাই,
কর্পুর সম উবে যায় তাহা, হাতে না লইতে তাই।
যে আমারে চাহে যতটা করিয়া আমি হই তত তার,
ইচ্ছা করিয়া আমি যে জীবনে কিছু নারি হতে কার।
যে আমারে পায় তাহার নিশীথে চির অনিদ্রা জাগে,
ফুলশয্যা যে কন্টকক্ষত তাহার জীবনে লাগে।
সাপের মাথায় চরণ রাখিয়া চলে সে আঁধার রাতে,
দুখের মুকুট মাথায় পরিয়া বিষের ভান্ড হাতে।
নিকটে করিয়া যে আমারে চাহে আমি তার বহুদূর,
দূরের বাঁশীতে বেজে ওঠে নিতি প্রীতি মিলনের সুর।

ফুলের কাহিনী স্মরিযা পতি গো, অনেক শিখেছি আজ,
স্বেচ্ছায় তাই হাসিয়া নিলাম বিরহ মেঘের বাজ।
নিকটে তোমারে পেতে চেয়েছিনু, সাধ হল না তাই,
দূরের বাঁশীরে দূরে রেখে দেখি বুকে তারে যদি পাই।
গলে না লইতে শুকাল মালিকা, মিলন রাতের মোহে,
চিরশূণ্যতা ভরেছি এ বুকে দোঁহে আকড়িয়া দোঁহে।
আজ তাই পতি, বড় আশা করে তোমারে পাঠাই দূরে,
সেই শূন্যতা ভরে যদি ওঠে আমার বুকের সুরে।

আদিল কহিল, প্রাণের সকিনা, সারাটি জনম ভরে,
দুখের সাগরে সাঁতার কেটেছ কেবলি আমার তরে।
আজকে তোমার কোন সাধ হতে তোমারে না দিব বাধা,
স্বেচ্ছায় আমি বরিয়া নিলাম এই বিরহের কাঁদা।
বিদায়ের কালে বল অভাগিনী, কোথায় বাঁধিবে ঘর,
কোন ছায়াতরু শীতলিত সেই সুদূর তেপান্তর?

ম্লান হাসি হেসে কহিল সকিনা, আমার মতন হায়,
অনেক সহিয়া ঘুমায়েছে সারা জীবনে ঝড়িয়ায়;
কবর খুঁড়িয়া বাহির করিয়া তাদের কাহিনী মালা,
বক্ষে পরিয়া প্রতি পলে পলে বুঝিব তাদের জ্বালা।
যত ভাঙা ঘর শুষ্ক কুসুম, দলিত তৃষিত মন,
সেথায় আমার যোগ সাধনের রচিব যে ধানাসন।
সেইখানে পতি বরষ বরষ রহিব তপস্যায়,
খুঁজিব নতুন কথা যা শুনিলে সব দুখ দূরে যায়।
জানি না সে কোন কথা-অমৃত, কোন সে মধুর ভাষা,
তবু আজ মোর নিশিদিশি ভরি জাগিতেছে মনে আশা;
সে কথার আমি পাব সন্ধান, দুঃখ দাহন মাঝে,
হয়ত বেদন-নাশন কখন গোপনে সেখা রোজে।
একান্ত মনে বসি ধ্যানাসনে একটি একটি ধরি,
মোর ব্যথাগুলি সবার ব্যথার সঙ্গে মিশাল করি;
পরতে পরতে খুলিয়া খুলিয়া দিনের পরেতে দিন,
খুঁজিয়া দেখিব কোথা আছে সেই কথামৃতের চিন।
যদি কোন কোন সন্ধান মেলে, সে মধুর সুর নিয়া,
নতুন করিয়া গড়িব আবার আমাদের এ দুনিয়া।
সেইদিন পতি ফিরিয়া যাইব আবার তোমার ঘরে,
অভাগীরে যদি ভালবাস সখা, থেকো প্রতীক্ষা করে।

বিদায়ের আগে ও চরণে শেষ ছালাম জানায়ে যাই,
দোয়া করো মোরে, এই সাধনায় সিদ্ধি যেন গো পাই।
আর যদি কভু ফিরে নাহি আসি, ব্যথার দাহনানলে,
জানিও, অভাগী মরিয়াছে সেথা নিরাশায় জ্বলে জ্বলে।
আজি এ জীবন বিষে বিষায়িত, প্রেম, ভালবাসা, মায়া,
বেড়িয়া নাচিছে গোর কুজঝট কদাকার প্রেত ছায়া।
জ্বলিছে বহ্নি দিকে দিগনে-, তীব্র লেলিহা তার,
খোদার আরশ কুরছির পরে মূর্চ্ছিছে বারবার।
দিন রজনীর দুইটি ভান্ড পোরা যে তীব্র বিষে,
মাটির পেয়ালা পূর্ণ করিয়া উঠেছে গগন দিশে।
তারকা-চন্দ্রে জ্বলিছে তাহার তীব্র যে হুতাশন,
তারি জ্বালা হতে নিস্তার মোর না হইল কোনক্ষণ।
সন্ধ্যা সকাল তারি শিখা লয়ে আকাশের দুই কোলে,
মারণ মন্ত্র ফুকারি ফুকারি যুগল চিতা যে জ্বলে।
তাই এ জীবন সরায়ে লইনু তোমার জীবন হতে,
আমারে ভাসিতে দাও পতি, সেই কালিয়-দহের স্রোতে।
***
***
বাপের সঙ্গে চলিয়াছে ছেলে, ফিরে চায় বারে বারে,
পারিত সে যদি দুটি চোখ বরি টেনে নিয়ে যেত মারে।
পাথরের মত দাঁড়ায়ে সকিনা, স্তব্ধ যে মহাকাল,
খুঁজিয়া না পায় অভাগিনী তরে সান্ত্বনা ভাষাজাল।
চরণ হইতে চলার চক্র খসিয়া খসিয়া পড়ে,
নয়ন হইতে অশ্রুর ধারা নিশির শিশিরে ঝরে।
তিনু ফকিরের সারিন্দা বাজে, আয়রে দুষ্কু আয়,
পাতাল ফুঁড়িয়া দুনিয়া ঘুরিয়া আকাশের নিরালায়।
আয়রে দুস্কু, কবরের ঘরে হাজার বছর ঘুরে,
ছিলি অচেতন আজকে আয়রে আমার গানের সুরে।

কখন কতটুকু পানি খাবেন?

আপনি কি খেতে খেতে ঢক ঢক করে পানি খান? কিংবা খেয়ে উঠেই পানি খান? আপনার কি যখন-তখন পানি খাওয়ার অভ্যাস? অথবা ঘুমানোর আগে পেট ভরে পানি খাচ্ছেন? তাহলে ভুল করছেন। ইচ্ছেমতো পানি খাবেন না। পানি খান বুঝে, নিয়ম মেনে।
কারণ পানি কম খেলে যেমন ক্ষতি, বেশি খেলেও। মাথা হোক বা চোখ, দাঁত হোক বা হার্ট, ফুসফুস হোক বা কিডনি, লিভার হোক বা পরিপাকতন্ত্র, রেচনতন্ত্র, খাদ্যনালি। পানি কম খেলে সব নষ্ট। উল্টোটাও ঠিক। বেশি পানি খেলেও মারাত্মক বিপদ।
তাহলে সারাদিনে কতটুকু পানি খাবেন?
চিকিৎসকরা বলছেন, যার যত ওজন, তাকে ৩০ দিয়ে ভাগ করলে যে সংখ্যাটা বেরোবে, ঠিক তত লিটার পানি দৈনিক পান করতে হবে তাকে।
কিন্তু, কখন কতটুকু পানি খেতে হবে?
চিকিৎসকরা বলছেন, লাঞ্চ বা ডিনারের ৩০ মিনিট আগে পানি খেতে হবে। হজমশক্তি বাড়বে। খাবার খাওয়ার মাঝে দুই ঢোঁক পানি খাওয়া যেতে পারে। তার বেশি নয়। কারণ, পানি হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিডের সাথে মিশে তার ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। ফলে, খাবার হজম হয় না।
- গোসল করার আগে এক গ্লাস পানি খেলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকবে।
- চা বা কফি খাওয়ার আগে এক গ্লাস পানি খেলে অ্যাসিডিটির সম্ভাবনা থাকে না।
- ব্যায়ামের ১০ মিনিট আগে এক গ্লাস পানি খেলে এনার্জি বজায় থাকবে।
- ব্যায়ামের ২০ মিনিট বাদে দুই গ্লাস পানি খেলে শরীরের আর্দ্রতা বজায় থাকবে।
- সন্ধ্যার নাস্তা খাওয়ার আগে এক গ্লাস পানি খাবেন।
- টেনশনের সময় এক গ্লাস পানি খেলে অনেকটাই রিল্যাক্সড লাগবে।
- ঘুমনোর আগে এক গ্লাস পানি খেলে স্ট্রোক এবং হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা কমে। তবে পেট ভরে পানি খেলে বিপদ। ইনসমনিয়ার মতো রোগের সম্ভাবনা বাড়ে। ভয়ঙ্কর প্রভাব পড়ে কিডনিতে। কারণ, ঘুমনোর সময় শরীর থাকে নিষ্ক্রিয়। এই সময় বেসাল মেটাবলিক রেট সবথেকে কম। ফলে, কিডনির ওপর চাপ পড়ে।
- সকালে ঘুম থেকে উঠে দুই গ্লাস পানি খেলে শরীরের বর্জ্য পদার্থ বেরিয়ে আসতে সাহায্য করবে। তাই পানি খান মেপে। নিয়ম মেনে।
সূত্র : ইন্টারনেট
http://m.dailynayadiganta.com/?/detail/news/208295

পল্লী-বর্ষা

জসীম উদ্দীন
আজিকের রোদ ঘুমায়ে পড়িয়া ঘোলাট-মেঘের 
আড়ে,
কেয়া-বন পথে স্বপন বুনিছে ছল ছল জল-ধারে।
কাহার ঝিয়ারী কদম্ব-শাখে নিঝ্ঝুম নিরালায়,
ছোট ছোট রেণু খুলিয়া দেখিছে অস্ফুট কলিকায়!
বাদলের জলে নাহিয়া সে মেয়ে হেসে কুটি কুটি হয়,
সে হাসি তাহার অধর নিঙাড়ি লুটাইছে বনময়।
কাননের পথে লহর খেলিছে অবিরাম জল-ধারা
তারি স্রোতে আজি শুকনো পাতারা ছুটিয়াছে ঘরছাড়া!
হিজলের বন ফুলের আখরে লিখিয়া রঙিন চিঠি,
নিরালা বাদলে ভাসায়ে দিয়েছে না জানি সে কোন দিঠি!
চিঠির উপরে চিঠি ভেসে যায় জনহীন বন বাটে,
না জানি তাহারা ভিড়িবে যাইয়া কার কেয়া-বন ঘাটে!
কোন্ সে বিরল বুনো ঝাউ শাখে বুনিয়া গোলাপী শাড়ী, -
হয়ত আজিও চেয়ে আছে পথে কানন-কুমার তারি!
দিকে দিগেনে- যতদূর চাহি, পাংশু মেঘের জাল
পায়ে জড়াইয়া পথে দাঁড়ায়েছে আজিকার মহাকাল।

গাঁয়ের চাষীরা মিলিয়াছে আসি মোড়লের দলিজায়, -
গল্পের গানে কি জাগাইতে চাহে আজিকার দিনটায়!
কেউ বসে বসে বাখারী চাঁচিছে, কেউ পাকাইছে রসি,
কেউবা নতুন দোয়াড়ীর গায়ে চাঁকা বাঁধে কসি কসি।
কেউ তুলিতেছে বাঁশের লাঠিতে সুন্দর করে ফুল
কেউবা গড়িছে সারিন্দা এক কাঠ কেটে নির্ভুল।
মাঝখানে বসে গাঁয়ের বৃদ্ধ, করুণ ভাটীর সুরে,
আমীর সাধুর কাহিনী কহিছে সারাটি দলিজা জুড়ে।

লাঠির উপরে, ফুলের উপরে আঁকা হইতেছে ফুল,
কঠিন কাঠ সে সারিন্দা হয়ে বাজিতেছে নির্ভুল।
তারি সাথে সাথে গল্প চলেছে- আমীর সাধুর নাও,
বহুদেশ ঘুরে আজিকে আবার ফিরিয়াছে নিজ গাঁও।
ডাব্বা হুঁকাও চলিয়াছে ছুটি এর হতে ওর হাতে,
নানান রকম রসি বুনানও হইতেছে তার সাথে।
বাহিরে নাচিছে ঝর ঝর জল, গুরু গুরু মেঘ ডাকে,
এ সবের মাঝে রূপ-কথা যেন আর রূপকথা আঁকে!
যেন ও বৃদ্ধ, গাঁয়ের চাষীরা, আর ওই রূপ-কথা,
বাদলের সাথে মিশিয়া গড়িছে আরেক কল্প-লতা।

বউদের আজ কোনো কাজ নাই, বেড়ায় বাঁধিয়া রসি,
সমুদ্রকলি শিকা বুনাইয়া নীরবে দেখিছে বসি।
কেউবা রঙিন কাঁথায় মেলিয়া বুকের স্বপনখানি,
তারে ভাষা দেয় দীঘল সূতার মায়াবী নকসা টানি।
বৈদেশী কোন্ বন্ধুর লাগি মন তার কেঁদে ফেরে,
মিঠে-সুরি-গান কাঁপিয়ে রঙিন ঠোঁটের বাঁধন ছেঁড়ে।

আজিকে বাহিরে শুধু ক্রন্দন ছল ছল জলধারে,
বেণু-বনে বায়ু নাড়ে এলোকেশ, মন যেন চায় কারে।